হোঁচট খাওয়া জীবন

 লিখেছেন on নভেম্বর ৫, ২০১৭ at ২:৩৩ অপরাহ্ন  গল্প  Add comments
নভে. ০৫২০১৭
 

যাকে আমি ভালোবাসি, সে সবে বুয়েটে চান্স পেয়েছে। আর আমি অষ্টম শ্রেণী। অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া কেউ কি প্রেমে পড়ে ? তবে এটাই সত্যি যে, শেষ অবধি আমি প্রেমে পড়েছিলাম, তাঁকে ভীষণভাবে ভালবেসেছিলাম।

সে আমার কাজিন। একটু দূরের। তাঁর মা এবং আমার মা একে অপরের খালাতো বোন। সেই সুবাদে আমরা একে অপরের কাজিন।

আমি ছাত্রী তেমন ভাল নই। একদিন আম্মা তাঁকে বললেন, “বাবা, তোমার তো ক্লাস শুরু হতে এখনও ঢের দেরি। এ কয়টাদিন সায়েন্সের সাবজেক্টগুলো নদীকে যদি একটু দেখিয়ে দিতে, খুব উপকার হতো। এরপর হতে সে নিয়মিত পড়াতে আসতো।

আমি নদী, সে ইমন।
এভাবেই আমাদের গল্পটি শুরু।

একদিন বইয়ের ভাঁজে একটি চিঠি রেখে ইমন বলল, ” আমি যাবার পর এটি পড়বে। কেউ যেন দেখতে না পায়। পড়া শেষে ছিঁড়ে ফেলবে। আর অবশ্যই উত্তর লিখবে। আমি তাঁর কথা রাখিনি। সেটি ছিঁড়ে ফেলিনি, কিংবা উত্তর দেইনি “।

চিঠিটি ছিঁড়ে ফেলা সম্ভব ছিল না। কেননা, জীবনে এই প্রথম কেউ আমায় ভালোবাসার কথা লিখলো। আমি বাথরুমে দরজা বন্ধ করে লুকিয়ে সেটি পড়লাম। প্রবল উত্তেজনায় কাঁপতে কাঁপতে ঘ্রাণ নিলাম। এবং আবারো এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম। এরপর আমি শত সহস্রবার সেটি পড়লাম। ঘুম থেকে উঠে, রাতে ঘুমোতে যাবার আগ অবধি পড়তেই থাকলাম সকলের অগোচরে। আমাকে উদ্দেশ্য করে লেখা প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি লাইন গভীর অনুভবে ছুঁয়ে দেখলাম। একসময় ক্রমশ তেনাতেনা হয়ে আসা চিঠিখানা ভীষণ যত্নে রেখে দিলাম। কিন্তু আমি তাঁকে কোন উত্তর দিলাম না।

ইমন প্রতিদিন পড়াতে আসে।
আমার চোখে চোখ রাখে। আমি দৃষ্টি ফেরাই বইয়ের হরফে। কিংবা আঁকিবুঁকি করি অকারনেই। বুঝেও না বুঝার ভান ধরি। প্রতিউত্তর না পেয়ে শেষে বাধ্য হয়ে একদিন তাঁর ছোটবোনকে দিয়ে বলায়। বোনটি বাক্‌ প্রতিবন্ধী। কিন্তু পারিবারিক গণ্ডির ভেতরের অন্যসব নিকটতম মানুষগুলোর মতন আমি তাঁর সব কথাই বুঝতে পারি। এবং বুঝাতে পারি। আমি তাঁকে কোন উত্তর করিনি, কিংবা হ্যাঁ না সিদ্ধান্ত জানাইনি। আসলে আমি ভালোবাসা প্রকাশ করতে চাইনি পেয়ে হারাবার ভয়ে। নিজের অক্ষমতা একান্তই নিজের ভেতরে সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছি। অন্য কারো সুন্দর জীবনকে, ভবিষ্যতকে অসুন্দর করার কোন অধিকার তো আমার নাই, তাই না ?

একদিন মা এবং নানুর সাথে তাঁদের বাসায় বেড়াতে যাই। গল্প, খাওয়া-দাওয়ার এক ফাঁকে তাঁর বড়বোন বললেন, “ইমন এক্ষুনি চলে আসবে, তুমি বসো “। বুঝলাম, বিষয়টি তিনিও জানেন এবং পরোক্ষ সমর্থন আছে হয়তো।

ইমন এলো। কুশল বিনিময় শেষে রেকর্ড প্লেয়ারে গান ছেড়ে দিয়ে বলল, “আমার খুব পছন্দের একটি গান, শুনো, আমি আসছি “। সে বেরিয়ে গেলো অন্য রুমে অতিথিদের সাথে দেখা করতে। আমি একলা একা টেবিলে রাখা বইগুলো নাড়াচাড়া করছি, উল্টে পাল্টে দেখছি। মূলত আমি তন্ময় হয়ে গান শুনছিলাম__ ভালোবেসে সখী নিভৃত যতনে আমার নামটি লিখো তোমার মনের মন্দিরে…

তাঁদের বিশাল একতলা সৌখিন বাড়ি। বারান্দায় সারি সারি টবে যত্নে লাগানো গাছ। সামনে খোলা বাগান। সেখানে ফুটে আছে নানান রকম দেশী বিদেশী ফুল। ভীষণ সুন্দর এক পরিবেশ। শেষ বিকেলের নিরুত্তাপ আলোয় আমরা হাঁটছিলাম। বাগান জুড়ে সন্ধ্যা নেমে এল। নাম না জানা রকমারি সব ফুলের সুবাস মিলেমিশে একাকার হয়ে বুনো এক সুগন্ধ ছড়াচ্ছিলো।

সেই সন্ধ্যা আর রাত্রির সন্ধিক্ষণে ইমন বলল, ” আমাকে ভাল না লাগার কারণগুলো যদি বলো, বদলে ফেলবো নিজেকে। তোমায় ভালোবেসেই না হয় বদলে যাবো, তোমার মতন করে ঠিক যেমনটি তুমি চাও “।

মনটা আচানক খারাপ হলো।
পৃথিবীর কোন একজন মানুষ আমার জন্য নিজেকে বদলে ফেলতে চায় ! সামান্য আমিও কারো কাছে অসামান্য কেউ ! পৃথিবীর প্রতিটি মেয়েই হয়তো অনেকের কাছে তুচ্ছ হলেও কারো না কারো কাছে অনেক কিছু। তবুও আমি নিশ্চুপ। পরিবারের সকলের আদরের মেধাবী, শান্ত ছেলেটির শিশুসুলভ সরলতায় মুগ্ধ আমি তবুও নির্বাক !

হুম, রাতের অন্ধকারের মতই নিঃশব্দ, নীরব।

কেননা, আমার কিছু অক্ষমতা ছিল। একটি পা’য়ে জটিলতা ছিল। ছোটবেলায় পোলিও রোগের কারনে পা টি স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য ছোট ছিল।। আমি নিশ্চিত জানি, ইমনের পরিবার কখনোই চাইবে না এমন একটি মেয়েকে তাঁদের পুত্রবধু করে নিতে। সামাজিক, পারিবারিক নানাবিধ বাঁধা বিপত্তির সমূহ সম্ভাবনার কথা ভেবে ভেবে আতংকিত, ক্লান্ত আমি প্রচণ্ড শীতের দিনেও ঘেমে যাচ্ছিলাম। মনের সাথে যুদ্ধ করে করে শেষে হেরে যাই। জয় হয় ভালোবাসার।

আমি তাঁকে হ্যাঁ সূচক উত্তর দেই।
আমরা ভালবাসলাম একে অপরকে। তুমুল ভালোবাসার সেই দিনগুলোতে বুয়েটের কোন এক নির্জন হলে বসে চিঠি লিখে ইমন। আর মূল্যবান সেইসব চিঠি মফঃস্বল শহরের ছোট্ট ঘরে বসে আমি পড়ি ভীষণ এক ভালোলাগায়, মায়ায়। একবার, দু’বার, তিনবার, বারবার, অগনিত বার।

জীবনটাকে বড্ড রঙিন মনে হয়। পৃথিবীটাকে স্বর্গ মনে হতে থাকে। স্বর্গ কি এরচেয়েও সুন্দর ? সুন্দরের আর কোন সংজ্ঞা যে আমার জানা নাই !

কিন্তু হায় ! পৃথিবীর সুখগুলো, সুন্দরগুলো এতো ক্ষণস্থায়ী হয় ! এতোটাই ! পৃথিবীর কোন জটিলতাই দেখেনি যে বালিকা, সেই অবুঝ বালিকার সামনে বাস্তবের পৃথিবীর নির্মম, কঠিন, বীভৎস রূপগুলো, ধূসর রঙগুলো খোলস ছড়াতে থাকে।

জানাজানি হয় ইমনের বিত্তশালী পরিবারে। তাঁর মায়ের ভাষাগুলো হয়ে উঠে ভয়ানক। ‘বামুন হয়ে আকাশের চাঁদ ধরতে চাওয়া’ কিংবা ‘তেলের সাথে জল ক্যামনে মিশে’ এমনতর আরো অনেক বিশেষণ। কেউ কেউ সেখানে আগুনে ঘি ঢালার মত করে টিপ্পনী কাটে, ভালোই তো, ল্যংড়া বউ, যত যা-ই বলবেন, বকাঝকা করবেন, মাথা নীচা (নত) কইরা রাখবো। অতঃপর সেই সব মানুষগুলো হা হা হো হো শব্দে তৃপ্তির, তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে উঠে।

প্রচণ্ড দৈন্যতার মাঝেও প্রবল আত্মসন্মানবোধের এই মধ্যবিত্ত আমি হেঁট হয়ে থাকি। দুঃখে, কষ্টে, সংকোচে, অপরাধবোধে মাটির সাথে মিশে যেতে যেতে দম বন্ধ হয়ে আসে। সেই সময় ছোট্ট ঘরের বন্ধ জানালা খুলে বাইরে খোলা বাতাসে বুকভরে শ্বাস নেয়া হয়নি অনেকগুলো দিন। একদিন সেই বন্ধ জানালা খুলে পৃথিবীর মুখোমুখি এসে দাঁড়াই। জানালার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা একলা আকাশের দিকে তাকিয়ে সৃষ্টিকর্তাকে খুঁজি। তাঁকে আমার অনেক প্রশ্ন ছিল, অ-নে-ক।

আমার মা লোকমুখে শোনা সমস্ত কটু কথা নিরবে হজম করে যায়। অশ্রুজলে বুক ভাসায়। কাউকে কিচ্ছুটি বলে না। বলবেই বা কেমন করে ? ঠিকই তো ! মিথ্যে তো আর বলেনি ! উচ্চবিত্ত আর মধ্যবিত্ত তো তেল আর জলই। তাছাড়া এক পা খুঁড়িয়ে হাঁটা অক্ষম কন্যাটি প্রবলভাবে সুস্থ স্বাভাবিক আর মেধাবী ইঞ্জিনিয়ার ছেলেকে ভালোবাসা তো বামুন হয়ে আকাশের চাঁদ ছুঁতে চাওয়া-ই।

আমি বুঝি, ইমন তাঁর পরিবারের কাছে অসহায় ভীষণভাবে। প্রবল উচ্ছ্বাস নিয়ে ভালোবাসার, নির্ভরতার যে হাতটি বাড়িয়েছিল, ক্রমশ তা আলগা হতে থাকলো যেন ! তাঁর অপরাধী মুখ আর অসহায়ত্ব দেখে একদিন বলি,

” বাড়িতে তোমায় অনেক কথা শুনতে হয়, তাই না ?”
সে অপ্রস্তুত হয়ে বলে, “আরে নাহ্‌”

আমি বলি, ” আমি সব বুঝতে পারি। চারিপাশের মানুষগুলোকে বুঝতে পারি। সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত ত্রুটির উপর তো আমার কোন হাত নেই। তুমি তোমার পরিবারকে ভুল বুঝো না।”
ইমন অপরাধী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। কঠিন এক দুঃসময়ের মুখমুখি থেকেও দু’হাত চেপে ধরে আমায় আশ্বস্ত করে এই বলে, “আমি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাসার সবাইকে বুঝাতে চেষ্টা করবো”।

ভাংচুর টাইপের ভালোবাসা হতে সাহসী হতে হয়। ভীষণ সাহসী।
আমরা কেউই পরিবার, সমাজের কথা ভেবে তেমন সাহসী হয়ে উঠতে পারিনি।
আমাদের শক্ত মুঠিতে ধরা হাত একটু একটু করে আলগা হতে থাকলো টাইটানিক ছবির সেই নায়ক-নায়িকার শেষ দৃশ্যের মতন।তবে আমরা তলিয়ে যাইনি। বেঁচে ছিলাম।

একদিন মফঃস্বল শহরের পড়াশুনার পাট চুকিয়ে ঢাকায় ভর্তি হলাম। বাবার হাত ধরে লঞ্চে ঢাকায় এলাম। ভীষণ ঝলমলে কোলাহলমুখর এক শহর। সন্ধ্যার নিয়ন আলোয় অচেনা এক আগন্তকের শহরে প্রবেশের মতোই ছিল আমার আগমন। আমি বিস্ময়ে চারিপাশ দেখি। জনসমুদ্রের ভিড়ে একজন মানুষকে খুঁজে ফিরে আমার অবুঝ বোকা চোখজোড়া।

নতুন শহরে সুখ সুখ এক অনুভূতিতে আমার নির্ঘুম রাত কাটে এই ভেবে যে, একই শহরের আলো-বাতাসে শ্বাস নিচ্ছি আমরা দু’জন। হয়তোবা দেখা হয়ে যাবে কোথাও। স্বপ্নের ঝোলা কাঁধে নিয়ে দেয়াল বেয়ে বেড়ে উঠে আমার মধ্যরাত। রাতের আঁধার মিলিয়ে ভোরের আলো ফোটে। আজান হয়। রাস্তার নেড়ি কুকুরগুলো করুন আর্তনাদে ডেকে উঠে। ধীরে ধীরে ঘুমন্ত শহর আবারো কোলাহলমুখর হয়ে উঠে।

এভাবে দিন, মাস, বছর পেরুলেও আমাদের দেখা হয়ে যায় না কারনে, অকারনে কিংবা ভুল করেও। মনের আকাশ জুড়ে অবুঝ মেঘের কোলাহল। দ্বিধা, দ্বন্দ্ব, আর জড়তার মাঝে একদিন পুরনো নাম্বারে ফোন করি। ওপ্রান্তে চেনা স্বর। কেন যেন অধিকার খাটিয়ে জোর গলায় বলা হয় না, ‘ অনেকদিন দেখা হয় না, এসো একদিন দেখা করি ‘।

শুধু সংকোচে বলি, ‘ আমাদের কি আরেকবার, শেষবার দেখা হতে পারে ? এরপর না হয় আর দেখা হলো না, কোনদিনই দেখা না হলো আর। ‘

ইমন খুব সহজেই রাজি হলো। কবে, কখন, কোথায় জানতে চাইলো। মনে হল, সে বোধ হয় এই ফোনটির অপেক্ষাতেই ছিল এ কয়টি বছর।

আমাদের দেখা হলো।
জন্ম জন্মান্তরের চেনা মানুষটিকে ভীষণ অচেনা মনে হলো। মুখোমুখি বসে আমরা। সে মেঝের দিকে চেয়ে থাকলো। কথাও বলছিল সেদিকে চেয়ে। চোখ তুলে তাকালো না। একি অপরাধ বোধ ? সহজ সরল এক বালিকাকে ভালোবাসার স্বপ্ন দেখিয়ে সমুদ্র পাড়ি দিবে বলে মাঝপথে হাতটুকু ছেড়ে দেবার অপরাধবোধ ? জানিনা।

জানালো, কালই তাঁর ফ্লাইট। স্কলারশীপ নিয়ে জাপান যাচ্ছে।
এ-ও জানালো, সে যেতে চায়নি। পরিবারের চাপে যেতে হচ্ছে। ছোট্ট শ্বাস নিয়ে বলল, ” ষড়যন্ত্র, সব ষড়যন্ত্র “।
যাবার আগে শুধু বলল, ” বলছিনা তুমি আমার জন্যে অপেক্ষায় থেকো, তবে আমি শেষ অবধি চেষ্টা করবো পরিবারকে বোঝাতে”।

সে-ই শেষ দেখা।
কেননা, এরপর আর কোনদিনই দেখা হয়নি আমাদের।

ততদিনে পদ্মা-মেঘনায় অনেক জল গড়ালো। জীবন বহতা নদী। সে নদীর স্রোতধারা ঢেউ খেলে খেলে এগিয়ে চলে সামনে, দূরে, আরও দূরে…

শুনেছি দুই সন্তান নিয়ে পৃথিবীর উন্নত একটি দেশে ইমনের বসবাস।
অন্যদিকে নদীর বসবাস বিশ্বের রাজধানীতে। স্বামী, এক ছেলে, এক মেয়ে, নাতী-নাতনী নিয়ে সুখের সংসার। চারিপাশের অসংখ্য ভালো মানুষ আর তাঁদের ভালোবাসায় ভীষণ সুন্দর তাঁর বেঁচে থাকা। সে লেখে। শব্দ সাজায়। জীবনের গল্পগুলো নিয়ে রচিত শব্দ।

……

একজন লেখিকার কাছ হতে জীবনের গল্প শুনার এ পর্যায়ে একটু বিরতি নিয়ে সাংবাদিক শেষ প্রশ্নটি করেন আজকের সত্তরোর্ধ্ব বয়সের লেখিকা নদী রহমানকে__ আপনার প্রথম প্রেমের মানুষটি দেখতে কেমন ছিল ?

আমি কিছুক্ষন নিশ্চুপ বসে থাকি। মেঝের দিকে চেয়ে থাকি। ভাবি। ফ্ল্যাশব্যাকে যাই। মনে করার চেষ্টা করি। আজ থেকে অনেক বছর আগে শেষবার দেখা হওয়া মানুষটির মুখাবয়ব। মনে করতে পারি না। সেখানে ঝাপসা, ঘোলাটে কুয়াশা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাই না। এই প্রথম কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ভীষণভাবে হোঁচট খাই।

সাংবাদিক আবারো প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “শুনেছি প্রথম প্রেম মানুষ শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ভুলতে পারে না, তবে কি …

আমি কাঁপাকাঁপা হাতে ইশারায় প্রশ্নকর্তা সাংবাদিককে থামিয়ে দিয়ে বলি, ” আমি যদি অতীত আঁকড়ে ধরে রাখি, তবে তো বর্তমানকে ঠকানো হবে। বর্তমানকে ভালবাসতে পারবো না। চারিপাশের অজস্র ভালোগুলো আমাদের হোঁচট খাওয়া জীবন ভুলিয়ে রাখে এমন করেই প্রতিনিয়ত।”

পুনশ্চঃ
প্রতি ফেব্রুয়ারির বইমেলায় একজন লেখিকার আগমন হয় বাংলাদেশ নামক স্বাধীন একটি দেশের কোলাহলমুখর ঝলমলে ঢাকা শহরে। এ আগমন ছোট্ট মফঃস্বল শহরের কোন বালিকার আগমন নয়। এ আগমন পশ্চিমা দেশের সত্তরোর্ধ্ব এক নারীর আগমন। সন্ধ্যার নিয়ন আলোয় বিশাল জনসমুদ্রের ভিড়ে তাঁর দু’চোখ খুঁজে ফিরে সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোকে। যাঁদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় সে সাধ্যমত। সে সেদিনের প্রচণ্ড দৈন্যতার মাঝেও ভীষণ আত্মবিশ্বাসী সেই নারী, নদী রহমান।

  ৫টি মন্তব্য, “হোঁচট খাওয়া জীবন”

    
  1. সেই এলে অ নে ক দিন পর। কত গল্প , স্বপ্ন বানিয়ে কাপিয়ে দিলে আমার সমস্ত স্বপ্ন। জীবনে প্রেম না কি একবার আসে জানান দিয়ে কিংবা নিভৃতে। তবে লেখায় এসেছে জলন্ত প্রমান নিয়ে কাগজে।
    খুব মনে প্রানে দোল দিল আপনার লেখা। সুন্দর উপুস্থাপনা।

  2. 
  3. অনেক দিন পর ব্লগে ঢুকে বেশ ভাল একটা লেখা পড়লাম। মানুষের জীবনের প্রতিটা প্রেমই একটা অপ্রকাশিত গল্প।

  4. 
  5. এই প্রথম তোমার গল্প পড়লাম দিদি ভাই,
    মফস্বলের প্রেমের গল্প একসময় এমনই ছিল- শান্ত, কোমল, প্রেম। গল্পে নদী রহমানকে যেন দেখতে পেলাম।
    ঐ বয়সের এবং সমাজের মানসিক জটিলতা গল্পে ভালভাবেই ফুটিয়ে তুলেছ।

    অনেক অনেক ভাল লেগেছে হোঁচট খাওয়া জীবন।
    ভাল থাকুক এমন নদী রহমানরা।

  6. 
  7. রিমি আপু চমৎকার গল্প লেখো তো তুমি!
    ফেসবুকে পড়েছিলাম, এখানেও পড়লাম। খুউব ভালো লেগেছে।

    অনেক ভালো থাকো।

  8. 
  9. অনেক দিন পর খুব মন ছুঁয়ে যাওয়া একটা গল্প পড়লাম , ধন্যবাদ আপনাকে , আপনার লেখা আমার ভিতরের নিভু নিভু আনন্দ টা কে জাগিয়ে দিল।