অমীমাংসিত

মেহেরী তাজ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৫, মঙ্গলবার, ১০:০০:৫২অপরাহ্ন গল্প ৫৩ মন্তব্য

আজ বেশ কিছু দিন আমি একটা অন্ধকার ঘরে বন্দী আছি। ঠিক কত দিন আমার তা জানা নেই। ঘরটাকে অন্ধকার বলছি কারন এই ঘরে আলো আসার জন্য কোন জানালা নেই। ঘরের বাতাস গুমোট ও নয়। এবং এ ঘর টা যথেষ্ট ঠান্ডা। এ ঘরে একটা মাত্র দরজা আছে সেটা গলে কোন আলো আসে না কোন ভাবেই। এই দরজা খোলাও হয় মাত্র দুবার।শুধু আমায় খাবার দেওয়া সময়। আলোও জ্বালানো হয় সেই দুই সময়েই,তাও আবার মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য। আলো জ্বালানো হলে আমি খাওয়ার সাথে সাথে খুব শান্তভাবে প্রতিবার ঘরটা ভালো করে দেখে নেই।আজ কি বার? খুব জানার ইচ্ছে করছে,কিন্তু কোন উপাই নেই।ওরা আমায় কিছুই বলবে না।আমার হাতে একটা CK ব্রান্ডের ঘড়ি থাকার কথা। শুধু গোসলের সময় বাদে সব সময় ওটা আমি পরেই থাকি। সেটাও নেই। আমি কোথায় আছি তা জানি না,কারা আমায় নিয়ে এসেছে জানি না, ওদের উদ্দেশ্য টাই বা কি? আমি ঠিক কত দিন এখানে বন্দী আছি? এখন দিন না রাত? সময়ই বা কত? শুধু মনে পরছে ২০ তারিখ বৃহস্পতিবার আমি অফিস থেকে ছুটি নিয়ে আগেই চলে এসেছিলাম। খেয়ে সব মেইল,ম্যাসেজ চেক করে ঘুমিয়েছিলাম। শুক্রবার আমার ডে-অফ হলেও শনিবার আমার একটা কনফারেন্স অ্যাটেন্ড করার কথা ছিলো। যেটা আমার লাইফের খুব গুরুত্বপূর্ণ কনফারেন্স ছিলো। লাস্ট কোন ম্যাসেজে আমায় মৃত্যু হুমকি ও দেওয়া হয়নি। আমায় মারতে পারলে অনেকেরই অনেক লাভ হওয়ার কথা কিন্তু এই মুহূর্তে আমি মরে গেলে কে বা কারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে সেটা চিন্তা করতে করতেই আমি ঘুমে তলিয়ে গেলাম।

ঘুমের মধ্যে ডান পা টা সোজা করায় গ্লাস পড়ে গিয়ে ঝনঝন শব্দে চোখ মেলে তাকালাম।তার মানে খাবার আমার ঠিক পায়ের কাছেই রাখা হয়েছে যাতে আমি জানতে পারি। সামান্য একটু আশ্চর্যই হলাম। ঘরের দরজা খুলে আলো জ্বেলে আমার পায়ের কাছে খাবার রাখে গেছে আর আমার ঘুমই ভাঙলো না! আমি আস্তে আস্তে উঠে বসলাম।অনেক দিন অন্ধকারে থেকে থেকে চোখে অন্ধকার সয়ে গেছে। পায়ের কাছে আস্তে করে হাত দিলাম।হ্যা প্লেটে করে খাবার দিয়ে গেছে। কিন্তু এখন আমি তা খেতে পারবো না। কারন ওরা সবুজ কালার যে খুব টেস্টি পানিয় টা আমায় দেয় তা এবারের মত পা লেগে পড়ে গেছে,আর প্লেটের খাবার টা শুকনো । আমায় খাবার দেওয়া বা আলো জ্বালানোর কত পর আমি জেগেছি তা বুঝতে পারছি না।একটু ক্ষুধা লাগলেও আমি খাবারটা না খেয়ে জেগে বসে থাকলাম। বসে থেকে থেকে আবার যখন ঝিমুনি এসে যাচ্ছে তখনই হঠাৎ ঘরের আলোটা জ্বলে উঠলো।প্রতিদিনকার মত আজও নতুন একজন এসেছে আমায় খাবার দিতে। সেই লোক কে কোন গুরুত্ব না দিয়ে মাথা নিচু করে নিজের হাতের রেখা দেখতে লাগলাম।ঘরের দরজা বন্ধ হয়ে গেলে আমি খাবারের দিকে তাকিয়ে যতটা না খুশি হয়েছি তার চেয়েও অনেক বেশি আশ্চর্য হয়েছি অনেক বেশি। কারন খাবারের সাথে ওরা আমায় প্রথম বারের মত পরিষ্কার এক সেট কাপড় দিয়েছে। গোগ্রাসে খাবার খেয়ে পানীয় টুকু শেষ করে কাপড় গুলো হাতে নিলাম।

আমার ধারনা ঘরটা অন্ধকার হলেও বাহিরে থেকে কোন না কোন উপায়ে ওরা আমার উপর নজর রেখেছে। ঠিক কোন দিকে ঘুরে কাপড় বদলালে ওরা আমায় দেখতে পাবে না,তাই ভাবছি। সব দিকে তাকাচ্ছি এই সময়েই ঘরের আলোটা চলে গেলো। মনে মনে ১ থেকে ১২০ পর্যন্ত গুনলাম। আর সাথে সাথে চিন্তা করলাম। এবার ওয়াল ধরে ধরে দরজার অপজিটে চলে গেলাম। কারন আমার লজিক হচ্ছে অন্য সব জায়গা বাদ গেলেও ওরা দরজায় নজর রাখার জন্য সি সি রাখবেই। আর আমি সিসির নিচে গিয়ে দাঁড়াতে পারি তাহলে ওরা আমায় পুরোপুরি দেখতে পাবে না। ওয়ালের দিকে ঘুরে যত তারা তারি সম্ভব কাপড় বদলে নিলাম। পুরাতন কাপড় একপাশে ছুড়ে ফেলে দিলাম নিজের রাগ প্রকাশ করার জন্য,নিজের দম্ভ প্রমান করার জন্য। এবার দশ ধাপ এগিয়ে ঘরের মাঝামাঝি স্থানে চলে এসে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়লাম। নিজের জীবন নিয়ে চিন্তা করতে করতে ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেলাম।

আবার যখন আমার ঘুম ভাঙলো তখন আমি নিজেকে নিজের বেডরুমে আবিষ্কার করলাম।মুচকি একটা হাসি দিয়ে বিছানার ডান পাশে তাকালাম। ওখানেই আমার নিজের আইডি কার্ড টা দেখতে পেলাম। ওটাতে বড় করে লেখা আছে ” সাংবাদিক মেহেরী তাজ”।আমার মুখের হাসিটা আরো প্রশস্ত হলো। এবার মনে পড়লো দিন, তারিখ, সময় দেখার কথা। হাত ঘড়িটা তো আমার হাতেই থাকার কথা কিন্তু তা হাতে নেই,টেবিলেও নেই।ওটার চিন্তা বাদ দিয়ে মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখলাম সময় ৬:৫০ মিনিট, দিন শুক্রবার, তারিখ ২১-০৯-২০১৫। এবার আমি হো হো করে হেসে উঠলাম।

আজ আমার ব্রেকফাস্ট ৭:৩০ মিনিটে বাইরে যাবার কথা।আমার এক ফ্রেন্ড এর সাথে। ওকে ফোন দিলাম। সব ঠিক আছে। ও স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলে তাড়া তাড়ি যেতে বললো। আমি ফোন কেটে দিয়ে আর এক দফা হেসে নিলাম। বিছানা থেকে নেমে দাঁত ব্রাশ করার জন্য বেসিনের সামনে দাঁড়ালাম।চোখ মেলে আয়নার দিকে তাকাতেই আমার মুখ দিয়ে ছোট খাট একটা চিৎকার বেড়িয়ে এলো। আমি খুব সহজে চমকাই না। কিন্তু আজ চমকে গেছি। কারন আমার গায়ে ওদের দেওয়া সেই কাপড় গুলো।

##এটি আমার প্রথম রহস্য গল্প।কোন দুর্বলতা থাকলে সরাসরি বলবেন অনুগ্রহ করে।আমি শিখতে চাই।

৪৩৪জন ৪৩৪জন
0 Shares

৫৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ