অর্পিতা ২১

সঞ্জয় কুমার ১৮ জুলাই ২০১৪, শুক্রবার, ১১:০৯:৫৭পূর্বাহ্ন বিবিধ ১৫ মন্তব্য

কি বল ?

কাল সকালে তোমার পছন্দের একটা শাড়ি পরে বাসস্টান্ডে এস ।

ঠিকআছে । এখন ঘুমাও শুভ রাত্রি ।

জয় ভাবছে কালই অর্পিতার সাথে মা বাবার পরিচয় করিয়ে দেবে । মিলনটা মনেহয় কিছুই বলতে বাকি রাখেনি । কোন কিছু অর্ধেক জানার চেয়ে সম্পূর্ণ জানানোই ভালো ।

মা আজ তোমাদের বৌ মার সাথে পরিচয় করিয়ে দেব ।

কি বলিস কখন ! কোথায় !

সব কিছু সময় মত জানতে এবং দেখতে পারবে ।

দশটায় বাস অর্পিতা আগেই চলে এসেছে ।

জয় বাস স্টান্ডে এসে অর্পিতাকে দেখে অবাক বাঙালি নারী কে শাড়ীতে ই বেশী মানায় ।
অর্পিতা একটা লাল পেড়ে সাদা শাড়ি ভিতরে ছোট লাল রঙের ছোপ দেয়া কাজ করা । ম্যাচিং করা ব্লাউজ । খোপাতে সুন্দর করে সাজানো বেলী ফুল । ঠোটে লিপষ্টিক দেয়া কিনা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না । কপালে লাল টিপ ।

অসম্ভব সুন্দর লাগছে ওকে মনে হচ্ছে দ্বিতীয় বার আবার ওর প্রেমে পড়ে যাই । ঐ ঠোঁটের একটু ছোঁয়া পেতে ইচ্ছে করছে । কিন্তু এখন সেটা অসম্ভব ।

অর্পিতা ইনি হলেন আমার মা , বাবা ।

নমস্কার আঙ্কেল ,
নমস্কার আন্টি ।

জয়ের মা:
কি বল আমাদের জয়ের পছন্দ আছে বলতে হবে । মেয়ে তো নয় পুরো লক্ষ্মী প্রতীমা । কি বল ?

জয়ের বাবা:
হুম

অর্পিতা:
এইটা ধর

কি ?

পথে বাইরের খাবার খাবে না । এর ভিতর খাবার দেয়া আছে ।

জয়ের গাড়ি চলে এসেছে মা বাবা ভাই প্রেয়সী সবাইকে ছেড়ে এখন যেতে হবে

তোমরা ভাল থেক ।
বিজয় সারাদিন রোদের মধ্যে ক্রিকেট খেলিস না । মা বাবার দিকে খেয়াল রাখিস ।

তুই ও সাবধানে থাকিস বাবা
শরীরের যত্ন নিস ।

জয় গাড়িতে সবাই হাসি মুখে ওকে বিদায় জানাচ্ছে । জয় চোখের জল লুকিয়ে হাসছে । কেবল বিজয়টা মাথা নিচু করে আছে নিশ্চয়ই ও কাঁদছে । জয় জানে মা বাবা অর্পিতা সবাই মনে কষ্ট চেপে মুখে হয়ত হাসছে । তাদের চোখের জল হয়ত দেখা যাচ্ছে না কিন্তু অন্তরের কষ্ট সে অনুভব করতে পারছে ।

দুই পক্ষের মাঝে এতক্ষণ যে অভিনয় টা হয়ে গেল । সেটা ওরা ছাড়াও অন্তরিক্ষে থেকে মনেহয় আর একজন দেখলেন ।

বাস চলতে শুরু করেছে প্রিয়জনের মুখ গুলো আস্তে আস্তে দূরে চলে যাচ্ছে । জয়ের চোখ দিয়ে কয়েক ফোটা জল গড়িয়ে পড়ল ।

চলবে…………………..

৩১৫জন ৩১৫জন
0 Shares

১৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ