অস্ট্রেলিয়ার গল্প – কার্টেসি

অভি ২৮ আগস্ট ২০১৫, শুক্রবার, ০৫:৩২:৩৭পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি, গল্প, রম্য ১৩ মন্তব্য

লোক দেখানো ভদ্রতা আর আন্তরিক ভদ্রতা এই দুইটার কতগুলো আকাশ পাতাল তফাৎ আছে বাংলাদেশ আর ওয়েস্টার্ন কালচারে! যেহেতু ওয়েস্টার্ন কালচারের অন্যকোন দেশ দেখি নাই, তাই এই আলোচনাটা হবে শুধু বাংলাদেশ আর অস্ট্রেলিয়ান কালচারের! প্রথম এই দেশে আসবার পর অনেক জায়গায় ধাক্কা গুতা খেয়ে অনেক কিছু শিখতে হইছে! সেই ধাক্কা গুতার জ্ঞান বিতরন করে সবাইকে ধন্য করব ঠিক করেছি।

থাঙ্কু, প্লিস আর সরি
বাংলাদেশে এই ৩ টা শব্দ আমরা কালেভদ্রে ব্যবহার করি, যখন করি তার মানে আর উপায় নাই গোলাম হোসেন। অস্ট্রেলিয়াতে সবচাইতে বেশি ব্যবহৃত শব্দ সম্ভবত এই তিনটা। বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়া প্লেনে আসবার সময় এই জিনিসটা টের পাওয়া যায়! ট্রানসিটের পর যখন প্লেন অস্ট্রেলিয়ার দিকে যাত্রা শুরু করে তখন থেকেই শুরু হয় থাঙ্কু, প্লিস আর সরি! প্রতিবাক্যে একটা প্লিস, কেউ কিছু দিলে, কেউ কিছু বললে উত্তরে থাঙ্কু! আর বাদবাকি জায়গায় মোটামুটি সরি(ক্ষেত্র বিশেষে ফাক ইউ, এই শব্দটারও মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার দেখা যায়!) বলে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। কারো সাথে ধাক্কা লাগছে, লাগতে গেছিল প্রায়, যেকোনো কিছু নরমালের থেকে উল্টো পথে গেছে যত তারাতারি সম্ভব সরি বলুন (দোষ আপনার না থাকলেও)। আমি অস্ট্রলিয়ার দ্বিতীয় দিন ট্রেন স্টেশনে গিয়া নিজের টাকা দিয়া টিকেন কিনে বলছিলাম, ‘একটা টাইম টেবিল দাও দেখি?’ বৃদ্ধ টিকেট মাষ্টারনিশ্চয় আমার সল্প ম্যানার দেখে চটে ছিল, সে টাইমটেবিল টা হাতে ধরে আমার দিকে শীতল চোখে তাকিয়ে বলছিল, “সে প্লিস, প্লিস” দেখেন বেটা আমাকে প্লিস বলতে বলেও একটা প্লিস বলেছে! এখন শিখে ফেলছি বাক্য শুরু করবার সাথেই সাথেই প্লিসটা বলে ফেলি যেমন “ক্যান আই প্লিস…….” আর কথাবাত্রার শেষে থাঙ্কু! প্রতিদিন হাজারবার ব্যবহারের কারণে শব্দগুলোর মুল্য কমে যায়। তাই বেশি খুশি হলে বলতে হয় থাঙ্কু ভেরি মাচ, সরির উপরও ধাক্কাদেয়া যায় “সো সো সরি বা এক্সট্রিমলি সরি”! প্লিসের ক্ষেত্রে ব্যাকরণগত ভুল হলেও এক বাক্যে ২-৩ বার প্লিস বললেও সমস্যা নাই! সকাল দুপুর আর রাত বুঝে গুড মর্নিং, আফটারনুন, নাইট বলবার চল আছে! ১২ টা পর্যন্ত মর্নিং, ১২ টার পর ১ মিনিট হলেই খবরদার মর্নিং বলা যাবে না, তখন আফটারনুন, ৬ টার পর নাইট! অনেকেই বলবে গু দে! প্রথম ভাবছিলাম গু কিভাবে দিব? আমার গু এত বিখ্যাত কখন হইল! আসলে এইটা মানে হলো “গুড ডে অথবা হেভ আ গুড ডে”! বহুল ব্যবহারে শব্দ ছোট হতে হতে গুতে এসে ঠেকেছে। বাংলাদেশে অবশ্য এইসবের বালাই নাই, কালেভদ্রে এই শব্দগুলো শুনলে বুঝতে হবে কিছু একটা নিশ্চিত হইছে! কিন্তু শব্দগুলোর দাম আছে, কেউ বললে আন্তরিকতার সাথেই বলে!

গলা খাকারি আর ঢেঁকুর
দুইটাই মহাশান্তির একটা জিনিস! আমার এখনও মাথায় ঢুকে না এইটা কেন অভদ্রতা! গলা খাকারি টয়লেটে বসেও দেয়া যাবে না। ভাল মন্দ খাইলে ঢেঁকুর দেয়াটা আসে, মেলবোর্নের মানুষজনের মাঝে ভুলেও এই কাজ করবেন না! থু থু ফেলবার ব্যাপারটাও বলে ফেলি চামে! আমি গত ৮ বছরে কাউকে থুথু ফেলতে দেখি নাই! বিশ্বাস করেন ভাই দেখি নাই। আমিও ফেলি নাই! ভাবি আমার থুথু গুলা যায় কই? বাংলাদেশে মানুষের মুখ যেন একটা থুথুর ট্যাপ, কই দিয়া এত থুথু আসে কি জানি! আর রমজান মাসে তো মাশাল্লাহ! আমরা একটু মশলা টশলা দিয়া কইসা রান্না করে খাই। পেটে মাঝে মাঝে গেস হয়! আমার পেট আবার সিরিয়াস জিনিস! বাদাম, চিজ, বাটার, গাজর ইত্যাদি জিনিস খাইলেই শেষ! গেস আর গেস! (গেস মানে বায়ু মানে পাদ আরকি) গেস ছাড়ার একমাত্র জায়গা বাথরুম! অন্য জায়গায় এই আকাম কইরচুন কি মইরচুন! বায়ুর ব্যাপারে দেশীয় মনোভাবও সুবিধার নয়! আচ্ছা কারনটা কি? এমন কেউ কি আছে যে জীবনে পাদে নাই? সব শালা রেসিষ্ট! হে হে বায়ুও ঢুকিয়ে দিলুম!

বেসিন আর সিংক
এই দুইটাই পশ্চিমা জিনিস! দেশে বেসিন দেখলেও সিংক দেখছি মনে পরে না! ম্যানার বিশয়ক আলাপ তাই প্রথমেই বলে নেই ম্যানার, তারপর খাচ্চতের দিক আলোকপাত করা যাবে! বেসিন হাত মুখ ধোবার জায়গা, সিংক না! সিংকে থালা বাসন ধোবার ফাঁকে চামে হাত ধুয়ে ফেলতে পারেন! কিন্তু ভুলেও থুথু বা নাক ঝরাতে যাবেন না! খোদার কসম মাইর একটাও নিচে পরবে না! তবে অফিসের কমন বাথরুমে কিছু লোকজনকে দেখছি ঠ্যাং কেমনে কেমনে জানি আঁকাবাঁকা করে বেসিনে ভরে দেয়, তারপর কাজের ফাঁকে ঠ্যাং ধোয়! হঠাৎ ঠ্যাং কেমনে কর্পোরেট অফিসে ময়লা হইল যে এমন বিধঘুটে উপায়ে ঠ্যাং ধুইতে হয় বোধগম্য না!

এস্কেলেটর
এইটা মনে হয় সবচাইতে আজিব নিয়ম। এস্কেলেটরে দাড়িয়ে নামলে বায়ে থাকেন, ডান পাশ দিয়ে যাতে দৌড়ানো পাবলিকরা দৌড়াইয়া নামতে বা উঠতে পারে!

মেট উহু মাইট
অস্ট্রেলিয়া মাইট (Mate) কালচারকে খুব গুরুত্ব দেয়! সবাই সবার মাইট, বাবা মা কে পোলাপান, পোলাপানকে বাবা মা মাইট বলতে শুনছি। তুমি যেই হও তুমি বন্ধু, ব্যাপারটা খারাপ না! উচ্চারণটা হবে মাইট, গুডে মাইট, থাঙ্কস মাইট, সরি মাইট, ফা…ইউ মাইট! এক জনের সমস্যায় অন্য পরিচিত/ অপরিচিত মাইট হিসাবে সাহায্যের জন্য আগাইয়া আসাটা কালচার। রাস্তার মাঝখানে একবার আমার বন্ধুর গাড়ি ডক্ক ডক্ক করে বন্ধ হয়ে গেল! এক অসি গাড়ি থামিয়ে দৌড়ে এসে গাড়ি ঠেলে রাস্তার পাশে নিয়ে যেতে হেল্প করলো! আরও টুকটাক উদাহরণ আছে। উল্টাও আছে tongue emoticon! আমি ড্রাইভ করে যাচ্ছি, এক লোক বুইজ্জা আঙ্গুল তুলে বসে আছে। ভাবলাম এমন যায়গায় তো লিফ্ট লাগাবার কথা না! (বুইজ্জা আঙ্গুল ফেসবুক যুগের আগে, গাড়িতে লিফ্ট চাইবার জন্য বহুল ব্যাবহার হতো) গাড়ি থামালাম, বেটা দূরে একটা বিশাল সাইজের বুলডোজার (বুলডোজার জাতের কাছে ছোট সাইজের) দেখাইয়া বললো ওইটা ঠেইলা গাড়ির পিছনের ট্রেইলারে তুইলা দিতে হবে! ওই জিনিস আমার মত ১০টা মিলেও একচুল নড়াতে পারবে না এই বিষয়ে আমি নিশ্চিত। আমি ভদ্রলোকের মত গাড়ি ঘুড়াইয়া আইতাছি বইলা ফুটে গেছি!

No Worries মাইট
No Worries, No Worries, No Worries!!! মনে হতে পারে অস্ট্রেলিয়ানরা এতো Worried কেন? ১ মাস অস্ট্রেলিয়া থাকলেই No Worries ঠোটের আগে চলে আসবে। তারপর যত্রতত্র এর ব্যবহার হতে থাকবে। আমি অভ্যাস বসত বাংলাদেশী অনেককে No Worries বলে বসেছি, তারা যারপরনাই বিরক্ত হয়ে বলছে, “আমি Worried হইতাম কিল্লাই, আমি মোটেই Worried না!” আসলে কথাটার মানে হচ্ছে “চিন্তার কোনো কারণ নাই”! অনেক লন্ডনের লোকাল বাসিন্দা বলে “Alright!”, অনেকটা প্রশ্ন করবার মত করে, মানে হচ্ছে “তুমি ভালো আছ?”! উত্তরে একই ভাবে “Alright” বলা যায়! চাইনিসরা বলে “নিহাও”, নি মানে তুমি, হাও মানে ভালো! মানে দাড়ায় তুমি ভালো? কিন্তু দুটি ক্যারেক্টার মিলে অর্থ দাড়ায় হ্যালো! অস্ট্রেলিয়ান অ্যাকসেন্ট লাগাতে “Worries” টাকে একটু টেনে লম্বা করা যেতে পারে, যেমন ” woooories”!

ড্রিংক কালচার
আমরা যেমন সারাদিন ২-৩ কাপ চা খাই, অস্ট্রেলিয়ানরা কফি খায়! আমরা যেমন সন্ধাবেলা চা খাই আর আড্ডা দেই, অস্ট্রেলিয়ানরা বিয়ার খায় আর আড্ডা দেয়! আমরা রাতের খাবার পর চা খাই, অসিরা ওয়াইন খায়। সবাই খায় না বটে, বেশিরভাগ খায়! যুবসমাজ অবশ্য বিয়ার পানির মত খায়! বার, পাব, রেস্টুরেন্ট মোটামুটি সব জায়গায় পাওয়া যায়! বারে একত্রে বিয়ার পানের কিছু অঘোষিত নিয়ম আছে, সেটাই মুলত আলচ্য বিষয়। সবাই একত্রে বিয়ার খেলে একে অন্যের জন্য কিনে দেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে যেহেতু আমরা খাইস্টা জাতি, কেউ খাওয়ালে নিজের পালা আসবার আগেই ভেগে যাবার প্রবনতা আছে। নিয়ম হলো কেউ খাওয়ালে তারে করায় গন্ডায় শোধ দিতে হবে। মানে আপনার দোস্ত আপনারে ২ বার পাইন্ট (বড় গ্লাস) কিনে খাওয়াল, আপনারও উচিত হবে ২ বার পাইন্ট কিনে খাওয়ান! তবে সুন্দরী মেয়েরা এক্ষেত্রে ইচ্ছামত সুযোগ নেয়, ফ্রি খায়! বিয়ার খাওয়া অসিদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ কালচার। ধর্মিয় কারনে কেউ না খেলে সমস্যা নাই, সাথে বসে কোক জুস খেলেই হবে! বিয়ারের সাথে ফুটি (অষ্ট্রেলিয়ানদের ফুটবল) নিয়ে ব্যাপক আলাপ হয়! আমার এক বন্ধু শিখিয়ে দিয়েছিলে আঁশেপাশের সাপোর্ট বুঝে সমানে রেফারীকে গালি দিলে খেলা বুঝবার খুব একটা দরকার হয় না।

প্রেগনেন্সি
প্রেগনেন্সি নিয়ে আমরা একধরণের ট্যাবুতে ভুগি! অসিরা অনেক গর্বের সাথে ব্যাপারটা শেয়ার করে। প্রেগনেন্ট মহিলাদের বাসে ট্রেনে আলাদা কদর করা হয়। যত ভীরই হউক যেকেউ সিট ছেড়ে দেবে! আমি নিশ্চিত না আমরা কেন পুরো ব্যাপারটা চেপে যাই! অবশ্য মোটা কাউকে প্রেগনেন্ট মনে করে কিছু বললে, কিছু উত্তম মধ্যমের ব্যবস্থা হতে পারে।

গাড়ি
গাড়ির ব্যবহার ব্যাপক! রাস্তার নিয়ম কানুনের বাইরেও অনেক টুকটাক ম্যানার আছে! চিপা রাস্তায় উল্টাপাশ দিয়া গাড়ি আসলে একজনকে সাইড দিতেই হয়। যে সাইড দিল তারে হাত তুলে মাথা নাড়ায়ে ধন্যবাদ দিতে হয়। নিয়মের বাইরে কেউ তার লেনে বা রাস্তায় ঢুকতে দিলেও একই নিয়ম! কেউ রাস্তায় বেয়াদবি করলে বা উল্টাপাল্টা করলে, মধ্য আঙ্গুল খারা করে নিচ থেকে দ্রুতবেগে কয়েকবার উপরে তুলে ভিষন চেতে গেছি ভাব ধরতে পারেন! তবে ভুলেও গাড়ি থামাইয়া মারামারির চিন্তা কইরেন না! কোন গাড়ি দিয়া কে বের হবে কেমনে বুঝবেন? কপাল খারাপ হইলে এমন কেউ বের হতে পারে যে আপনারে কিলাইয়া মাটিতে গাইড়ালাইতারে! আঙ্গুল দেখাইছেন ওই সুখে আড়াম কইরা ঘুম দেন! হর্ন দিয়ে কাউকে সতর্ক করা ছাড়া হর্নের ব্যবহার অভদ্রতা। পুলিশ পাইলে সুন্দর একটা লাভলেটার ধরাই দিতে পারে কিন্তুক! সতর্ক করবার ভদ্র উপায় হচ্ছে হাইবিম, কাজ না হলে কি আর করা! গত ৭-৮ বছরে হাতে গোনা কয়েকবার হর্ন দিতে হইছে। ঢাকায় মাঝেমাঝে মনে হয় ড্রাইভাররা এমনিতেই হর্ন দেয়, আওয়াজ দিয়া জানান দেয়, আমি আছি কিন্তু! পেডেস্ট্রিয়ান রাস্তা পার হতে থাকলে গাড়িচালককে থেমে যেতে হবে! পেডেস্ট্রিয়ানকে রাস্তায় সাপ লুডু খেলতে দিতে দেয়া যাবে না। অবশ্য নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া রাস্তা পার হতে দেখলে খিচ্চা একটা হর্ন দিয়া তার আত্মা খাঁচাছাড়া করবার ব্যবস্থা করাও আপনার দায়িত্ব!

অন্য কালচার
অষ্ট্রেলিয়া মাল্টিকালচারাল দেশ! পৃথিবীতে এমন কোন দেশ নাই, যেখানের মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। অন্য কালচারের কোন রেষ্টুরেন্ট বা বাসায় গেলে তাদের কালচারকে রেস্পেক্ট করাটাও কালচার। কঠিনতর কালচার চাইনিজ, জাপানিসদের দুই কাঠি দিয়ে খাওয়া দাওয়া। অসিরা অবশ্য ভালই রপ্ত করেছে কাঠি দিয়ে খাওয়া। আমরা হাত দিয়ে খাই, অনেকের সাথে এটা নিয়ে আলাপও হয়েছে, ২ বিলিয়ন মানুষের কালচার আনকালচার্ড না! কিন্তু বিচিত্র কারনে আমরা নিজেরাই হিনমন্যতায় ভুগি, নিজেদের কালচারটা তাই তেমন প্রচার পায় নাই বলে মনে হয়। আমি অবশ্য অসি বন্ধুদের ইন্ডিয়ান খাবার হাত দিয়ে খাইয়েছি। ইউরোপিয়ান খাবার চামচ দিয়ে, এশিয়ান খাবার কাঠি দিয়ে, আমাদের খাবার হাত দিয়ে খেলে মানায় ভাল! না পারলেও সমস্যা নাই। পাস্তা বা নুডুলস হাত দিয়ে খাওয়া প্রায় অসম্ভব, একই ভাবে ডাল কাঠি দিয়ে খাওয়াও অসম্ভব।

ভাষা
ভিন্ন ভাষাভাষির মানুষ একত্রে থাকলে কমন প্লাটফর্মে কথা বলাটা ভদ্রতা! উপমহাদেশিয়, এশিয়ান, গ্রিক, মেসডনিয়ানরা এই নিয়মের থোরাই কেয়ার করে। কিন্তু ব্যাপারটা চরম অভদ্রতা! আমার চাইনিজ ক্লাসমেটরা কথা বলবার মাঝে চাইনিজ বলে ফেলত, হঠাৎ করে কিছু বুঝতাম না। এরকম আচানক ভুল হতে পারে, সমস্যা ডেলিবারেটলি অন্য ভাষায় কথা বলা। যদি বলতেই হয়, সামনের অন্য ভাষাভাষিদের কারনটা বলে সরি বলে নিলে সমস্যা নাই!

প্রাইভেসি
বিকিনি পরে কিছু মেয়ে বীচে শুয়ে আছে! গোলগোল চোখ করে তাদের দেখা, তাদের অজান্তে খেচাং খেচাং ফটো তোলা অভদ্রতা। কারো দিকে তাকিয়ে থাকাটাও অসিরা ভালভাবে নেয় না, যদি তার দুই মাথা থাকে তাহলেও না! আমার মানুষ দেখতে বড় ভাল লাগে। অনেক বার ঝারি খাইয়াও শিক্ষা হয় নাই! একবার ট্রেনে এক পাগল হাতে বিশাল একটা মিউজিক প্লেয়ারে জোড়ে গান ছেড়ে ট্রেনের এক প্রান্ত দিয়ে অন্য প্রান্তে যাচ্ছে আর আসছে। ট্রেনের কেউ ভুলেও তার দিকে তাকাচ্ছে না। আমার মত কিছু পাবলিককে আনাচে কানাচে ঝারি দিয়ে যাচ্ছে।
হোয়াট ইউ লুকিং এট? ইউ থিংক আম ফানি?
– ইয়েস ইউ আর, ওয়ান বল্টু ঢিলা
(চেইতা আগুন)

ট্রেন/পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ম্যানার
আগে নামতে দিন, পরে উঠুন! এশিয়ান, উপমহাদেশীয়ররা এই নিয়মের থোরাই কেয়ার করে। গালি খাইলে আবার ভাবে রেসিষ্ট! ট্রেনে উইঠা গায়ের জোড়ে ফোনে আন্ডা বাচ্চা নিয়া আলাপ করা অশোভন (ভারতীয়ররা এই কাজে ওস্তাদ! আমার ধারনা ওরা সারাদিনের ফোনকল ট্রেনের জন্য সেইভ করে রাখে)! বৃদ্ধ, প্রগনেন্ট, ডিসেবলদের জন্য সিট ছেড়ে দেয়া নিয়ম! তবে সুন্দরী মেয়ে দেখে সিট ছেড়ে দিলে থাবর খাবার সমুহ সম্ভাবনা আছে!
নতুন আগত এক ইন্ডিয়ান ছেলে সিটে বসে আছে, পরের স্টেশনে এক সুন্দরী মেয়ে এসে তার সামনে দাড়াল!
পোলা তরাক করে উঠে দাড়িয়ে বলল, “ইউ সিট, মি নো সিট!”
মেয়ে মহা বিরক্ত হয়ে, “আমি বসব না, থ্যাংকু!”
পোলা বড়বড় চোখ করে ডানে বায়ে মাথা নাড়ায়ে বলে, “ওক্কক্কে!” বলে সিটের পাশে দাড়িয়েই রইল!
কি আর করা আমি গিয়ে বসে পরলাম!

৬৮২জন ৬৮২জন
0 Shares

১৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ