সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

অপেক্ষার মৃত্যু

ফজলে রাব্বী সোয়েব ২ মে ২০২০, শনিবার, ১২:৩৭:৫০অপরাহ্ন কবিতা ১৬ মন্তব্য

‘বাজান, বাজানগো, আইসো তুমি? ও বাজান।’
ঘরের দরজা খুলে ধূসর অপেক্ষমান চোখ খুঁজে
বেড়ায় ফজর আলীর, ফিরে এসেছে কি তার কলিজার
টুকরো ছেলেটি? নাহ্, কাউকে খুঁজে পায় না।
বিষন্ন বদনে ঘরে ঢুকে আবার খিল আটকে দেয়।
আজ কুড়িটা বছর ধরে খুঁজে ফেরে তার চোখ,
এইতো বুঝি চলে এল তার ছেলেটা,বলবে
‘বাজান, আমার লাইগা একটা লাড্ডুম আইনো।’
স্মৃতির পাতাগুলো কখনো শুকিয়ে যায়নি ফজর আলীর।
বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তার রাঙা রাজপুত্র
সলাজ ভাব নিয়ে জড়িয়ে ধরে আবদার করতো কোন না কোন।
আর সে মাথায় রাখতো তার নির্ভরতার হাত।
আজ ছেলের মাথায় আর সেই হাতখানা দিতে পারে না সে।

দালাল ধরলো, জমি বিক্রি করলো, বিদেশ যেতে চায় ছেলে।
বুকের ভেতরটা কস্টে ফেটে গেলেও বায়না মেটালো বাবা।
যাক না, অনেকেই তো যায়।
কটা দিন প্রবাসী ছেলের সাথে যোগাযোগ ছিল,
তারপর হঠাৎ তা বন্ধ হয়ে গেল।
আজও ফজর আলী সেটার কোন কারণ খুঁজে পেল না।
একমাত্র সম্বলটাকে অদৃশ্যভাবেই কেউ কেড়ে নিল যেন!

ফজর আলীর চোখ এখন অশ্রুশূণ্য।
চাইলেও কাঁদতে পারে না, কিন্তু বুকের ভেতরের
হাহাকারটা এখনও আছে তার, আছে ছেলেকে
কাছে পাবার আকুতি।

বিছানায় শুয়ে জানালা দিয়ে আকাশের চাঁদটার দিকে
অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ফজর আলী।
কী সুন্দর চাঁদ! ‘ওইতো দেখা যায়, হ, ওইতো,
আমার বাজানের মুখখানা। বাজান, বাজানগো,
আয় বাজান, আয় না!’

নিথর পড়ে আছে ফজর আলীর দেহ।
একটু পড়েই জানাজানি হবে, গ্রামের মানুষ আসবে।
দাফন হবে, আসবে না শুধু তার কলিজার টুকরো ছেলেটা।
দেহত্যাগের সাথে মৃত্যু হলো তার অপেক্ষারও।

৩৩৩জন ২৩৬জন
17 Shares

১৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য