মেরিনা সি বিচ প্রায় সেখানে যাতায়াত আমার। যদি কখনো মনের কোণে এক খন্ড দুঃখ এসে ভিড় করে তখনই ছুটে যেতাম হিম শীতল প্রশান্ত মহা সাগরের বুকে কখনও মেরিনা বীচের পাড়ে  কখনও বা বিশাল কাচ কাটা ঠিক দেখতে কাঠালের মত অডিটরিয়ামের পাশে।উদাস দৃষ্টিতে আকাশ পানে শুধু চেয়ে থাকা।মাঝে মাঝে মনে হতো আহারে!আমি যদি সাগর হতাম প্রিয়ার চোখেরঁ জল হয়ে কাছে থাকতাম,যদি আমি সাগরের শংঙ্খ চিল হতাম তবে মুহুর্তেই ডানা মেলে উড়ে যেতাম প্রিয়ার কাছে।আজ খুবই মনে পড়ে তাকে সেই পরিচিত কাজল কালো আখিঁ যেন খুজেঁ ফিরে বারবার আমায়।আনমনে সাগর পাড়ের দর্শনার্থীর রেলিং ধরে আনমনে চেয়ে রয়েছি দূর দিগন্তে হঠাৎ মিষ্টি একটি মেয়েলী সূঘ্রান নাসিকার ইন্দ্রীয়কে জাগিয়ে দিল।মেয়েটিকে দেখে বুঝা যায়নি সে কোন দেশের তবে সে অনগর্ল ইংরেজী বলতে পারেন বলে আমার বুঝতে সুবিদে হল ।

-Excuse me..

-ya..

-Do you know where the Hindu Temple?

-Oh..ya You can go Takka..there have so many ….

-Ok,thanks.

-Well-come.

সেরাঙ্গ রোডে টাককা নামক প্লেসে অনেকে লিটল ইন্ডিয়া বলে থাকেন সেখানে রয়েছে প্রায় ডজন খানেক মন্দির।বেশ কারুকার্য্য সস্মৃদ্ধ মন্দির গুলো।ভিতর  বাহির দেখতে বড়ই চমৎকার।প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থীর ভির থাকে টেম্পলগুলোর মাঝে।

 

 লিটল ইন্ডিয়া ইন সিঙ্গাপুর

টেম্পল

(y) মেরিনা বিচের হোটেলের উপরে এবং প্রশান্ত মহা সাগরের নীচে গ্লাস বেষ্টিত পথ চারীর পারাপার।

 

 

 

 

 

 

 

বিদেশী মেয়েটি চলে যাবার পর দেখা হলো কয়েক জন বকাটে বাঙ্গালীর সাথে।দু’জন ডাব গাছের নীচে আড়ালেঁ দাড়িয়ে আছেন একজনকে ডাব গাছে তুলে দিয়ে।সে দেশে অরজিনাল ডাব খেতে হয় না কেউ যদি কোকোনাট কোল্ড ড্রিংস খান।এতটাই মান সস্মত যে অরজিনাল ডাবকেও হার মানায়।তো সেই বাঙ্গালীরা দুটো ডাব গাছ থেকে পেরে ভেঙ্গে খাওয়া শুরু করেন এরই মধ্যে সিভিল পুলিশ এসে ওদের ধরে নিয়ে যায়।ডাব খাওয়ার অপরাধে ওদের পানিসমেন্টস দেন দুইশ ডলারের করে চারশ ডলার জরিপানা।

পারমিটের মেয়াদ শেষ করে স্পেশাল পাসে আছি প্রায় ছয় মাস হয়ে গেল।আর সিঙ্গাপুর অবস্হানে তিন টার্ম্সে ছয় বছর।এত দিনের অবস্হানে সে দেশের অনেক নাগরিকের সাথেই আমার সম্পর্কটা সম্ভবতঃ একটু আত্ত্বার সম্পর্কই বটে।শুরু থেকে এক কলেজ পড়ুয়া সিঙ্গাপুরিয়ান চাইনিজ ছেলের সাথে আমার খুব ভাব প্রায় প্রতিদিন রাতে তার সাথে বিভিন্ন লোকেশনে যেতে হয়।আজ রাতেও তাই হলো।আজ আমরা যাবো মাছ শিকারে।কোন সাগর মহা সাগরে নয় সিঙ্গাপুরিয়ানদের হাতে বানানো একটি খাল।প্রাকৃতিক গাছ গাছালিতে ভরপুর।সাইটটি যখন তৈরী করেছিল তখন সেখানে কিছুই ছিল না।মরুভূমির মত বালু আর বালু।সেখানে আস্ত বিশাল বিশাল গাছ ক্র্যান দিয়ে এনে বুনন করেছিল।বালুগুলোকে মাটিতে রূপান্তর করে শস্য ফলনের উপযোগি করে।মাছের বড়শি নিয়ে বসলাম মাছ ধরতে প্রায় ঘন্টাখানেক পর একটি অচেনা মাছ ছিপে আটকে যায় মিনিমাম দুই থেকে তিন কেজি হবে ।বন্ধুর যেন মাছ ধরা শেষ।সে মাছটিকে সাথে নিয়ে আমি সহ চলে গেলাম তার এক বান্ধবীর বাসায়।মোটামোটি ছিমছাম পরিবেশ আমাদের চৌচালা ঘরের মত চাইনিজ ইটের চালে তৈরীকৃত বাস ভবনটি।বান্ধবীর বাসায় গিয়ে অনেকটা আশ্চান্মিত হলাম।মেয়েটি ছিল এক দিকে দু’হাতের সাথে আর একটি ছোট অকেজু হাত এবং বধির।তবে লেখা পড়ায় ছিল এ ক্লাশ।ওদের মাঝে ভালবাসার কমতি ছিল না মেয়েটি বন্ধুটিকে দেখে হঠাৎ মুখদ্বয়ে ঠোটে ঠোটে আলিঙ্গন।কি আশ্চর্য জলজ্যান্ত (আমি)মানুষের সামনেই এমন ভয়ংকর ভালবাসার আলিঙ্গন!আশ্চর্য্য হলেও সেটাই ওদের কালচার।সেক্সটাকে সে দেশে ফ্রি করে দেয়াতে অপরাধও কম হয়।যেখানে যত নিয়মের কড়াকড়ি সেখানে অপরাধের প্রবনতা বেশী।সিঙ্গাপুর ফ্রি সেক্সের দেশ হলেও প্রকাশ্যে কিছু করা যাবে তবে তা হতে হবে কোন অভিযোগ বিহীন।অভিযোগ পেলে সিঙ্গাপুর পুলিশ তার বাপকেও ছাড়ে না ছাড়েনি এমন সৎ এবং কর্তব্যপরায়ণ পুলিশ বাহিনী অন্য কোন রাষ্ট্রে আছে বলে আমার সন্দেহ হয়।সরকার পুরো বিশ্বটাকে যুবকদের হাতের আঙ্গুলে এনে দিয়েছেন।তো যেই কথাটা বলছিলাম,কিছুক্ষনের মধ্যে আরো একজন মোটামোটি চল্লিশ বছরের কাছা কাছি পুরুষ তার সাথে একজন মেয়ে বলব না মহিলা বলব বুঝতে পারছি না সেও আমাদের সামনে হাজির হয়।পরিচয় করিয়ে দেন তাহারা বন্ধুর লাভারের ভাই ভাবী কিন্তু বিয়ে করেননি।অবাক হওয়ার বিষয় তাই না এটা ওদের কালচার। যত দিন সন্তানাদি না হবে ইচ্ছে করলে তারা বিয়ে না করেও এক সাথে বসবাস করতে পারবেন।

অনেক কথা অনেক আড্ডা হলো তাদের সাথে।খাওয়া দাওয়াও ছিল বেশ উন্নত।যদিও প্রথম দিকে ওদের খাবার খেতে অসুবিদা হতো কিন্তু ধীরে ধীরে তা সহে যায়।রাতে যার যার বেড রুমে চলে গেল ঘুমোতে আমিও অন্য এক রুমে ঘুমোতে গেলাম।ভোর সকালে ঘুম ভাঙ্গে মানুষের কোলাহলে।কি হয়েছে?জানতে পারলাম রাতে বন্ধুর লাভারের যে ভাইটি ছিল সে বিষ পানে আত্ত্ব হত্যা করেছে আর সকাল না হতেই তার ভাইয়ের পাতানো প্রেমিকাকে খুজেঁ পাওয়া যায়নি।মৃত্যুর পূর্বে সে একটি চিরকুটে লিখেছিল,“আমার মৃত্যুর জন্য কেহ দায়ী নয়”

বন্ধুরা এর পর এর শেষ পর্বটি লিখব।

ভালো থাকুন সবাই।ধন্যবাদ।

 

অতৃপ্ত জীবন…প্রবাসী১২

৪৪১জন ৪৪১জন
0 Shares

১০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য