ছয়ঃ

অনেকক্ষণ ধরে আমি আর ইয়াসির বসে আছে অন্ধকারে ঘাপটি মেরে । রাত প্রায় দেড়টা বাজে । এইখানে এসে তেমন সন্দেহজনক কিছুই করেনি জালাল । আগ্রহ হারাচ্ছি আমরা । বের হব ভাবছি এমন সময়েই একজন লোক এসে ঢুকলো ক্লাবের মধ্যে । লাল আলোতে অস্পষ্ট হলেও চিনতে আমাদের কারোরই ভুল হলো না লোকটাকে । আব্দুল মজিদ যার আসল নাম মোহাম্মদ ইউনূস । এই লোক এইখানে কি করে !! শক্ত হয়ে বসলাম আমরা ।

মজিদ ভিতরে ঢুকেই সতর্ক দৃষ্টিতে আশপাশ দেখে নিলো । এরপরে খুব সাবধানে গিয়ে জালালের পাশে বসলো । বসেই কথা বলা শুরু করলো না । ভাবটা এমন যে কেউ কাউকে চিনে না । একটু পরে তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলা শুরু করলো । হাত চেপে ধরে ফিসফিস করে ইয়াসির বলে , ” মামা কি করবা ?? গ্রেফতার করবা ?? ”
– না কোন লাভ হবে না ।
– তাহলে ?
– দেখি ওরা এরপরে কি করে ??
– কথাগুলা শুনতে পারলে ভালো হইতো ।
– হ্যা তা তো হইতোই ।

একটু পরে আরো ২জন লোক আসলো । মজিদের কাছে গিয়ে কি একটা বলতেই সে বের হওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালো । ২ জনের একজন রইলো জালালের কাছে অন্যজন মজিদের সাথে বের হয়ে গেলো । আমি ইয়াসিরকে জালালের উপরে চোখ রাখতে বলে বের হয়ে গেলাম ।

বের হতে হতে একটু দেরি হয়ে গেলো । বের হয়ে দেখি মজিদ আর তার সঙ্গী বাজারের রাস্তার দিকে হাটছে । এই রাতে পুরা বাজার ফাঁকা । একজন মানুষ নেই আমাদের তিনজন ছাড়া । পিছে তাকালেই আমাকে দেখতে পাবে তাই খুব সাবধানে পিছু নিতে হচ্ছে । বুঝতে পারছি কমান্ডো হওয়ার সুবিধাটা । এইসব আমার কাছে ডালভাতের মতই । একটু পর পরেই তারা পিছে তাকাচ্ছে । কিন্তু আমার কৌশলের সাথে পেরে উঠছে না । বেশ কিছুক্ষণ চললো তাদের সাথে আমার এই লুকোচুরি খেলা । একটু পরে এজিবি কলোনীর হাসপাতাল জোনের ভিতরে ঢুকে গেলো তারা ।

হাসপাতাল জোনে ঢুকতেই পরে বিশাল এক ঈদগাহ মাঠ । মাঠের উত্তর-পূর্ব কোণ দিকে কলোনীর শেষ মাথায় একটা পরিত্যক্ত বিল্ডিং আছে । সেই বিল্ডিং এ গিয়ে ঢুকলো তারা । বিল্ডিং এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিছুই দেখলাম না । তবে জানি অনেকগুলা চোখের সতর্ক পাহারা রয়েছে । সতর্ক ভঙ্গিতে এগিয়ে যেতে লাগলাম । লক্ষ্য একটা জানালা ।

জানালা দিয়ে ভিতরে তাকালাম । অন্ধকার !! চোখে আলো একটু সয়ে আসতেই ভিতরে ৮ জন লোক দেখলাম । একজন চেয়ারে বাধা । বড় চুল ।

আরেকটু ভালো করে তাকিয়ে বুঝলাম একটা মেয়ে ।
ধক করে উঠলো বুকের ভিতরটা !!
বুশরা !!

সাতঃ

৫ জন অস্ত্রধারী লোকের সাথে এইভাবে একা লড়তে যাবো নাকি !! ভেবে-চিন্তে একটু পিছিয়ে গিয়ে রেডিও তে মেসেজ দিলাম, ” বাধন !! রাকিব !! কাম ইন !! কাম ইন !! আমাকে শুনতে পাচ্ছো ?? ”
– ইয়েস স্যার শুনতে পাচ্ছি ।
– দ্রুত মতিঝিল আইডিয়ালের বিপরীতে চলে আসো ।
– ওকে স্যার ৫ মিনিট সময় লাগবে ।

৫ মিনিট !! আমার হাতে এখন ৫ মিনিট সময় আছে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করার । মগজের স্টিয়ারিং গুলা বন বন করে চালু হয়ে গেছে ।

৫ মিনিটের মধ্যেই বাধন আর রাকিব এসে হাজির । ওদেরকে বললাম সামনের জায়গাটা কভার করতে আমি পিছন দিক দিয়ে ঢুকবো । সামনের জানালা আর দরজাতে পজিশন নিলো ওরা আর আমি পিছন দিক দিয়ে বিল্ডিং এর ভিতরে প্রবেশ করলাম । রুমটার ঠিক সামনে এসে এক মূহুর্ত দাঁড়িয়ে শেষ বারের মত নিজেকে প্রস্তুত করে নিলাম, দেখে নিলাম পিস্তলের সব ঠিক আছে নাকি ।

হটাত কথা শুনতে পেয়ে থেমে গেলাম আমি । ওরা সবাই বুশরাকে ঐ কাগজের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করছে !! মানে কি !! বুশরাকে কেন ??
ওদের বারবার একটাই প্রশ্ন ” কোথায় রেখেছো কাগজ ?? ”
বুশরার একই উত্তর, ” আমি কিছুই জানি না । ”
ওরা কি করে সিউর যে বুশরাই কাগজ সরিয়েছে ।
ভাবনার নতুন জগত খুলে গেলো ।

হটাতই রেডিওতে বাধনের আওয়াজ ” স্যার আমরা রেডি । ”
– ওকে ।

এক লম্বা দম নিয়ে ভিতরে উদ্যত পিস্তল হাতে প্রবেশ করলাম আমি । ” হ্যাণ্ডস আপ !! ”
একটু চমকে উঠলো সবাই । পিস্তল বের করতে গেলো তারা । সাথে সাথেই একজনের হাতে গুলি করলাম । অন্যপাশ থেকে আরেকজন মাটিতে লুটিয়ে পড়লো । পিছন থেকে তাকে গুলি করেছে বাধন । মূহুর্তেই আমাদের আর তাদের মধ্যে এনকাউন্টার শুরু হয় । আমাদের দুই পাশ থেকে আক্রমণ সামলাতে না পেরে একে একে লুটিয়ে পড়ে আরো ৩ জন । এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে পিছু হটে তারা । যাওয়ার ঠিক আগ মূহুর্তে একজন বুশরাকে লক্ষ করে গুলি করে বসে ।এইটা আমার প্রত্যাশিত ছিলো না । গেটে দাঁড়ানো রাকিব কাকে ধরবে বুঝার আগেই হাতে গুলি খায় এরপরেও আটকাতে গেলে একজনের কারাতের মার খেয়ে কুপোকাত হয়ে পড়ে । বাধনকে বললাম ” বুশরাকে দেখো । ” বলেই দৌড় দিলাম দরজার দিকে । বের হয়ে দেখি একটা জিপে করে তিনজন চলে যাচ্ছে । দৌড়ে পারা যাবে না । তাই হাল ছেড়ে দিলাম ।

ভিতরে এসে দেখি রাকিবের অবস্থা তেমন গুরুতর কিছু নয় তবে বুশরার অবস্থা খারাপ । প্রায় চোখ বুজে এসেছে ওর । এই অবস্থাতে বলতে লাগলো ” সেইন্ট-মার্টিনের প্রবাল । ”
একটু পরেই কথা শেষ হয়ে গেলো ওর । বুঝলাম মারা গেছে আরেকজন ।

আটঃ

ওসি তাশফিককে ফোন দিয়ে জানিয়ে দিলাম যেনো লাশগুলা এসে নিয়ে যায় । দেখলাম মজিদ পালিয়ে গেছে । ইয়াসির ও চলে এসেছে । জানালো জালাল আর তার সঙ্গী ক্লাব থেকে বের হয়ে সোজা গাড়িতে করে উত্তরা চলে যায় । পরে ওইখান থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয় ।

ওকে বললাম, ” এখন একটা ঘুম দিবো । ” এরপরে ভাবতে বসবো ।
সকালে উঠেই যে খবরটা পেলাম তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না ।

মেজর জেনারেল শাখাওয়াত জানালেন, ” প্রতিরক্ষা সচিবের অপহরণকারীরা তার এবং তার মেয়ের জন্য মুক্তিপণ চেয়েছে আর সেটা হচ্ছে ঐ কাগজগুলো । ”

আমি বললাম, ” ওরা ভালো করেই জানে এইটা কখনো দেওয়া হবে না । ”
– হ্যা আর এতদিন পরে কেন এই ডিমান্ড !!
– মনে হয় স্যার বুঝতে পারছি ।

অফিসে গিয়ে ইয়াসিরের রুমে গেলাম । জিজ্ঞেস করে, ” ভেবে কি বের করলা ?? ”
– অনেক কিছুই ।
– মুক্তিপণের খবর জানো ??
– হ্যা ।
– সরকার কি করবে বলে মনে হয় ??
– জীবনেও দিবে না ।
– হ্যা কিন্তু অভিনয় করতে পারে তো ।
– পারে তবে ওরা এত বোকা না ।
– তাও ঠিক । তা কি ভেবে বের করলা ??

” একটা ব্যাপার এতদিন পরে মুক্তিপণ চাওয়াটা !! মনে হচ্ছে কালকে রাতেই এমন কিছু ঘটে গেছে যে আজকেই ওদেরকে মুক্তিপণ চেতে হয়েছে । ”
– মানে বুশরার মৃত্যু ??
– হ্যা ওরা নিশ্চিত ছিলো যে বুশরার কাছেই কাগজ আছে । আর বুশরাও আমাদেরকে সেটা বলে গেছে ।
– যদিও আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না ।
– হ্যা তবে বের করা যাবে আশা করি । তা জামাল কি বললো ?
– তেমন কিছুই জানেনা সে । টাকার লোভে খালি ইনফর্মেশন দিতো । তবে ঐ একটা কথা বললো যেটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে ।
– কি ??
– ভিতরের কেউ এইখানে জড়িত ।
– সেটা তো অবশ্যই ।

বাধন জিজ্ঞেস করলো, ” আচ্ছা বুশরা কেন কাগজ সরালো ?? ”
– মনে হয় ওর কোন কারণে সন্দেহ হয়েছিলো । তাই এই কাজ করেছে ।
– কিন্তু সরালো কিভাবে?
– মনে আছে ওকেই ঐ কাগজ দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো ।
– কিন্তু ও কাউকে না জানিয়ে কেন এই কাজ করলো ?? আর সরিয়ে দিয়েও কেনো কাউকে জানালো না ??
– সেইটা হয়তো চিরজীবনই রহস্য থেকে যাবে ।

হটাত একটা কথা মনে পড়লো আমার ।
” আচ্ছা ইয়াসির কালকে ওরা যখন গাড়িতে করে পালিয়ে যায় তখন আমি রেডিওতে চেক পোষ্ট গুলাকে সতর্ক করে দিয়েছিলাম । ”
– হ্যা । তো ??
– আমার জানামতে ওইদিন রাজারবাগ চৌরাস্তার মোড়, আরামবাগ মোড়, আর পল্টন মোড়ে পুলিশের চেকপোস্ট ছিলো ।
– খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে সিউর হওয়ার জন্য ।
– যদি এইটা সিউর হয়ে নিতে পারো তাহলে ওদের যাওয়ার জায়গা দুইটা ।
– কোথায় ??
– কমলাপুর আর জসীমউদ্দিন রোড ।
– এখন কি করবে ??
– অপেক্ষা ।
– কেন ?
– মুক্তিপণের ফোন কোথা থেকে এসেছে সেটা ট্রেস করা শেষ হোক ।

নয়ঃ

হন্তদন্ত হয়ে রুমে প্রবেশ করলো বিথি । চেহারায় উত্তেজনার ছাপ ।
” স্যার কমিউনিকেশনের ইঞ্জিনিয়াররা ফোন কল ট্রেস করে ফেলেছে । আপনার অনুমান সঠিক । ওরা জসীমউদ্দিনেই আছে । ”
– আমি তো বলেছিলাম ওরা কমলাপুর অথবা জসীমউদ্দিনে গেছে ।
– হ্যা । আর ফোন কল যেহেতু জসীমউদ্দিন থেকে এসেছে তাহলে তো ওরা ওইখানেই আছে ।
– তুমি সিউর ??
একটু থমকে গেলো এইবার বিথি । একটু ইতস্তত করে বললো, ” তাই তো হবে । ”
এইবার ইয়াসির বললো, ” কাহিনী কি ?? এতবার জিজ্ঞেস করছো কেন ?? ”
– তোমার কি মনে হয় ওরা জসীমউদ্দিনেই আছে ??
– হ্যা । ফোন কল ওইখান থেকে আসছে তাহলে ওইখানেই আছে ।
– এতই সোজা মনে করছো !!
– মানে ??
– না ধর তুমি কাউকে কিডন্যাপ করে রাখলা । কেউ তোমার লোকেশন জানেনা । এখন মুক্তিপণ চাইতে গিয়ে তুমি কি তোমার লোকেশন থেকে কল করবা ?? কারণ কল দিলে আজ হোক কাল হোক তোমার লোকেশন ট্রেস হবেই ।
– কি বলতে চাও ??
– বলতে চাই তুমি যেমন এই বোকামি করবা না তেমনি মজিদও এই কাজ করবে না । ভুলে যেও না ও কোন সাধারণ লোক না । পাক-ল্যান্ডের সিক্রেট সার্ভিসের একজন চৌকস অফিসার ।
– হুম । তাহলে বলতে চাও ওরা জসীমউদ্দিনে নেই ??
– হ্যা । ওদের একমাত্র সম্ভাব্য থাকার জায়গা কমলাপুর ।
– তাহলে জসীমউদ্দিন থেকে ফোন করলো কেনো ?? অন্য জায়গা থেকেও করতে পারতো ??
– উহু !! সিআইডি আর র‍্যাবের যে কর্মকর্তারা খুন হয়েছে ওই জায়গাটা জসীমউদ্দিনের খুব কাছে । ওদের সাথে যেখানে আমাদের এনকাউন্টার হলো ওই জায়গাটা থেকে জসীমউদ্দিন অনেক কাছে । আর জসীমউদ্দিন এলাকাটা অনেক বড় আর ঘনবসতিপূর্ণ । ওরা জানে ওইখান থেকে ফোন আসছে জানতে পারলে আমরা ওইখানে ওদের চষে বেড়াবো আর ওদের খুঁজতে গেলে অনেক সময় নষ্ট হবে । এই জিনিসটাই ওদের দরকার ।
– তাও ঐখানে একবার তদন্ত করা উচিত না ??
– অবশ্যই । ওদেরকে দেখানোর জন্য করবো ।
– যে ফোন নাম্বার থেকে আসছে ওইটার ব্যাপারে কি ??
– ঐ ব্যাপারে আগ্রহ নেই আমার । দেখো গিয়ে কোন ফ্লেক্সি-লোডের দোকানের নাম্বার দিয়ে কল করেছে । তবে মোবাইল মালিকের সাথে কথা বললে নতুন কিছু জানা গেলেও যেতে পারে । ঐ এলাকাতে গেলে কথা বলে দেখতে হবে । মালিকের পরিচয় বের করে রাখো ।
– আচ্ছা এখন তাহলে কি জসীমউদ্দিন যাচ্ছি ??
– হ্যা ।

প্রায় ঘন্টাখানেক পরে আমরা জসীমউদ্দিন পৌঁছে গেলাম । ইয়াসির বললো, ” আচ্ছা ওরা কমলাপুর দিয়ে অন্য কোথাও বের হয়নি তো ?? ”
– না প্রত্যেকটা এক্সিস্ট পয়েন্টে পুলিশ ছিলো । আর কমলাপুর জায়গাটা এমনিতেও সুবিধার না । ঐধরণের জায়গাতে ওদের থাকার সুবিধা হবে ।
– হুম । যার ফোন থেকে ফোন এসেছে ওর নাম রাসেল । তোমার অনুমানই ঠিক । ঐ ফ্লেক্সি-লোডের দোকান চালায় ।
– কথা বলেছো ??
– হ্যা ।
– কি বললো ??
– চেহারার বর্ণনা যা দিলো মনে হচ্ছে ওই রাতে মজিদের যে সঙ্গী ছিলো ক্লাবে সেই এসেছিলো ।
– ওকে । আর কিছু ??
– না তবে যখন ঐখানে ছিলাম তখন এক পিচ্চি ছিলো । নাম সবুজ ।
– ও কি করেছে ??
– কিছুই না । চেহারা বর্ণনা শুনে বললো এই লোক নাকি গত ১০-১২ দিন ধরে ওদের হোটেল থেকে খাবার কিনে নিয়ে যায় ।
– কি ??? আর কি বললো ?? ওদের হোটেল কোনদিকে ??
– কমলাপুর ট্রাক-স্ট্যান্ডের পাশে ।
– এরপরে আর কি জানালো ??
– তেমন কিছুই না । তবে ওকে নাম্বার দিয়ে এসেছি । ২০০ টাকাও দিয়েছি । বলেছি ওই ব্যাটারে এরপরে দেখলে যেন খেলায় করে কোথায় যায় আর আমাদের খবর দেয় ।
– গুড ।
– এখন কি করবো ??
– অপেক্ষা । সবুজ খবর দেক আগে । এরপরে ভেবে দেখবো ।
– যদি ব্যাটা খাবার কিনতে না যায় ??
– না যাবে । কারণ খাবারের কষ্ট কেউ পেতে চাইবে না ।
– দিনের বেলায় ওই এলাকাতে যাবে নাকি ??
– না ওরা আমাদের সন্দেহ করতে পারে । তখন সব কিছু বর্বাদ হয়ে যাবে ।
– শুধু সবুজের উপরে নির্ভর করবা ??
– না ওই দোকানের বাইরে আমরা চর লাগাবো ।
– কিভাবে ??
– ওইটার ব্যবস্থা ইন্সপেক্টর তাশফিকের উপরে । ওনার এলাকা উনি বুঝবেন ।
– ওই ভুঁড়িওয়ালা ব্যাটার উপরে আমার ভরসা নাই ।
– না ভুঁড়ি থাকলেও ব্যাটা কাজের আছে । ওর ট্র্যাক রেকর্ড ভালো । আর ওর নামে কোন দূর্নীতি নাই ।
– তাহলে এখনই জানায়া দাও । এই সুযোগ হাতচ্ছাড়া করা যাবে না ।

আর কথা না বলে রেডিও বের করলাম আমি ।

দশঃ

প্রথমেই মেসেজ দিলাম ইন্সপেক্টর তাশফিককে । উনি জানালেন, ” সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে । ঐ হোটেলের বাইরে এক পানওয়ালা বসে । সে নাকি ওনার ইনফর্মার । ” আরেকটা তথ্য জানা গেলো যেটা সেটা হচ্ছে সবুজ ছেলেটাও ওনার ইনফর্মার ।
অবশ্য এইটা সুনে ইয়াসির আর আমি অবাক হলাম না । ওর কথা-বার্তা শুনে আমাদের আগেই এইটা মনে হয়েছিলো ।

এরপরেই মেসেজ দিলাম আমাদের মেজর জেনারেল শাখাওয়াত স্যারকে । ওনাকে সব কিছুর ব্যাপারে অবহিত করে জানালাম আমার এক ইউনিট কমান্ডো সেনা লাগবে ।
একটু অবাক হলেও জানালেন ব্যবস্থা করছেন ।
ইয়াসির জিজ্ঞেস করলো, ” কমান্ডো দিয়ে কি করবে ?? ”
– বুশরার ক্ষেত্রে যে ভুলটা করেছি ওইটা করতে চাই না । অবশ্য তখন সময় ছিলো না । এখন যেহেতু সময় আছে তাই সব কিছু একেবারে পার্ফেক্ট করে রাখতে চাই ।

এরপরে মেসেজ দিলাম ঢাকার পুলিশ কমিশনারকে । জানালাম কমলাপুর ও তার আশেপাশের এলাকাতে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য । উনি জানালেন সময়মত র‍্যাব আর রিজার্ভ পুলিশ দিয়ে যথার্থ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে ।

মোট কথা নিরাপত্তার কোন কমতি নেই আমাদের । এইবার খালি ওই ব্যাটার হোটেলে যাওয়ার অপেক্ষা । সব প্রস্তুতি সাড়তে সাড়তে বিকাল ৪টা বেজে গেলো । সবুজ জানিয়েছে ওই লোক নাকি প্রতিদিন রাত ৯-১০টার দিকে রাতের খাবার কিনতে যায় । আর সকালে ১১টার দিকে গিয়ে একেবারে নাস্তা আর দুপুরের খাবার কিনে ।

এখন আমাদের রাতের অপেক্ষা । সময় যেনো শামুকের ন্যায় এগিয়ে চলছে । কমান্ডো অপারেশনের জন্য প্রস্তুত হয়ে নিয়েছি আমিও । সন্ধ্যা ৬টার দিকে আর্মি হেডকোয়ার্টার থেকে পাঠানো ২৫ সদস্যের এক ইউনিট কমান্ডো এসে পৌঁছলো যার নেতৃত্বে রয়েছেন ক্যাপ্টেন পার্থিব ।

অবশেষে রাত ৯টা বেজে গেলো । সতর্ক হয়ে উঠলাম আমরা । জানি যেকোন সময় সবুজের ফোন আসবে । বলে রাখা ভালো আমাদের এজিবি কলোনীতে অবস্থান নিয়েছি । এইখানে থাকলে ওরা জানতে পারবে না ।

রাত ৯টা ২০ এর দিকে সবুজ জানালো ওই লোক এসে খাবার নিয়ে গেছে । আমরা সবাই কলোনী থেকে বের হয়ে কমলাপুরের দিকে রওয়ানা দিলাম । একটু পরে রেডিওতে ইন্সপেক্টর তাশফিক জানালো, ইনফর্মার ওই ব্যাটাকে ২৯/৪ বিল্ডিং এ যেতে দেখেছে । ঐ বিল্ডিংটা রেলওয়ে সীমানার ঠিক বাইরে আর জায়গাটা অসম্ভব রকমের নীরব । এই ধরণের কাজের জন্য ওইরকম একটা জায়গা একেবারেই উপযুক্ত । দক্ষিণ কমলাপুরের এক গলির একেবারে শেষ মাথায় পরে ।

ঘড়িতে রাত ১০টা ৩০ । ইতোমধ্যে আমরা একেবারে নিশ্চিত হয়ে নিয়েছি যে ওই লোক এইখানেই এসেছে । কমান্ডো অপারেশনের জন্য আমরা প্রস্তুত । খুব সাবধানে ক্যাপ্টেন পার্থিব তার ৮ জন সঙ্গীকে নিয়ে পশ্চিম দিক দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলো । বেশ কিছুক্ষণ পরে আমাদের মেসেজ দিতেই আমি আরো ৮ জন নিয়ে উত্তর দিক দিয়ে ভিতরে গেলাম । ভিতরে গিয়ে কয়েকটা লাশ পড়ে থাকতে দেখলাম । এতই নিখুঁতভাবে হত্যা করা হয়েছে যে কোন রকম শব্দই হয়নি । আমাদের মূল ফোকাস ছিলো উত্তর-পশ্চিম কোণের ঘরগুলা । একটা ঘরের জানালায় শিক দেখে ওইখানে অপহৃতরা থাকতে পারে বলে অনুমান করেছিলাম ।

বিধি-বাম । নীরবে কাজ করা গেলো না । হটাতই এক লোক এক কমান্ডোকে দেখে গুলি করে বসলো । যদিও নিশানা করতে পারেনি কিন্তু আমাদের উপস্থিতি জানিয়ে দিতে বাধ্য হলাম । সাথে সাথেই শুরু হয়ে গেলো দু-পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি । রেডিওতে মেসেজ দিতেই ইয়াসির বাকি ৮ জন কমান্ডোকে নিয়ে ভিতরে চলে আসলো । ওদেরকে বললাম এদেরকে ঘিরে ফেলতে । একটু পরেই ওরা আত্বসমর্পণ করতে বাধ্য হলো । দেখলাম এবারও মজিদ ধরা পড়েনি । কোন ফাঁকে কেটে পড়েছে কে জানে !! জানি লাভ হবে না তাও রেডিওতে সবাইকে সতর্ক করে দিলাম । তবে ওকে নিয়ে আমার অতো চিন্তা নেই । কারণ কান টানলে মাথা আসেই ।

যাই হোক যেইটা অনুমান করেছিলাম সেটাই হলো । সচিব আর তার মেয়েকে ওরা অনুমিত জায়গাতেই বন্দি করে রেখেছে । ওনাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হলো । তবে এতদিন বন্দি-দশাতে তাদেরকে তেমন আতঙ্কিত বা অসুস্থ কিছুই মনে হয়নি । মনে হয় কিডন্যাপাররা তাদেরকে অনেক যত্ন করে রেখেছিলো !! ও হ্যা কারাতে স্পেশালিষ্টও ধরা পড়েনি । কারণ ওইদিন ওর উচ্চতা দেখেছিলাম ৫ ফুট ২ ইঞ্চি । আজকে ওই উচ্চতার কাউকে গ্রেফতার বা নিহত হতে দেখলাম না । আর ভিতরের উচ্চপদস্থ কে জড়িত সেটাও জানা হলো না । আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার কাগজটা উদ্ধার করা হয়নি ।

এগারোঃ

আবার আমরা বুশরার বাসায় আসলাম । কাগজটার খোঁজ করতে । কিন্তু ” সেইন্ট-মার্টিনের প্রবাল ” কথাটার মানে কি ?? পুরা বাসা খুঁজেও কোন প্রবাল পেলাম না । তাহলে ও কি বলতে চাইছে ?? সেইন্ট মার্টিনে প্রবালের নিচে ওই জিনিস লুকিয়ে রেখেছে ?? অসম্ভব !! কাগজ কি কেউ প্রবালের নিচে রাখবে ?? আর এত গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ও অবশ্যই হাতের কাছে রাখতে চাইবে । তাহলে কোথায় ??

হটাতই ড্রয়িং রুমের দেয়ালের বিশাল ছবিটার উপরে চোখ পড়লো । বুশরার ভার্সিটিতে থাকার সময়ের ছবি তার কয়েকজন বান্ধবীর সাথে । ছবিটায় দেখা যাচ্ছে, ” ওরা প্রবালের উপর বসে আছে । ” আর এই ধরণের এত বিপুল সংখ্যক প্রবাল কেবল সেইন্ট-মার্টিনেই পাওয়া সম্ভব । চট করে মাথায় আসলো জিনিসটা । আচ্ছা ওকি এই ছবির কথা বলে নাই তো ??

ভাবনাটা ইয়াসির আর বিথিকে জানাতেই ওরা গিয়ে ছবিটা নামিয়ে আনলো । ছবির পিছনে নিরেট দেয়াল । কোন গুপ্ত দরজা বা কুঠুরি নেই । তাহলে কোথায় গেলো কাগজ ।

আচমকা ভাবনাটা আসলো মাথায় । আচ্ছা ছবির পিছনে কি থাকতে পারে ?? পিছনে হাত দিতেই ফ্রেমটা হাতে লাগলো । ওটা খুলতেই বেড়িয়ে পড়লো একটা সাধারণ খাম । যেটা খুলতেই কয়েকটা কাগজ দেখতে পেলাম । খুব সম্ভব এইটাই ওই হারানো কাগজ । সাথে সাথেই ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়ে এসে সিউর হয়ে নিলাম । এরপরে ইয়াসিরকে বললাম, ” এইবার ফাঁদ পাতার পালা । ”
– কেমন ফাঁদ ??
– চলো তুমি আমার সাথে ।
– কোথায় ??
– মেজর জেনারেল শাখাওয়াতের কাছে ।

অফিসে গিয়ে দেখলাম উনি সচিবকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন । আমরাও গেলাম । সেখানে সচিবের মেয়ে প্রান্তিও রয়েছে । আমাকে দেখেই সচিব বললেন, ” ধন্যবাদ অফিসার । আপনারা না থাকলে বোধহয় আর বেঁচে থাকা লাগতো না । ”
– দিস ইস আওয়ার ডিউটি স্যার ।
– হ্যা জানি ।
প্রান্তি আমাকে জিজ্ঞেস করে, ” কাগজের কি খবর ?? ঐটা কি পাওয়া গেছে ?? ”
– না তবে অতি শীঘ্রই পাওয়া যাবে ।
– মানে??
– খবর হচ্ছে স্যার আমরা বুঝে গেছি ওইটা বুশরার বাসার একটা প্রবালের ছবির পিছনে আছে । আমরা শাখাওয়াত স্যারকে নিতে আসছিলাম ।

” কি ?? ” লাফিয়ে উঠলেন শাখাওয়াত স্যার । ” আর ইউ সিরিয়াস ?? ”
– ইয়েস স্যার
– দেন লেটস মুভ ।
– ওকে স্যার ।

বের হওয়ার আগে প্রান্তিকে ওর ঘড়িটা ফেরত দিলাম । বললাম, ” ফেলে এসেছিলেন এইটা । ” একটা মিষ্টি হাসি উপহার দিয়ে ঘড়িটা নিয়ে হাতে পরে বললো, ” অনেক ধন্যবাদ আপনাকে । আমার এক প্রিয়জনের দেয়া উপহার । ”

হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার আগে বিথিকে একটা কাজ করতে বলে আসলাম । একটু পরেই ও ফোন দিলো, ” স্যার আপনার অনুমানই ঠিক । ”
– হুম । ফলো কইরো না সাবধান । আমরা জানি ও কোথায় যাবে । তাই ফলো করার কোন দরকার নাই । তুমি সচিবের উপর নজর রাখো ।
– ইয়েস স্যার ।

বেশ খানিক্ষণ পরে পৌঁছে গেলাম বুশরার ফ্ল্যাটে । গিয়ে দেখি ছবির পিছনের জায়গাতে কিছুই নেই । শাখাওয়াত স্যার বললেন, ” এইটা কি করে সম্ভব ?? ”
– স্যার চিন্তা করবেন না ।
– মানে ??
– আজকেই সব রহস্যের সমাধান হয়ে যাবে ।

রাত ১২টা । মতিঝিল আর কমলাপুরের সেই নাইট ক্লাবের পিছনের একটা জায়গায় আমরা ঘাপটি মেরে বসে আছি । একটু পরেই এলো একজন লোক ।
মজিদ !! কিছুক্ষণ পরে আসলো আরেকজন । ৫ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার । পুরা শরীর এমনকি মুখ টাও কালো মাস্কে ঢাকা । এসেই একটা খাম বাড়িয়ে দিলো মজিদের দিকে ।
চিনতে পারলাম খামটা । ছবির পিছনে আমি এইটা রেখে এসেছিলাম । ভিতরে কয়েকটা ভুয়া কাগজ ।

এইবার কোন সুযোগ দিবো না । পিস্তল নিয়ে সোজা তাদের ঘাড়ে ঠেকালাম । শাখাওয়াত স্যার গিয়ে দ্বিতীজনের মাস্ক খুলে নিলেন । নিয়েই একটা ধাক্কা খেলেন ।

প্রান্তি !!!
– ইয়েস স্যার এই হচ্ছে আমাদের সিআইডি আর র‍্যাব অফিসারদের খুনি । আর ওনার বাবা হচ্ছেন মেইন কালপ্রিট ।
– তাই তো মনে হচ্ছে ।

গ্রেফতার করা হয় ২ জনকে । মজিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার হয় আরো অনেকেই । গ্রেফতার করা হয় সচিবকে তার মেয়ের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ।

বারোঃ

পরেরদিন সকাল ১১টার দিকে আমার আর ইয়াসিরের ডাক পড়ে শাখাওয়াত স্যারের রুমে । গিয়ে ঢুকতেই উনি বললেন, ” বসো তোমরা । আমার কয়েকটা প্রশ্নের জবাব দাও । ”
– জ্বি স্যার বলেন ।
– মজিদ গুলিস্তানে কেন থাকতো ??
– মজিদের মামা বাংলাদেশের নাগরিক । দীর্ঘ ৫৭ বছর ধরে সে এখানে আছে । এখন সে ওই এলাকার মেইন ড্রাগ-ডিলার । মামার কাছে থাকলে তার সুবিধা হতো । তাই সে ওইখানে ছিলো ।
– ওরা কমলাপুরের ওই জায়গাতে আস্তানা করলো কেনো ??
– কারণ ওই জায়গাটাও ড্রাগ-ডিলারদের আস্তানা । আর ওইখানে মজিদের মামার প্রভাব বেশি । ওই এলাকা থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর পকেটে মাসে একটা বড় পরিমাণ টাকা যায় তাই সেখানে পুলিশের অভিযান বলে কিছু নেই । ওই ড্রাগ-ডিলার, মন্ত্রী আর মজিদের মামাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে ।
– সচিব আর প্রান্তি কেন এই কাজ করলো ??
– প্রান্তি ভালোবাসা আর সচিব অর্থের লোভ-লালসার জন্য ।
– প্রান্তিকে সন্দেহ কেন করলে ??
– কারাতে আর উচ্চতার জন্য । আর উদ্ধারের পরে ওদের অবস্থা দেখেও খটকা লেগেছিলো ।
– নিশ্চিত হলে কি করে ??
– যখন সন্দেহ করলাম তখন ওর ব্যাপারে খোঁজ নিলাম অস্ট্রেলিয়াতে । ওর ভার্সিটিতে । ওইখানে জানতে পারলাম পাক-ল্যান্ডের এক ছেলের সাথে ও প্রেম করতো । দুই শত্রু দেশের ২ জনের ভালোবাসার ঘটনা ক্যাম্পাসে ভির-জারার ঘটনার মত হওয়াতে আলোচিত ছিলো । তাই খোঁজ পেতে তেমন বেগ পেতে হয়নি । আর ছেলেটার নাম জানতে পারার পরে সিউর হয়ে গেলাম ।
– ছেলেটার নাম নিশ্চয়ই ইউনূস ??
– হ্যা
– প্রান্তি আর ইউনূস ওরফে মজিদ যে ঐখানে দেখা করবে এইটা কিভাবে জানলে ??
– প্রান্তির ঘড়ি দিয়ে ।
– ঘড়ি !!
– জ্বি স্যার । যখন সন্দেহ করলাম ওর ঘড়িতে ছোট্ট একটা লিসেনিং ডিভাইস লাগিয়ে দিয়েছিলাম । ও বুশরার বাসা থেকে কাগজটা নিয়েই মজিদের সাথে যোগাযোগ করে । এতই উত্তেজিত ছিলো যে ঠান্ডা মাথায় এইটাও ভাবেনি বুশরার বাসা আমরা কেন এইরকম নিরপত্তাহীন করে রাখলাম যখন জানতামই ওইখানে কাগজটা আছে ।
– যুগ্ম-সচিবকে ফাঁসালো কেন ??
– ওটা ঘটনা চক্রে ঘটেছে ।
– আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন বুশরা কেন কাগজ সরালো ??
– বুশরার মৃত্যুর সাথে সাথে এইটা চিরদিনই রহস্য হয়ে গেছে । সঠিকটা বলতে পারবো না তবে অনুমান করতে পারি যে ও হয়তো সচিব আর তার মেয়ের কথা শুনে ফেলে কিছু সন্দেহ করেছিল আর যুগ্ম-সচিবকেও বলেনি হয়তো ভরসা পায়নি দেখে । যেকোন কিছুই হতে পারে ।
– প্রান্তি বুশরাকে সন্দেহ করলো কেন ??
– যখন জানলো কাগজটা নকল তখন আমাদের মত ভাবতে ভাবতে বের করে ফেলেছে । ওরা আসলে লুকিয়ে বুশরার বাসায় গিয়ে তল্লাশি করতে গিয়েছিলো কিন্তু ওই সময় হটাত বুশরা চলে আসায় অপহরণ করতে বাধ্য হয় ।
– ওকে কমান্ডার আব্দুল্লাহ আর লে.কর্ণেল ইয়াসির অসাধারণ কাজ দেখিয়েছো তোমরা । এইবার গিয়ে রেস্ট নিতে পারো । গতকয়েকদিন তোমাদের নিশ্চয়ই ঘুম হয়নি??
– জ্বি স্যার ।
– আমারো হয়নি ।
– ওকে স্যার গুড বাই ।
– গুড বাই । গড ব্লেস ইউ ।

রুম থেকে বের হওয়ার পরেই ইয়াসির বললো, ” উফ!! মামা শান্তি !! মনে হচ্ছে মাথার উপর থেকে পাহাড় নেমে গেছে । ”
আমি কোন উত্তর দিলাম না, মনে মনে বললাম ” এইটা একদম আমার মনের কথা । ”

( সমাপ্ত )

৪০৪জন ৪০৩জন
0 Shares

৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ