অপার্থিব পরশ

আরজু মুক্তা ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ১০:০৬:১৬অপরাহ্ন অণুগল্প ৩০ মন্তব্য

ই মেইলের যুগে চিঠি! তাও আবার হলুদ খামে। ডাকবিভাগ থেকে পাঠানো। ঠিকানাবিহীন।  অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। শর্মিলী,  রাশভারী মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির ব্রান্ড ম্যানেজার চিঠি না খুলে ড্রয়ারে রেখে দেন । নিশ্চয় বন্ধুদের পাগলামি।  চিঠি পড়ে যদি ওদের উপর রাগ জন্মায়।

বছর পাঁচেক পর, কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে, জ্যামে আটকে; বিরক্তিকর মুড নিয়ে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে লাগলো শর্মিলী। ব্যস্ততা আর ঝিমিয়ে পরা মনটাকে একটু বাতাসে উড়িয়ে দিলে কি হালকা হওয়া যায়?

ভাবনার আকাশে পাল তুলে, দেখতে পেলো ; এক পাগল ইট ঘষে ঘষে দেয়ালে কি যেনো লিখছে! কৌতূহলবশত: পড়ে দেখলো ; নির্মলেন্দুর কবিতা। মনটা প্রজাপতির ডানায় ভর করলো।

বাসায় ফিরে জমানো ৬০ টি চিঠির চৌম্বক আকর্ষণে তারিখ মিলিয়ে পড়তে গিয়ে দেখলো, কুশল বিনিময় নেই। ভাববাচ্যে লিখা। কখনো আকাশ, কখনো নদী, কখনো পদ্মফোটা দিঘীর গল্প। মনে হলো উপন্যাস লিখার টুকরো টুকরো থিম।

৫৯ নং চিঠিতে লিখা, ” সবই দিয়েছি তোমায়, আমার আবেগ, অভিমানী প্রেম, মনকেমনের চিঠি, একমুঠো নীল, প্রেমের পরশকাঠি।”

ষাট নং এবং শেষ চিঠি : প্রথম শব্দ পড়ে, চোখে পাথর বিদ্ধ হলো। চার লাইনের, নির্মলেন্দুর কবিতা!

” পোড়াতে পোড়াতে চৌচির নদী

চন্দনবনে অগ্নির মতো জ্বলে

ভূকম্পনের শিখরে তোমার মুখ

হঠাৎ স্মৃতির পরশনে গেছে গলে।”

কেনো জানি কান্না পাচ্ছে শর্মিলীর। শূন্যতা, পূর্ণতা, নির্ভরতা নাকি নিঃসঙ্গতার জন্য , জানেনা। শুধু বুঝতে পারছে, বুকের ভিতর কোথায় যেনো লুকানো জায়গা থেকে একঝাঁক অভিমান প্রচণ্ডবেগে কান্না হয়ে দু চোখ ফেটে বেরোতে চাচ্ছে।

৫২৫জন ১৩৫জন
0 Shares

৩০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য