অপরাধ জগৎ…সেই ছেলেটি০২

মনির হোসেন মমি ৪ জানুয়ারী ২০১৪, শনিবার, ১০:৩৩:২৭অপরাহ্ন গল্প, বিবিধ ১২ মন্তব্য

http://www.sonelablog.com/archives/10641অপরাধ জগৎ..সেই ছেলেটি ০১

২০১৩ সাল রাজনৈতিক অঙ্গনে এক স্বরনীয় বলা যায় ঐতিহাসিক বছর।এ বছরটা বিভিন্ন কারনে বাঙ্গালী জীবনে গুরুত্ত্বপূর্ণ।এক দিকে যুদ্ধপরাধী বিচারের রায় এবং এর কার্যকারিতা অন্য দিকে ক্ষমতার রদ বদল।এই দুইয়ের মাঝে সাধারন জনগণ বড়ই অসহায়।বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষগুলোর যারা দিন আনে দিন খায়।মানুষের জন্য রাজনিতী সেই মানুষই যদি ভোগান্তিতে থাকে কিংবা রাজনৈতিক বলির পাঠা হয় তবে কিসের রাজনিতী করছেন আমাদের প্রিয় দুই মহান নেতা বঙ্গবন্ধু আর শহীদ জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরীরা।অত্যান্ত সফল ভাবেই ছোটন তার কাজ ইটা বাশের সংগ্রহ এবং ডেলিভারীর কাজটি সম্পাদন করে বাকী পঞ্চাশ হাজার টাকা সে হাতিয়ে নেয়।তবে সে তা ব্যাবহারে যায়না।আজ তার হাতে নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা সে এখন অনেক ধনী ভাবে নিজেকে।রাতেই আসবে এক ট্রাক ঔষদ(ফেনসিডিল)।আমাদের স্বনাম ধন্য পুলিশ বাহিনী এ কাজে তদারকী করবে।ইন্ডিয়া বর্ডারে নেশার হাট হতে বোতল সংগ্রহ করবে ছোটনের এক সহকারী তা ট্রেনে উঠিয়ে পুলিশ পাহাড়ায় মাল পৌছবে কমলাপুর রেল স্ট্যেশনে সেখান হতে সেখানকার আর এক গ্রুপ ডিস্টিভিশন করবে ঢাকা,নারায়নগঞ্জে।এর মুলধন আসে কোন এক স্হানীয় রাজনৈতিক নেতা হতে ।নেতাকে লভ্যাংশও দিতে হয় শতকরা ফরটি পারসেন্স এবং তার অধীনে থাকা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য পোষা কুকুরগুলোর দৈনিক খোরাক।যথা সময়ে মাল পৌছে যায় ছোটনের হাতে।ছোটন তা ডিষ্টিভিশন করতে পারেনি কিভাবে যেন পুলিশের উধর্ধ্বতন গোয়েন্দা সংস্হা খবর পেয়ে এ্যারেষ্ট করে ছোটনকে।এলাকা পুরো ঘিরে ফেলে আইন শৃংখলা বাহিনী।ছোটন সবাইকে আসস্হ করে অল্প কয়দিনের মধ্যেই ফিরে আসবে সে।ছোটনকে আদালতে পাঠিয়ে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।ছোটনকে খালি গায়ে একটি চেয়ারে পিছনে দু হাত বেধে মুখের উপর আচমকা পানি ছুড়ে মারে….

-শোন….এটা ঠান্ডা পানি..ঠিক ঠিক কথার উত্তর না দিলে ২০০ ডিগ্রী তাপমাত্রার গরম পানি তোর চেহারায় পড়বে।

ছোটন মিটমিট করে হাসে….হা হা হা স্যার….

-স্যার..আমারে মাইরা কিংবা আমার কাছ হতে তথ্য নিয়া কি করবেন?তাদের কি কিছু করতে পারবেন?পারবেন না কারন ওরাই আপনাদের মত বড় বড় অফিসারদের চালায় অযথা আমাকে মেরে নিজের হাতে কেনো ব্যাথা পাবেন।

-বক্তবো তো ভালই জানিস,,,তোর কাছ থেকে আমাকে শিখতে হবে নাকি?

প্রচন্ড জোরে হাতের লাঠি দিয়ে আঘাত করে পায়ের তালুতে…মা মা করে চিৎকার করে ছোটন।

-এই হারামী বাচ্চা জারজ….বল কে তোকে কে অর্ডার দিয়েছিল ঐ সব ইটা বাশ সাপ্লাইয়ে আর তোর নেতা কে?বল,সালা জারজের বাচ্চা

জারজ কথাটি শুনে ছোটনের মনে রাগ উঠে…সে তার চেহারায় বাঘের ন্যায় গর্জন এনে ক্ষোভকে প্রশমিত করে।

-জারজ বলবেন না স্যার,,,আমি জারজ না….

-তাহলে তুই কি বল…..বল শুয়োরের বাচ্চা…… সাধু  ….বল বল….বলেই হাতের লাঠি দিয়ে পিঠাটে থাকে এলো পাতাড়ি…..ছোটন মা মা বলে চিৎকার করতে থাকে।

-আমি মুক্তিযুদ্ধের সন্তান…..আবারো লাঠির আঘাত।

-অ্যা..মুক্তিযুদ্ধার সন্তান !বল…তোর বাবার নাম কি বল?

ছোটন এবার নিশ্চুপ সে আর কিছুই বলতে পারেনা…সত্যিতো কে তার বাবা ।স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশ স্বাধীন হবার পর মার্চের ২৫ তারিখ তার জম্ম…জম্মের পর পর মা তার জম্মের পরিচয় সমাজকে দিতে না পেরে অপমানে ঘরে ফাসিঁতে ঝুলে দুনিয়া হতে পরলোক গমন করেন।এক আশ্রীত মায়ের দুধ পান করে বড় হতে থাকে। ছোটনের বয়স যখন ১০/১২ তখনই ছোটন ঢাকা শহরে আসে তার এক আত্ত্বীয় চাচার সাথে,সেও দুনিয়া থেকে বিদায় নেন আততায়ীর গুলিতে। সেই দিন থেকে ছোটন অসহায়ের মত আশ্রয় চেয়েছে এই শহরের বড় বড় বৃত্তবানদের কাছে কেউ এগিয়ে আসেনি যখনই শুনত তার বাবার পরিচয় সে জানেনা।শুধু তার আশ্রীত মায়ের কথা মনে আছে বলেছিল,তার মায়ের সাথের যার বিয়ে হবার কথা ছিল সে ছিল বড় মাপের লোক একজন সাহসী শহীদ মুক্তিযুদ্ধা।পিতৃ পরিচয় দিতে না পাড়ায় সে সমাজে হয় অবাঞ্চিত হয়ে উঠে বেপরোয়া সারাক্ষন নেশায় নিজেকে লুকিয়ে রাখত।ঘটনাক্রমে এক দিন দেখা হয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার সাথে সেই থেকে ছোটন হয়ে উঠে সন্ত্রাসী পাখির মত গুলি করে মানুষ মারতে তার হাত কাপে না।

তিন দিনের রিমান্ডে কোন কথাই তার মুখ থেকে বের করতে পারেনি পুলিশ।আরো রিমান্ডের জন্য আবেদন করায় আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত।এর পর তার পক্ষের উকিল জামিনে বের করে নেন।কাল হতে আবার নেমে পড়ে অপরাধ জগতে। এবার টার্গেট ডাকাতির।তার এক গুপ্তচর খবর আনে পাওয়ার ষ্টেশনের বেতনের প্রায় বারো কোটি টাকা নদী পথে স্প্রিড বোর্ডে করে আসবে।প্লানমত কাজ শুরু করে।

খুব ভোর বেলায় হঠাৎ ছোটন মমির বাসায় যায় ।মমি তাকে দেখে আশ্চর্য্য হয়।বাহিরে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে।

-এত  সকালে তুই?

-উঠ…কাজ আছে।

মমিকে কিছুই বুঝতে দেয়না তাকে এক প্রকার জোর করে বিছানা হতে তুলে দোকানে নিয়ে নাস্তা করতে করতে কথা বলে।কথা মত একটি মাইক্রো ভাড়া করে চলে আসে নদীর পাড় তেলের ডিপুর কাছে।অপেক্ষায় আছে অন্য লোকের।নদীর ঐ পার হতে একটি স্প্রিড বোর্ড করে বেশ কয়েকজন আসে তারা স্প্রিড বোর্ডে লোকানো…একটি একে ফরটি সেভেন,দুটি নাইন এম এম পিস্তল সহ এবং চটে পেচানো কয়েকটি রান দা এবং একটি অত্যাধুনিক বাইনো কুলার মাইক্রোতে রাখে।মমি হতবাক!সে পূর্বে কখনও এমন দৃশ্য দেখেনি, সে এবার ডিগ্রী পাস করে অবসরে আছে।মমিকে বলে দেয় ব্রিজের উপর মাইক্রো থামিয়ে রাখতে মমি একাই মাইক্রো নিয়ে চলে যাচ্ছে তাদের গন্তব্যে কিছু দুর যাবার পর মাইক্রো ড্রাইবার গাড়ী হঠাৎ থামিয়ে বলে তার গাড়ী নষ্ট হয়ে গেছে অন্য গাড়ী নিতে মমি বুঝতে পারে সালার বেটা ভয় পাইছে।মমি মাঝ রাস্তায় আর একটি মাইক্রো থামিয়ে মালামাল স্হান্তর করে মাইক্রো ছেড়ে দেয় তখনও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে।মাইক্রো যথা সময়েই ব্রিজের উপর পৌছায় সাথে সাথে কয়েকজন এসে তাদের অস্ত্রগুলো নিয়ে স্প্রিড বোর্ড দিয়ে নদীর মাঝে চলে যায় ।ঠিক সময় সকাল ১০টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে টাকা ভর্তি স্প্রির্ডটি আসবে।আর এক স্প্রিড থেকে আক্রমন করে টাকাগুলো লুট করে নিবে তারা।স্প্রিড বোর্ডের অপেক্ষায় মাঝ নদীতে অপেক্ষা করছে ,গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি যেন কোয়াশার মত নদী পথ দুরের কোন কিছুই স্পষ্ট বুঝা যায় না….টাকা ভর্তি পুলিশ পাহাড়ায় যখন দুরে স্প্রিড বোর্ডটি তাদের চোখে পড়ল তখনই মনে পড়ে ছোটনের বাইনো কুলারের কিন্তু তা কোথাও খুজে পাচ্ছে না শেষ পর্যন্ত টাকার স্প্রিড বোর্ডটি তাদের পাশ ঘেষে চলে যায় তারা বোর্ডটি সিউর না হওয়ার কারনে অপারেশন বিফল হয়।মমি মাইক্রো নিয়ে ব্রিজের উপর দাড়িয়ে লক্ষ্য করছিল তাদের কার্যকলাপ।তাদের ফেরত আসায় মমি প্রশ্ন করে।

-কি রে তোরা যে খালি হাতে চলে এলি?

-কি করব?বাইনিকুলার কই?

মাইক্রোবাসটি তন্ন তন্ন করে খুজে কোথাও নেই ।

-মনে হয় ঐ মাইক্রোতে রয়ে গেছে।

ওরা চলে আসে স্ট্যানে ।এসে ঐ মাইক্রো ড্রাইভারকে খোজ করে তার কাছ হতে বাইনুকোলার উদ্ধার করে।দুর থেকে বাইকুলার দিয়ে নিশ্চিত হতে না পারার কারনে আজ এত বড় একটি মিশন সফল হল না।ছোটনের মাথা গরম হয়ে যায় সে মাইক্রো গুড়িয়ে চলে যায় চান্দিনা ফেনসিডিল স্পটে।মনের ইচ্ছে মত মুখে ঢালে রস… বন্ধুদের সেয়ার করে মমি নিশ্চুপ দাড়িয়ে।

-কি রে নে তুইও একটা নে….অপারেশন এটা সাকসেস হয়নি তাতে কি….অন্য আর একদিন হবে……..

চলবে…

 

 

১৮৮জন ১৮৮জন
0 Shares

১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

️️ 🍂️️ 💝 ️️ 🌟 🌺 💐 💥 🌻 🍄 🌹 💐 ⭐️ 🎉 🎊