অন্তর্ধান //

বন্যা লিপি ৬ মে ২০১৯, সোমবার, ০৮:৩২:৪২অপরাহ্ন বিবিধ ৩১ মন্তব্য

সময়গুলো কেমন যেন যাচ্ছে আজকাল!! যত বেশি দিন গড়াচ্ছে ততো বেশি অস্থিরতায় বেসামাল হয়ে পড়ছে যাপন যন্ত্রনার জীবন। জ্ঞানের গন্ডি ক্রমশঃ ক্রিটিসিজমিক হয়ে উঠছে। যখন তখন অসহায়ত্ব বোধ হয় এখন। একে কি বলে? সামান্যতম কথা, সামান্য তম উষ্মা সহনীয় হয়ে ওঠার আগেই সমাপ্তি রেখা টেনে দেয়া। কিছুদিন হলো মাত্র পরিচিত হলাম বন্ধুপত্নী’র সাথে। প্রায়ই কথা হয় ইনবক্সে। সেও টুকটাক লেখালিখি করেন বা চেষ্টা আছে বোঝা যায়। অনেক কথা বোঝাতে চেষ্টা করেন দুর্বোধ্য শব্দে। যেটুকু অর্থ উদ্ধার করা যায়…. সভয়ে এড়িয়ে লেখার জবাবা লেখা দিয়ে দেবার চেষ্টা করি। আমার লেখনী পড়ে নিজেই বলে, “তুমি আমার মিতা, কখনো জানতে চাইবেনা এর বেশি। “কখনো কারো কাছে কোনোকিছু আগ বাড়িয়ে জানতে চাওয়া স্বভাবে নেই। অল্প স্বল্প গল্পে নিজেই প্রকাশ করে যায়। অসম বোঝাপরার বিষয়। স্বযত্নে এড়িয়ে যাই। হঠাৎ একদিন বিশাল এক পোস্ট চোখে পড়লো। অর্থ উদ্ধারে কষ্ট হবার কথা নয়। দুই ছেলে নিয়ে প্রেমিক পুরুষের সাথে ঘর সংসার। নিজেই গল্পচ্ছলে প্রেম কাহিনী বর্ননা করেছিলো। এককথায় বলা যেতে পারে গোছানো পার্মিশনিক প্রেম ছিলো বন্ধু ও বন্ধুপত্নী’র। আফসোস সেখানেও বিরাজমান। অভিভাবকের চোখ ফাঁকি দেয়া প্রেমের আস্বাদ ভোগ করা হয়নি। ভোগ করা হয়নি চোরা গোপ্তা রোমান্স পর্ব। বৃষ্টি ভেজা হুড তোলা এক রিকসায় গা ঘেসে বসাতেও আপত্তি ছিলো। আপত্তি ছিলো আবেগে জড়িয়ে ধরাতে।দ্বিধা করেনি বন্ধু পত্নী ধাক্কা দিয়ে রিকসা থেকে ফেলে দিতে। বিয়ের কিছুদিন বাদে থেকেই তাঁর মনে হতে শুরু করেছে, সমঝোতা আছে, প্রেম নেই, নেই ভালোবাসা। নেই বিশ্বাসের ছোঁয়া। আগোছালো কথামালায় গোছানো কোনোকিছুই বুঝে ওঠা কষ্টকর। বড্ড ভালোবাসে বন্ধু পত্নী প্রেমিক স্বামী’র বান্ধবি’কে। তাঁদের মধ্যকার বোঝাপরা চমৎকার!! বন্ধু প্রায়ই দুষ্টুমীচ্ছলে বলে বেড়ায়…” লি” আমার ডার্লিং ।বন্ধু পত্নী’র মহা আগ্রহ স্বামী কিসে হাসি খুশি থাকবে সেদিকে। সর্বত চেষ্টা মেন্টালি স্বামী’কে স্বতঃস্ফূর্ত দেখা। কারন কি এতসবের? জানতে চাইনি। আচমকা এক মধ্যরাতে ইনবক্সে মেসেজ। দেখতে গিয়ে দুপুর পার। তারপর আর বন্ধু পত্নী’র খবর নেই। লম্বা করে অনেক কথা লিখে পাল্টা মেসেজ পাঠিয়ে রাখলাম। ক্রোধ মানুষের অনেক চাপা কষ্ট প্রকাশ করতে বাধ্য করে।
জানা গেলো, বন্ধু বলে এ যাবত যাকে যেমন ভাবে জেনে আসছি, তাঁর প্রধান দুর্বলতা’র কথা!

যেমন তেমন করে অবশেষে ভাঙা’র কবল থেকে রক্ষা পায় একটা গোটা সংসারের চিত্র। খবর আসে আচমকা এক পরিচিত ছোট ভাই’য়ের স্ত্রী ইচ্ছামৃত্যু বরন করে নিয়েছে দুই’টি অবুঝ শিশু সন্তান রেখে। যত জল্পনা কল্পনা শুরু হয়ে যায় তৎক্ষনাত,কারন কি জানতে! কি এমন ঘটেছিলো যে কলেজ শিক্ষিকা হয়ে বোধের জায়গা শুন্য করে লটকে পড়তে হয়? সারা ঘরে মানুষের ভীড় দেখে অবুঝ শিশু খুঁজে ফেরে” আম্মু কই গেলো, আমি ভাত খাবোনা? আমাদের বাসায় এত মানুষ কেন?” মানুষের বোধ আজ কোন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে? আধুনিক শিক্ষা বা নারী স্বাধীনতার বায়ানাক্কা, নাকি আরো কোনো জটিল থেকে জটিলতর মানসিক বোধের অভাব?
এক ভাগ্নী’র মেয়ে (সম্পর্কে নাতীন) বকা ঝকা সইতে না পেরে চলে গেলো ইচ্ছা মরন বরন করে। এক মা তাঁর গোপন প্রেমের টানে গর্ভজাত সন্তানের হন্তাকারী হতে দ্বিধা করেন না। উন্নত হচ্ছে যাবতীয় সব,কেবল নিন্মতর থেকে নিন্মতর হচ্ছে মানসিক ভারসাম্যের জায়গাগুলো!!
সবচেয়ে ভালো আছে ওরাই যারা সত্যিকারের মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে বেঁচে যাচ্ছে নিয়তঃ।

৩৫২জন ১৬৫জন
4 Shares

৩১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য