” অপ্রত্যাশিত ভ্যালেনটাইন”

রেজওয়ানা কবির ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১, শনিবার, ১০:২৩:২৫অপরাহ্ন গল্প ৯ মন্তব্য

মৃন্ময়ীর জন্য আজ হাতে একগুচ্ছ হলুদ গোলাপ নিয়ে কার্জন হলের সামনে সেই সকাল ৯.০০ টা থেকে ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি। আমার ছাত্রজীবনের হল লাইফে থাকাকালীন  প্রত্যেক বছরের অকেশনাল ডে তে ট্রেন্ড অনুযায়ী এই অপেক্ষা যেন আঠার মত লেগে আছে। তাই চাইলেও আর এই সুপারগ্লু থেকে বের হওয়া সম্ভব না। আজ ফুল হাতে দাঁড়িয়ে আছি আর সেই ১০ বছর আগের পুরনো কথা মনে পড়ছে।।।

 

২০১০ সাল, অনার্স ফাস্ট ইয়ারে ভর্তি হয়েছি। ভার্সিটির নতুন বন্ধুদের সাথে তাল মিলিয়ে চলছি কেবল। আমার রুমমেটরা সারারাত ফোনে তাদের প্রেমিকাদের সাথে গল্প করত, আর আমি বোকা হয়ে তাদের দিকে তাঁকিয়ে থাকতাম। সবার এই প্রেম প্রেম খেলা দেখে মনে হতে লাগল আমিও প্রেম করি একটা। তবে প্রেম যে এক অনুভুতি তা সেই সময়ে বুঝি নি। শুধু ভাবতাম যারা প্রেম করে না তাদের কোন পারসোনালিটি নেই। তাই তড়িঘরি করে নেমে পড়লাম প্রেম করতে।

প্রথমে শুরু করলাম ফেসবুক,কিছুদিন এস এম এসে কথা বলেই বিকাশে টাকা চায়। বৃথা, কয়েকজায়গায় বিকাশ করেও হলো না প্রেম। এরপর শুরু করলাম বন্ধুদের কাছে নাম্বার নিয়ে। প্রথমে কথা বলার পরই শুধু নোংরা পিক দিতে চায়, ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থায় এই পদ্ধতি বাতিল। এরপর শুরু হল ইমুতে প্রেম খোঁজা, পরিচয়ে প্রেম অন্তরে আনার জন্য নানাভাবে ট্রাই করতে লাগলাম, বন্ধুদের বুদ্ধিতে এবার নিজেই শুরু করলাম এভাবে কথোপোকথন।।।

আমিঃ ভিডিও কলে আসো

মেয়েঃ আসব তবে যা দেখবে তার বিনিময়ে,,,

আমিঃ বুঝলাম কোন অশ্নীল কথা হবে এবার ভয়ে তাকে ব্লক করে দিলাম। দূর বাবা! আমার দ্বারা প্রেম😘😘😘।

এরপর গ্রহণ করলাম অন্য রকম পদ্ধতি। সারারাত চোখ কচলাতে কচলাতে নাক ডাকার শব্দে বেঁচারী মেয়ে বিরক্ত হয়েই আমায় ছেড়ে দেয়। কেননা রাত জাগতে আমি কখোনোই পারি না। কেন যে প্রেম হচ্ছে না অসহ্য।।।।

অনেক কষ্টে দিন পনের চোখ কচলিয়ে প্রেম জোর করে মনের মাঝে এনে দেখা করতে গেলাম সেই স্টাইলে, হাতে ঘরি, চোখে লাল সানগ্লাস, পরনে লাল ক্যাটক্যাটে টি শার্ট, এখনকার মেয়েরা নাকি এসবই পছন্দ করে সোহাগের কথা অনুযায়ী সেভাবেই গেলাম

কিন্তু যখনি দেখা করতে গেলাম তখনি মেয়েটি আমাকে দেখার পরদিন থেকেই পালালো। তখন বুঝতাম না আমার সমস্যা কি??? এখন বুঝি সেই পোশাকে আমার মত উচু লম্বা ছেলেটাকে লাগত বংকার মত।

বন্ধুরা বলত আমি নাকি রোমান্টিক না??? তাই এবার রোমান্টিক হওয়ার এক্সপেরিমেন্টে নেমে পড়লাম। আমার বন্ধু সোহাগকে প্রতিদিন এস এম হলের গরম গরম পরোটার সাথে সবজি নামক অখাদ্যকর ঘুস খাইয়ে রোমান্টিকতা শিখতে লাগলাম। প্রথম দিনের শেখা বিষয় নিয়ে গেলাম দেখা করতে।

দেখা হওয়ার কিছুসময় অতিবাহিত হওয়ার পর মেয়েটির চুলে হাত দিয়ে বললাম, তোমার চুলগুলোতো দারুন এই চুল থেকে পঁচা  সাবানের গন্ধ বের হচ্ছে আর চুলগুলো দেখতে অনেকটা কাজী নজরুলের মত। এসব বলছি আর হাত পা কাঁপছিল। এইসব শুনে সে আমাকে জোরএ  একটা চর দিয়ে সেখান থেকে চলে গেল। কি হল কিছু বোঝার আগেই আমার বন্ধু হাসতে হাসতে আমার পিঠ চাপরাচ্ছিল। রাগে ওর পেটে গুতা দিয়ে বললাম তোরে প্রতিদিন পরোটা খাওয়ানো আমার বৃথা 😭😭😭। আমার ভুল ছিল কি জানেন পাঠকবৃন্দ?মেয়েটির চুল ছিল সোজা আমি সেই চুল না দেখেই কাজী নজরুল বলেছিলাম,এছাড়া সোহাগ আমাকে শিখিয়ে দিয়েছিল চুলের স্মেল অসাধারন আর আমি বলেছি সত্য কথা, পচা সাবানের গন্ধ,সোহাগ বলেছিল বলতে চুলগুলো কোন নায়িকার মত বলতে অথচ আমি বলেছিলাম কাজী নজরুল, ভেবেছিলাম সে বিখ্যাত কবি এটা বললেই হয়তো বেশি খুশি হবে😋😋। এই  ছিল আমার সেদিনের রোমান্টিসিজম সিনে ম্যাগাজিনের পাতার ইতিহাস।

এরপর শুরু হল প্রেম খোঁজার নতুন অভিজান। আবার সোহাগের সহযোগীতায় অনেক সাধনার পর আরেক প্রেম জোগার করে ফেললাম। কিভাবে??আমি যেহেতু রোমান্টিক না তাই আমি হয়ে মেয়েটির সাথে সোহাগ কথা বলত ফোনে। মেয়েটিও কিছুদিনের মধ্যেই পটে গেল। দেখা করার প্রথম দিন সোহাগের কাছে সব ডায়ালগ মুখস্থ করে আটঘাট বেঁধে ঝাঁপিয়ে পড়লাম প্রেম নামক আরেক তাজমহল গড়ার সন্ধানে। কিন্তু কথায় বলে,,  কপালে নাই ঘি,

৷৷  ৷৷৷ ৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷  ঠকঠকাইলে হবে কি??।

এবারে মেয়েটির জন্য টিউশনির টাকা দিয়ে ইয়া বড় চকলেটের বক্স আর একটা টেডি নিয়ে গেলাম। সে আমার দিকে না তাঁকিয়ে হাত থেকে চকলেটের বক্স  আর টেডি ছো মেরে নিয়ে আমাকে অপেক্ষা করতে বলে চলে গেল। কয়েকঘন্টা হ্যাবলাকান্তের মত দাঁড়িয়ে কলাভবনের সামনে দিয়ে হাঁটা শুরু করার সময় দেখি সেই মেয়ে আরেকজনের হাত ধরে আমার দেয়া চকলেট খাচ্ছিল,আর ছেলেটির হাতে ছিল আমার দেয়া সেই টেডি। ইয়া মাবুদ!😭😭😭 এটাও দেখার বাকি ছিল। এই ছিল আরেক বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি। সেদিন খুব করে কেঁদেছিলাম।

আমার কান্না দেখে বন্ধু সোহাগ এক নাম্বার দিল আবার নতুন করে শুরু করার জন্য। কিছুদিন কথা বলার পর দেখা করতে চাইলে সে আর দেখা করতে চায় না। কিন্তু মেয়েটি আমি কখন কি করি সব আমায় বলত, তাই আমার আরও তার প্রতি আগ্রহ বেড়ে যেতে লাগল। একদিন আমি ফোন দিচ্ছিলাম আর আমার পাশের বেডেও ফোন বাঁজছিল ভাবলাম দেখি সোহাগকে কে ফোন দিয়েছে??ওর ফোন হাতে নেয়ার সাথে সাথে দেখি আমার নাম্বার থেকে কল। আমি কিছুক্ষন নির্বাক হয়ে রাগে, দুঃখে ফোপাতে লাগলাম। সোহাগ বাথরুম থেকে বের হয়ে আমার হাত জড়িয়ে ক্ষমা চাইল আর বলল এতদিন সে মেয়ে হয়ে আমার সাথে কথা বলেছে আমি যাতে অন্য কারো পিছনে অযথা টাকা না খরচ করি।  এরপর সাত দিন সোহাগের সাথে কথা বন্ধ করি। কিন্তু কি করব, ভার্সিটি লাইফে ও ছাড়া সত্যি আমার কেউ ছিল না।

আবার সব ভুলে টুইটারে একজনের সাথে প্রেম শুরু করার চেষ্টা করলাম। এবার বেশ রোমান্টিক হওয়ার জন্য প্রথম দেখায় খপ করে তার হাত ধরলাম। মেয়েটি হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলল তুমি পুলিশ নাকি দেখার সাথে সাথে রোবটের মত হাত ধরলে তোমারতো হাত ধরার মাঝে কোন অনুভুতি নাই। এরপর তাকে সেইসব অশ্নীল বাক্য মেসেেঞ্জারে লিখতে শুরু করলাম, যেমন কি পরে আছো?? বন্ধুদের শিখিয়ে দেয়া হাবিজাবি আরও অনেক কিছু। কিন্তু ফলাফল হলো উল্টো। পরেরদিন মেয়ে আমার সাথে দেখা করতে আসার নাম করে আমাকে খেতে হলো  অনেক মারধোর,প্রেম করার চুমুর বদলে পেলাম ঠোট মুুখ দিয়ে ঝরে পরা অরিজিনাল রক্ত। সেইসময় প্রেমের কোন অনুভুতিই বুঝি নি। সবাই প্রেম করে তাই আমারও করতে হবে এ যেন ছিল একটা ট্রেন্ড।

এবার ছেড়েই দিলাম প্রেম করার আশা।।।

একদিন সোহাগ আর আমি চারুকলার সামনে আলুচপ খাচ্ছিলাম,যেখানে বসেছিলাম তার পাশে একটা চিরকুট লেখা “লাভ এট  ফাস্ট সাইট”।

ভাবলাম হয়ত অন্য কারো। পরদিন ক্লাস থেকে বের হচ্ছি একজনের সাথে ধাক্কা সরি বলে চলে গেলে তার হাতের খাতাটি মাটিতে গড়াগড়ি দেয়ায় তুলে দেখি লেখা “লাভ এট ফাস্ট সাইট”। একটু অবাক হলাম। ক্যান্টিনে খেতে গিয়েছি টিস্যু হাতে মুখ মুছবো সেই লেখা “লাভ এট ফাস্ট  সাইট”। এবার সোহাগকে বললাম আর খুঁজতে লাগলাম সেই অচেনাকে। অনেক খুঁজেও পেলাম না, কিন্তু বুকের ভিতর সেদিন থেকে অন্য রকম অস্থিরতা কাজ করতে শুরু করল,আর অদ্ভুত এক ভালোলাগার অনুভূতি শুরু হলো,এরই নাম কি ভালোবাসা???নাওয়া খাওয়া,ঘুম সব ভুলে শুধু সেই কম্পনের অনুভূতি। এই অনুভূতি এর আগে এত চেষ্টা করেও আনতে পারি নি। কিন্তু তাকে প্রায় ছয় মাস হলো খুঁজে পেলাম না। মাস ছয়েক সেই অনুভূতি নিয়েই ছিলাম। সেই ফাল্গুনে একটা বক্স দাঁরোয়ান মামা আমার হাতে ধরিয়ে দিল। অবাক হলাম আমার মত অধমকে কে কি পাঠালো?? টান টান উত্তেজনা নিয়ে খুলে দেখি একটা নীল পাঞ্জাবি আর একটা ফ্রেশ মিনারেল ওয়াটারের বোতল,সাথে চিরকুট। লেখা ” লাভ  এট ফাস্ট  সাইট” বসন্তে অপেক্ষা করছি তোমার এতদিনের আনরোমা্ন্টিক মানুষটাকে রোমান্টিক করার জন্য । দেখা হবে কাল সকাল ১০ টায়। আমাকে চেনার উপায় নীল শাড়ি থাকব, কার্জন হলের সামনে। সেদিন রাতটা যে কি নির্ঘুম আর আনন্দে কেটেছিল বলে বোঝাতে পারব না,এখনো তাকে দেখিনি অথচ অদ্ভুত ভালোলাগার অনুভূতি । সারারাত জেগে ভোর থেকে কি বলব আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রাকটিস করতে লাগলাম।  সকাল ১০ টা থেকে দাঁড়িয়ে আছি কার্জন হলের সামনে, নীল শাড়ীতে তাকে দেখে আমার চোখ ছানাবড়া, সে আর কেউ নয় আমার গ্রামের সেই ছোট্ট মেয়ে মৃন্ময়ী যে এবার ঢাকায় অনার্স ফাস্ট ইয়ারে ভর্তি হয়েছে।তার ফরম ফিলাপ থেকে শুরু করে সব কাজ আমি করেছি। অথচ বুঝিনি এই মৃন্ময়ী আমার এত কাছে ছিল কখনো বুঝি নি।কিছুক্ষন  আমি হতবাক, মৃন্ময়ী বলল তার এই অনুভূতি আরও অনেক আগে থেকে,আজ সাহস করে সামনে এল। আমার মেজাজ খারাপ হওয়ার কথা কিন্তু সেটা না হয়ে মনের মাঝে ভালোলাগার অনুভূতি কাজ করতে শুরু করল, সেদিন সারাদিন আমরা খুব ভালো কাটালাম, তার হাতটা ধরে এই প্রথম আমার মনে হল খুব কাছের কেউ হাত ধরেছে। এরপর শুরু হলো আমাদের দুষ্টু মিষ্টি প্রেম যে প্রেম পাওয়ার জন্য এত লীলা করেছি এতদিন,সেই প্রেম আজ নিজেই দরজায় কড়া নাড়ছে। এই বুঝি প্রেম ❤️❤️❤️।

এভাবেই কেটে যাচ্ছিল অনেকগুলো বছর। মহারানীর কোন আবদার ছিল না আমার কাছে। শুধু কোন অকেশনে তাকে নিয়ে ঘুরতে হবে,হাতে একগুচ্ছ হলুদ গোলাপ থাকবে, সস্তা তাতের শাড়ী লাগবে বেলী ফুলের মালা খোঁপায় জড়াবে, তার কপালে আলতো চুমু খেতে হবে আর একবার একটু জড়িয়ে ধরতে হবে, এই ছিল তার ছোট ছোট আবদার। তার প্রত্যেক আবদার এতগুলো বছর মিটিয়েই যাচ্ছিলাম।

এখন আমি কর্পোরেট অফিসের প্রজেক্ট ম্যানেজার। এত ব্যস্ততার সাথে সেও মানিয়ে নিয়েছে কারন আমার ভালোতেই তার ভালো থাকা, এটা অবশ্য তার কথা। তাই শুধুমাত্র এইসব অকেশনে ছিল তার আবদার। তাই তার এই সামান্য চাওয়াগুলো আমি প্রত্যেক বছরের অকশনে পুরন করতাম।

এর আগের বছরও তাই বরাবরের মত ফাল্গুন আর ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষে কেনাকাটা করে দুজনেই খেয়ে বাড়ি ফিরলাম। পহেলা ফাল্গুনে হলুদ শাড়ী পরে খোঁপায় বেলী ফুলের মালা জড়িয়ে ফুলার রোডে আমার হাত দুটো শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। কিন্তু সেদিন আর কপালে চুমু দেয়া হয় নি পুলিশের পাহাড়ার কারনে। পরদিন ভ্যালেন্টাইন ডে, সকালে তারাহুড়া করে রেডী হয়ে নীল পাঞ্জাবী পরে দাঁড়িয়ে আছি সে আসবে বলে, এক ঘন্টা, দু ঘন্টা পরপর অনেকগুলো সময় গেল সে আর আসল না, তার নাম্বারও বন্ধ। এতগুলো বছরে কোনদিন এমন হয় নি। সে সবসময় আমার জন্য অপেক্ষা করেছে আজই প্রথম এমন সে নাই। পাগলের মত রোকেয়া হলে তাকে ডাকতে লাগলাম, কিন্তু সে নাকি কাল রাত ১০ টায় বেড়িয়েছে। অনেক জায়গায় ফোন করে জানলাম সে বাড়ি গিয়েছে, দিকবিদিকশুন্য হয়ে রওনা দিলাম রংপুরের উদ্দেশ্যে। ৭ ঘন্টা কিভাবে বাসে কাটালাম জানি না তবে যা যা বকা দিব সব ভেবে গাড়ি থেকে নামলাম। তার বাসায় এত মানুষের ভীর দেখে তাকে খুঁজতে লাগলাম। কেউ একজন তার ঘরে দেখিয়ে দিল।

অবশেষে সেই ভ্যালেন্টাইন ডে তে তাকে দেখতে পেলাম। উফফ! বাঁচা গেল,তাকে দেখে বুকের ভিতর ধক করে উঠল। এত রাগ আর অভিমানে এবার অনেক বকা দিলাম, মৃন্ময়ী শুধু চুপ করে শুনলো একটা কথাও বলল না সেদিন । আমি রাগে তাকে জোরে সবার সামনে জড়িয়ে ধরলাম এই ভেবে যেন কখনো আমাকে আর না বলে যেন কোথাও চলে যায়। এই জড়িয়ে ধরার মাঝেও আমার সেই এত ভালোবাসার অনুভূতি ছিল যে,,, দেখলাম তার ঠোটের কোনে মৃদু হাসি।। তারপর তার কপালে আলতো করে চুমু খেলাম। আমার এই চুমু খাওয়া দেখে তার বাবাও হতবম্ব। বেঁচারা বাবা আসার আর সময় পেল না।।। এই সময় আসতে হলো??? এরপর রুমে শোরগোল শুরু হল,মৃন্ময়ীকে এখন নিয়ে যাওয়া হবে। কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে বোঝার আগেই সেন্স হারিয়ে ফেললাম। যখন সেন্স ফিরল দেখলাম আমার হাতে একটা ডায়েরী যাতে প্রতিটি পাতায় লেখা অপ্রত্যাশিত ভ্যালেন্টাইন। শেষ যখন তাকে জড়িয়ে ধরেছিলাম তখন তার নিথর দেহকে এমন কায়দায় জাপটেছিলাম যে আমার শরীরে তামামার কম্পনের অনুভূতি হয়েছিল। শেষ যখন তার কপালে চুমু খেয়েছিলাম তখনও তার কপালে ছোট্ট নীল টিপ ছিল। চুমু খাওয়ার কারনে টিপটি সরে গিয়েছিল।  ( বসন্তের দিন সারাদিন আমার সাথে ঘুরে  রাতে হল থেকে একা বের হয়ে আমাকে সকালে সারপ্রাইজ দিবে বলে আজিজ সুপার মার্কেট যাওয়ার পথে রোড এক্সিডেন্টে মারা যায় মৃন্ময়ী) সেই যাওয়াই তার শেষ যাওয়া তা কখনো বুঝি নি।

কানের কাছে প্রচন্ড গাড়ীর হর্নের শব্দ, এক্সকিউজ মি,, প্লিজ সরে দাঁড়ান নাহলে এক্সিডেন্ট করবেন কথাটি কানে আসার সাথে সাথে হঠাৎ ধাক্কা। সেই ধাক্কার সাথে সাথে আমার হাতে থাকা হলুদ গোলাপের সাথে আমিও ছিটকে পরে গেলাম। আর বুঝলাম এতক্ষন আমার পুরোনো স্মৃতিতেই ছিলাম, আনমনা থাকার কারনে আর একটু হলেই আমিও মৃ্ন্ময়ীর কাছে চলে যেতাম।

আজও ভ্যালেনটাইন ডে❤️❤️❤️।আমার পরনে নীল পাঞ্জাবী, হাতে হলুদ গোলাপ আর বেলী ফুল নেই শুধু আমার মৃন্ময়ী। তাই আজও প্রতিটিদিন আমি তার স্মৃতিতে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার পথ খুঁজি। আজকাল ভীষন একা লাগে। যে ভালোবাসার জন্য কতকিছুই না করেছি আর আজ সেই ভালোবাসা পেয়েও ধরে রাখতে পারলাম না। নিয়তির কি নির্মম পরিনতি।  আজও প্রতিটি অকেশন ডেতে আমি এখনো পাঞ্জাবী পরে ফুল হাতে দাঁড়িয়ে থাকি কিছু নেই জেনেও।  এখন  আমার কাছে ভ্যালেন্টাইন মানেই অপ্রত্যাশিত, নেই কোন চাওয়া, নেই কোন পাওয়া,নেই কোন প্রত্যাশা, শুধু পরে আছে মৃ্ন্ময়ীর রেখে যাওয়া  ভালোবাসা, ভালোলাগার স্মৃতি। পরে আছি  আমি কা,শুধুই  একা।😭😭😭

বিঃ দ্রঃ যত টেনশন,ব্যস্ততা, থাকুক না কেন নিরাপদে সতর্কভাবে পথ চলি,ভালোবাসার মানুষকে ধরে রাখি এই প্রত্যাশা।

ছবিঃ নিজের।

২৬৫জন ৮৫জন
23 Shares

৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য