নিভৃতের গল্প : ১

 লিখেছেন on ফেব্রুয়ারী ৭, ২০১৮ at ১১:১০ অপরাহ্ন  একান্ত অনুভূতি  Add comments
ফেব্রু. ০৭২০১৮
 

নিভৃতের গল্প :
————————————
২০১৬ এর আগস্ট মাসের শুরুর দিকের ঘটনা
তখন ডালাস থেকে আমরা আটলান্টা সবে মাত্র নতুন এলাম।
অ্যাপার্টমেন্ট নিয়েছি আমার হাজবেন্ডের অফিসের কাছাকাছি একটা কমিউনিটিতে।

প্রতিবার বাসা
বদলানোর সময় আসলে আমরা এমন জায়গায় বাসা যেখানে স্কুল রেটিং সবচেয়ে ভালো ।
এই বারো তার ব্যাতিক্রম নেই ।

সেবার কি হলো রাত নয়টায় আমার হাজবেন্ডের শরীর খুব খারাপ হয়ে গেলো, ইমার্জেন্সিতে কাজে লাগে তার ওষুধটাও শেষ হয়ে গিয়েছিলো,
সে বললো রাতভর ব্যাথা সে সহ্য করে যাবে, সকালের ফার্স্ট আওয়ারে গিয়ে নিয়ে আসলে চলবে।
কিন্তু আমার মনটা অস্থির হয়ে উঠল,
ভাবলাম বাসার কাছেই তো ওয়ালমার্ট যাব আর ওষুধটা নিয়ে চলে আসবো।

রাত তখন দশটার একটু বেশী ,
আমাদের এই এলাকায় আফ্রিকান- আমেরিকান বেশী , যদিও আমাদের এলাকায় থাকে না, তবে শপিং মল অথবা বাইরে গেলেই তাদের দেখা যায় ।
সেদিন মামুনের ওষুধটা নেওয়া হলে ভাবলাম বাচ্চাদের জন্য ডিম আর দুধ নিয়ে নিই সকালে
ব্রেকফাস্ট করতে কাজে লাগবে।
যখন আমি গ্রোসারি সেকশনে গেলাম , প্রথমে বুঝে উঠতে পারিনি পরে দেখলাম অনেকক্ষন ধরে এক জন আমাকে ফলো করতেছে ।
যেইদিকে আমি যাই ওই ব্যাটাও সেইদিকে যায় দূর থেকে তাকিয়ে দেখে , এইদিকে তখন আমি হিজাব পরি,
নির্বাচনের জন্য চারিদিকে তখন চলছে উত্তপ্ত বাক্যলাপ, লোকটা নিশ্চয় বুঝতে পেরেছিলো আমি কোন ধর্মের।
আমার তো হঠাৎ ভয় করতে লাগলো, এমনিতেও রাত হওয়ায় মানুষজন অনেক কম এখন স্টোরে।

পরে আর কিছু না কিনে তাড়াতাড়ি চেকআউট করে দৌড়ে গাড়িতে এসে উঠলাম, এতক্ষণে যেনো আমি স্বস্তি বোধ করলাম ।

রেসিজম শব্দটা এতোকাল শুনে এসেছি, আমি
নিজের ক্ষেত্রেও সেবারই প্রথমবার অনুভব
করলাম।
এই রকম ঘটনা আমার সাথে আরও কয়েকবার হয়ছিলো, আমি তো রীতিমতো ভয় পাওয়া শুরু করলাম আফ্রিকান-আমেরিকানদের দেখে ।
চাঁদেরও যেমন উল্টোদিক থাকে, আমেরিকারও প্রবলেম হলো এই রেসিজম ।

এমনিতে এই শহরটা আমার ভীষণ পছন্দের।
“তবুও স্বপ্নময় শহরের সবকিছু হয়তো কখনোই স্বপ্নময় হয়না”।

আমরা ভিনদেশি যারা এখানে চলতে গিয়ে টুকটাক এইসব এখন আমাদের গা সওয়া হয়ে গিয়েছে।
ভালো খারাপ তো সবার মাঝেই আছে , কিন্তু
অবাক হয়ে গেলাম যখন আমি হিজাব পরা বন্ধ করে দিলাম তখন আর এই সমস্যায় পরতে হয়নি আমাকে ।
তাহলে কি বলবো আর দোষটা কার…?

আমাদের প্রবাসী জীবনটা বেছে নেই সন্তানদের সুন্দর একটা ভবিষ্যতের জন্য ,
ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়েও আমরা মেনে নেই
আমাদের অনিচ্ছাগুলো ।
বুকের মধ্যে পুষে রাখা কষ্টগুলোকে ছাড়িয়ে
ব্যাস্ত রাখি নিজেদের ।
আহারে জীবন … ।

~ রিফাত নওরিন,
আটলান্টা ( যুক্তরাষ্ট্র )

 

 

  ৫টি মন্তব্য, “নিভৃতের গল্প : ১”

    
  1. কোথায় জানি নাড়া দিয়ে গেলো লেখাটা!

  2. 
  3. Kকোথাও শান্তি ত্রিপ্তিতে বসবাসের উপায় নায়।

  4. 
  5. ইসলাম ধর্মটা আজ বহিবিশ্বের কাটা।ভিন দেশে আমিও থেকেছি বহু বছর শান্তি নেই যতটুকু শান্তি এই মাটির মমতায় আমার জন্মভুমি বাংলাদেশে।এ দেশে ভিন দেশীরা আরো বেশী নিরাপদ ও সহযোগিতা পান।লেখাটা চমৎকার সন্তানের ভালর জন্য পিতা মাতার কত কিছুতেই না ত্যাগ করতে হয়!
    মনে রেখো হে আমাদের সন্তানেরা -{@ তোমাদের জন্য সব সময় শুভ কামনা -{@

  6. 
  7. লেখাটি পড়ে চমকে উঠলাম, রেসিজম, ভয়ংকর বিষয়, এই রেসিজমের শিকার হয়ে অনেকের বুক খালি হয়েছে, একটা কথা বলি আপু কিন্তু মনে করবেননা আমি নাস্তিক, আমি নিজে মুসলিম এবং আল্লাহ্‌র প্রতি আমার ঈমান ধীর, যা বলছিলাম, আমি মনে করি ধর্ম মানুষের জন্য, মানুষ ধর্মের জন্য নয়, এই কথাটি বললাম এই জন্য যে হিজাব পরা আমার কাছে কখনোই সুন্দর মনে হয়নি, এরচেয়ে ভালো যেই দেশ সেই বেশই আমার কাছে উৎকৃষ্ট মনে হয়েছে, এর অর্থ এই নয় যে উশৃংখল কাপড় পরা কখনোই কাম্য নয়, এইভাবেই রেসিজম থেকে রেহাই পেলে সমস্যা আমি দেখিনা।

  8. 
  9. নিজের এবং পরিবারের দিকে খেয়াল রাখবেন। প্রবাস জীবনে এমন কিছু সমস্যা আসবেই, বুদ্ধিমত্তা বিচক্ষনতা দিয়ে তা মোকাবেলা করবেন।
    ভালো থাকুন প্রবাসে সারাক্ষণ।