অবশেষে (৪র্থ পর্ব)

আতা স্বপন ১৬ মে ২০২০, শনিবার, ০৯:৪২:২০অপরাহ্ন উপন্যাস ৮ মন্তব্য

নয়.
রজত! রজত! রজত!
কে? কে?
আমি কমলা!
ও কমু! কি খবর!
ভালো! তোমার কি খবর? চাকরি হল?
আর চাকরি। বি.এ পাশ এর আজকাল কোন চাকরি নাই।মাষ্টার্স সি.এ, এম বি এর জমানায় আমার চান্স কোথায়! আর এখন চাকরির জন্য চেষ্টাও করিনা।
কেন? জানতে পারি!
তাতো পারই। আসলে একসময় চাকুরীর জন্য দৌড়িয়েছি তোমাকে পাবার জন্য। তখন চাকুরীটা হলে তোমার বাবা আমাকে রিজেক্ট করতো না। এখন তোমার বাবাও নেই।সেই চাপও নেই । বিয়েতে আর বাধাও নেই। কি বলো?
আছে! মহা বাধা!
কি বলো? আবার কিসের বাধা? বেকার স্বামী পছন্দ নয় বুঝি।
আরে তা না।

দেখা আমি কিন্তু ছোট খাট একটা ব্যবসা করছি। একদম বসে নেই। বেকার বলা যাবে না কিন্তু!

আরে ধুর! তুমি বেকার সকার নিয়ে আমার কোন সমস্যা নাই। সমস্যা অন্যখানে। বাবা মারাযাবার পর আমার বোনের দায়িত্ব এখন আমার উপর।ওর পড়াশুণা আর বিয়ে না দিয়ে আমি কিছুই করব না।

ল্যাও ঠ্যালা। কি বলছ এসব। তা তোমার বোন এখন কিসে যেন পড়ছে?

ও ডিগ্রি পড়ছে।পাস করলেই বিয়ে দিব।

তাওতো বছর দুয়েক লাগবে?

তোমার এত তারা কেন মশাই! ভালইতো হলো একটু সময় পেলে নিজেকে গুছিয়ে নিতে।দেখ এসময়ে ছোট ব্যবসাটাকে একটু বড় করতে পার কিনা।

তা অবশ্য ঠিক। ছারো এসব! ডাকছিলে কেনো এমন করে?

আর বল না তোমার ভাই দিনেষ এর জ্বালায়তো নিপা আর কলেজে যেতে চাইছে না।

কেন কি করছে রাস্কেল টা?

আরে ও দলবল নিয়ে ওর কলেজের সামনে দাড়িয়ে ইভটিজিং করে।

বল কি? এখনো ঠিক হয় নাই! আসলে মা মরা ভাই আমার। আদর দিয়ে দিয়ে বাদর তৈরি করেছি একটা। চিন্তা করনা আমি দেখছি। তা এখন কোথায় চললে। যাচ্ছি একটু খিলগাও একজন বন্ধুর বিবাহ বার্ষিকিতে। যাবে নাকি?

আরে ধুর! আমি কবে এসব সামাজিক অনুষ্ঠানে যাই বল। কখনো যাই নাই।

তুমি গেলে ভালই হতো। একজন সঙ্গী পেতাম।

সঙ্গী হতেই তো চাইছি। তা পারছি কোথায়? যাক তুমিই যাও। সাবাধানে যেও দেশের অবস্থা কিন্তু ভাল না। গুড বাই কমু।

দশ.
আকাশে মেঘ গুর গুর করছে। যে কোন সময় বৃষ্টি নামবে। ঘরের ভিতরে বিছানায় শুয়ে এক বৃদ্ধা।তার শ্বাস কষ্ট হচ্ছে ।এখন তখন অবস্থা। বিষন্ন চোখ দুটো কাকে যেন খুজছে। মুখে কিছু বলার চেষ্টা করছেন।অস্পষ্ট আওয়াজ- ফফফফ। পাসে বসা একজন মহিলা।তার ছেলের বৌ। শাশুড়ির অসুস্থতায় ভোট দিতে যেতে পারেনি তাই রাগে গজ গজ করছে। বৃদ্ধাযে মৃত্যুপথ যাত্রি সেদিকে নজর নেই। সে বৃদ্ধাকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলছে।

আম্মাজান ফ ফ ফ কইরা কি হইব এখন।ফারু এখন আসে নাই।ভোটার হইছে সে ।বাপের আহলাদী মাইয়ায় ভোট দিতে গেছে। কত রংঢং করব । তারপরত আইব।

ঘরের বাহিরে মোবারক হোসেন ভ্রু দুটি কুঞ্চিত করে উপরের দিকে তাকিয়ে আছেন। আকাশের অবস্থা খারাপ বৃষ্টি নামবে মনে হয়। মেয়েটাকে নিয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়েছিলেন তিনি। মেয়েকে মহিলাদের লাইনে দাড় করিয়ে পুরুষের লাইনে গিয়ে দাড়িয়েছেন। ব্যালট পেপার নিতে পলিন এজেন্টদের সামনে যেতেই বাহীরে গন্ডগোলের আওয়াজ শুনতে পেলেন।কিসের ভোট মেয়ের কথা ভেবে তড়িৎ বেড় হয়ে দেখেন পুরো কেন্দ্র জুরে দৌড়দুরি হুলস্থুল শুরু হয়েছে। এর মাঝে মেয়ে খুজতে লাগলেন তিনি। অবশেষে বাড়ির পথ ধরলেন যদি বাড়িতে ফিরে গিয়ে থাকে। কিন্তু বাড়িতেও নেই সকাল গড়িয়ে দুপর হয়ে গেল এখনো আসলো না।বড়ই চিন্তার বিষয়।

.চাচা! ও মোবারক চাচা ! বাড়িতে আছো!

কে? কে?

আমি সালাহউদ্দিন! আয়ুব মুন্সীর ছেলে। শুন চাচা ফারজানা বু অজ্ঞান হয়ে গেছে। কেন্দ্রের পাশে পুলিশ ক্যাম্পে আছে।তুমি চল আমার সাথে।

কি বলছ এসব? ও ফারজানার মা শুনছ।

আপনারে না বলছি আমারে এই নাম ডাকবেন না । আমার নিজের একটা ছেলে আছে আকাশ। ভুইলা যান কেন?

আহা! বাজে পেচাল রাখ এখন। ফারজানা অজ্ঞান হইয়া গেছে। আমি যাইতাছি । তুমি মায়ের দিকে খেয়াল রাখ।

মোবারক সাহেবে পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে জানতে পারে তার মেয়েকে ফাস্ট এইড দিয়ে পুলিশ ভ্যানে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রানে স্বস্তি ফিরে এল তার।
যাক আল্লাহ মেয়েটারে রক্ষা করছে।শুকরিয়া খোদা! তোমার লাখ কুটি শুকরিয়া। তুমি আমার মা মরা মাইয়াটার প্রতি দয়া করছ।

ফারজানার সাথে কিছুক্ষন আগে মোবাইলে কথা বলছিলেন মোবারক সাহেব। আজ ওদের বিবাহ বার্ষিকী । যেতে বলেছে। দেখতে দেখতে একটি বছর কিভাবে কেটে গেল। কত ঘটনা কত স্মৃতি তার মনে পড়ে যাচ্ছে বাড়ে বাড়ে। রুমাল দিয়ে আনন্দ অশ্রু মুছতে গিয়েও মুছলেননা। উল্টো আরো জোরে ক্রন্দন করে হালকা হলেন তিনি।

১১৩জন ৮জন
11 Shares

৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ