প্রতিদিনের মত সন্ধ্যায় হাতে তুলি নিয়ে প্রাকটিসে নেমে পড়ি।আজ বিষয়াদি নিয়েছি একটি বক তার শিকারী নিশানার পজিসনস।পড়ন্ত বিকেলে বকটি এক পায়ে দাড়িয়ে আছে- খাবার সংগ্রহের আশায়।তেমনি একটি দৃশ্য পেইন্টিং করছি।কখন যে সেই মেয়েটি আমার পিছনে দাড়িয়ে ছিল বুঝতে পারিনি।মেয়েটির মিষ্টি কথায় টনক নড়ে…-বকের আর এক পা কই? অবাক হলাম-আপনি ,কেমন আছেন?-ভালো,তবে ভালো নেই।-বুঝলামনা?-না বোঝার কি আছে,সেই প্রথম থেকেই আপনি আমাকে আপনি আপনি করে বলে আসছেন।আমি কি আপনার চেয়ে বয়সে বড়?-বয়সে ছোট হলেই যে আপনি বলা নিষেধ তা আপনাকে কে বলেছে।মেয়েটি নিশ্চুপ ,গোমড়া মূখে দাড়িয়ে দাড়িয়ে পেইন্টিং দেখছে।একটু হেসে তার কথায় রাজি হলাম।-ঠিক আছে,তুমি করে বলব।এবার বলো যার বাসায় এসেছ সে তোমার কি হয়?-ফুপি,পরীক্ষা শেষ তাই ৩/৪ মাস থাকব।-তাই,তবেতো ভালই হয় জমিয়ে আড্ডা মারার অন্তত একজনকে পাওয়া গেল।(যদিও মেয়েদের সাথে ফালতু কথার আড্ডা মারার লোক আমি নই)হঠাৎ বিদুৎ চলে গেল।নাহঃ আর সহ্য হয়না বিদুৎতের এই লুকোচুরি।ঘরটি সাথে সাথে অন্ধকার হয়ে গেল।মেয়েটিরও কোন শব্দ নেই আছে কিনা চলে গেছে বুঝতে পারছিনা।হঠাৎ একটি অপ্রত্যাশিত শব্দ শুনতে পাই….I love you পিলে চমকে গেলো।তরিঘড়ি করে লাইটারটা টিপ দিয়ে জ্বালালাম,লাইটের আলোয় দেখি মেয়েটি নেই শুধু কানে এলো কিছুক্ষন হেটে চলার নূপুরের ঝণঝনানীর শব্দ তরঙ্গ।রাত তখন দশটা হবে লোক মারফতে মেয়েটি একটি গানের ক্যাসেট পাঠায়।ক্যাসেটের বক্সের গায়ে লেখা “আমার প্রিয় ,ভূলনা আমায়”।শিল্পী জহির আহম্মদের ক্যাসেট।ক্যাসেটটি আমার ভাঙ্গাচুড়া টেপরেকর্ডারে লাগিয়ে চালু দিলাম।সুন্দর সূরেলা কন্ঠে বেজে উঠল “পাখিরে উড়ে যা”গানটি।দরজার চৌকাঠে দাড়িয়ে রংয়ের বাটি পরিস্কার করছি হঠাৎ চোখ গেল মেয়েটির ফুপির ঘরে।মেয়েটি ঘরের চৌকাঠে দাড়িয়ে গানটি কি যেন মনযোগ সহকারে শুনছে এবং ইশারায় কি যেন বলার চেষ্টা করছে।ভালবাসার টানে তুলি ক্যানবাস রেখে কাগজ কলম নিয়ে বসলাম ওকে ভালবাসার দু লাইন লিখব বলে।অনেক চেষ্টা করলাম ভালবাসার চিঠি লিখতে পারছিনা কেমন যেন মন মত ভাষা খুজে পাচ্ছিনা।কাগজ ছিড়তে ছিড়তে কাগজ ফুরিয়ে গেল অবশেষে ড্রইংয়ের কাগজের টুকড়োতে লিখে পাঠিয়ে দিলাম “মিষ্টি মেয়ে,কথা দিলাম থাকব পাশে”।পরদিন সকালে সেই কলের কাছে গিয়ে মেয়েটি আমার পাঠানো কাগজের টুকরোটি পড়ছে হঠাৎ তার ফুফাত বোন জামাই এসে পড়ে।-কি রে বিউটি তোমার হাতে কি?বোন জামাই কিছু বোঝার আগেই মেয়েটি বিপরীত দিকে ফিরে কাগজটাকে মুখে দিয়ে গিলে ফেলল।-কই কিছু নাতো!-চালাকী করোনা,আমি সব বুঝি-আমাকে না বললে তোমার সমাধান কে করবে বলো?মেয়েটি আমতা আমতা করে ইনিয়ে বিনিয়ে কথার প্রসঙ্গটি বদলিয়ে ফেলে।এভাবে চলতে থাকে বিভিন্ন রাগ-অভিমানে প্রতিদিনের প্রেমের সংসার।দেখতে দেখতে চলে গেলো দুটো মাস।অন্য সব দিনের চেয়ে এখন আমাকে আমার আমিটা যেন কিছুতে অন্য কোথাও তর সয়না ,যতক্ষন না বাড়ী ফেরা হয়।এ এক কুদরতী অনুভূতি।যারা এ রাস্তায় হেটেছে কেবল তারাই বুঝতে এ অনুভূতির মর্মতা।যেখানেই যাই মন পড়ে থাকে তাহার কারুকার্য ময় মূখভয়ে।রেশম কালো কুকড়ানো চূলে ভাজে ভাজে উচ্চারিত হয় ভাললাগার ছন্দ।ডাগর বাকা চোখের চাহনি যেন ভাসিয়ে দেয় কত না বলা কথার ছন্দ।ভাললাগা কিংবা ভালবাসায় রূপের কোন তাৎপর্য নেই ।এখানে যার নয়নে যারে লাগে ভালো এই সূত্রেই চলে।আমি বলবনা সে খুব সুন্দরী..তবে একটি মেয়ের যা থাকলে একজন পূরুষকে আকৃষ্ট করতে পারে তার সেই সব গুণ গুলোই ছিল তার ভালবাসার সন্ভল।আর এই পৃথিবীতে সুন্দরের কোন শেষ নেই।যা সুন্দর তার চেয়ে আরো সুন্দর যেন অপেক্ষমান।রাতে ম্যাসেজ এলো আগামীকাল সে তার কয়েক জন বান্ধবী নিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্যের স্তর বাংলার নবাব সিরাদ্দৌলার রাজধানী সোনার গাঁ যাবে।রাতেই আমার আগামীকালের সব প্রগ্রাম ক্যানসেল করলাম সোনার গাঁয়ের উদ্দ্যেশে।

Continue…….

 

৩১৩জন ৩১১জন
0 Shares

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য