সোনেলা ব্লগ নিয়ে আমাদের লেখক পাঠক সবারই অসীম উৎসাহ উদ্দীপনা দেখে আমরা যারপরনাই কৃতজ্ঞ। আমরা চাই সোনেলার লেখা বিশ্বব্যাপী পাঠকগন পড়ুন। আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন বর্তমানে সোনেলার লেখা বিশ্বের ৪৩ টি ( এই মুহুর্তে ) দেশের পাঠক  পড়ছেন নিয়মিত। বিশ্বজুড়ে সোনেলার এত এত পাঠক কেন? এর পিছনের কারন হচ্ছে দু’টি –

প্রথমত, সোনেলা সাম্যতায় বিশ্বাসী। এখানে নতুন পুরাতন লেখক বলে কিছু নেই। আমরা নবীন প্রবীণ লেখদের সমানভাবে মুল্যায়ন করি বলেই সোনেলার লেখকগন এতটা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সর্বদা সক্ষম হয়েছে আর হচ্ছে। ব্লগ কর্তৃপক্ষ সকল লেখকেদের প্রত্যেকটি লেখাকে একই মানদণ্ডে বিবেচনা করেন। ফলে ব্লগে প্রকাশিত প্রতিটি লেখাতেই গড়ে ২০ টি মন্তব্য দেখতে পাওয়া যায় যা দেশের অন্য যেকোন বাংলা ব্লগে বিরল।

দ্বিতীয় কারন হচ্ছে, লেখকগনের বিশ্বাস অর্জনে সোনালা ব্লগ সর্বদা সচেষ্ট। যার ফলশ্রুতিতে আমাদের লেখকগণ সোনেলা ব্লগকে তাদের নিজেদের লেখকীয় ভাব প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করেন সবসময়। ব্লগারগণ তাদের মেধা এবং বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এত এত লেখা সোনেলায় প্রকাশ করেন যা সোনেলার প্রতি তাদের সত্যিকারের মমতা ও ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ বটে এবং এটি অস্বীকার করার কোন উপায় আমাদের কারোরাই নেই।

বিশ্বব্যাপী সোনেলার পাঠকদের সাথে আমাদের লেখক ও তার লেখাকে একটি মেলবন্ধনে আবদ্ধ করার লক্ষ্যে সোনেলা ব্লগ কর্তৃপক্ষ প্রতিমাসে প্রকাশিত লেখকদের লেখাগুলি নিয়ে একটি রিভিউ পোষ্ট দেবার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ অক্টোবর মাসে ব্লগে প্রকাশিত যেসব লেখা সর্বাধিক আলোচিত এবং পঠিত হয়েছে সেসব লেখা নিয়ে আলোকপাত করার নিমিত্তেই আজকের এই পোষ্ট।

লেখার মান নির্ণয়ে সেরা লেখা নির্ধারন করা খুব কঠিন একটি কাজ। অনেক কিছু বিবেচনা করতে হয়। আমরা চেষ্টা করছি প্রকাশিত পোষ্ট হতে সর্বোচ্চ মানের লেখা নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা করতে। এটি পাঠকদের মতামতের ভিত্তিতেও হতে পারে, অথবা সোনেলা ব্লগ টিমের বিবেচনায়ও হতে পারে।

অক্টোবর মাসে সোনেলা ব্লগে মোট ৩০১ টি পোষ্ট প্রকাশিত হয়েছে। আজ অক্টোবর মাসে প্রকাশিত পোষ্ট সমূহ থেকে সর্বাধিক আলোচিত ( পঠিত ) ১৬ টি পোষ্ট এখানে তুলে ধরা হলো। যে সমস্ত পোষ্ট ৩০০+ বার পঠিত হয়েছে, সে সমস্ত পোষ্ট সমূহ এই তালিকায় তুলে ধরা হচ্ছে। কারো যদি এমন পোষ্ট থাকে যা ৩০০+ বার পঠিত হয়েছে, কিন্তু ভুলক্রমে এখানে তালিকাভুক্ত করা হয়নি, মন্তব্যে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।

সর্বোচ্চ পঠিত লেখাগুলি ক্রমানুযায়ী দেয়া হলো-

১। মনি কাশফিতা এর লেখা সুসময়ের বন্ধু পোষ্টটি

তিনি লেখায় বলেছেন- একজন সৎবন্ধু হতে পারে তার জীবনের দিকনির্দেশক। কারও সাথে বন্ধুত্ব করার পূর্বে জেনে নেয়া উচিৎ যে, সে কার সাথে বন্ধুত্ব করেছে। এমন কারও সাথে বন্ধুত্ব করা উচিৎ নয় যে, “সুসময়ে অনেকেই বন্ধু বটে হয়, অসময়ে হায় হায় কেউ কারো নয়।”

কথাটি একেবারেই সঠিক। এমন বাস্তবসম্মত অনুভূূতি প্রকাশের জন্য লেখকের অবশ্যই ধন্যবাদ প্রাপ্য।

লেখাটি পঠিত হয়েছে ৪৮৭ বার, প্রাপ্ত মন্তব্য ৩৮ টি।

২। সাবিনা ইয়াসমিন এর সখী তোমায় অভিনন্দন পোষ্টটি।

ব্লগার সাবিনা সোনেলার অন্যতম জনপ্রিয় ব্লগার বন্যা লিপির সোনেলা ব্লগে তার ৫০ তম পোষ্টের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন।

তিনি বন্যা লিপি সম্পর্কে বলেছেন- সোনেলা যখন বিরোধীদের প্রচন্ড আক্রমণের শিকার হয়েছিলো, সেই আক্রমণ থেকে বাদ পড়েননি তিনিও। নিজের বিচক্ষণতার প্রমাণ রেখেছেন ঐ দুঃসময়ে। প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন বিরোধীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে থেকে। অথচ ঐ সময়ে অনেকেই ভুল বুঝে সোনেলা ত্যাগীদের খাতায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে সামান্যতম দ্বিধা করেননি।

তার পঞ্চাশতম পোস্ট পূর্ণ হলো। অর্ধ শততম পোস্টের জন্যে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই প্রিয়মুখ বন্যা লিপিকে। অতি শিগরিই তার লেখা শত থেকে হাজারে পৌঁছাক এই শুভ কামনা।

এমন পোষ্ট নিঃসন্দেহে লেখকদের উৎসাহ বাড়িয়ে দেয়।

লেখাটি পঠিত হয়েছে ৪৪৭ বার, প্রাপ্ত মন্তব্য ৬৯ টি।

৩। মনির হোসেন মমি এর নীলপরী’র সাথে আড্ডা- “সোনেলা ব্লগ”-পরিবার” পোষ্টটি।

ব্লগার মমি আড্ডা পোষ্টে সব অসম্ভবকে সম্ভব করে দেবার জন্য আমাদের আড্ডাবাজ ব্লগারদের কাছে “রূপোর কাঠি সোনার কাঠি” নিয়ে এসেছিলেন, সাথে এনেছিলেন নীলপরীকে।

তিনি বলেছেন – পৃথিবীর শেষপ্রান্ত হতে নীলপরীর জন্য চেয়ার আমদানীকৃত আসনটির বিপরীতমুখী সব আড্ডাবাজ ব্লগাররা অধির আগ্রহে তাকিয়ে আছেন নীল আকাশ প্রান্তে নীলপরীর আগমনে…

আড্ডায় যোগ দেয়া সোনেলা ব্লগের সোনালী ব্লগাররা আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন-কোন দিক দিয়ে আসছেন’ সেই কাঙ্খিত আড্ডাবাজ অতিথী “নীলপরী”। তাছাড়া সবার আগে কে দেখতে পাবেন নীলপরীকে, ফাষ্ট সেকেন্ড থার্ড সেই প্রতিযোগীতায় যেন সবাই মেতে রইলেন।

সোনেলা ব্লগের ব্লগারদের অংশগ্রহনে অন্যতম সফল আড্ডা পোষ্ট ছিলো এটি।

লেখাটি পঠিত হয়েছে ৪৪১ বার, প্রাপ্ত মন্তব্য ১১৪ টি।

৪। তৌহিদ এর লেখা  আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ড- একটি গণতান্ত্রিক দেশে মুক্তমত প্রকাশের অশনিসংকেত! পোষ্টটি।

ব্লগার তৌহিদ সম্প্রতি বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে এই পোষ্ট লিখেছেন।

তিনি বলেছেন- আবরার তার নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেছেন। যদি সেটা অন্যায় হয় তাহলে বলব আমাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হতে চলেছে যা একটি গণতান্ত্রিক দেশে মোটেই কাম্য নয়, হতে পারেনা। আবরারের হত্যাকান্ড যদি ফেসবুক পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে হয় তাহলে ধরে নিচ্ছি ফেসবুকে পোস্ট কারীদের হত্যা এখন স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়াবে অচিরেই। অতীব দেশপ্রেম অনেকেরই মৃত্যুর কারণ হতে পারে কিন্তু!

আমি আশ্চর্য হয়েছি, মর্মাহত হয়েছি। হত্যাকান্ডে জড়িত দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে সুযোগ পাওয়া এসব মেধাবী ছাত্র এরা সবাই, কিন্তু মন-মানসিকতায় এরা কুয়োর ব্যাঙ এর মতই সংকীর্ণমনাই রয়ে গিয়েছে। একজন মানুষ ভিন্ন ধারার রাজনীতি করতেই পারেন। যদি সেটা অন্যায় হয় তার জন্য দেশের আইন আছে প্রশাসন আছে। তাই বলে হত্যাকাণ্ড? এটা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।

তার এমন অনুভূতিকে সম্মান জানাই।

লেখাটি পঠিত হয়েছে ৪২৯ বার, প্রাপ্ত মন্তব্য ৫৪ টি।

৫। সাখিয়ারা আক্তার তন্নীর আবরারকে পোষ্টটি।

ব্লগার তন্নী সোনেলায় এসেই পাঠকদের মাঝে তার নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। এই লেখায় আবরারের অকাল মৃত্যুতে নিজের অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ ভাবনা লিখেছেন। আবরারের মৃত্যুতে তার পরিবারে বাবা মা সবার উপর যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তা যেন আর কোন সন্তানের মৃত্যুতে অন্যকোন পিতামাতার উপর নেমে না আসে এটাই কাম্য। তিনি বলেছেন-

আমার রক্ত জাগে,তবে মস্তিষ্ক শীতল
নদীর মতো সচ্ছ,তাই চুপ থাকি
তবে আমি ভাবি আমার অনাগত সন্তান নিয়ে
যদি আমার রক্তধারা পায়
যদি চিৎকার করে উঠে,
যদি শুকুনের ঘুম ভেঙ্গে যায়
আমি প্রচন্ড ভয় পাই।

লেখাটি পঠিত হয়েছে ৪১৯ বার, প্রাপ্ত মন্তব্য ২৫ টি

এমন আবেগী লেখার জন্য লেখকের ধন্যবাদ প্রাপ্য।

৬। সাবিনা ইয়াসমিন এর অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা স্বপ্ন চাষীকে ………… পোষ্টটি।

ব্লগার সাবিনা এই পোষ্টটি সোনেলার সবার প্রিয় ব্লগার জিসান ভাইকে সোনেলায় তাঁর তিনশত তম পোষ্টের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছিলেন। তিনি বলেছেন-

সে একজন স্বপ্নবাজ। স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে শুধু বাঁচেন, তেমনটি ভাবা কিন্তু ভুল। তার একটি লেখায় পেয়েছি ‘ স্বপ্ন দেখুন, স্বপ্নকে বাস্তব করুন।’ তিনি নিজে স্বপ্ন দেখেন, অন্যকেও স্বপ্ন দেখান। সে স্বপ্ন দেখার আগেই স্বপ্ন-বীজ বপন করেন। নিজের প্রবল ইচ্ছা শক্তিকে পরিনত করেন স্বপ্ন-সারে। বীজ-সার আর অফুরান উদ্যম নিয়ে স্বপ্নকে বাস্তবে নিয়ে আসেন। শুরুটা একাকী করলেও স্বপ্ন পূরণের পর তাতে সামিল করে নেন বন্ধু-শত্রু-চেনা-জানা-অচেনা সব্বাইকে।

তার মুখের হাসি অমলিন। তিনি বিশ্বাস করেন হাসিমুখ সকল শক্তির উৎস। নিজে হাসিমুখে থাকেন, অন্যদের খুশি রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তার কাছ হতে কেউ মন খারাপ নিয়ে ফিরেছে এমন মানুষ বিরল।

এমন চমকপ্রদ লেখা পড়ে পাঠক আনন্দিত হয়েছেন নিশ্চিত।

লেখাটি পঠিত হয়েছে ৪১৮ বার, প্রাপ্ত মন্তব্য ৭৪টি।

৭। তৌহিদ এর সোনেলা ব্লগ হেমন্ত বন্দনা উৎসব পোষ্টটি।

এই পোষ্টে ব্লগার তৌহিদ সোনেলা ব্লগ কতৃপক্ষের পক্ষ থেকে সোনেলার লেখকদের নিয়ে সোনেলা ব্লগে হেমন্ত বন্দনা নামক একটি লেখা উৎসব প্রতিযোগীতার কথা বলেছেন।

তিনি বলেছেন- হেমন্তকাল আমার পছন্দের ঋতু। শুধু আমার কেন, আমারতো মনে হয় প্রত্যেকেই পছন্দ করেন হেমন্তকে। না শীত না গরম হেমন্তের এমন শীতল মিষ্টি বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে যায় সকলের। এই প্রাণ জুড়ানো ঋতুকে স্মরণে রাখতে সোনেলা ব্লগ কর্তৃপক্ষ আপনাদের জন্য হেমন্ত বন্দনা উৎসব শুরু করতে যাচ্ছে। সবাই বসন্ত বন্দনা লিখে আর আমরা লিখবো হেমন্ত বন্দনা। কি দারুণ! তাইনা?

সোনেলার সকল লেখক এবং পাঠক সেখানে অংশগ্রহণ করে উৎসবকে সাফল্যমণ্ডিত করেছেন তা বলাই বাহুল্য। তার ডাকে সাড়া দিয়ে যারা লেখা দিয়েছেন সবারই ধন্যবাদ প্রাপ্য।

আর হেমন্ত নিয়ে যে লেখা উৎসব হতে পারে তার এমন আইডিয়ার জন্য ধন্যবাদ তার অবশ্য প্রাপ্য। আশাকরি তিনি এমন উৎসব সবসময়ই চালু রাখবেন।

লেখাটি পঠিত হয়েছে ৩৯৮ বার, প্রাপ্ত মন্তব্য ৪০ টি

৮। সাবিনা ইয়াসমিন এর হেমন্তের নদী পোষ্টটি।

ব্লগার সাবিনা এই লেখায় কুলকুল করে বয়ে চলা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে হেমন্ত বন্দনা গেয়েছেন । তিনি বলেছেন-

হেমন্ত এলো,
ঝকঝকে আকাশে জ্বলজ্বলে তারার মেলায় চাঁদ হলো তার অতিথি,
হাওয়ায় উড়িয়েছে একমুঠো জ্বোনাকি।

শিউলিতলায় ফুলেদের আসরে আজ মৃদু হিল্লোল,
কার্তিক-বরণ করবে সবাই নিজেদের উজাড় করে।

জোছনার আতিশয্যে ঐশ্বর্যময়ী নদী
বয়ে চলে শান্ত নিবিড়তায়,
নদীর ঘ্রাণে আকুল পথিক স্তব্ধ……

এমন শব্দমালা যার মাথায় ঘুরপাক করে তার একান্ত অনুভূতির কবিতাকে অ-কবিতা বলা কি ঠিক? পাঠক আপনাদের কাছেই প্রশ্ন রেখে গেলাম। ব্লগার সাবিনা অক্টোবর মাস জুড়েই পাঠকদের কাছে নিজের লেখকীয় সত্ত্বাকে তাদের মনে- প্রাণে ধারণ করাতে সক্ষম হয়েছেন। তার চারটি লেখায় ৩০০+ পাঠক, ভাবা যায়! একজন ব্লগারের এটাই পরম প্রাপ্তি। তিনি লেখক হিসেবে আমাদের সবার অনুপ্রেরণা বৈকি!

লেখাটি পঠিত হয়েছে ৩৯৩ বার, প্রাপ্ত মন্তব্য ৩৭ টি

৯। নীরা সাদিয়া এর আমি যখন নতুন ব্লগার ছিলাম পোষ্টটি

ব্লগার নীরা তার লেখায় সোনেলায় নিজের ব্লগিং অভিজ্ঞতা পাঠকের সাথে শেয়ার করেছেন।

তিনি বলেছেন- ব্লগে এসে আমি প্রথম দেখতে পেলাম গঠনমূলক মন্তব্য। সিনিয়র লেখকেরা আমার লেখার প্রশংসার পাশাপাশি খুঁটিনাটি ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে লাগলেন। এতে করে আমার লেখার কাঁচা হাত অল্প অল্প করে পাকতে লাগলো। সেই যে সেদিন থেকে শিখছি, আজও শিখেই চলেছি।

ব্লগটা ঠিক একারণেই ফেসবুক থেকে একটু আলাদা। এখানে একটি লেখা পড়ে তার বিশ্লেষণধর্মী মন্তব্য দিতে হয়। সেক্ষেত্রে আমি যখন যার লেখা পড়ি, একটু মনযোগ নিয়ে পড়ি। তাতে আমি কিছু শিখতেও পারি, যথাযথ মন্তব্যও করতে পারি।

আমার কাছে মনে হয় মন্তব্যের সংখ্যার চেয়ে গুনগত মান বেশি জরুরী। অনেক গুলো ‘নাইশ’ লেখা মন্তব্যের চেয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী মন্তব্য লেখকের জন্য অনেক বেশি উপকারী।

এমন লেখা আমাদের লেখক পাঠক সবার জন্যই উপকারী এবং শিক্ষণীয়।

লেখাটি পঠিত হয়েছে ৩৮১ বার, প্রাপ্ত মন্তব্য ৫২ টি

১০। আরজু মুক্তার বাদশাহ নামদার, একটি জীবন, একটি ইতিহাস পোষ্টটি।

ব্লগার আরজু মুক্তা এই পোস্টে জনপ্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদের “বাদশাহ নামদার” বইটির রিভিউ লিখেছেন। তিনি বলেছেন –

বাদশাহ হুমায়ূন ছিলেন এক বিচিত্র চরিত্রের অধিকারী। যেখানে তিনি সাঁতারই জানেননা, সেখানে সারাজীবন তাঁকে সাঁতরাতে হয়েছে স্রোতের বিপরীতে। তাঁর সময়টা ছিলো অদ্ভুত। সম্রাট বাবরের প্রথম পুত্র হুমায়ূন ছিলেন অলস ও আরামপ্রিয়। সে ঘর দরজা বন্ধ করে একা থাকতে পছন্দ করতো। কিন্তু একাকীত্ব রাজপুরুষদের মানায় না।

পাঠকদের সাথে বইটির পরিচিতি করাতে গিয়ে তিনি আরও বলেছেন – হুমায়ূুন আহমেদ সুচারুভাবে রাজনীতির মারপ্যাঁচ পিছনে রেখে, সফলভাবে বাদশাহ হুমায়ূনকে আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। বাদশাহর বর্ণনাময় ও আড়ম্বরময় জীবন আমাদের উপভোগ্য করে তুলেছে। পাঠক হিসেবে প্রথম থেকে শেষ লাইন এক নিঃশ্বাসে পড়ে মনকে আনন্দ দেবার অতুলনীয় একটি উপন্যাস।

২৩১ পৃষ্ঠার বইটি পড়ে রিভিউ লিখা অনেক কঠিন। তারপরেও চেষ্টা করলাম। এটা পড়ে, ভালো লাগা থেকে যদি বইটা পড়ে দেখেন ; তাহলে আমার লিখাও সার্থক।

আরজু মুক্তা আপনার রিভিউ পড়ে ব্যক্তিগতভাবে আমি খুব আনন্দ পেয়েছি। ভবিষ্যতে এরকম লেখা আরও চাই আপনার কাছ থেকে।

লেখাটি পঠিত হয়েছে ৩৭২ বার, প্রাপ্ত মন্তব্য ৩৫ টি

১১। শাহরিন এর শেখার শিক্ষা প্রয়োজন পোষ্টটি।

ব্লগার শাহরিন তার লেখায় সন্তানকে একটি ভালো স্কুলে ভর্তি করানোর ঝক্কিঝামেলা নিয়ে আলোচনা করেছেন। লেখায় তিনি কিছু স্কুলের কতৃপক্ষের দ্বিচারিতার কথা বলেছেন যা একজন সাধারণ নাগরিকের মোটেই কাম্য এবং প্রাপ্য নয়।

বিভিন্ন বৈষম্যতা তুলে ধরে তিনি বলেছেন- কিছুতেই বাচ্চাকে এমন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করবো না যেখানে শুরুতেই এতো বৈষম্য শিখবে। ভাবতে অবাক লাগে আমরা বাচ্চাদের কি শিখাচ্ছি। আমি চাই আমার সন্তান তার অধিকার সম্পর্কে জানুক। তার সীমার মধ্যে যা যা তার প্রাপ্য সে পাবে। কিন্তু অন্যায় কখনোই করতে দিব না এবং সহ্য করতেও দিব না।

আমাদের নিজেদের আগে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। পরেই পারবো সন্তানদের কিছু শেখাতে। একটি স্কুলে চান্স না পেলে জীবন শেষ না। কোন জায়গায় চান্স না পাওয়া মানে এই না যে আমার সন্তান কিছুই জানেনা৷ বাচ্চাদের প্রতি নিয়ত উৎসাহ দিতে হবে লেখাপড়ার বোঝা নয়। নিজের সম্মান নিজে রক্ষা করা উচিৎ। সেটা ছোট্ট একটি বাচ্চার ঘাড়ে না চাপাই। আমরা প্রতিযোগিতায় অবশ্যই সন্তানকে পাঠাবো তবে প্রথম হওয়ার জন্য নয় নতুন কিছু শেখার জন্য।

আসলে সমাজে বসবাসকারী বেশীরভাগ পিতা মাতাই এমন অবস্থার সম্মুখীন যা কিছুতেই মেনে নেয়া যায়না। নিজের সন্তানকে সবাই ভালো স্কুলে ভর্তি করাতে চায় কিন্তু ভর্তির প্রারম্ভেই এমন দ্বিচারিতা শিক্ষা যেখানে একটি শিশুও পাচ্ছে সেখানে সন্তানকে পড়াশুনা শিক্ষা না করানোই উত্তম।

লেখকের এমন মনোভাবে একজন পাঠক হিসেবে নিজে গর্বিত হচ্ছি। লেখাটির জন্য ধন্যবাদ লেখককের প্রাপ্য।

লেখাটি পঠিত হয়েছে ৩৭২ বার, প্রাপ্ত মন্তব্য ৬৩ টি

১২। মুক্তা মৃণালিনী এর কৃষ্ণচূড়ার হাতছানি-১ পোষ্টটি।

ব্লগার মুক্তা মৃণালিনীর দারুণ একটি ধারাবাহিক গল্পের প্রথম পর্ব এটি। এখানে সোহিনী এবং হাসনাত নামক দুজনের প্রেম-ভালবাসা,দাম্পত্য জীবন,পারিবারিক গল্প কথা, নিজেদের খুনসুটি, আবেগ চমৎকারভাবে ফুটে তুলেছেন মুক্তা।

তিনি গল্পের শুরুতে বলেছেন- চুলায় এক পাতিল চাল ফুটছে,অন্য চুলায় মসুরের ডাল ফুটে চুলার উপরে ডালের হলদে ফেনাগুলাে বারবার গরিয়ে পড়ছে। মুহুর্তেই খচ করে সােহিনীর ডান হাতের মধ্যমা আঙ্গুলটি কেটে গেল ধারাল বটির আঘাতে। সােহিনীর আঙ্গুল থেকে ক্রমাগত রক্ত গড়িয়ে পরছে মেঝেতে। সে খুব জোরে জোরে তার স্বামী হাসনাত সাহেবকে ডাকছেন,“ এই শুনছাে! এই শুনছাে! আমার আঙ্গুল কেটে গেছে!” সােহিনীর চিৎকার শুনে তার স্বামী হাসনাত সাহেব দ্রুত ছুটে এলেন হাতে এক বােতল স্যাভলন,তুলার একটা প্যাকেট আর এক পিছ ওয়ান টাইম প্লাষ্টার নিয়ে। কাটা আঙ্গুল নিয়ে স্ত্রীকে মূর্তির মত দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হাসনাত সাহেব মুচকি হেসে বললেন “ এটা কিছু না, ঠিক হয়ে যাবে। ”

মুক্তা আপনার এমন লেখা আমরা আরো চাই সোনেলায়।

লেখাটি পঠিত হয়েছে ৩৫১ বার, প্রাপ্ত মন্তব্য ২৯ টি

১৩। আরজু মুক্তার হেমন্ত বন্দনা —হেমন্ত এসে গেছে পোষ্টটি।

ব্লগার আরজু মুক্তা এই লেখায় হেমন্ত ঋতুতে প্রকৃতির চিরাচরিত রূপ বর্ণনা করেছেন। লেখক বলেছেন- ছয় ঋতুর বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। সৃষ্টিকর্তা অকৃপণ হাতে ছয়টি বর্ণে, ছয়টি সাজে সজ্জিত করেছেন। এর মাঝে হেমন্ত লাজুক ঋতু।

দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠগুলো সোনালি আলোয় আরও তীব্র হয়। দিগন্তরেখা নীল বর্ণের সাথে মিশে হয় একাকার। ফসলের মাঠ প্রতীক হয় মানুষের আগামীর সম্ভাবনা। বৈষ্ণব পদকর্তা লোচন দাস লিখেছেন,

“অগ্রানে নতুন ধান্য বিলাসে

সর্বসুখ ঘরে প্রভু কি কাজ সন্ন্যাসে।।”

হেমন্ত ঋতুর এমন লেখকীয় বন্দনা প্রশংসার দাবিদার। ধন্যবাদ লেখকের প্রাপ্য।

লেখাটি পঠিত হয়েছে ৩৪২ বার, প্রাপ্ত মন্তব্য ৩৫ টি

১৪। নৃ মাসুদ রানার সমাপ্ত গল্পের অসমাপ্ত পর্ব পোষ্টটি।

ব্লগার মাসুদ রানা সোনেলার নতুন লেখক হিসেবে দারুণভাবে নিজের লেখনশৈলী দিয়ে পাঠকদের মন জয় করেছেন। এই গল্পটি একজন যুবকের রজনী নামক এক মেয়ের প্রেমে পড়ার গল্প, রজনীকে খুঁজতে গিয়ে সাদিয়ার নাম বলা, নায়কের আবেগ, হাসাপাতালের দৃশ্য, এতিমখানার ঘটনা, সবশেষে নায়িকা রজনীর অকাল মৃত্যু গল্পে চমৎকার আবহ তৈরী করেছে।

লেখক হিসেবে ধন্যবাদ আপনার প্রাপ্য মাসুদ।

লেখাটি পঠিত হয়েছে ৩৪১ বার, প্রাপ্ত মন্তব্য ৩৭ টি

১৫। সাবিনা ইয়াসমিন এর হেমন্ত বন্দনা- আবেদন পোষ্টটি।

ব্লগার সাবিনা এই পোস্টে তার প্রিয় মানুষকে নিয়ে লিখেছেন। লিখেছেন তার ইচ্ছের কথা, ভালোবাসার কথা। তিনি লিখেছেন-

আমি তোমার হতে চেয়েছিলাম
বহুদিন-বহুবার,
শুধু তোমার হবো বলেই
নিজেকে রেখেছি অনবদ্য,

আমি তোমায় ভালোবাসতে গড়েছি ভুবন,
তুমি হবে আমার তাই হয়েছি আজ বণ্য ;

আমি ছেড়েছি ঘুম-রাত
তুমি স্বপ্ন হবে জেগে থাকা পলকের,
ভীরু বুকের কাঁপন হতে তুমি,
আসবে প্রতিক্ষণে আমারই হৃদয়ে ;

আমি ভালোবাসতে চেয়েছি শুধু তোমায়,
তুমি হবে কি আমার প্রিয়তম ?

তার এমন আবেগময় লেখা পড়ে পাঠক হৃদয় তৃপ্ত হয়েছে নিশ্চিত।

লেখাটি পঠিত হয়েছে ৩১১ বার, প্রাপ্ত মন্তব্য ৫১ টি

১৬। তৌহিদ এর সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কবলে আবারও বাংলাদেশ! পোষ্টটি।

এই পোষ্টে ব্লগার তৌহিদ সম্প্রতি ভোলা জেলায় আল্লাহ্‌ ও রাসুলকে নিয়ে অবমাননাকর একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনায় কিছু নিরীহ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে সেটি নিয়ে লিখেছেন।

তিনি বলেছেন-ইসলাম শান্তির ধর্ম, যেখানে ৮০ ভাগের বেশি মুসলমানের বসবাস সেখানে সেই মুসলমান কর্তৃক এমন সহিংসতার পেছনে কে বা কারা রয়েছে সেটা ভাবা দরকার বৈকি! তাহলে কি বলা যায় যে বা যারা এসব করছে সেসব প্রত্যেক মানুষের ভিতরে অসাম্প্রদায়িকতা বিরাজ করছে না? পূজামন্ডপে মূর্তি ভাঙচুর করা হয়েছে, কে করেছে? একদল মুসলমান। পবিত্র গ্রন্থ কোরআন পোড়ানো হচ্ছে, কে করেছে? একদল মুসলমান। হিন্দুদের উপর হামলা করছে একদল মুসলমান। দেশে এসব সাম্প্রদায়িক সহিংসতা কেন? কেন আমরা একে অন্যকে তাদের নিজেদের ধর্ম যার যার মতো পালন করতে দেইনা? একজন মুসলমান হয়ে এসব খবরে আমি নিজেই আজ লজ্জিত। ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলামে এমন সহিংসতা করার কথা কোথায় বলা আছে?

সম্প্রীতির মেলবন্ধনে আবদ্ধ বাঙালি জাতির মাঝে যারা ধর্মকে নিয়ে অসাম্প্রদায়িকতায় জড়ায়, সমাজে হিংসা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

এমন পোষ্টের জন্য লেখকের ধন্যবাদ প্রাপ্য।

লেখাটি পঠিত হয়েছে ৩০৯ বার, প্রাপ্ত মন্তব্য ৩৩ টি

পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, সোনেলায় অক্টোবর মাসে প্রকাশিত ৩০২টি লেখার মধ্যে ১৬ টি লেখা সর্বোচ্চ পঠিত ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে। আমাদের লেখকদের মধ্যে চারজন নতুন ব্লগার (মনি কাশফিতা, মুক্তা মৃণালিনী, নৃ মাসুদ রানা, সাখিয়ারা আক্তার তন্নী)’র পোষ্ট স্থান পেয়েছে এবং সর্বোচ্চ পঠিত এই লেখাগুলোর মধ্যে ব্লগার সাবিনার ৪ টি, ব্লগার আরজু মুক্তার ২ টি এবং ব্লগার তৌহিদের ৩ টি লেখা স্থান পেয়েছে।

জেনে রাখুন-

অক্টোবর মাসের সোনেলার আলোচিত লেখাগুলি ৩০০+ বার পঠিত হবার নেপথ্য কারন হচ্ছে- সোনেলার নিজস্ব পাঠক ছাড়াও লেখাগুলি ফেসবুকের পাঠকদের কাছেও পৌঁছতে পেরেছে সোনেলার লিংক ফেসবুকে শেয়ার করার মাধ্যমে।

এটাই সব লেখকদের করা উচিত। লেখার লিংক ফেসবুকে সোনেলা গ্রুপে এবং আপনাদের নিজেদের ওয়ালে শেয়ার করলে আরও বেশি পাঠক লেখাগুলি পড়তে পারেন এটি সবাই মনে রাখবেন।

আমরা চাই সুষ্ঠ ভাবে সেরা ও সর্বোচ্চ পঠিত পোস্ট গুলোর তালিকা প্রকাশ করতে। নিজ লেখা বিনা কারনে একাধিক বার রিফ্রেশ না করার জন্যে ব্লগারদের অনুরোধ করা হচ্ছে। কেউ নিজের পোস্ট রিফ্রেস দিলে আমরা তা ধরতে পারি। নাম প্রকাশ করে ব্লগ কতৃপক্ষ কাউকেই লজ্জা দিতে চায় না। কাজেই নিজেদের সম্মান নিজেরাই রক্ষা করবেন সবাই।  

সর্বাধিক পঠিত পোষ্ট সমূহের ব্লগারগনকে সোনেলা ব্লগ টিমের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। 

আজ আপাতত এতটকুই। নভেম্বর মাসের সর্বাধিক পঠিত পোষ্টসমূহ নিয়ে সোনেলার পক্ষ থেকে আবারো আমরা আসবো। আশাকরি পাশেই থাকবেন। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন।

শুভ ব্লগিং।

৩৭৯জন ৩জন
87 Shares

৫০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য