আগস্ট ১২২০১৭
 

হঠাৎ করেই ইচ্ছা হলো প্রার্থনালয় ঘুরে দেখব, ইচ্ছেটাকে পূর্ণ করার জন্য একে একে ভিন্নধর্মাবলম্বীদের উপাসানলয়গুলো ঘুরে দেখা শুরু করলাম।
যদিও একটা ধারণা আগে থেকেই ছিল মনে, তবু একটু যাচাই করার প্রয়োজন। মানুষ তার সৃষ্টিকর্তার কাছে কি প্রার্থনা করে? প্রায় সবাই যে জায়গাটাতেই এক সেটা হলো, আমাকে বিপদ দিও না, দুঃখ,কষ্ট দিও না, আমার জীবনটা সুখে শান্তিতে কাটানোর ব্যবস্থা করে দাও।
মনের প্রশ্ন মনে চাপা রাখতে নেই, কথা বলা প্রয়োজন মানুষের সাথে? আচ্ছা আপনি সমগ্র পৃথিবীতে একটা মানুষ দেখান যে কখনো বিপদের মুখমুখি হয়নি কখনো, যার জীবনটা সব সময় সুখেই কেটেছে? এক কথায় সবার উত্তর নেই।
সফলতা কি? আমি কি সফল? এই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন একজন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, উপস্থিত দর্শকের নব্বই শতাংশ সমস্বরে বলে উঠেছিল হ্যাঁ আপনি সফল। হল নিরব হয়ে গেলে আমি বলেছিলাম, সফলতা আপেক্ষিক, ম্যান টু ম্যান এটা ভেরি করে। সফলতা কি এর ডেফিনেশন করা সম্ভব নয়। সত্যি বলছি আপনার কাছে যেটা সফলতা সেটা আমার কাছে নয়, আবার আমার কাছে যা সফলতা আপনার কাছে তা নয়। যেমন নয় মানুষের চাওয়া পাওয়া গুলো। এটাও মানুষ ভেদে ভিন্ন হয়।
যেহেতু একটা মানুষ পাওয়া গেলো না যে জীবনে বিপদের মুখমুখি হয়নি, জীবনে দুঃখ কষ্ট ভোগ করেনি সুতরাং এটা চিরন্তন সত্য যে, মানুষের জীবনে দুঃখকষ্ট আসবেই। আপনি শুধু দিন চাইবেন রাত নিবেন না, আপনি শুধু আলো চাইবেন, অন্ধকার নিবেন না এটা হতে পারে না। নিতে হলে আপনাকে দুটোই নিতে হবে। তাহলে প্রার্থনা করা উচিৎ ছিল, হে প্রভু আমাকে সাহস দাও, ধৈর্য্য দাও বিপদ,দুঃখকষ্টের মোকাবেলা করার। কিন্তু আপনি সেটা করছেন না, কারণ আপনি ভিতু, বিপদ, দুঃখ,কষ্টকে আপনি ভয় পান। আর যারা ভয় পায় তাদের উপরেই সেই ভয়টা কাজ করার সুযোগ পায় বেশি।
আর যারা জীবনকে ভয় পায়, বিপদকে ভয় পায়, যারা মনে করে তারা ব্যর্থ তারা কি করে জানেন? নিজের ব্যর্থতার জন্য অন্যের উপর দোষ চাপায়। বিশেষ করে ভাগ্যের উপর বা পরোক্ষ্য বা প্রতক্ষ্য ভাবে ঈশ্বরের উপর।
একটা গল্প আছে এমন, মানুষ ছোটবেলায় আবদার/দাবী করে বাবার কাছে, আর বাবা সেটা পূরণ করে আর না করলে অভিযোগ সব বাবার বিরুদ্ধে। আর অভিযোগ করার জন্য একটা মাধ্যম চাই, আর সেই মাধ্যমটাও বাবা/মা হয়। কিন্তু মানুষ যত বড় হতে থাকে ততই মাধ্যমটা দূরে সরে যেতে থাকে/নিজেই বুঝতে শিখে এই মাধ্যমের কাছে অভিযোগ করে লাভ নেই। তখন আরেকটা মাধ্যমের সন্ধান করে অভিযোগ করার জন্য, কিন্তু যখন আর কাউকে পায় না তখন ভাগ্যকে বা ঈশ্বরকে মাধ্যম বানায় অভিযোগ করার জন্য। যত অভিযোগ ঈশ্বরের কাছে, বা সব অভিযোগের জন্যই দায়ী ভাগ্য বা ঈশ্বর।
যদি বলা হয়, জগতের নিকৃষ্ট কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম কি? তাহলে আমি বলব, ব্যর্থতার জন্য ভাগ্যকে/ঈশ্বরকে দোষারূপ করা।
ভিন্ন কথা বলি, সব বাঙালির কমন গল্প:
সব ধনী ব্যাক্তি জীবনে অত্যন্ত গরিব ছিল এবং নিরলস পরিশ্রম,ত্যাগ স্বীকার করে তারা ধনী হয়েছে।
অন্যদিকে সব গরিব একটা সময় ধনী ছিল, কিন্তু ভাগ্যক্রমে আজ তারা গরিব হয়ে গেছে।
পরিশ্রম করলেই সফল হওয়া যায় এই ধারণাটা কে জন্ম দিল? জানিনা।
পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি, কিন্তু সেটা কিভাবে? পরিশ্রমটা সঠিক জায়গায়, সঠিক ভাবে করতে হবে, আর সেটা কম বেশি নয়, যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু। সফলতা আপনার হাতে ধরা দিবেই যদি আপনি সঠিক পথ, সঠিক সময়, সঠিক কাজ নির্বাচন করতে পারেন।

  ১৮টি মন্তব্য, “ভাগ্য নয়, নিজের উন্নতি অবনতির জন্য নিজেই দায়ী………….. (মোটিভেশনাল)”

    
  1. যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু। সফলতা আপনার হাতে ধরা দিবেই যদি আপনি সঠিক পথ, সঠিক সময়, সঠিক কাজ নির্বাচন করতে পারেন। এই চিন্তা সবার পক্ষে সব সময় সঠিক চিন্তা বা সিরধান্ত নিতে পারা কম কিন্তু নয় আনিস ভাই, এর জন্য দরকার পরিবারের বা শিক্ষকের বা বন্ধুদের সঙ্গে চিন্তা অথবা সিরধান্ত নেওয়ার একটি মানসিকতা র শক্তি মাথায় প্রবেশের পথ বাত্রিয়ে দিতে দরকার।

      
    • অবশ্যই, সমস্যাটা হলো আমাদের চারিপাশে এত বেশি মানুষ হতাশ যে, কেউ যদি আমাদের মোটিভেটেড করে তবু আমরা হতাশ হয়ে যাই। তারচেয়ে বড় কথা হলো, যে কথা বলছে তার সমালোচনা শুরু করে দেই আমরা এই বলে যে, তুমি কি করেছো? তুমি কে? তুমি কি ইত্যাদি।
      হ্যা এগুলো গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু তারচেয়ে বড় হলো, সে যে কথাগুলো বলছে সেগুলো যদি যুক্তিযুক্ত হয়, এবং তা যদি ভালো হয় তাহলে তার সমালোচনা বন্ধ করে কথাগুলো গ্রহণ করার মানুষিকতা।
      আর বন্ধু,পরিবার বা শিক্ষক খুবই গুরুত্ববহণ করে এই ক্ষেত্রে, তারা অবশ্যই আপনাকে মোটিভেটেড করতে পারবে যতটা আমি বা আমরা পারব তার থেকে বহুগুন বেশি। কিন্তু সেই সক্ষমতটা থাকতে হবে।

  2. 
  3. সরি স্বল্প সময়ে উত্তর দেওয়া পরিপূর্ণ স্মভব হলনা। পরে আসব আনিস ভাই।

  4. 
  5. শুধু পরিশ্রম ই সৌভাগ্যের চাবি হলে । গাঁধা হত বনের রাজা ।

    নিজে না চেষ্টা করলে ঈশ্বর কিছুই করে দেবেন না ।

  6. 
  7. দারুণপর্যবেক্ষণ।ভাগ্য নয় কর্মই সাফল্যের মুল মন্ত্র। -{@

  8. 
  9. দারুণ এক লেখা পড়লাম, শুধু একটা কথা বলি, আল্লাহ্‌ বলেছেন, শুধু তুমি পরিশ্রম করলেই তবে তুমি ফল পাবে, লিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চান, সঠিক সময় ও জায়গাই আপনাকে আপনার শ্রেষ্ঠটা দিতে হবে।

  10. 
  11. ঠিক কখন শুরু করতে হবে পরিশ্রম, এটুকু বুঝার মত জ্ঞান থাকতে হবে,
    সময়, সঠিক কাজ এবং পরিশ্রম – মানুষকে সাফল্য এনে দেবেই,
    আমি নিজেই এর বড় উদাহরন :)

  12. 
  13. চমৎকার একটি লেখা!
    ভাগ্য নয়, বিশ্বাস করা উচিৎ নিজের কর্মে। কারণ “যেমন কর্ম, তেমন ফল!”

  14. 
  15. আমি কিন্তু তোমার লেখা পড়লে খানিক ঈর্ষা বোধ করি। লেখা এমনই হওয়া উচিৎ, শুধু নিজের নয়, সবার জন্য, যা অন্যদেরও ভাবায়।
    শুধু পরিশ্রমই যদি সৌভাগ্যের চাবি হতো, তাহলে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো সবচাইতে ধনী হতো। বুদ্ধি, অর্থের ব্যবহার, সময় সবকিছুকেই সুন্দর ভাবে ম্যানেজ করতে হবে।
    সফলতা ধৈর্য্যের উপরেও নির্ভর করে, যা আমাদের অনেকেরই নেই। ভালোভাবে সফলতার সাথে এগোও আনিছ ভাইয়া।