সুখ-পাখিটার খোঁজে …

 লিখেছেন on জানুয়ারী ১৪, ২০১৮ at ৭:২১ অপরাহ্ন  একান্ত অনুভূতি  Add comments
জানু. ১৪২০১৮
 

আমার বাসার খুব কাছেই ওয়ালমার্ট, সবকিছুর জন্য আমার আবার সেখানেই যেতে হয় ।
বেশীরভাগ দিন হয়তো বাচ্চাকে স্কুলে ড্রপ করে ওয়ালমার্ট ঘুরে বাজার করে বাসায় চলে আসি।
এই ওয়ালমার্টেই আমার পরিচয় বিউটির সাথে , সে এখানে কাজ করে ।

সকালের টাইমে পুরো সুপার শপটা বেশ ফাঁকা থাকে, বাচ্চাদের সাথে আমাকে বাংলায় কথা বলতে দেখে একদিন নিজের থেকেই পরিচিত হলো।
এরপর প্রায় তাকে দেখতাম, কখনো ভীষণ ব্যাস্ত কাস্টমার সামলাতে, কখনোবা ফুড সেকশনে !
একদিন সুযোগ পেয়ে সে বলে আপু আপনার মোবাইল
নাম্বার-টা কি দেওয়া যাবে, আপনাকে দেখলে ভীষণ আপন মনে হয় ।
আমি না করতে পারলাম না তাকে, মোবাইল নাম্বার টা দিয়ে দিলাম ।
এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিন সে কল দেয় আমাকে নিজের সম্পর্কে বলে ,
ঢাকার ময়মনসিংহ তে তার বাপের বাড়ি।
দুই ভাই দুবোনের ছিমছাম গোছানো সংসার তার মায়ের ।
সবার মাঝে সে দ্বিতীয় জন।
বিউটি বলে ,আপা পড়াশুনা বেশী করতে পারিনি
আমেরিকায় থাকে পাত্র পেয়ে বাবা-মা বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন।
এরপর হাজবেন্ডের সাথে এখানে চলে আসা।

ডিভি লটারী পেয়ে এই দেশে আসা বিউটির স্বামী এই ১০-১২ বছরেও কিছু করতে পারেনি, বরং বিউটিকে দেশ থেকে আনার সাথে সাথে চাকুরিতে ঢুকিয়ে দেয়,সকাল সন্ধ্যা ওয়ালমার্টে কাজ করে সে।
গত তিন বছর আগে একটা মেয়ে সন্তান হওয়ায় বেচারীর কাজের চাপ এখন কিছুটা কমলেও এক বেলায় চাকুরিতে যেতেই হয় ।

প্রথম থেকে তার স্বামী প্রচণ্ড নির্যাতন করতো তার উপরে ,সে বলে সব সহ্য করে যাই শুধু কোথাও যাওয়ার জায়গা নাই তাই ।
আগে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করলেও এখন মানসিক ভাবে বেশী করে ।
উঠতে বসতে শুধু অপমান করা, লেখাপড়া কম করেছি বলে কত কি যে বলে সারাদিন ।

আর যেদিন কোন বাঙালির বাসায় দাওয়াত থাকে তাহলে তো কথাই নেই, বাসায় ফিরে অনবরত খারাপ ব্যাবহার চলতেই থাকে ।
আমি নাকি কিছু পারিনা, সেখানে সবার বউরা কত স্মার্ট আর আমি নাকি পুরাই গেঁয়ো।
ভালো লাগে না আপু ইচ্ছে করে সব ছেড়ে চলে যাই , শুধু বাচ্চাটার জন্য পারিনা ।
আহারে বেচারীর কষ্টের কথা শুনে খুব খারাপ লাগতো আমার , ভীষণ মায়া লাগতো আমাকে আপু বলে ডাকা ছোট বোনটাকে।
এতো হাসি হাসি মুখ কিন্তু বুকের মাঝে পুষে রেখেছে নিজের গোপন কান্না ।

এদেশে বড়দিন এবং নিউ ইয়ারের ছুটিতে ব্যাস্ত সবাই
আজকেও সে আমাকে ফোন দিয়েছিলো, কান্নাভেজা স্বরে জানতে চাইলো, আপু আমি কি করব?

আসলেই, কিই-বা আমি বলতে পারি তাকে, উত্তর-টা আমার নিজের কাছেও যে নেই ।

রাতের আঁধারে শুয়ে ভাবি, আলো ঝলমলে এই শহরেরই
হয়তো কোথাও নীরবে কাঁদছে কেউ সুখ-পাখিটার খোঁজে ।
রাতের নিয়ন আলোর দিকে তাকিয়ে, সেও হয়তো ভাবছে এক দিন সব দুঃখ মুছে যাবে তার ।

কারো কারো কষ্ট চোখে পানি এনে দেয়,
মহান আল্লাহ-পাক যেনো আমাদের সকলকে ভালো রাখেন। ভালো থাকুক সবাই প্রিয়জনদের নিয়ে ।

~ রিফাত নওরিন
আটলান্টা, যুক্তরাষ্ট্র

  ৯টি মন্তব্য, “সুখ-পাখিটার খোঁজে …”

    
  1. আল্লাহ তাঁকে সকল ঝামেলা থেকে মুক্তি দিক। ভাল লাগলো লিখতে থাকুন আপু।

  2. 
  3. প্রিয়জনেরা ভাল থাকুক।লেখায় A+++ -{@

  4. 
  5. মন খারাপ হয়ে গেলো লেখাটি পড়ে,
    গেয়ো, অশিক্ষিত, আনস্মার্ট বলে খোটা দেয় আবার তার আয়েই আয়েশ করে খায়, জীবন ধারন করে। এইসব সাইকোদের কাছ হতে দূরে চলে যাওয়া উচিৎ। সম্ভব হলে বিউটিকে আপনি এই পরামর্শ দিন।
    প্রবাসে ভাল থাকুক সবাই।

  6. 
  7. একদিন ঐ ব্যাটাকে ধরেও মুখ বন্ধ করে উরাধুরা মাইর দিতে হবে। কাউকে বলতে পারবে না যে বউ পিটাইছে। বাচ্চার জন্য অনেকেই অনেক কিছু করতে পারে না। ব্যাথা ভরা জীবনের কথা।