শরীরী অংশ

 লিখেছেন on নভেম্বর ১৮, ২০১৭ at ৫:১৫ অপরাহ্ন  বিবিধ  Add comments
নভে. ১৮২০১৭
 

শরীর যে জীবনের একটা অংশ এটা বুঝতে এতো সময় লাগলো কেন আমার বুঝলাম না।
আমি হয়তো ধরেই নিয়ে ছিলাম আমার শরীরী কোন ভাষা নেই, নির্বোধ এই শরীরটা কে নিয়ে আমি কখনো ভাবতাম ই না আসলে । আমি নিজের অনিয়ন্ত্রিত মন নিয়ে চলতে চলতে একটা সময় খুবই বিরক্ত হইছি কিন্তু শরীর অনেক সময় আমাকে ইংগিত করেছে হয়তো আমি অবুঝের মতই তা অবহেলা করে গিয়েছি । এই অবহেলার শাস্তি শরীর আমাকে কড়ায় গন্ডায় উশুল করে নিলো এই বার। ভয়ানক ভীতু এই আমি জীবনে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিছি যা কোন সুস্থ মানুষ হয়তো কল্পনা ও করতে পারতো না । তারপর ও আমি কিন্তু আজও সেই আগের মত ই ভিতু ই আছি ।
মাঝে মাঝে আমার মাঝে কি যেন বাসা বাধে, কি যেন চায় আমার এই অস্থির চিত্ত, খেয়ালি এই আমি তখন চ্যালেঞ্জ খুজে ফিরি । অথচ এত চ্যালেঞ্জ দিবে কেন জীবন আমাকে ? এই সহজ কথা টা মেনে নিতে পারি না । এই বার শরীর আমাকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বসলো যা বুঝতে আমার সময় লাগলো চার বছর! কেও হয়তো বলবে এই কি রে ভাই এর তো শরীর ও মনের সিস্টেম এ গড়বড় হয়ে গেছে ।
সত্য কথা ই ভাই ও বোনেরা আমার, পুরো সিস্টেম এ ভেজাল আমার । কখন হাসতে হবে আর কখন কাঁদতে হবে আমি বুঝি না, না বুঝে ই এমন কিছু হয়তো বলে ফেলি জন সমক্ষে যে পরবর্তীতে নিজেকেই লজ্জায় পরতে হয় ।
যাই হউক আমি বুঝলাম আমার শরীরী সিস্টেম আমাকে সিগ্নেল দিতেছে কিছু একটা গড় বড় হয়েছে শরীরের অভ্যন্তরে, হাজার রকম শারীরিক সমস্যা দেখা দিল । আমার উপর নির্ভরশীল মানুষ গুলা খুব বিরক্ত হয়ে উঠতে লাগলো ধীরে ধীরে, আমি বেকায়দায় পরতে লাগলাম । আমার পতি দেব এক সময় বলে ই ফেলল যে আমি আমার কর্তব্য অবহেলার জন্য ভাব ধরছি অসুস্থতার । হায় রে প্রিয় মানুষ রে, এই প্রিয় মানুষ গুলা ই জীবনে সব থেকে বেশী অবমাননা করেছে । আজ চার বছর পর যখন আমার শরীরের একটা অংশ বাদ দিতে হইল তখন আমার প্রিয় জন দের টনক নড়লো । আর আমি প্রতিটি মুহুর্ত বুঝতেছি এই শরীরী অংশ টা হারানোর বিচ্ছেদ টা কত টা ভয়াবহ । গভীর রাতে যখন ঘুম টা ভাংগে শরীরের প্রতিটি অনুতে বিনুতে আমি অনুভব করতে থাকি আমার মা, বাবা হারানোর ব্যাথা , আমার চার বছর ধরে দূরে থাকা দুস্ট ছেলে টার ব্যাথা, আমার জীবনে শরীরি অংশ হারানোর ব্যাথা!!!!
একটা গান প্রতি নিয়ত মাথায় ঘুড়তে থাকে,” কারে দেখাব মনের দু:খ গো আমি বুক চিড়িয়া, অন্তরে তুষের অনল জ্বলে রইয়া রইয়া “।

  ১১টি মন্তব্য, “শরীরী অংশ”

    
  1. ভালো লাগলো লেখা। উপলব্দি সকলের মাঝেই বিদ্যমান। উপলব্ধিকে উপলব্দি করতে সময়তো কিছুটা নিবেই। কোনো কিছুর অনুপস্থিতিতেই সেটির মর্ম আমরা উদ্ধার করি। লেখাটি ফুটে উঠেছে।

  2. 
  3. জীবন কখন যে কী দেখায়, আমরা জানিনা। নিজেরাই নিজেদের কাছে রহস্যময় হয়ে থাকি।
    ঠিক বুঝতে পারছিনা কী বলা উচিৎ!
    তবে নিজেকে নিজেই ভালো রাখুন। কেউ কাউকে ভালো থাকতে দেয়না, রাখতে চাইলেও বাধা আসে।

  4. 
  5. শরীররে ভাষা , মনের ভাষা বুঝা অনেক সময় উপলধ্বি করা অনেক সময় হয় না। সেটা দায়িত্ব, অনেক কাজ, করতে করতে সময় ফুরিয়ে যায়। কিন্তু জাদের জন্য করেন বা করা হয় দুঃখের সময় তারাই তিরস্কার করতে ছাড়েনা। এটাই হইত সৃষ্টিকর্তার রহস্য।
    তারপরও এভাবেই জীবন চলে। এভাবেই আমরা চলি।

  6. 
  7. ভিন্ন চিন্তাভাবনায় পরিপূর্ন একটি লেখা পড়লাম,
    ধন্যবাদ আপনাকে এমন লেখার জন্য।

  8. 
  9. কি লিখব ঠিক বুঝছিনা। তবে সত্যটা হল এই পৃথিবী সব সময় ফিট মানুষের পক্ষে থাকে।