অতৃপ্ত জীবন….প্রবাসী০৯

বেশ কান্ত লাগছে এক দিনের ইন্দোনেশিয়ায় ভ্রমন।পরদিন নতুন একটি কাজে দিবে আমাকে সকালে প্রস্তুত থাকতে বলে এজেন্ট।কথা মত সকালে কাজে গেলাম কিন্তু খোজ খবর নিয়ে জানা গেল এখানে বেতনের খুব সমস্যা তাই এক রাত থেকে পরদিন সকালেই ফেরত আসি আমার হাউসে।ভেবে পাচ্ছিনা কি করব।অফুরন্ত অবসর কোন কাজ নেই আর একটু গুড়লে মন্দ নয়।চলে গেলাম দু বন্ধু মিলে জুরং বার্ড পার্ক এবং চিড়িয়াখানা গুড়ে এলাম।অসম্ভব সুন্দর স্হান।চারদিকে গাছ গাছালি ভরপুর।যে দিকে তাকাই কেবল সবুজের অরণ্য।সমতল ভুমি নেই,পাহাড়ে উচু নিচু স্হান যে ভাবে আছে সে ভাবেই আকা বাকা রাস্তা।পাহাড়ের মত বিশাল উচুতে উঠা আবার তৎরূপ নীচুতে নেমে পড়া।ভিজিটর গেইটে ঢুকতে অয়েলকাম জানান ষ্টাফরা।চোখ ধাধানোঁ পশুপাখি অবাদ বিচরন ।অনেক কাছ হতেই দেখা যায়।আমার কাছে অবাক করা বিষয় আছে যেমন বার্ড পার্কের প্রথমে ঢুকতেই চোখে পড়বে রঙ্গীন টিয়ে পাখি তার সাথে জমিয়ে আড্ডা মারতে পারেন সে আপনার মনের ভাষা বুঝে প্রশ্নের উত্তর দিবে।আরো আছে  হরেক রকমের মন আর্কষনীয় পাখি।তার মধ্যে আমেরিকার পালকবিহীন ঈগল,সাগর ঈগল,ডাইনোসর,ম্যান্ডারী হাস,বিশাল এমু পাখি,আর্কষনীয় পায়রা,।বিদ্যুতে তারের লিফ্টে দেখতে পাবেন সিঙ্গাপুরে পাহাড়ী অঞ্চল।চিড়িয়া খানায় এতটা কাছ হতে জীব জন্তুকে দর্শন করা যায় তাদের সাথে ইনজয় করা যায় তা মনে হয় আর কোথাও আছে।বিভিন্ন অনুষ্টান থাকে। অনুষ্টানে গান নৃত্য এবং জীব জন্তুর বিভিন্ন খেলা প্রদর্শনীয় করে থাকে কর্তৃপক্ষ।ওয়াটার লায়নের খেলাটা বেশ উপভোগ্য।শত শত দর্শনার্থীর মাঝে যে যা বলবে তাই ওয়াটার লায়ন করে দেখায়।বাদরের বান্দ্রামী অবাক করে অবাক করে কয়েক’শ প্রজাতির সরীসূপের সংগ্রহ।আছে ভাগ্য গননার তোতা পাখির কাজ।একটি পুকুরে কালারিং মাছের প্রদর্শন চোখে লাগার মতন।ডায়নোসর এর নাম শুনেছিলাম চোখে দেখিনি চিড়িয়া খানায় দেখলাম।বেশ ভয়ংকর দেখতে।আছে প্রশান্ত মহসাগরের নীচে গ্লাসের রোড যাত্রা পথে দেখা যায় সাগরের বড় ছোট প্রানী।

 

 

     

  

 

 

 

জন্তুদের সাথে মানুষের নিবির সম্পর্ক

সিঙ্গাপুর চিড়িয়া খানা

সিঙ্গাপুর নাইট সাফারী

সাদা টাইগার

সিঙ্গাপুর রেইন ফরেষ্ট

বার্ড পার্ক

ওয়াটার ফল আইভরি

মন খুলে গুড়লাম সে দিন।রাত নয়টার দিকে বাসায় ফিরে দীলিপকে দেখে অবাক হলাম।সে আমার সাথে কাজে গিয়েছিল বিডকে।

-কি রে চলে এলি যে?

-আমি একা নই পনের জনের সবাই চলে এসেছি।কারন আমাদের বস নাকি সবাইকে, যে যেই সাইটেই আছে চলে আসতে বলেছে।

-কেনো?

আমি খুব চিন্তায় পরে গেলাম।কি হলো আবার।এমন সময় আমার বসের ফোন আসে।

-হ্যালো স্যার,,

-তুমি তোমার ভাইকে বলো তার দেয়া ব্যাংক চেক ব্রাউঞ্জ হয়েছে সে কি আমার সাথে দুই নম্ভরী করল?আমি আমার লোক সরিয়ে এনেছি তুমি বলে দিয়েও ১৫ জনের ১৫টি পাসপোর্ট যেন কালকেই আমার অফিসে ফেরত নিয়ে আসে।

-ওকে বস।

ফোনটা রেখে মনিরকে ফোন দিলাম ।মনির আমার প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেনি।

-ভাই আমিতো আমার অফিসে পাসপোর্টগুলো রেখেছি আর আমার পার্টনাররা গেছে মালেশিয়ায় ওরা এলে ঘটনা কি,বলতে পারব।

-কবে আসবে?

-দু এক দিনের মধ্যে।

-ঠিক আছে কালকে তুই আমার বসের সাথে দেখা করে কথা বলবি।

বেশ কয়েক দিন চলে যাচ্ছে কিন্তু আমার সহ ১৫টি পাসপোর্টের কোন খোজ নেই।ঐ দিকে মনিরের পার্টনারদের কোন খোজঁ নেই।বস রেগে আছেন, আমি আমার অফিসে যাবার সাথে সাথে বস রেগে যায়।

-আমি তোকে পুলিশে দেবো।

-কেনো বস আমি কি করলাম।

-তোর ভাইয়ের কারনে আমার ১৫টি বই পাচ্ছিনা।সবগুলো বই স্কিল পাস।

-আমার কি দোষ, আমিতো তোকে বলেছি তুই সব কিছু জেনে তার পর ব্যাবসা কর,তুই যখন পনেরটি পাসপোর্ট দিয়েছস আমাকেও তখন সামনে রাখস নাই,বই দিছস তাও বলিসনি এখানে আমার দোষ কোথায়?তাছাড়া পনেরটি বইয়ের মধ্যে আমারও আছে।

-ঠিক আছে চল ওদের অফিসে যাই,দেখি খুজেঁ পাই কিনা।

-আমি গিয়েছিলাম ওখানে সেই অফিস এখন বন্ধ পেয়েছি।

বস ধপাস করে তার সিটে বসে পড়েন।খুব চিন্তায় ফেলে দিল বসকে।পনের জনের পাসপোর্টের দায়দায়ীত্ত্ব সব তার কাধে।কি ভাবে কি করা যায় বসে ভাবছেন আমি সালাম দিয়ে চলে আসি।আমিও চিন্তায় পড়ে গেলাম আমার বই স্কিল, পনের বছরে থাকার পারমিশন যে করে হউক আমার পার্সপোর্টটা সংগ্রহ করতে হবে।মনিরকে ফোন দিয়ে জানালাম সে আমাকে আশ্বাস দেয় আমার বই তার কাছেই আছে।শুনে মন শান্ত হলো।কিন্তু বাকীগুলো সে বলতে পারছেনা তা কোথায় আছে।পরদিন আমি আমার পাসপোর্ট হাতে পেয়েছি কিন্তু বাকী যারা আছে তারা আমাকে নিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে গেল।বাংলাদেশের দূতাবাস আমাদের যেন পাত্তাই দিল না।আমার এজেন্টের সাথে বাংলাদেশের দূতাবাসের নাকি কথা হয়েছে মেয়াদ শেষে এক পাতা পাসপোর্ট বানিয়ে আমাদের দেশে পাঠিয়ে দিবে।আমরাতো অবাক বলে কি আমাদের আসল পাসপোর্ট না উদ্ধার করে দূতাবাস আর এজেন্ট মিলে আমাদের এক পাতা পাসপোর্ট দিয়ে দেশে পাঠাবে।আমরা প্রশ্ন করলাম আমাদের সাথে আলাপ না করে এরকম সিদ্ধান্ত তারা কেনো নিলো কোন উত্তর দিতে পারেনি দূতাবাস।বিশাল দেহী দূতাবাসের বাংলাদেশের নিযুক্ত অফিসার সেখানকার কোন কাজই টাকা ছাড়া করেন না।আমরা সেখান থেকে চলে গেলাম সিঙ্গাপুর এম ও এল মিনিষ্টার অফ ম্যানপাওয়ারে।আমাদের এক সাথে এত লোক দেখে আমাদের মেইন গেইটেই ভিতরে প্রবেশে বাধা আসে।এক অফিসার আমাদের ঘটনা শুনে আমাদের নিয়ে যান এক অফিসারের কাছে।সে আমাদের বসতে দিল এবং আপ্যায়নের ব্যাবস্হা করল তারপর ঘটনার বিবরন জেনে সে রাগ হন আমাদের দূতাবাসের উপর।

-কি ভাবে কাজ করেন আপনাদের দূতাবাস…তারা এত দিন হয়ে গেল বিষয়টি এখনও আমাদের নলেজে দিলো না আশ্চর্য্য!।

সে তৎক্ষনাত আমাদের এজেন্টের তামিল বস গুনাকে কল করে পাচঁ মিনিটে তার অফিসে দেখা করতে বলে।গুনা পাচঁ মিনিটের মধ্যেই তার কাছে আসেন আমাদের সবাইকে দেখে সে ঘাবড়ে যান ভয়ে, সে মৃধু কাপছিলঁ।গুনাকে চা আপ্যায়ন করায় ।একে একে প্রশ্ন করতে থাকেন অফিসার।গুনা প্রশ্নোত্তর দিতে গিয়ে ভেবা চেকা খেয়ে যাচ্ছেন।

-আপনি ওদের কি করলেন?ওদের নাকি ইমিগ্রেসনের একপাতা পাসপোর্ট দিয়ে দেশে পাঠানোর ব্যাবস্হা করছেন?

-না…মানে ওদের দূতাবাসের সাথে কথা বলেছিলাম সেখান থেকেই ঐ সিন্ধান্ত হয়।

-আর আপনি রাজী হয়ে গেলেন….ওদের অরজিনাল পাসপোর্ট এখন কোথায়?জানেন এ জন্য আপনাকে পস্তাতে হবে।

-আমি ঠিক জানি না,ওদের যেখানে কাজ দিয়েছিলাম সেখানেই পাসপোর্ট আছে….এখন ঐ অফিস লক করা।

-অফিসটা কোথায়?

-রিভার ভ্যালি…

কিছু না বলে দু’জন কর্মরত পুলিশকে ডাক দিয়ে বললেন ওদেরকে অফিসটা দেখিয়ে দিতে।আমরাও তাদের সাথে গাড়ীতে করে গেলাম অফিসে।অফিসের সামনে যাবার পর দেখতে পেলাম অফিস চালু ভিতরে লোকজনও আছে।পুলিশসহ আমরা ভিতরে ঢুকার সাথে সাথে সেখান থেকে লোকজন কমতে থাকে।অফিসে তখন শুধু মনির ছিল।তাকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে পাসপোর্ট এখানে নেই অফিস প্রয়োজনীয় সার্চও করা হল পাওয়া গেল না যখন পুলিশ মনিরকে সময় বেধে দেয় আগামী ২৪ঘন্টার মধ্যের আমাদের অরজিনাল পাসপোর্ট বের করে ম্যানপাওয়ারের পাসপোর্ট শাখায় যেন জমা দেন।বলে পুলিশ আমাদের বাসায় চলে যেতে বলে।

-তোমরা যাও, এখন বাকী কাজ আমাদের।

পুলিশ চলে যায় সাথে আমার সাথিরাও আমি এবং বস গুনা মনিরের সাথে কথা বলব বলে রয়ে গেলাম।এমন সময় বস গুনা কি যেন খুজঁছেন।আমি তাকে প্রশ্ন করলাম।সে বলল তার মোবাইল খুজেঁ পাচ্ছেননা।আমি ধারনা করেছি বস তার মোবাইল ঐ ম্যানপাওয়ারের অফিসেই রেখে চলে এসেছেন।বসকে আইডিয়া দিতে সম্মবত সেও ধারনা করেছিল।যে রকম ঠেলা তাকে ম্যানপাওয়ার অফিসার তাকে দিয়েছেন তাতে সে মোবাইল টেবিলে রেখেই চলে এসেছেন।এর পর দিনেই হারিয়ে যাওয়া অরজিনাল পাসপোর্ট আমদের এজেন্ট অফিসে পৌছে দেয় ম্যানপাওয়ার অফিস।

চলবে…..

৩৩৪জন ৩৩৪জন
0 Shares

৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য