স্বপ্ন ছিল অনেক,বিদেশ করে কারি কারি টাকা কামাবো দেশে এসে কিছু একটা ব্যাবসা করে নিজেকে স্বাভলম্বী করব।আমার এমনি স্বপ্নগুলো আর আলোর মূখ দেখেনি।বার বার চার বারে আসা যাওয়ার প্রবাসী আমি ভাগ্যের কাছে নিয়তির কাছে হেরে গেলাম যেখানে মাঝে মাঝে পরিশ্রম আর যোগ্যতাও বড় অসহায় হয়ে যায়।কখনও ভাবিনি সেই সময়কার এম এ অনার্স পড়ুয়া ১৯৯৩ সালের চারুকলা প্রথম অনার্সে ভর্তি হওয়ার ইন্টারভিউর বিশাল মরুপথ পাড়ি দিয়ে সূযোগের অবহেলা আর অর্থ কষ্টের দৈন্যতা আমাকে বাধ্য করে প্রবাসে যেতে।রাজনিতীবিদদের মতন কিংবা কোন ষ্টারের মতন হঠাৎ কলাগাছ ফোলে আঙ্গুরের স্বাধ নিতে,মনের ইচ্ছেটা প্রতিভা প্রকাশে বিরুদ্ধে লেগে গেল।সব রেখে দেশে বিদেশে পাড়ি দিলাম।মাত্র তিন মাসের মাথায় হারালাম জম্মদাতাকে তারও কিছু দিন পর পর বড় খালা,বোন জামাই,প্রিয় বন্ধুর আবুল বাশারের পিতা এমন আরো অনেক প্রিয় জনকে কেড়ে নিল অর্থ কামাইয়ের স্বপ্ন।বিদেশের স্বপ্নরা নব বধুর এক বছরে এঙ্গেজ সংসারে মনকে অশান্তি করে রাখত।কখনও বধুয়াকেঁ ভালবাসতে পারিনি মন থেকে অর্থ কষ্টের তাড়োনায় নিজেকে প্রতিষ্টিত করা স্বপ্নরা বধুয়ার প্রাপ্যকে অস্বীকার করে।সেও নীরবে সব সয়ে যেত।হয়তো স্রষ্টা এই দিকে তাকায়নি বলে অস্তির জীবনে স্হির তার ভলবাসারা ক্ষুদার তাড়োনায় জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়নি।এখনও সেই মুখটি আমাকে ভাবিয়ে তুলে, যে দিন বৈদেশে পাড়ি দেবার সময় এলো।সে দিন ছিল শুক্রবার রাত আটটার ফ্লাইট মন ছিড়ে যাচ্ছে সবাইকে রেখে একা বিদেশে চলে যাওয়া,যেন মনকে কিছুতেই মানাতে পরছিলাম না।মন কেবল খুজেঁ ফিরে বার বার এ কোথায় যাচ্ছি ,না গেলে কি হয় না?মা বাবা ভাই বোন সবাই যেন নিস্তব্ধ কারো মন হয়তো বাধা দিতে চেয়েছিল কিন্তু ইচ্ছেটাকে যেনো কবর রচনা করে আর একটি ইচ্ছের শক্তি গুলো।যখনই গাড়ীতে উঠি মনে হলো একি করছি প্রিয়ার চোখের দিকে ইচ্ছে করেই তাকাইনি হয়তো সহ্য করতে পারতাম না বলে কিন্তু মন অনুভব করেছে বিদায়ের সর্বক্ষণ প্রিয়ার চোখের জলের প্রবাহ যেন আর থামছে না।গাড়ী স্টার্ড সেই মুহুর্তে প্রিয়ার মশৃণ হাতটি বাড়িয়ে দিয়ে হ্যা না প্রশ্নের কোন উত্তর যেন মনপূতঃ নয়।নিমিশে চোখের আড়াল।সেই সময় প্রচন্ড সিগারেটের নেশা পেল পাশের বন্ধুটির কাছ থেকে চাইতেই সে একটি সিগারেট ধরায়ে দিল।ঢাকার আধা ভাঙ্গা রাস্তার ঝাকুনি খেতে খেতে অস্হির …নাহ্ কোন মতন পাশ কেটে যেতে পারলেই বেচে যাই। তার পর আর পিছু তাকাতে হয়নি বিজি বিমান সু সু করে উড়াল দিল সিঙ্গাপুরের উদ্দ্যেশে।

কথায় আছে, কপাল পুড়া যে দিকে যায় তার সাথে ছায়াঁও যায়।স্বপ্নের দেশে লাইফ গড়তে তিন বারে ছয় বার বিমানে চড়ার অভিজ্ঞতা বেশ হয়েছে।ভাগ্য বেশী লাকী বলে হয়তো দেশের টানে মা মাটির টানে একবারও কোন রি-কন্টাক করতে পারিনি তাই একান্ত বাধ্য হয়েই দেশে বার বার ফিরে  আসতে হয়েছিল।এই তৃতীয় বারেও তাই হলো যে কোম্পানীতে গিয়েছিলাম সেই কোম্পানীর সেয়ার হোল্ডার মালে পাচঁ ভাইয়ের সেয়ার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কপালের সুখ আর সইলো না।কোম্পানী ভেঙ্গে যায় ভাই ভাইয়ের মামলায়।তারপর অ্যাকসিডেন্টের স্পেশাল পাশ যখন সাপ্তাহিক হয়ে গেল, তা ছাড়া তিন বারে দেশে যাওয়া আসা ছয় বারে এবং একটি সন্তানের কামনায় মন বিষিয়ে উঠল।জীবনকে বিশ্লেষন করলাম প্রাপ্যতা বলতে কিছুই নেই,বিবাহীত জীবনের সার্থকতা সন্তানের মুখ।সেই থেকেও বঞ্চিত প্রায় সাত আট বছর যাবৎ গরীবের কষ্টের লেখা পড়া করে বৈদেশের মাটিতে গ্রাজুয়েশন লেবার কিংবা কসাই কিংবা মাইচ্ছা হয়ে নিজের জীবনকে নিজেই ধিক্কার জানিয়ে জীবন, জীবনকে নিয়ে যায় এক অন্ধকার নেশা আর অপরাধের জগতে যেখান  ফিরে আসা খুবই কষ্টকর ছিল।এক সময় এ রকম লাগামহীন জীবনেও বিতৃষ্ণা এসে যায় অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম চলেই যাবো দেশে,নিজ মাতৃভূমি ডাল ভাত খেয়ে থাকতে পারলেও জীবনের তৃপ্তি আছে তৎক্ষনাত উকিলকে বললাম কেইসটা ডিসমিস করতে।

ইনসুরেন্স কোম্পানী গত ট্রাম্সে যে রিপোর্টটি পেশ করেছিল লয়ারের কাছে সেটির উপর আমার পক্ষ থেকে ইগনোর হওয়াতে ফের মেডিক্যাল চেক আপ করতে যেতে হলো হাসপাতালে।যদিও আমার ভঙ্গুর পদলীকার তেমন কোন সমস্যা ছিল না তবুও পয়েন্ট বাড়ানোর জন্য উকিলের পরামর্শ মোতাবেক ডাক্তার সাহেবের সাথে একটু মিথ্যে অভিনয় করতে হলো।সে আমাকে প্রথমে একটি টেবিলে শুয়াল তার পর হাতে একটি চিকিৎসা শাস্ত্রের হাতুড়ী নিয়ে আমার ডান পায়ের ভঙ্গুর স্হানে আঘাত করতেই আমি চিৎকার দিলাম।হয়তো আমার চিৎকারের মাত্রাটা একটু ভয়ার্ত হয়েছিল তাইতো ডাক্তার সাহেব একটু নার্ভাস হয়ে গিয়াছিলেন পরবর্তীতে অন্য আরেক জন ডক্তারের সাথে পরামর্শ করছেন।ওরা ইংলিশে কথা বলছিল তাই কথাগুলো বেশ ধরতে পারলাম।”আমিতো বুঝতে পারছিনা রিপোর্টেতো তেমন মারাত্ত্ব কিছুই দেখছি না তবে প্যাসেন্ট কেনো এতটা ব্যাথা পাবেন”অন্যজন বলছেন “কিছু ঘটনা থাকে যেটা আমাদের পক্ষে সমাধান বের করা সম্ভব হয় না”।কথা গুলো শুনে এবার নিজের কাছে নিজেই অপরাধী হয়ে গেলাম।কাদের সাথে আমরা চালাকি করছি ওরাতো দেখছি ফেরেস্তার চেয়েও পবিত্র।ধোকাবাজী,মিথ্যে বলা কি তা ওরা জানেনই না।সেখানে আর তেমন কিছুই চেক করেননি।চলে এলাম সেখান থেকে আমার অফিসে।বসের সাথে বিদায়ী কথা বার্তা বলে বসকে কাদিঁয়ে বিদায় নিলাম।

রাত প্রায় বারোটা ২০০১ সাল বিমানে উঠার পূর্বেই পেটের বেশ সমস্যা ছিল উঠার পর যতই সময় যাচ্ছে ততই যেন পেটে পিড়া দিচ্ছিল।নিদিষ্ট টাইমে বিমান ছাড়ল বাংলাদেশের উদ্দ্যেশ্যে।সিটে বসেও শান্তি নেই প্রকৃতি পাতলা ডাকে কিন্তু এখনও বিমান ল্যান্ড থেকে বিমান উপরে উঠেনি তাই এখন সম্ভব নয় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়া।বিমান মাটির মমতাকে ত্যাগ করে আকাশেরঁ সীমানায় স্হির চলন্তমান ঠিক তখন আর ভেলীকে চেপে রাখতে পারলাম না দুই নম্ভরের সিরিয়ালে অবশেষে চান্স পেয়ে প্রকৃতির ডাককে বিদায় দিতে দিতেই প্যান্টের অবস্হা কাহিল,পুরো বিবস্ত্র হয়ে ওয়াস করলাম পেন্ট।প্রকৃতির ডক শেষ পর্যন্ত অনেক জ্বালা যন্ত্রনায় পৃথিবীর সব চেয়ে সূখের লাগাল পেলাম।ক্লান্ত দেহে সিটে বসবার সাথে সাথে নিদ্রা দেবী দেহকে রুহু শূণ্য করে একটানা এক ঘন্টা ঘুমের পর ভোর রাতে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বিমান ল্যান্ড করে।

ছয় সাতটি বছরের প্রবাসে সিঙ্গাপুর অনেক আপন হয়ে গিয়েছিল।কথায় আছে এক সাথে কয়েকটি বছর একটি গরুর সাথে বসবাস করলেও নাকি গরুর প্রতি এক ধরনের মায়া এসে যায় যেটা একটি পারিবারিক বন্ধনের মতন তখন তাকে বিক্রি কিংবা জবাই করতেও মায়া লাগে,মনে আঘাত আসে।সেই রকম কিছু লোকজনের জন্য মনে মায়া এসে যায় বিশেষ করে সহ কর্মী মালে মাইক্যাল,কেন্ট,আমার বস রোজানো,রোজানো যখন শুনল আমি চলে যাচ্ছি আর হয়তো ফিরবনা তখন সে কি কান্না,মেয়ে লোকের মতন চোখঁ দিয়ে জল গড় গড়িয়ে পড়ছিল।তার পর কিছু তামিল সহ কর্মী,কল কাতার ব্যাবসায়িক বন্ধু ,এবং স্বদেশী আদম ব্যাবসায়ী সদা কষ্টের হাস্যো উজ্জ্বল নয়নে অপেক্ষায় আমার বিদায় বেলায়।সবার কাছেই আমি কৃতজ্ঞ।

যাদের কারনে আমি সোনেলায় আমার বৈদেশিক কর্মময় জীবন ইতিহাসকে লেখা আকারেঁ প্রকাশ করতে সহযোগিতা করেছেন শ্রদ্ধেয় জিসান শা ইকরাম এবং ছাইরাছ হেলাল ভাইয়া দ্বয়ের কাছে আমি বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ।ব্লগে ঘুড়তে ঘুড়তে ক্লান্ত লগনে সোনেলারঁ ভালবাসার পরশে আমি ধন্য হয়তো এখানে না লিখলে আমার ১৪ পর্বের প্রবাসী জীবনি আর লিখা হত না।আমি আরও কৃতজ্ঞ ব্লগের বন্ধুদের #নীল কন্ঠ জয়,শুন্য শুন্যালয় যদিও তাহার নামটি জানিনা,খড়সা,এই মেঘ এই রৌদ্দুর,প্রজম্ম৭১,রুবেল,মর্তুজা,জি,মাওলা,লীলাবতী,মজিবুর ভাইয়া,প্রিন্স,আমিন পরবাসী,স্বপ্ন,আমার মন, নাম মনে না আসা আরো অনেকের প্রতি।

অতৃপ্ত জীবন…প্রবাসী১৩

আত্ত্ব জীবনিটি দুই ভাবে ভাগ করা

অতৃপ্ত জীবন-প্রবাসী

অতৃপ্ত জীবন-ভালবাসা

 

৮৪৯জন ৮৫১জন
0 Shares

৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ