অনু, তবু যেনো অনু নয়

রিতু জাহান ২১ এপ্রিল ২০১৯, রবিবার, ১০:২১:১০পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৩২ মন্তব্য

একঃ

কোনো একদিন এক অচেনা পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত আমি অচিন এক গাছ পেয়ে বসে পড়েছিলাম নির্দিধায়

পরিপাটি পাকা বেদির উপর।
শিল্প সমৃদ্ধ পুঁথি পাঠের উৎসব চলে এ গাছকে ঘিরে।
মন্ত্রমুগ্ধ আমি অবাক হয়ে দেখি শান্ত নিবিড় এ ছায়াদেয়া গাছটিকে।
আমার সমস্ত ক্লান্তির অবসান ছায়ার মায়া নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একলা এ অচিন গাছ।
আচ্ছা! অচিন এ গাছকে গাছ না বৃক্ষ বলা যায়?
গাছ বা বৃক্ষের পার্থক্য কি তোমার জানা আছে?
অপেক্ষা ও প্রতীক্ষার পার্থক্যই বা কতোটুকু জানো?
চিরচেনা গ্রামের হাঁটা এ পথে এক কুয়ো আছে
এ কুয়ো শুকনো এখন।
শুনেছি, কোনো কালে কোনো এক জমিদার এ কুয়ো বানিয়েছিলেন।
পিপাসায় কাতর হয় জমিদার পথিকও!
অপেক্ষা করেছিলো হয়তো ঠায় দাঁড়িয়ে এ কুয়ো খননকাল পর্যন্ত
আচ্ছা! ততোক্ষণে সেও কি বসেছিলো এ বৃক্ষের ছায়ায় এক মুহূর্ত?
একফোটা পানির ধারা বইতে দেখে কতোটুকু উল্লাসে সে ফেটে পড়েছিলো?
এ কালে আর কোনো পথিক পিপাসায় উঁকি মারে না এ কুয়োর পানে।
সভ্যতার ভিড়ে বড় অচেনা কষ্টসাধ্য তার জল পাওয়া।
অযত্ন অবহেলায় পরিত্যক্ত তা।

দুইঃ

শিল্প সমৃদ্ধ তোমাকে যা বলা হয় বা যেটুকু শোনা হয় তার কতোটুকু গভীরতা মাপা যায়?  যেমন ধরো, আবেগের সে সব হাহাকার!!

যে আবেগে অপেক্ষারা হাতছানি দিয়ে ডেকে যায়।
অপেক্ষায় থাকতে বলে বলে সে পথেরাও ক্লান্ত হয়, ‘অপেক্ষায় থেকো’ সে শব্দও ফিঁকে হয়।
সে আবেগে শ্যাওলা জমে
সে অপেক্ষার কিছু পথ পথের বাঁকে এসে থেমে যায় কিছু পথ মিশে যায় অন্য পথে।

তিনঃ

সহস্রের অঙ্গুলিতর্জন জীবন ভেদ করে অচপল আঁখিতে উঁকি দিয়েছি যেই শান্ত এক সরবরে
অমনি আমার মন সেজেছে নিজের অবয়ব সাজাতে
তখনই অশান্ত এক মাছরাঙ্গা ডুবসাঁতারে টেনে নিলো তার শীকার
শান্ত সরোবরে নিজের অবয়ব মিলালো ঢেউয়ে ঢেউয়ে।

চারঃ

বর্বর বায়ু দখিনের জানালায় হঠাৎ হঠাৎ উত্তরের হাওয়া ছাড়ে
হিমালয়ের অচলশিখর ভেদ করে আসে যেনো এ হাওয়া
পর্দার চাদরে বিরতিহীন খেলা করে বিস্তীর্ণ জনপদ পেরিয়ে।
টান্ডা হিম আমি কেঁপে যাই গ্রীষ্মের প্রচন্ড খরতাপেও।
আমি নিশ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে খুঁজে ফিরি একটুখানি উষ্ণতা।

,,,রিতু,,, কুড়িগ্রাম।

২১.৪.১৯.

৬৯৭জন ৪৮০জন
13 Shares

৩২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য