অণুগল্প #বেলা শেষে

জিয়াউল হাসান ২৯ মে ২০১৯, বুধবার, ১১:১৮:১৯পূর্বাহ্ন গল্প ১৫ মন্তব্য

মনু মিয়া উপহারের ব্যাগ হাতে গলির পথ ধরে হেটে যাচ্ছে। একসময় এখান দিয়ে অনেক নৌকা চলতে দেখেছেন। পাশের নালা তখন বড় খাল ছিল।সেখান দিয়ে পরিস্কার পানির স্রোত চলে যেত বুড়িগঙ্গা নদীতে। যৌবনের টগবগে সময় এখানেই কেটে গেছে।জরিনা পাশের ঢোলকলমির জঙ্গলে হাতে হাত রেখে ভালবাসার গান শোনাতো রোজ।
আজ পঞ্চান্নটি বছর পার হয়ে যায়।আজ ভালবাসার জরিনার মেয়ের বিয়ে।সে এসেছে অতিথি হিসেবে। আজ মনু মিয়ার এতো বড় মেয়ে নয়তো ছেলে থাকতো।কাজের তাগিদে মনু বিদেশে পাড়ি জমায়। জরিনার বিয়ে হয়ে যায়।
বিদেশে থেকে জরিনার বিয়ের সংবাদে মনু মিয়ার হৃদয় ভেঙ্গে যায়।ভালবাসার মৃত্যু সহ্য করতে না পেরে সে বিয়েই করেনি।
অনেক বছর পর দেশে ফিরে আসে। তার স্বপ্নের পৃথিবীর মতো আশেপাশের সবকিছুই পরিবর্তন এসেছে। যেন নতুন কোন দেশে চলে এসেছে। হঠাৎ একদিন বাজারে কেউ তার নাম ধরে ডাক দেন।
মনু ভাই,কেমন আছেন?
ভালো আছি,আপনি কেমন আছেন?
মনুর হারিয়ে যাওয়া সেই জরিনা,যাকে চেনার জন্য শুধু চোখ নয় মনের ভেতর থেকে চেহারা ভেসে উঠে। মনু কিছুক্ষণ তার দিকে চেয়ে থাকে।নিজের অজান্তেই কয়েক ফোটা পানি চোখ বেয়ে চলে আসে।
মনু ভাই, অনেক দিন পর দেখা।আগামী শুক্রবার আমার মেয়ের বিয়ে। আপনি ফ্যামিলি নিয়ে চলে আসবেন। সামনের গলিতে আমার বাসা।
মনু মিয়া এটুকুই বলতে পারলো,আসবো।

আজ জরিনার মেয়ের বিয়ে। মনু মিয়া উপহার নিয়ে যাচ্ছে সেখানে,ভালবাসার ডাকে

৫৯৮জন ৪৮৭জন
17 Shares

১৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন