অতৃপ্ত জীবন…ভালবাসা০৬

মনির হোসেন মমি ৭ ডিসেম্বর ২০১৩, শনিবার, ০৭:২০:০৩অপরাহ্ন বিবিধ ৮ মন্তব্য

মমিপ্রচন্ড বৃষ্টি, ভোর সকাল হতেই।শীতে এমন বৃষ্টি- মনে হয় বাংলার প্রকৃতিতে ক্ষয় ধরেছে।আমি ছাতা নিয়ে যাচ্ছিলাম এক ছাত্রের বাসায়।সেই পথ দিয়ে সেই মেয়েটি ,একটি ছাতা হাতে করে বৃষ্টিকে প্রতিরোধ করার বৃথা চেষ্টা করছে ।ঝির ঝির বৃষ্টি হালকা বাতাসে মেয়েটির মৃধু হেটে কাছাকাছি আসতেই দুশমন ধমকা বাতাসে মেয়েটির ছাতাটি উড়িয়ে নিল।আকাশের সমস্ত ঝির ঝির বৃষ্টির ফুটা যেন মেয়েটি গায়ে পড়ছে।মেয়েটি বইগুলো বুকে নিয়ে হঠাৎ দাড়িয়ে যায় আমার একে বারে কাছাকাছি নাকের ডগায় তার রেশম কালো কেশে সুগন্ধি নারকেল তৈলের মাতাল করা ঘ্রান একে বারে হৃদয়কে আঘাত করে।সে দিন কিছু  বলার ছিল না শুধু চেয়ে রই প্রিয়ার প্রানে ,আল্লাহর সৃষ্টির সেরা জীবন না হলে কি এত মুগ্ধকর হতে পারে কোন মানবী!কাজল কালো আখিরঁ ব্রুতে জমে থাকা শিশির মত বৃষ্টির ফোটা যেন সৌন্দর্য্যের মণিমুক্তা।হাতের ছাতাটা মেয়েটিকে দিতে চাইলাম….কোন বুঝে যেন পিছু ফিরে যায়।অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকি নুপুরের আওয়াজ শুনা যায় কি না।সেই জন্যই বলি বিপদে মেয়েদের সাহায্য করতে নেই কথাগুলো মনে মনে বলতেই আমারই ক্লাশমেট শামীম- মেয়েটির বাড়ীর সামনের বাড়ী তাদের।আমি তাকে বোকা বানানোর চিন্তা করলাম তার আগেই ঘটনা ফাস।-আমি জানি সেলিম আমাকে বলেছে।কি বলেছে জানতে চাইলে উত্তর পাস কাটিয়ে যায় -সমস্যা নেই আমি আছি।

শুরু হয় আমার দ্বিতৃয় ভাল লাগার ভালবাসার মন্দ ইতিহাস।ধীরে ধীরে মন থেকে কেটে যাচ্ছে প্রথম প্রেমের মধুর স্মৃতিগুলো।দিনে দিনে কেনো যেন পুরাতন স্মৃতির মাঝে নতুনের আগমন।এক সময় হয়তো তাকে(পুরাতন) দেখে চিনতে পারবনা মেয়েরা অল্পতেই বুড়ি হয়ে যায় এটা তাদের স্রষ্টার কাজ।শুনেছি বিউটি আজ খুব সুখে আছে-শেষ বিদায়ে আমার দেয়া একটি জলচিত্র আজও নাকি তার স্বামীর বাড়ীর চৌকাঠে ঝুলে আছে।প্রথম প্রেম বলে যে কথা-প্রথম প্রেম কখনও ভূলা যায়না।

এক দিন সেলিম একটি চিঠি নিয়ে এলো….

-এই নিন ভাই মিলি দিয়েছে।অবাক এবং উল্লেসিত দুটোই হলাম।দেখি কি লিখা এতে।চিঠির ভাজঁটি ছিল একটু যাদুর ছোয়া ভিন্ন রকম।যা কয়েকটি ধাপে ভাজ করা।কৌশলে চিঠির ভাজটি খুলে চেয়ে রইলাম অক্ষরের দিকে যার হাতের লেখা এত সুন্দর না জানি তার মনটা কত সুন্দর?

প্রিয়, -{@ (3

শুরুতে রজনীগদ্ধার শুভেচ্ছা।বৃষ্টিতে ভেজার পর সর্দি জ্বরে পড়লাম….এখনও মাঝে মাঝে হাচ্চি আসে।বেশী দিন নেই আমার ফাইনাল এস এস সির পরীক্ষার তার পর না হয় চুটিয়ে প্রেম করব।এখন কোন কথা নয়, নয় কোন দেখা ,যা হবার তা পরীক্ষার পরে হবে অপেক্ষার প্রহর গুনতে পারলে আমি আছি ,আমি থাকব ,হব তোমার সুখ দুখের সাথী।

ইতি ,

তোমার এম।

 -{@ -{@ -{@ (-3 (-3 (3 (-3 (-3 (-3

অল্প কথায় বুঝিয়ে দিল মনের আকুতি তা অনুভবে পথের প্রানে চেয়ে থাকা।বাসায় এসে হাতে আবার ফেলে দেয়া রং তুলি নিলাম।আকছিঁ মনের মাধুরী মিশিয়ে যা আকছিঁ তাই যেন চোখকে বোকা বানিয়ে বলে এর চেয়ে আর সুন্দর হয় না।ছবি একে ঘরটাকে জঙ্গল বানিয়ে বাহিরে চলে গেলাম ।

শীতলক্ষ্যা নদীর পাড় অবস্হিত বিশ্ব গোডাউন

বন্ধুদের সাথে বিকালের আড্ডাটা মারতে।আজ বন্ধুরা সবাই বায়না ধরেছে ভিন্ন কিছু সুরা পান করবে।যা কথা তাই হলো ।পড়ন্ত বিকালে বন্ধু মজিবরের চায়ের দোকানের চায়ের পট বিক্রয় করে যা টাকা হয় তার সাথে সবাই মিলে কিছু ভর্তুকি দিয়ে মোটামোটি সব কিছু এ্যারেঞ্জ করা হয়।শীতের বিকেল শীতলক্ষ্যা নদীর পাড় প্রায় বিশ পচিশ জন বাহির থেকেও এসেছে কিছু বন্ধুরা।পর্ব শুরু করে আমি তাদের সাথে নেই এ পর্বে নেই-বাংলার গন্ধ পেলে আমার পেট খারাপ হয় মাথা ঘুড়ে।আমার মত আরো দুজন ছিল আমরা শুধু চাইনিজ থেকে আনা মুরগীর পাখ ফ্রাই খেলাম।ওরাতো খাচ্ছে আর রাজা বাদশার গল্পে মসগুলে ব্যাস্ত।খেতে খেতে এক সময় প্রায় সবাই দুর্ব্বা ঘ্রাসের উপর মাটিতে শুয়ে পড়ে।রাত তখন ১০টা শষানের পাশে ওরা আনন্দে মাতাল।ঝি ঝি পোকার আলো ,চন্দ্রের আলোকে আলোকিত করে আরো বেশী।দুরে কিছু খেক শিয়ালের শুনতে।আমাদের দু/ তিনজনের মাঝে ভয় এসে যায়-মাতাল ওদের এত ডাকছি কেউতো উঠছেনা।এ দিকে শীতে আমার কাপন এসে গেছে।বাবুলকে বহু চেষ্টা করলাম তুলতে কিন্তু পারছিনা।ঐ দিকের অন্যান্যরা দু ,এক জন করে উঠে বাই বাই বলে চলে যাচ্ছে কিন্তু বাবুল আর উঠে না।দু জনে টেনে হিচরে কোনমত দাড় করিয়ে লক্ষ্যার পানি খাওয়াতে গেলাম কিন্তু ভাটায় পানি এত নীচে চলে গেছে যে ফ্রেস পানি হাতের তালুতে নিতে গিয়ে কাদা পানিই বাবুলকে খাওয়াতে হলো তবুও যদি হুস আসে। নাহ!আর পারছি না কিছুতে তাকে সজাক করতে পারছিনা শেষ পর্যন্ত মাইকের মত শব্দ করে বলতে হলো….

-কি রে বাড়ী যাবি না?পুলিশ আসবে….ইত্যাদি।

-কিসের বাড়ী?কার বাড়ী?এটাইতো আমার বাড়ী  বলে মাটিতে শুয়ে পড়ে শুধু একটি বাক্যই বলছে“আমার দুঃখ কেউ বুঝল না” আমরা বন্ধুরাও জানতাম না  ওর আবার কিসের দুঃখ?দুঃখ যার জম্মলগ্নের তার আবার দুঃখ কিসের?ঘরে বৃদ্ধ মাকে সেবার মধ্যে দিয়েই কেটে যাচ্ছে তার সারাটা জীবনের রঙ্গীন দিনগুলো।বাবুলকে তুলতে শেষ পর্যন্ত বাজারে এসে তেতুল কিনে নিয়ে গেলাম।তেতুলের পানি খাওয়ালে নাকি নেশা কেটে যায় গ্রাম্য প্রবাদ বলে।তাই একটু তেতুল মুখে দিয়ে সিরাজুলকে বললাম -বাবুলরে কান্ধে ল আমি শামীমকে সাথে ধরে নিয়ে হাটখোলার একটি মেসের রুমে একজনের উপর আর একজনকে রেখে ফজরের আযানের সময় আমার রুমে ঢুকে অবাক হই ঘরটি এত পয়-পরিষ্কার কেনো?মনে হচ্ছে কোন রমনীর হাতের স্পর্শ।চোখে ঘুমের কারনে বেশী ভাবতে পারিনি ঘুমিয়ে পড়লাম।সকালের ঘুম ভাঙ্গল বিকালে সে দিন দুপুরের খাবারও খেতে পারিনি।আজ আর ঘর হতে বের হয়নি হাতে তুলি নিয়ে বিকালটা পাড় করার চেষ্টা এমন সময় আমার এক আত্ত্বীয় ভাগ্নী আসে সাথে আরো একজনকে নিয়ে, আমাদের পাশের বাড়ীর,আমি তাকে তেমন একটা চিনতাম না সে কার মেয়ে। ভাগ্নী আসে প্রেট্রিক্যাল খাতা নিয়ে একেঁ দিতে হবে জীব বিজ্ঞানের চিত্র।

-গতকালও মামা আমি এসেছিলাম আপনারে পাইনি।

-কেনো?

-প্রাট্রিক্যাল খাতায় এই ছবিগুলো একেঁ দিবেন।

-ঠিক আছে রাখ।সাথে ‘ও’ কে?মেয়েটিকে দেখিয়ে।

-ও রে চিনেন নাই ও হচ্ছে.. (পাশের বাড়ী দেখিয়ে)অনন্যা।বাবু মামার বোন।গত কালও এসেছিলাম।ঘরের কি অবস্হা করে রেখেছিলেন মনে হচ্ছিল গোয়াল ঘর, ওতো ঐ সব পরিষ্কার করেছে।

ওরা চলে যায় বুঝতে আর সমস্যা হল না,আমার প্রথম প্রেমের প্রিয়ার ফুফাত বোন।ওর মা এর কারনে আমাদের  প্রেমের ইতি ঘটে অল্পতে।ও তখন অনেক ছোট ছিল দেখতে দেখতে অল্প করেক বছরেই বেশ বড় হয়ে গেছে।পাঠকদের মনে আছে কিনা জানিনা একটি পর্বে ওর সম্পর্কে কিছু একটা বলেছিলাম।পুরনো স্মৃতি নতুন করে মনের ঘুমন্ত বিরহের আগ্নগিড়িতে আঘাত করে সব জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংষ করে দিচ্ছে…সব আঘাত সহ্য করা যায় প্রেমে ব্যার্থতার জ্বালা হৃদয়কে তোষের আগুনের মত কুড়ে কুড়ে জ্বালায়।না যায় কাউকে বলতে না পারি সইতে…….মেয়েরা হলে কান্নায় বুক ভেজায়ে নিজেকে হালকা করবে কিন্তু ছেলেরা! হয় জীবনের উচ্চ শিখরে

উঠবে নতুবা রঙ্গীন জগতে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে বাচার ব্যার্থ প্রয়াস…………

 

চলবে…..

২৫৮জন ২৫৮জন
0 Shares

৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য