অরণ্য

বনলতা সেন ১ জুলাই ২০১৪, মঙ্গলবার, ০১:৪৩:০৩অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৩ মন্তব্য

এ পবিত্র সময়ে অন্য সময় থেকে কাজকর্ম নিয়ম মেনেই একটু বেশি থাক ঘুমাতে যেতেও দেরি হয়।কেবল মাত্র শুয়ে চোখের পাতা এক করেছি মাত্র , মৃদু কান্নার শব্দে সত্যি বিরক্ত হলাম। একটু চুপ করে ডুব মেরেও রইলাম।‘এরই মধ্যে ঘুমিয়ে গেলে ? একটু দেখেও গেলে না ?’
বিরক্ত হয়ে বললাম ‘কান্নাকাটির কী হল , কী হয়েছে তাই বল ?’ কান্নার শব্দ আরও বেড়ে গিয়ে চিৎকারে রূপান্তরিত হল।
‘একটা কালো পোকা কামড়ে ফুটো করে ফেলল ,তাড়াতাড়ি উঠে এসো’।
তড়াক করে উঠে সব আলো জ্বালিয়ে দিলাম।দেখলাম একটা কালো পোকা একটি বড় পাতা খেয়ে ফুটো করে ফেলছে। পোকাটাকে ধরে বাইরে ফেলে দিতেই কান্নাকাটির চিৎকার থেমে এবার খিল খিল শব্দ বেরিয়ে এলো। যাক বাবা ঝামেলা গেল ।

একজন গাছ ডাক্তার (প্রায় ভুয়া ) লাউয়াছড়া বন থেকে তার পছন্দের কিছু গাছ তুলে এনেছিলেন নিজের জন্য।সেখান থেকে আমাকেও দিয়েছেন অনেকগুলো একই প্রজাতির।বিদঘুটে জটিল কী সব নামধাম। নামে আমার কোন কাম নেই।গাছ-টাছের প্রতি আবার একটু বেশি মায়া মহব্বত আমার। গপসপ করি ওদের সাথে তাও জানেন তিনি।নিজ উদ্যোগে সাইন্টিফিক ষ্টোর থকে মাঝারী সাইজের তিনটি কনিকাল বিকার এনেছেন।প্রায় অর্ধেক বিকার পানিতে গাছ গুলো রেখে আমাকে দিয়েছেন । মহানন্দে আমার পড়ার টেবিলে রেখে দিয়েছি। মাটির গাছ পানিতে টিকবে কী না ইচ্ছে করেই জানতে চাইনি। চিকিৎসা সহ প্রয়োজনীয় দেখভাল নিজ থেকেই করেন। সাপ্তাহিক , পাক্ষিক ও মাসিক। মাঝে মধ্যে আবার পানির মধ্যে কী সব যেন দেয়ট্যায়। যা খুশি দিক। কদিনেই দেখতে দেখতে বেশ ডাগর ডাগর নাদুস নুদুস হয়েছে । আমি শুধু চোখে চোখে ও চোখে চোখ রাখি।
বেত্তান্ত এই ই ।
আবার ঘুমের আয়োজন , ফুছ ফুছ করে নাকি নাকি কান্না।(ধরে নেবেন না যেন আবার এরা পেট কান্দুরা)। বিরক্ত হলাম , সমস্যা জানতে চাইলাম ।
‘ মা ,আমরা তোমার কাছে ঘুমাবো’।

হে ঈশ্বর , আমাকে অরণ্য করে দাও ।

0 Shares

২৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ