অতৃপ্ত জীবন….ভালবাসা০৩

মনির হোসেন মমি ৫ নভেম্বর ২০১৩, মঙ্গলবার, ০১:৫২:৩৮অপরাহ্ন বিবিধ ৮ মন্তব্য

সেই ভোর রাত হতেই বৃষ্টি।চোখে ঘূমেরা যেন হরতাল ডেকেছিল।সারা রাত্র কেবল জেগে থাকা শেষ রাতে টিনের চালে বৃষ্টির টুং টাং শব্দে চোখের পাতার আলিঙ্গন।গত কাল জিসিস এর থানা কমিটি নিয়ে অনেক খাটতে হয়েছে।তাই ঘুমটা যেন আরাম পেয়ে গেলো একেবারে সকাল ১১টায় ঘুম ভাঙল।চাপ কলে নিজেকে ফ্রেস করতে দাত ব্রাস অবস্হায় গেলাম দাড়িয়ে ব্রাস করছি আর লক্ষ করছিলাম সেই মেয়েটিকে।দরজার চৌকাঠে ঠায় আনমনে দাড়িয়ে যেন সব বিরহেরা তার মনে এসে ভিড় করেছে।মেয়েটি একটি কাগজের টুকরো বাহিরে ঢিল ছুড়ে আমাকে ইশারা দিয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়।আমার দাত ব্রাস যেন শেষ হয়না দাত ব্রাসের ছলে এগিয়ে গিয়ে কাগজের টুকরোটি হাতে নিলাম।কড়ুই গাছের ছায়ার তলে বসে চিঠিটা খুললাম।নীল কাগজে কালো ইংক কালির গোল গোল স্পর্ট লেখা।

প্রিয়,

হয়তো ভাগ্যের আকাশের মেঘের আগমন।ষড় ঋতুর মত আমার জীবনের ইতিহাসের যবনিকা টানতে এসেছে যমদূত।আজ সন্ধ্যায় চলে যেতে হবে এখান থেকে বহু দূর কথা দিলাম আসব আবার ফিরে ,তোমার বুকে মাথা রেখে খুজব আমি সূখের ঠিকানা।

যাবার বেলায় শেষ বার শুনিয়ে দিও তোমার ঐ ভাঙ্গা টেপ রেকর্ডারে    “পাখিরে উড়ে যা….গানটি।

:= ইতি, (-3

                                                                                                                                                                                                                -{@ ভূলনা আমায়

                                                                                                                                                                                                               (-3   তোমারি বিউটি

ছোট করে লিখা চিঠিটা বিশাল এক বিরহের সুর তুলে মনে।কিন্তু কোথায় যাবে কিছুইতো বলল না।ভালবাসার পিয়নের কাছে জানতে পারলাম মিরপুর যাবে তার চাচ্চুর বাসায়।সকালে বিরহের সুর সারাদিন মনের মাঝে কষ্টের জমাট বদ্ধ পাথর যেন সকল কর্মের সফলতার বাধা।পার্টি অফিস থেকে বার বার খবরেও মনকে ঘর থেকে বের করতে পারেনি,পারেনি বন্ধুদের আড্ডা।ছবি আকছিঁ আর ভাঙ্গা টেপ রেকর্ডারে বার বার শুনছি প্রিয়তমার প্রিয় সুরটি।অনেক দিন পর ক্লাশমেট রোকসানা এলো।মার কাছে জানতে পারে আমি সারাদিন ঘরেই আছি।

-পাশের ঘরের ঐ মেয়েটি কেরে।

-আমার ঘরে থাকার কারন।

-এর মানে কি?

-মানে কি আবার তোর ভলো লেগেছে?

-অমন সুন্দরীকে কার না ভাল লাগবে,তুই আবার ওর জলে ডুব দেসনাইতো?

-যদি দেই?

-মন্দ নয়,যাক যে জন্য এসেছি আজ সন্ধ্যায় আমার বাসায় যেতে হবে,ছোট বোনটির জম্ম দিন কালকে তাই কিছু আলপনা আর কিছু কাজ করতে হবে।

-আজতো পারবনা,আমার যে আজ ঘর হতে বের হতে মানা।কাল সকলে যাব।

-ঠিক আছে,তাহলে আমি গেলাম।

দুপুরে খাওয়া দাওয়া করে বিছানায় শুইতেই কখন যে চোখের পাতা এক হয়ে মন ঘুমের দেশে চলে গেল বুঝতে পারিনি।ঘুমের মাঝে নিজেকে অসস্হিবোধ করছি কে যেন আমায় ডাকছে এই মমি উঠ..উঠ- বেলা যে বয়ে যায়, প্রিয়া যে চলে যায়…।হঠাৎ চমকে উঠে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি রাত্র আটটা।কি মরন ঘুমে নিল কেড়ে প্রিয়তমাকে আবার হয়তো হবে দেখা কোন এক মিলনের দিনে।

দেখতে দেখতে চলে যায় পনেরটি বিরহের দিন।পিয়নের খবরে আসে মিরপুর থেকে তাকে সরাসরি একপ্রকার বাধ্য করে নিয়ে যাওয়া হয় বিক্রমপূর তার পৈতৃক বাড়ীতে।বাধ্যটা ছিল ভয়ংকর আর পারিবারিক কলহ।তার ফ্যামিলির কর্তা বড় চাচ্চু তার সামনে দুটো কাচের গ্লাস রেখেছে একটি গ্লাস দেখতে ধব ধবে সাদা আর একটি কালচে নীলাভা।

-বিউটি মা আমার এখানে দুটো গ্লাসে সাদাটিতে আমাদের বংশের সম্মান আর কালোটি আমাদের বংশের ধ্বংস -তুমি মা কোনটি নিবে বলো ।চাচ্চু মাষ্টার মশাই তাই জালটা বুনেছিলেন খুব কায়দা করে।কিন্তু ভাতিজীও কম কিসে কোন উত্তর না দিয়ে কালো নীলচে গ্লাসের সবগুলো পয়জন আচমকা মূখে দিয়ে গিলে ফেললেন।বাড়ীর মা-চাচীদের মাঝে হৈ চৈ পড়ে যায়।প্রিয়তমার নিথর দেহটি ধরাধরি করে হাসপাতাল নিয়ে যায় সেখানে প্রায় ৩/৪ ঘন্টা অপারেশনের পর ডাক্তার আসস্ত করল মেঘ কেটে গেছে।

ঘটনা আর অঘটনের মধ্যে দিয়ে চলে যায় বিরহে প্রায় দুটো মাস।একদিন এলো এক খবর তার ছোট বোন রুমাকে দিয়ে পাঠালো বিয়ের নিমন্ত্রনের কার্ড।রুমা খবর দিল চলে গেলাম সাইলো রাস্তায়।পড়ন্ত বিকেলের হিমেল হাওয়াতে হাটছি আর কথা বলছি তার সাথে ছিল তারই ১২/১৩ বছরের ফুফাত বোন অনন্যা (ছদ্ম নাম)।ভাবছেন নামটি খুব সুন্দর পরবর্তীতে এই অনন্যাই হবে কাহিনীর মূল চরিত্র।কার্ডটি হাতে নিলাম।

-তোমার আপু কেমন আছে?

-ভালো,।রুমা তেমন কিছুই আগ বাড়িয়ে বলছেনা শুধু হেটে যাচ্ছে।

-তোমার আপু রাজীতো এ বিয়েতে।

-রাজি কি হয়!তাছাড়া আমরা মেয়ে জাত এ সমাজতো পুরুষের।

বয়সের তুলনায় কথা বার্তার ধরন ভিন্নতায় আমি অবাক হলাম আরো অবাক হলাম রুমার শেষ কথাটি শুনে।

-আপনি আপাকে খুব ভালোবাসতেন তাইনা?

-হ্যা,জীবনের চেয়েও বেশী।

-সেই ভালবাসা কি আমাকে দেয়া যায়না?

অবাক করল আমাকে।বলে কি সে ,ভালবাসা কি এতই সহজ যে …যখন তখন যে কাউকে ভালবাসা যায়।তাকে সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে দিলাম।

-মন খারাপ করোনা,চাইলেই যে ভালবাসা পাওয়া যায় সে ভালবাসা মনকে নয় দেহকে ডাকে।ভালবাসা পাওয়া যায়না ভালবাসা হয়ে যায়।হাতে নিয়ে এসেছিলাম আমার আকাঁ তার পছন্দের একটি ছবি সেটা হাত বাড়িয়ে দিলাম।

-তোমার আপাকে বলো আমি ভাল আছি সে যেন ভুলে যায় আমায়।নতুনের মাঝে বিলিয়ে দিক তার হৃদয় ভরা ভালবাসা।

সাথে একটি দীর্ঘ চিঠি দিয়েছিলাম পরবর্তীতে প্রকাশ করব……..

চলবে…

 

 

২৯৫জন ২৯৫জন
0 Shares

৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য