আমার একলা আকাশ থমকে গেছে রাতের স্রোতে ভেসে, শুধু তোমায় ভালোবেসে-

কী অদ্ভূত!!কাউকে ভালোবাসলে জীবনের কতো স্বাদ আহ্লাদ ফুরিয়ে যায় সময়ের আগেই—একটা নির্দিষ্ট মানুষকে ঘিরেই সব চাওয়া,পাওয়া,স্বপ্ন,ইচ্ছে,ভালো থাকা আবর্তিত হয়, বাকী সবকিছুই হয়ে যায় ফানসে—সেই নির্দিষ্ট মানুষটার একটু অবহেলাতেই থমকে যায় জীবন- স্বপ্ন,ইচ্ছে,চাওয়া,পাওয়াগুলো সব চাপা পড়ে যায়-তারপর শুরু হয় মিথ্যার অভিনয়—অদ্ভুত ভাবে কেটে যায় জীবন………..

**জয়শ্রী আমার প্রাণের সখি—দুজন আমরা দুই ধর্মের—কিন্তু আমাদেরকে দেখে কেউ কখনো বুঝতে পারতো না যে কে হিন্দু আর কে মুসলমান—এক প্লেটে করে ভাত আমরা কতোবার খেয়েছি তার কোন হিসেব নেই—কতো যে ছেলেমানুষী আর পাগলামীর সাক্ষী দুজন দুজনার–আয়না ছিলাম দুজন দুজনার —সুনীলের সাথে মিষ্টি একটা প্রেম ছিলো জয়শ্রীর, সে দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় তাদের দুজনের প্রেম শুরু—দুজন একই ধর্মের হলেও দুজনের বংশ/জাত আলাদা—দুজনই হোমনার বাসিন্দা—অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি তখন, একদিন রাতে ঘুম আসছিলো না, এপাশ ওপাশ করছি—হোস্টেলে আমাদের বেডগুলো এক বেডের সাথে অন্য বেডের মাথা লাগানো ছিলো, আর পায়ের দিকে ছিলো পড়ার টেবিল—হঠাৎ জয়শ্রীর গলা শুনলাম—উল্টো দিকে ফিরে তাকাতেই দেখি জয়শ্রী তাকিয়ে আছে আমার দিকে—জানতে চাইলাম কি হয়েছে?—ফিসফিস করে বললো তোকে না একটা কথা বলার ছিলো—কি? বল—সুনীলদের ফ্যামিলিতে না পিরিয়ড চলাকালীন সময় বউদেরকে নীচে থাকতে হয়—অবাক হয়ে চোখ বড় বড় করে জিজ্ঞেস করলাম, কেনো?—এ সময় নাকি মেয়েরা অপবিত্র থাকে, মেয়েদের কাছ থেকে পাপ ছড়ায়, কাঁদো কাঁদো গলায় বলল জয়শ্রী—তোদের ফ্যামিলিতে কি এমনটা হয় নাকি, জানতে চাইলাম—না, আমাদের ফ্যামিলিতে এমন কুসংস্কার মানে না—সুনীল তোকে ভালোবাসে, তোর সাথে সে এমনটা করবে না, আর বেশি বাড়াবাড়ি করলে তুই সুনীলকে নিচে থাকতে বলিছ, এভাবে বলে বন্ধুকে চিন্তা করতে নিষেধ করলাম—কিন্তু না, বিষয়টা আমি যতোটা হালকাভাবে নিয়েছিলাম তার চেয়েও অধিক সিরিয়াস ভাবে দেখছে জয়শ্রী—তার পেছনেও যথেষ্ঠ কারণ আছে—আর সেই কারণটা হচ্ছে সুনীল—সুনীল বলেছে, ওদের ফ্যামিলির এমন সব নিয়ম কানুন তাকে মেনে চলতে হবে—আর সুনীলের পরিবারের এমন অনেক নিয়মকানুন আছে যা জয়শ্রীদের কাছে শুধুই কুসংস্কার—আর সুনীল এখন প্রায় বিভিন্ন ধর্মীয় রীতিনীতিগুলোকে নিয়ে জয়শ্রীর সাথে তর্কে জড়ায়—উচ্ছ্বল জয়শ্রী সারাক্ষণ মানসিক এক যন্ত্রনা নিয়ে নিজের সাথে ভালো থাকার অভিনয়ে ব্যস্ত—কিন্তু অভিনয় আর কতোদিন, অভিনয় করতে করতে জয়শ্রী বড্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলো—সুনীলের সাথে তার মিষ্টি প্রেমটা যে ধীরে ধীরে তিতো হচ্ছে তা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছিল—সুনীলকে নিয়ে এখন আর সে আগের মতো স্বপ্নময় কোন গল্প করে না, বরং সুনীলের কথা জানতে চাইলে সে এড়িয়ে যেতো—কয়েকবার খুব বেশি বিষন্ন হয়ে চিৎকার করে বলেছিলো, এই সমস্ত ছেলেগুলো কেনো নিজেকে শিক্ষিত বলে দাবী করে,যারা মিথ্যা আর গোঁড়ামিকে নিজের মাঝে ধারণ করে তারা শিক্ষিত হতে পারে না—দেখেছি আমি জয়শ্রীকে চিৎকার করে কাঁদতে-রুমের বাইরে থাকা ময়লার ঝুড়িতে সুনীলের দেওয়া উপহার সামগ্রী ছুঁড়ে ফেলতে—কেনো এমন ধর্মীয় ভন্ডকে সে এভাবে ভালোবাসতে গেলো?কতো যে হায় হুতাশ করতে দেখেছি মেয়েটাকে, কিন্তু কখনো সান্ত্বনা দিতে পারিনি-এই কাজটা যে আমি পারি না—খুব কাছ থেকে দেখেছি কিছু গোঁড়ামিপূর্ণ নিয়মকানুন কিভাবে ওদের দুজনের মাঝে ধীরে ধীরে একটা মজবুত দেয়াল তুলে দিয়েছিলো—কিভাবে একটা প্রাণচঞ্চল মেয়েকে পাথর বানিয়ে দিয়েছিলো—মাষ্টার্স পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে জানতে পারি যে, সুনীল তার মায়ের পছন্দ করা তাদের একই জাতের একটা মেয়েকে বিয়ে করেছে—না, এমন নিউজে একটুও অবাক হয়নি—এমনটাই তো হওয়ার কথা—তবে খুব বেশি অবাক হয়েছি যখন দেখেছি এমন নিষ্ঠুর খবরে জয়শ্রীর কোন প্রতিক্রিয়া নেই, না এরপর জয়শ্রীকে আমি একটুও কাঁদতে দেখিনি, কখনোই দেখিনি—বর্তমানে জয়শ্রী একটা ব্যাংকে কর্মরত আছে—সময়ের ব্যবধানে হয়তো কখনো অন্য কাউকে সেও বিয়ে করে নিবে—কিন্তু ভুল মানুষকে ভালোবেসে মিথ্যে প্রেমের জন্য তার হৃদয়ে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে তা কি কখনো মুছবে?…………….

**আমি পরী—না, আমার এমন কোন অদ্ভূত প্রেমের গল্প নেই—আমার আজো কাউকে বলা হয়নি “ভালোবাসি” কথাটি—কেউ আমাকে ভালোবেসে কখনো বলেওনি “ভালোবাসি”—আমি জানি না এই প্রেম জিনিসটা কি?—কোথায় থেকে এই প্রেমের জন্ম হয়?—কেনোই বা এই প্রেম নিঃশেষ হয়?—এই প্রেম কিভাবে দুটো মনকে একই রকম স্বপ্ন দেখতে বাধ্য করে?—প্রেমবিষয়ক এমন অনেক প্রশ্ন আমার কাছে আজো কৌতূহলী প্রশ্ন হয়েই রয়ে গেলো— আর এই প্রেম আমার কাছে অজানা/অচেনাই থেকে গেলো—বেশ কিছুদিন আগে কিছুটা সময় খুব বেশী অস্থিরতায় কাটছিলো—অদৃশ্য এক ছায়া কল্পলোকের মতো আমার ভাবনার রাজ্যের আশেপাশে এসে ঘুরাঘুরি করছিলো—প্রতিদিন আসতো, কিছু বলতে চাইতো আমায় দূর থেকে, প্রথম প্রথম ঐছায়াকে আমার কাছে শুধুই একধরনের ভ্রম মনে হতো, এড়িয়ে যেতে চাইতাম, কিন্তু না একটা সময় ঐ ছায়ার প্রতি আমার বিষন মায়া জমে গিয়েছিলো—হাত বাড়িয়ে দিই ঐ ছায়ার দিকে, নিয়ে আসি তাকে আমার ভাবনার জগতে—তারপর ধীরে ধীরে সে আমার ভাবনার রাজ্যে একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে নিলো—আমার ঊষা লগ্ন থেকে গোধূলী ক্ষণ, সন্ধ্যাতারার হেসে উঠা থেকে শুকতারার হারিয়ে যাওয়া পর্যন্ত, সবার অলক্ষ্যে ঐছায়ায় আমার সংগী হয়ে উঠে—খুব বেশি অস্থির হয়েছিলাম—বুঝতে পারছিলাম না কেনো আমার সাথে এমনটা হচ্ছে?—কেনো ঐছায়ার সাথে ভাবনার জগতে পড়ে থাকতে আমার এতো ভালো লাগতো?—কেনো আমি ঐছায়াকে নিয়ে এতো ভাবি?—কোন উত্তর মিলছিলো না—আমার এই অস্থিরতা একটা সময় আমার পরিবারের মানুষগুলোকেও অস্থির করে তোলে—কিন্তু আমি তাদের কি বলবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না—গত বছর আমার আপুকে সব খুলে বলি—আপুতো সব শুনে হাসতে শুরু করলো আর বলে উঠলো তুই এখনো সেই পিচ্চিটিই রয়ে গেলি—পাগলী, বয়সটাই যে এমন-কেউ একজন আসবে রঙিন স্বপ্নের ঝুড়ি নিয়ে, অন্ধকার আকাশে আলোর ফানুস উড়াবে, শত নীল পদ্ম দিয়ে আবেগের থালা সাজিয়ে ভাবনার জগতের পালেস্তরার উজ্জ্বল্য বাড়িয়ে দিবে—আরো কতো কি?—তাই বলে এতো অস্থিরতা?—সত্যিইতো কেনো আমার মাঝে এতো অস্থিরতা কাজ করছে?-কিসের জন্য?-কার জন্য?—শুধু একটা ছায়া যা শুধু ভাবনাতেই আসে, বাস্তবে যার কোন খবরই নেই—তার জন্য কিসের এতো অস্থিরতা আমার মাঝে?—মুহুর্তেই পরীর যাদুর কাঠি দিয়ে সব অস্থিরতাকে ভ্যানিশ করে দিলাম—পণ করেছি, যতোই আসুক না কেউ নীল পদ্ম দিয়ে আবেগের থালা সাজিয়ে, আমি কিন্তু আবেগে ভাসবো না—ফ্রেমে বেঁধে নিয়েছি স্বপ্নগুলোকে—আমি এমন কোন ভুল করতে চাই না, যে ভুলের মাশুল শুধু নিজেকে না, পুরো পরিবারকে দিতে হয়—আবেগের বশবর্তী হয়ে আমি এমন কোন কাজ করতে চাই না, যা শুধু নিজের মুখে কালি নয়, পুরো পরিবারের মুখে কালি মেখে দেয়—প্রেমে মজে, সময়ের ব্যবধানে সেই প্রেমে ব্যর্থ হয়ে বিশেষ কারো জন্য নিজের জন্ম দেওয়া বাবা’মায়ের কথা ভুলে, নিজের হাতে নিজের জীবন(আত্মহত্যা) শেষ করে দেওয়ার পক্ষে আমি নই—তাই বলে আমি প্রেম বিরোধীও নই—সুস্থ, স্বাভাবিক,সুন্দর প্রেমের পক্ষে আমি—যে প্রেমে শুধু আমি একা নই, আমায় ঘিরে থাকা প্রতিটা মানুষ হাসবে, প্রাণ খুলে হাসবে—জানি না কতোটা ভাগ্যবান হলে এমন স্বর্গীয় প্রেম কারো জীবনে আসে?—তারপরও অপেক্ষা……………….

*কিছুকথা* না বললেই নয়—আমি লিখতে জানি না—তারপরও মাঝে মাঝে কিছু এলোমেলো ভাবনাকে শব্দজটে বাঁধার চেষ্টা করি—আর একবার বাঁধতে পারলেই সেটা এফবি/সোনেলাতে শেয়ার করি—এ দুই জায়গা ছাড়া আমি আমার এলোমেলো ভাবনাগুলোকে অন্য কোথাও শেয়ার করি না–নিজের দেখা অদ্ভূত যতো প্রেম নিয়ে লেখার ইচ্ছেটা হঠাৎ করেই মাথায় আসে—তারপর খুব সংক্ষেপে লিখেও ফেলি—অদ্ভূত যতো প্রেম শিরোনামে একটা পোস্টই দেওয়ার ইচ্ছে ছিলো–লেখার বিষয়টা জিসান ভাইয়ার সাথে শেয়ার করি—তারপর জিসান ভাইয়ায় আমাকে উৎসাহ এবং সাহস দিয়ে লেখাটা পর্বাকারে দেওয়ার জন্য বলেন—প্রথম আমার মাঝে কিছুটা অনীহা কাজ করলেও শেষ পর্যন্ত উনার দেওয়া উৎসাহ পেয়ে আমি দারুন উৎসাহিত হয়ে লেখাটা আবার নতুন করে শুরু করি—যে কাজটা আমার জন্য অনেক কঠিন ছিলো যে কোনকিছুতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা—জানি না কাজটা আমি কতটুকু ভালো করতে পেরেছি?—তবে আমি আজ আনন্দিত যে কাজটি আমি আজ ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শেষ করতে পারছি—একটা ছোট শিশুকে তার পরিবার যেভাবে প্রথম দাঁড়াতে/প্রথম হাতেখড়ি দিতে শিখায়, জিসান ভাইয়াও ঠিক সেইভাবেই আমাকে সোনেলাতে পথ চলতে শিখিয়েছে—যার জন্য আমি জিসান ভাইয়ার কাছে অনেক কৃতজ্ঞ—কৃতজ্ঞ আমি সোনেলার সেই মানুষগুলোর কাছে যারা সোনেলাতে আমার পাশে থেকে আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন—সবাইকে অনেক ধন্যবাদ—ভালো থাকবেন সবাই……………

অদ্ভূত যতো প্রেম-১

অদ্ভূত যতো প্রেম-২

অদ্ভূত যতো প্রেম-৩

৫৮৩জন ৫৮৬জন
0 Shares

৪২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য