একে বারে অপ্রস্তুত ছিল মমি সাত সকালে অনন্যা তার রুমে এসে রুম গোছানোর দায়ীত্ত্বটা নিবে তা মমি কল্পনাও আনেনি ।মমি বিছানা থেকে তখনও উঠেনি ইচ্ছে করেই ঘুমের ভান ধরে উপুর হয়ে পাতলা একটি কাথা শরীরে পেচিয়ে অনন্যার দিকে মুখ দিয়ে শুয়ে আছে মাঝে মাঝে এক চোখের অল্প চাহনিতে খুজেঁ ফিরে শান্তির পরশ।মমি এক বার চোখঁ বন্ধ করে আবার খোলে।চোখেরঁ যে আজ কি হয়েছে সে কেবলি দেখিতে চায় সুন্দরকে।অনন্যা সে তার মত গোছগাছ করছে।মমির আর ঘুম আসছে না সে বিছানা হতে উঠে বাথরুমে যেতে গিয়ে হঠাৎ মাথা চক্কর খেয়ে মাটিতে পড়ে যাবার উপক্রম আবার নিজেকে সহজে সে সামলে নিল অনন্যা তা দেখে ভয় পেলেও সাহস হারায়নি সে দৌড়ে সঙ্গে সঙ্গে মাকে ডেকে আনে।মা এবার মহা ব্যাস্ত ডাক্তার ডাকো এটা করো ওটা করো।ছেলের মাথায় রসূন বাটার শরিষার তৈল দিয়ে মূখে যা মন চায় বকছেন।মমিকে মাথায় তৈল দিয়ে আবার বিছানায় শুয়ে রাখেন।

বাবা আজ মহা খুশি সে এলাকার এক মোটামোটি অবস্হাশীল মেয়ের বাবার সাথে মমির বিয়ে সম্পর্কে এক প্রকার রাজিই করে ফেলেছেন সেই সূখবরটি নিয়ে পরিবারের সবাই খুশি এক মাত্র মমি ছাড়া।কথায় বলে “যার বিয়া তার খবর নাই পাড়া-পরশির ঘুম নাই”।মা বাবার এখন মূল ভাবনা হলো তারা মমিকে কথাটি কি ভাবে বলবে এবং বললেও মমি মানবে কি না।

-সরাসরি বলবেন

-যদি রাজি না হয়!তাছাড়া হয়তো কিছু দিনের মধ্যে মমি সিঙ্গাপুর চলে যাবে,এই অজুহাত সে যদি দেখায়।

-সমস্যা কি,এখন এঙ্গেজ করে রাখব দু’বছর পর ছুটিতে এলে ঘরে তুলে নেবো দুমদাম অনুষ্ঠান করে।

-হু,তা হয় তবে জামাইকে দিয়ে কথাটা বলাতে হবে,তাছাড়া মেয়ে পক্ষতো আসবে ছেলেকে দেখতে।

যেই কথা সেই কাজ মমির একমাত্র বোন জামাই মমিকে এক সন্ধ্যায় কথাগুলো বলতেই মমি তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে।

-হয়তো কয় দিন পর বিদেশ চলে যেতে হবে এখন এমন একটা জীবন ভিত্তিক সিদ্ধান্ত কি ভাবে নিব অনর্থক একটা মেয়েকে অপেক্ষায় রাখা।

-বিদেশতো দু’বছর হয়ে গেল তুমি কেবল যাচ্ছই কালকেই যে আবার বিদেশে চলে যাবে তার কি গ্যারান্টি আছে।তোমার কোন কথা চলবে না আমরা যা ফাইনাল করেছি তাই হবে।মেয়ে পছন্দ না হলে বলো।

-মেয়ে পছন্দ হবে না কেনো সে তো আমারি ক্লাশমেট তাছাড়া বিয়ে করব আমি আর ফাইনাল করবেন আপনারা এটা কি ঠিক?জীবনতো আমার,আমার জীবনের চুড়ান্ত সিদ্ধান্তটা আমাকেই নিতে দিন।

-তাহলে তুমি রাজি নয়,

মমি আর কোন শব্দই করছে না,বোন জামাই রেগে মেগে ঘর হতে কারো সাথে কোন কথা না বলে সোজা তার নিজের বাসায় চলে গেলেন।এবার মা বাবা বোন সবাই মমির ঘরে প্রবেশ করে।

-কি রে তোর দুলা ভাইকে না করেছিস?

মমি কোন কথা বলছে না,এদিকে মা বোন সবাই একে একে প্রশ্ন করছেন।কারো কোন প্রশ্নের উত্তরই দিচ্ছে না মমি অবশেষে বিরক্ত মনে করে কাউকে কিছু না বলেই বাহিরে বেরিয়ে পড়ে।

মমির যখন মন খারাপ হয় সে তখন শীতলক্ষ্যা নদীর ধারে শ্মসানে নির্জনে একা শীতল নদীর শেষ অব্দি এক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে বেশ কয়েক মিনিট।রাগ কিছুটা পশমিত হলে গোল্ড ফ্লাগ একটি সিগারেট ধরাত সে দিনও তাই করল।পকেটে রাখা একটি গোল্ড ফ্লাগ সিগারেট বের করে কিন্তু দিয়াশলাই না থাকাতে নৌকার এক মাঝির কাছ থেকে জ্বলন্ত সিগারেট থেকে নিজেরটা জ্বালিয়ে একটি বড় করে শোক টান মারে।ঠিক সেই সময় অনন্যার বডি গার্ড এক সই নদীর পাড়ে আসে মমিকে লক্ষ্য করে।অনন্যা জানত মমি এমন মুহুর্তে কোথায় থাকবে।মমির একটি গোপন ডায়রি অনুমতি ছাড়া সে পড়ে ফেলেছে সেখানেই লিখা ছিল “আমার মনে যখন কালো মেঘের গর্জন হয় তখন আমাকে খুজতেঁ হলে এসো শ্মসানের ঘাটে সেখানে মৃত্যুপুড়ীতে মূদ্দারের সাথে আমার আত্ত্বীক লেন-দেনের বসবাস”।মেয়েটি এসে মমির হাতে একটি কাগজের চিরকুট ধরিয়ে দিল।

প্রিয়,

“না বলা কথা কহিতে বেকুল মন

মনের কি সাধ্য মূখে কয়

কাগজের টুকরোয় একেঁ দিলাম

তোমার আমার (3 (3 হৃদয়”।।

চিরকুটটি পড়ে মমির মনে পড়ে গেল সেই প্রথম প্রেমের ব্যার্থতায় মন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ লিপি “আমারে যে করিয়াছে অনিষ্ট আমি তাহাকে করিব বিনষ্ট”।সেই বিউটির ফুফাত বোন আজকের এই অনন্যা মনে ভূলে যাওয়া স্মৃতি আবার জেগে উঠল।পকেটে হাত দিয়ে আরেকটি ধুমপান করে মমি এইতো সুযোগ ব্যার্থতার প্রতিশোধ নিতে।বিউটির ফুফু অনন্যার মায়ের কারনে মমি অকালে হারিয়েছিল তার উঠতি মনের ভালবাসার বীজের অঙ্কুরদম।আজ তারই মেয়ে অনন্যা মমির জীবনের সাথী হতে চায়।মমি ভাবছে এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে অনন্যার মাকে বুঝিয়ে দিবে ভালবাসার ব্যার্থতার কষ্টটা কত নির্মম,কত অসহনীয় যন্ত্রনার…….. (-3 (-3 (-3 (-3 (-3 (-3 (-3…,,,,

অতৃপ্ত জীবন…ভালবাসা১০ (3 (3 (3

২০৪জন ২০৪জন
0 Shares

১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য