সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে ক’জন-ই বা সত্যোচ্চারণ করতে পারে বা অসঙ্গতির বিরুদ্ধাচারণ করতে পারে। বেশিরভাগই গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে পথ হাঁটে সুবিধা প্রাপ্তির আশায়। পারলে তেলবাজিও করে বাড়তি আনুকূল্য লাভের আকাঙ্ক্ষায়।
সামাজিক অধঃপতনের এটা একটা বিশেষ কারণ।

জানতাম, অসির চেয়ে মসি শক্তিশালী। কথাটা সত্যতা পায় তখনই যখন মসি হয়ে ওঠে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। সমাজের সমস্ত অসঙ্গতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী অস্ত্র হিসাবে মসি যখন চলতে থাকে তখন অসির চেয়েও মসি শক্তিশালী হয়।

আর মসিকে যখন কেবল লেখক হিসাবে প্রতিষ্টা পাবার উপকরণ হিসাবে গ্রহন করা হয়, তখনই দেখা দেয় বিপত্তি। সেই মসি তখন আনুকূল্য পাবার আশায় হেলে পড়ে অথবা স্রোতের গতি বুঝে সাঁতার কাটে। এ সাঁতারে সাময়িক ভেসে থাকা যায়, বাহবাও মেলে দ্রুত। ফলশ্রুতিতে যতো দ্রুত বাহবা মেলে ততো দ্রুতই ডুবে যায়, অর্থাৎ আখেরে কূল পায়না।

স্রোতের অনুকূলে থেকে লেখক হওয়ার স্বপ্নবাজদের বেলায় ‘অসির চেয়ে মসি শক্তিশালী’ এই বাক্যের কার্যকারিতা হারায়। ফলে সমাজে মসি দুর্বল হতে থাকে। মসির দুর্বল প্রভাব অসিকে নিয়ন্ত্রক হতে সহায়তা করে। অবধারিতভাবে তখন সমাজ বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।

গত কয়েক দশক ধরে আমাদের সমাজে স্রোতের অনুকূলে কলম চালানো লেখকের সংখ্যাধিক্য, পাশাপাশি মোহমুক্ত শক্তিমান লেখকদের বয়সজনিত তিরোধান ইতিহাসে শক্তিশালী লেখকের সংখ্যা ক্রমশ শূন্যের কোটায় এনে কলমের বন্ধ্যাত্বকাল রচনা করতে যাচ্ছে। অন্যদিকে অসির ঝনঝনানি কালের অন্ধকার হয়ে এগিয়ে আসছে সমাজ নিয়ন্ত্রক হতে।

আজ চলে গেলেন শক্তিমান একজন লেখক যিনি তাঁর পুরো জীবনটাই উজার করে দিয়েছিলেন মানবমুক্তির জন্য। একের পর এক সে জায়গাটা শূণ্য হচ্ছে কিন্তু সে মাপে শূন্যস্থান পূর্ণ হচ্ছে না।

৩১৬জন ২৫০জন
0 Shares

৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ