‘ বর্ণের সমাহারে এঁকে যাই অক্ষরের আঁকিবুঁকি,
একদিন হয়তো সত্যিই কিছু লিখতে পারবো..
আশা রাখি, আশাতেই বাঁচি।’

নিজের সম্পর্কে উপরের কথাগুলো লিখে তিনি এই সোনেলায় এসেছিলেন ৫৪৮ দিন পূর্বে। তার নিজের সম্পর্কে লেখা থেকে বুঝতে পারা যায় এখনো তিনি সত্যি কিছু লিখতে পারেন নি। এই অতৃপ্তি তাঁকে দিন দিন লেখায় শানিত করছে। আমরা আসলেই তৃপ্ত তার লেখা পড়ে। তারপরেও আমরা অপেক্ষা করবো কবে তিনি নিজে বলবেন ” আজ সত্যি কিছু লিখতে পেরেছি। ”

সোনেলায় এসেই তিনি কিছুদিন মন্তব্য দিয়েছেন। নিজে কিছু লেখার পূর্বে সবার লেখা পড়ে বুঝতে চেয়েছেন ব্লগে কি লিখতে হবে, কেমন লেখা দিতে হবে। তিনি পড়তে ভালোবাসেন এটি জানি আমি। এমনকি খবরের কাগজ বা বইয়ের কাগজের ঠোংগা ফেলে দেয়ার আগেও তাতে কি লেখা আছে তা তিনি পড়ে দেখে এরপর ফেলেন। নিজের একটি লাইব্রেরীও আছে তার ( এসব কথা তার এক আত্মীয়ার কাছে জেনেছি আমি )। সেই তিনি সোনেলায় আসার পরে পড়ার ভালো একটি জগৎ পেয়ে মিশে গিয়েছেন সোনেলার সাথে।
ধীরে ধীরে একান্ত আপন করে নিয়েছেন তিনি সোনেলাকে, সোনেলার ব্লগারদের।

তিনি আসার পরেই সোনেলার মন্তব্যে একটি বিপ্লব এসে গিয়েছে। যত কঠিন লেখাই হোক না কেন, তিনি লেখা বুঝে ফেলেন এবং লেখা আনুযায়ী বিস্তারিত মন্তব্য করেন। তার অনেক মন্তব্যই এক একটি  পোস্টের সমান। অর্থাৎ মন্তব্যটিই একটি পোষ্ট। ব্লগারদের অনুরোধে তিনি তার কিছু মন্তব্য ব্লগ পোষ্ট হিসেবে দিয়েছেনও। তার দেখাদেখি অধিকাংশ ব্লগারগনও বিস্তারিত মন্তব্য দেয়া আরম্ভ করেন।

কিছুদিন তাঁকে মন্তব্য কন্যা হিসেবে মনে মনে অভিহিত করেছি। কিন্তু তার গুন এর সীমা কেবল মাত্র মন্তব্য কন্যায় সীমাবদ্ধ থাকবে কেন? যেভাবে তিনি ধারণ করেছেন সোনেলাকে, মন্তব্য দিয়ে উৎসাহিত করছেন অন্য ব্লগারদের, আগলে রাখছেন নবাগত ব্লগারদের অসীম মমতায় তাতে তিনি একসময় সোনেলা ইয়াসমিন হয়ে উঠলেন ( উপাধিটি দিয়েছেন ব্লগার  নাজমুল আহসান )। এর পূর্বে ছাইরাছ হেলাল তাঁকে সোনেলা হিসেবেও তার একটি কবিতায় উল্লেখ করেছেন। বৈরী সময়ে যে বিচক্ষণতা, বুদ্ধিমত্তা এবং দৃঢ়তা দিয়ে সোনেলাকে শক্ত হাতে পথ চলতে সহায়তা করেছেন তাতে তিনি সোনেলা ইয়াসমিন নামের সার্থকতা প্রমাণ করেছেন।

কিভাবে অন্য ব্লগারদের দিয়ে লেখাতে হয় তা জানেন তিনি,  ব্লগারগন আনন্দচিত্তেই পোষ্ট দিয়ে যান তার আন্তরিক আহ্বানে। আবার নিজেই লেখেন প্রায় সব বিষয়/ বিভাগ নিয়ে।
তিনি লেখক হতে চান 
হতে চান সোনেলার মডু 
প্রচুর অ-কবিতা লিখেছেন তিনি। আমরা তো দেখি এসবও কবিতা, কিন্তু অ- কবিতা কেন বলেন তা তিনিই জানেন।
কবিতাও লিখেছেন তিনি অনেক। কবিতা হোক বা অকবিতা হোক, তিনি যে কবিতায় বেশ স্বাচ্ছন্দ তা তার সমগ্র ব্লগ পর্যালোচনা করলে বুঝা যায়।
তবে তিনি সমসাময়িক, বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা,
ব্লগ নিয়ে তার ব্যাক্তিগত ভাবনা,
সোনেলাকে নিয়ে তার নির্বাক রুদ্ধতা,
বাংলা ব্লগ ও সোনেলা কে নিয়ে তুলনা মুলক আলোচনা,
সোনেলা ব্লগে কেন লিখবেন? ,
গল্প ইত্যাদি লিখে তিনি তার লেখার শক্তিমত্তা প্রমাণ করেছেন।
চিঠি বিভাগেও তিনি বেশ কিছু চিঠি প্রকাশ করেছেন। চিঠি লেখায় যে তিনি সোনেলার সেরা চিঠি লিখিয়ে তা প্রমান করেছেন। আমরা অবশ্য জানতে চাই না, চিঠি লেখার অভ্যাসটি কি তিনি স্কুল কলেজ জীবনেই আরম্ভ করেছিলেন কিনা 🙂
শুভেচ্ছা বিভাগেও তিনি নিয়মিত পোষ্ট দেন। আমার ধারনায় তার মত শুভেচ্ছা পোষ্ট এর পূর্বে সোনেলায় আর কেউ দেননি। আমার তিনশত তম পোষ্ট উপলক্ষে তিনি দিলেন বহুল পঠিত এবং অত্যন্ত পরিশ্রমী একটি শুভেচ্ছা  পোষ্ট – অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা স্বপ্ন চাষীকে …………

এমন একজন গুণিন ব্লগার যিনি এই পোস্টের মাধ্যমে তার শততম পোষ্ট দিলেন তার শত ব্যস্ততার মধ্য থেকেও। আমাদের সকলের প্রিয় ব্লগার সাবিনা ইয়াসমিন, শততম পোস্টের মাইল ফলক স্পর্শ করার জন্য আপনাকে জানাই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

৫৮৬জন ১৬৫জন
176 Shares

৫৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য