অপার্থিব দহন!

তৌহিদুল ইসলাম ২৩ জানুয়ারী ২০২১, শনিবার, ১২:০৩:৩৯অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ১৮ মন্তব্য

আমি রুদ্রকে হিংসে করি, সত্যি বলছি আগাগোড়াই বড্ড হিংসে করি তাঁকে। যে কবি প্রেমিকার মনে আটলান্টিকের উথালপাতাল ঝড় বইয়ে দেয় তাকে আমার স্নেহাস্পদ ভাবতে অন্তরে কাঁটার মত বিঁধে। তসলিমা থেকে তনয়া এদের প্রত্যেকে হ্যামিলিয়নের পথ ধরে রুদ্র’র কবিতার শব্দবাঁশরির মূর্ছনায় সেই যে অন্ধকারাবৃত গহ্বরে বেমালুম মিলিয়ে গিয়েছে আর খুঁজে পাইনি তাদের।

শাহাবাগের দেশি দশে, আজিজ মার্কেটে দিপু’র চায়ের টেবিলে, চারুকলার ছবির হাটে, সোহরাওয়ার্দীর কদমতলায় কোথাও তনয়াদের খুঁজে পাইনা। সাঁইয়ের পদধূলিকে নমস্য করে নবউদ্যমে একতারা বাজিয়ে যারা আমাহতে ধারকৃত কবিতায় প্রেমাসক্ত সুললিত কন্ঠমাধূর্যে বশ করেছিলো শত সহস্র হৃদয়, সেসব রমনীর উপর আমার অধিকারযুক্ত পদবী কিঞ্চিত হলেও বর্তায় বৈকি! তাদের এমন হারিয়ে যাওয়াকে কিছুতেই মেনে নিতে পারিনা।

টিএসসির বারান্দায় পায়ে পা মিলিয়ে বসে থাকার সঙ্গী ঘাসফড়িঙটা সেদিন কাঁধে এসে বসেছিলো বিমর্ষ বিদনে। বললাম- তনয়াদের ইদানিং দেখেছো? পাখা ফড়ফড়িয়ে মুখে কিম্ভুতকিমাকার অভিমান্য ডানার ঝাপটা উপহার দিয়ে সেও উড়ে চলে গেলো তৎক্ষণাৎ। অথচ তাকেও রুদ্র’র কবিতা পড়ে শোনাতে চেয়েছিলাম আমি। ফড়িঙটা বোধহয় আমার মতই রুদ্রর বিপরীতে হিংসাত্মকবোধে আস্ত ডুবে আছে কে জানে!

দিনরাত্রির উত্থানপতনে বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়। নিয়ন আলোর ফুটপাত ধরে হেঁটে হেঁটে বেইলী রোড থেকে নাগরিক নাট্যমঞ্চের প্রবেশদ্বার; এ আমার ইদানিংকালের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছ। আমি মানুষের ভীড়ে তনয়াদের খুঁজি। খোঁপায় কাঠগোলাপের শুভ্রতার মায়া ছড়িয়ে আমায় অতিক্রমকারী প্রত্যেক রমণীর চোখে তাকিয়ে রুদ্র’র কবিতার ছায়া অনুভব করি। হয়তো তার আঁচলে লুকিয়ে আছে তনয়ারা! রুদ্র’র কবিতাকে যারা ভালোবেসেছে তারা আর আমার বশে নেই এটা নিশ্চিত।

ইটপাথরের দেয়াল ঘেরা হৃৎপিন্ডবিহীন তক্ষকদের এই শহর আমার নয়। যে নগরের নারীরা আমার কবিতা ভালোবাসেনা সেখানে আমি নিজেই নিজেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি আজ। নিদারুণ আক্ষেপে ভালোবাসাযুক্ত কবিতার দু’লাইন লিখে আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিয়েছি রুদ্র! যদি পারো অদলবদলের নিদারুণ অমোঘ সন্ধিতে স্বাক্ষর করে তনয়াদের মুক্ত করে দিও। নতুবা তোমার কবিতার রসকাব্যে একফোঁটা নীলাভ হেমলক – হয়তো সেটাই আমার শেষ নিয়তি!

[“অসহায় মানুষ হত্যার প্রতিবাদে
পৃথিবীর সমস্ত যুদ্ধের প্রতিবাদে
আমি আরো একবার ভাঙবো শোষকের আইন
আমি আরো একবার প্রতিরোধে ঘৃণায় বিক্ষোভে
মানুষের সমুদ্রে এনে দেবো প্রবল জলোচ্ছ্বাস।”]

— রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্।

————
তৌহিদ
২২/০১/২০২১

২৮৯জন ১৩৭জন
33 Shares

১৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য