অগ্নিকালে আত্মত্যাগের জ্বলন্ত ইমেজ বাংলার মায়েরা মেয়েরা
অগ্নিকাল (১৯৭১), আত্মত্যাগের জ্বলন্ত ইমেজ বাংলার মায়েরা মেয়েরা     

অগ্নিকাল আজও বিষম তাড়িত করে। বায়ান্ন হতে একাত্তুরের পথ কত যে বাধাবিঘ্নময় বাধার বিন্ধ্যাচলসম ঐতিহাসিক পদযাত্রা সে ইতিহাস আজ যারাই মানুক, না মানু্‌ক, সত্যকে মিথ্যা বানানো যায় না, যাবে না। আজকের বাংলাদেশ রাতারাতি কারও ঘোষণাপাঠে আসেনি। এক ধারাবাহিক সংগ্রামী রক্তাক্ত মুক্তিকামী অনন্য নেতৃত্বের ফসল এই বাংলাদেশ। সে নেতৃত্ব সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি নেতা মহান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। অনেক ভাগ্যের জোরে এ বঙ্গের পরাধীন মানুষ তাঁর বলিষ্ঠ বজ্র নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যেই। সুতরাং আত্মত্যাগের অপর নাম প্রথমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অতঃপর লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা ও লক্ষ মা-বোন, নমস্য শহীদ বুদ্ধিজীবিগণ। রোজই সূর্যোদয়ে এবঙ সূর্যাস্তে তাঁদের হাজার সালাম জানিয়েও স্বাধীনতার ঋণ কোনওদিন শোধ হবার নয়। রোজই হৃদয়ে নমস্যদের প্রতি অগ্নিকালের আত্মত্যাগের মহতি স্মৃতির স্মরণে জ্বালি অন্তর্জলের শ্রদ্ধাঞ্জলি। একাত্তুরের মা-বোনের অজস্র অজানিত রক্তজলের গাথা যাদের শ্রদ্ধাবোধে তাড়িত করেনা তাদের মিথ্যা অপপ্রচার অব্যাহত চলুক, কর্ণপাত না করে আত্মিক আদ্যন্ত শ্রদ্ধার্ঘ্যের সশ্রদ্ধ নিবেদনে সকল মিথ্যে পদদলিত করে জয়োচ্ছ্বাসের গানেগানে স্মৃতিতর্পণে দৃপ্ত তরুণ প্রজন্মের তারুণ্যলাল আবাহনে আমরা জ্বালাবো আলোকবাতি নতুন শিশুর তরে। বাংলাদেশের শিশুরা আর বিভ্রান্ত, দিকভ্রান্ত না হয় যেন তারই জন্য অগ্নিকালের আগুন জ্বালানো চাই। একাত্তুরের চেতনার অগ্নিশিখায় আবারও হৃদয় উস্কে দেয়ানেয়ার এখনই সময়। বাংলার মায়েরা মেয়েরা নতুন শিশুদের শ্রদ্ধায়-ভালোবাসায়-সন্মাননায় দহনের রক্তপাতের অসন্মানের যাতনাময় কালের অন্যায় হতে চিরতরেই গ্লানিমুক্ত হউক। মহান বঙ্গবন্ধু তাদের দিয়েছিলেন বীরাঙ্গনার মর্যাদাময় সন্মান। তারা নিশ্চয় চিরনমস্য মুক্তিযোদ্ধার তুল্য। তাদের অবদান, আত্মত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত না হয়ে যারাই মূর্খ কূপমন্ডুক ধর্মযাজকের অশ্লীলতায় আচ্ছন্ন, ধর্মের নামে অধর্মকারী অসত রাজনীতির চর্চাকারীদের মূলোতপাটনের সময় হয়েছে আজ। অনেক আগের উতসর্গিত কতিপয় পঙক্তি মনে আসছে – “স্মৃতির কসম” শিরোনামে লিখেছিলাম, আজ আবার শেয়ার করছি এইখানে সোনেলা ব্লগে –

প্রিয় জয়, তুমিতো জানোই আজ আর সেই সহজিয়া কাল নেই।

সহজে আসেনা তুচ্ছ লিপিকাও। দূরে কৃষ্ণমেঘ পুড়তে দেখেই –

পোড়াচোখ ভেবেছে আসছে বৃষ্টি সেই –

হায় খরায় হৃদয়মাটি ফেটে চৌচির। সমস্ত ধূধূ ফাটলকাঁপা হাওয়ায়

আকুল মৃতের হাড় বলে যায় – দেখগো পুড়ছি আমরাও।

হ্যাঁ, অগ্নিকালেও তেতেই ছিলো পথ তাই তোমায় পেতেই হুহু আমরাও

“জয়বাংলা” বলে ঝাঁপিয়ে পড়তে দ্বিধাহীন মৃত্যু পরোয়া না করেও।

আহ কতকাল ছুঁইনা তোমায় তাই মুর্খের দঙ্গল মায়ের উঠোনে।

সবুজিয়া মাঠের ঘাসের দিনগুলি রাতগুলি থমথমে।

প্রিয় জয়, তুমিতো জানোই কত বেয়নেট কত গুলির উল্লাসে

কত হৃদিভাঙা মা-বোন-প্রেমিকা পিশাচের সঙ্গী হয়েছে তোমায় পেতে।

আজও সহজখাকি হৃদয়খাকি মিথ্যায় পোড়াচোখে দ্রোহের আগুন জ্বলে।

আজও তোমার তরে কোটি হৃদি যুদ্ধে যেতে পারে বলেই হৃদিও জ্বলে।

প্রিয় জয়, তুমিতো জানোই সাম্প্রদায়িক নয়তো বাংলার দলিত মানুষ।

পিশাচকে পরাজিত করেছিলো এদেশেরই মেয়েমানুষ।

এই মাটি এই ঘাসনদীরক্ত ভোলে না অতীত।

মনে রাখে স্মৃতিবিস্মৃতিমেঘ ধারণাতীত।

মনে রাখে বজ্রবাণী, নেতার তর্জনী।

এদেশের ইতিহাস,মানচিত্র মোটেও কোনও মেজরের ঘোষণায় আসেনি।

তাহলে নতুন যুদ্ধে ভয় কি বাঙালি? ভয় কি অপপ্রচারে?

টেকনাফ হতে তেঁতুলিয়া জানে জয় আমাদেরই, জয় আমাদেরই।

প্রিয় জয়, বীর বাঙালি বীরের জাতি, যদি দিই বীরাঙ্গনায় সন্মান বীরেরই –

যদি বলি- তোমাদের ত্যাগ স্মৃতির অধিক, তোমরাই মুক্তিদিদি সেই –

তখনই গ্লানিমুক্তির অঝোরধারায় হৃদয়ধারা ঝমঝম –

যেন মৃত পাঁজরায় জীবনের ওম- স্বাধীনতার লিপিকাবালিকারা যেন উপশম-

আজ তাহাদের স্মৃতির কসম, স্মৃতির কসম।

(*কিঞ্চিত পরিশোধিত, এখানে লিখতে-লিখতেই*)

২ অক্টোবর ২০১৩ ইং

২৮৪জন ২৮৪জন
0 Shares

২০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য