ধর্মের চিরকুট

 লিখেছেন on জুন ১২, ২০১৭ at ৫:৪৫ পূর্বাহ্ন  বিবিধ, সমসাময়িক  Add comments
জুন ১২২০১৭
 

ছোটবেলার স্কুলে বসে মাঝে মাঝে বইয়ের ফাঁকে ছোট ছোট চিরকুট পেতাম। বা কোন বান্ধবী জোড করে পকেটে একটা কাগজের টুকরা ঢুকিয়ে দিত। সেই কাগজের টুকরার আল্লাহর নিরানব্বই নাম বা হাদিসের কোন কথা লেখা থাকতো।এবং শেষে লেখা থাকতো আরও দশ জনের কাছে এই লেখা পৌছে দাও নইলে তোমার বিপদ হবে। তখন ছোট ছিলাম বিপদের ভয়ে কষ্ট করে দশ পাতা লিখে দশ জনকেই দেয়ার চেষ্টা করতাম। একটু বড় হওয়ার পর আরবী শেখার সময় হুজুররা বিভিন্ন রকম হাদিস শুনাতো, যা বলতো তাই মানতাম। নিজে হাদিসের বই পডে দেখতাম না। পুরোপুরি যখন বড় হলাম জানার আগ্রহে তখন একটু একটু করে হাদিসের বই পড়া শুরু করলাম। মাস তিনেক বি, এর ইসলামি শিক্ষা ক্লাশ করেছিলাম। ঐ ক্লাশ করার পরেই বুঝতে পারলাম ছোট খাট হাদিসের যে বই থেকে বা হুজুরদের কাছে যে হাদিস শিখেছিলাম তার অনেকটাই ভুল ছিল।
ছোট একটা উদাহরণ দেই । হুজুররা বলেছে ওজু করে ছেলেদের মুখ দেখলে ওজু ভেংগে যায়। এই কথার কোন ভিত্তিই নেই। ইসলামের নিয়ম অনুসারে যে কয়টা কারনে ওজু ভাংগে তা যদি না ঘটে তবে কিছুতেই ওজু ভাংবেনা। হ্যা তবে পরপুরুষকে মুখ দেখানোর জন্য আমার গুনাহ হবে।
আয়তনের দিক দিয়ে পৃথিবীর সবচাইতে বড় ইসলামিক দেশ ইন্দোনেশিয়া। দীর্ঘ ছয় বছরে থাকা কালীন সময়ে ইসলাম নিয়ে কোন বাড়াবাডি দেখিনি ওখানে। আনুমানিক আমি চারটা বিয়ের অনুষ্টানে গিয়ে দেখেছি বিয়ের আগেই কণে দুই , তিন মাসের প্রেগনেন্ট। এ নিয়ে কারো কোন উচ্চবাচ্য নেই । ইমাম এসে কোন ফতোয়াও দিচ্ছে না। আমাদের দেশে এমনটা ভাবা যায় ? প্রায় ইন্দোনেশিয়ানরাই নামায পডে। যার ইচ্ছা সে হিজাব করে যার ইচ্ছা সে করে না । প্রত্যেকটা এডিয়াতেই একটা মসজিদ আছে । ইন্দোনেশিয়ান ইমামদের মত এত ভদ্র ইমাম আমি পৃথিবীর কোথাও দেখিনি। সবাই এডুকেটেড ইমাম । কোট টাই আর ইন্দোনেশিয়ান ট্র্যাডিশনাল টুপি পডে যে কোন অনুষ্টানে এনারা এটেন্ড করে।

আমার মেয়ের যখন জন্ম হয়, হাসপাতাল থেকে জানতে চাওয়া হোল আমি মেয়ের খাৎনা করাবো কিনা ? আমিতো শুনে আকাশ থেকে পড়লাম । যাইহোক পডে ইমামকে জিজ্ঞেস করাতে তিনি বললেল এটা ইসলামের নিয়ম। অথচ বাংলাদেশে এর কোন প্রচলন নেই । মেয়ের স্কুলে বসে গল্প করছি মালেশিয়ান, তামিল মুসলিম এবং মিশরের বাচ্চাদের মায়ের সাথে। কথার এক পর্যায়ে খাৎনা প্রসংগ চলে এল। ইসলামে মেয়েদের খাৎনার ব্যাপারে এই তিন মায়ের কাছে আমি কোনঠাসা হয়ে পড়লাম । তাদের দেশে এই রীতি আছে,আমাদের দেশে কেন এই রীতি নেই তার মানে আমাদের দেশে শিক্ষিত কোন হুজুর বা মাওলানা নেই। আজ পর্যন্ত এই সমস্যার আমি কোন সুরাহা পাইনি। ইসলামের রীতি,হাদিস সব দেশেই এক হওয়া উচিত বিশেষ করে ফরয এবং সুন্নত। তবে দেশে দেশে এই ভিন্নতা কেন?
এক কলিগের ওয়াইফ পুরোপুরি ইসলামের নিয়ম মেনে চলে কোন পরপুরুষের সাথে দেখা দেয় না। একদিন তিনি আমাকে হিজাব করার, বেনামাযির হাতে বা ঘরে খাবার না খাওয়া বা ব্যাংকে ইন্টারেষ্ট না খাওয়ার উপদেশ দিলেন । কথা গুলো ভাল লাগছিল শুনতে কিন্তু সমস্যা হোল কোনটা রেখে কোনটা মানি। আমরা যে সমাজে বাস করি তাতে কি পুরোপুরি ইসলামের রীতি মানা যায়? সুদ খেয়ে ইবাদত করলে বা বেনামাযির হাতে রান্না খেলে ইবাদাত কবুল হয় না। আচ্ছা স্বামী সরকারি চাকরি করে তাকে সরকার মাসে মাসে যে বেতনটা দেয় তাতো সরকারের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে পাওয়া সুদের টাকা থেকে দেয়া হয় তাহলে আমার ইবাদত কবুল হবে না। ঘরে আমি নামায পডি কিন্তু দাওয়াতে, কারো বাসায় যখন আমি যাই বা কোন অনুষ্ঠানে দাওয়াত খাই সেই বাসার হোস্ট বা অনুষ্ঠানের বাবুরচি যে নামায পডে তার নিশ্চয়তা কি?এইসব জায়গায় কিন্তু হুজুররা বা ইমামরাও খায় তাডা তো জেনেশুনে খাচ্ছে । তার মানে তাদের ইবাদত কবুল হচ্ছে না? বেশী কথা আর নাই বলি।

যা দিয়ে শুরু করেছিলাম। কতদিন যাবত আমার ইনবক্সে হাদিস ওয়ালা কিছু মেসেজ আসছে এবং সেই ছোটবেলার মত লেখা আছে বিশ জনের কাছে এই মেসেজ না পাঠালে আমার বিরাট ক্ষতি সহ আরো অনেক কিছু হবে। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার যারা এসব পাঠাচ্ছে তাডা একাডেমিক শিক্ষিত অথচ মানুষিক ভাবে পুরোপুরি অশিক্ষিত। কারন অর্ধ শিক্ষিত হুজুরদের কাছ থেকে তাডা যা শিখেছে তাই তাডা ধারন করে আছে। তাই ঐসব ম্যাসেজ আমার কাছে পাঠাচ্ছে। নিজেরা আগ্রহ করে কখনও একটা সঠিক হাদিসের বই পডে দেখে নাই।
সিংগাপুরে রমজান মাসে বাংলাদেশি হুজুরদের খুব ভীড দেখা যায়। প্রত্যেকটা বাংলাদেশি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তারা মসজিদ, মাদ্রাসা এতিম খানার নামে হাজার হাজার ডলার চাঁদা তোলে। এই টাকা আদৌ কি তাডা মাদ্রাসা বা এতিম খানায় বিতরন করে? খোজ নিলে দেখা যাবে বেশীরভাগ টাকাই হুজুরদের পেটে চালান হয়ে যায়। ইসলামের দৃষ্টিতে যা হারাম। আর আমরা হারাম খাওয়া ঐসব হুজুরদের পিছে দাডিয়ে নামায পডছি। তাডা মন গড়া যা হাদিস কপচাচ্ছে তাই আমরা সাধু সাধু বলে গ্রহন করছি।
কারন আমাদের উপায় নাই। আমাদের হাত-পা এইসব ধর্ম ব্যাবসায়ীরা ধর্মের কাছে বেধে রেখেছে।

আমি দুষ্টমির ছলে সব সময় একটা কথাবলি এই ডিজিটাল যুগে একজন ডিজিটাল নবীর অবতরন দরকার ছিল। কারন পরিপূর্ন ভাবে ইসলামি রীতি পালন করে এই সভ্য সমাজে বাস করা সম্ভব না । ধর্মের সব রীতি পালন করতে হলে আমাদের জংগলে গিয়ে বাস করতে হবে।
ধর্ম নিয়ে আজকাল আমাদের দেশে যে বাড়াবাডি হচ্ছে এবং ভিন্ন দেশে ভিন্ন রীতি দেখে আমি যারপর নাই আশ্চর্য্য হয়েছি। এসবের উপর অত্যান্ত বিরক্ত হয়ে কিছু কথা না বলে পারছিনা। আমি পাচ ওয়াক্ত নামায পডি, রোজা রাখি ,পারলে নফল রোজা করি, রমজান মাসে আল-কোরআন এক খতম দেয়ার চেষ্টা করি। বিপদে না পডলে মিথ্যা বলি না। ভুলেও মানুষের ক্ষতি করি না। আমি ধার্মিক নই তবে ধর্ম ভীরু। হিজাব পডি না। হিজাব পডে বেহাল্লাপানা করাকে ঘৃনা করি। সুতরাং ধর্মের কি করলে আমার পূর্ন হবে আর না করলে পাপ হবে তা কারো কাছ থেকে আমার শিখতে হবে না। আমার সন্তানদের ধর্মের সঠিক রীতিনিতি শেখানোর জন্য আমিই যথেষ্ঠ।
ব্যাস আমার কাছে এই আমার ধর্ম । এতে যদি কারো গা জ্বালা করে তবে বাংলাদেশে অনেক নদী আছে সেখানে ডুবে সব জ্বলুনির অবসান করুন।

  ২৫টি মন্তব্য, “ধর্মের চিরকুট”

    
  1. মিষ্টি আপু দারুণ লিখেছো। আমার কাছেও আসে আরবীতে লেখা এমন, বলা হয় বিশজনকে পাঠিয়ে দিলে যা চাইবো সেটাই সঙ্গে সঙ্গে পাবো। তা নইলে বিশাল ক্ষতি হবে। শুধু কি তাই? মা দুর্গা কিংবা কালীর ছবি সম্বলিত বিভিন্ন লেখা আসে, লেখা থাকে আমি যদি এড়িয়ে যাই তাহলে মারাত্মক ক্ষতি হবে। একেবারে প্রথমদিকে ফেসবুকে আমিও পাঠিয়ে দিতাম। এখন আর ওসব চেয়েও দেখিনা। কারণ আমি বিশ্বাস করি সৃষ্টিকর্তাকে।

  2. 
  3. চিরকুটেও এমন করে লিখে দিতো সবাইকে দেয়ার জন্য? সেটা ডিজিটাল হয়ে এখন মেসেজ আকারে আসে। আর দেখো মানুষকে ভয় পাইয়ে কিভাবে এরা ধর্ম ব্যবসা করে। না পাঠালে বিশাল ক্ষতি হবে, আজব। মেসেজ পেয়েছি এমন অনেক, কাউকে সেন্ড করিনি।
    আপু আরবীতে তোতা পাখির মতো মুখস্থ করা হাফেজী দিয়ে কি করে ধর্মের প্রচারণা হয়? এডুকেটেড হলে এরাই পারতো ধর্মের নামে এতো খুন বন্ধ করতে। এরাই পারতো বোঝাতে যেসময়ে কোরআন নাজিল হয়েছে সেই সময়টা ভিন্ন ছিলো, এখনকার সময়ে সেই শব্দের পর শব্দ মেনে চললে তুমি পাথরে পাথর ঠোকার দিনেই পড়ে থাকছো। দেখিতো এখানে মসজিদেও দুই তিনদল হয়ে যেতে বেশি টাইম লাগেনা।
    নানান বিষয়ে ঝগড়া বিবাদের সুযোগ করে দিয়েছে এ ধর্ম, পরিষ্কার কোন ব্যাখ্যা প্রদান না করে।
    লিখলে তো লিখলে একেবারে ছক্কা, মাঠের বাইরে। দারুন।

      
    • হ্যা শূন্য চিরকুটে এমন লেখা খুব আসতো ছোটবেলায় । লেখার ভয়ে অনেকসময় খুলে দেখতাম না , ফেলে দিতাম।
      আপু আমি অনেক গুলো মুসলিম দেশে গিয়েছি থেকেছি কিন্তু কোথাও আমাদের দেশের মত এত বাড়াবাডি দেখিনি। মুসলিম দেশ গুলোতে ধর্মের রীতিনিতি নিয়ে যখন কোন ব্যাপারে প্রশ্ন উঠে তখন বিশিষ্ট মুসলিম দেশগুলো এক হয়ে তা আলোচনায় বসে যার ফলশ্রূতিতে আল- আজহার ইউনিভার্সিটি বছর পাচেক আগে রোজা অবস্হায় ইনসুলিন নেয়াটাকে এপ্রুভ করেছে।
      আর আমাদের দেশের অশিক্ষিত হুজুরা ধর্মকে কঠিন থেকে কঠিনতর করে মানুষের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে।
      আপু এ নিয়ে লিখে শেষ করা যাবে না।
      বেশি লিখলে না বুঝে বলবে ঐ মহিলা নাস্তিক ।
      বল মাঠের বাইরে গেলে তো ফাউল
      :p:p
      ভাল থেকো আপু
      ধন্যবাদ

  4. 
  5. সবথেকে ভালো উপায় এর তার কথা না শুনে অর্থ ও ব্যাখ্যা সহ কুরআন পড়ে নিলে। তাতে অন্যের দ্বারা বিভ্রান্ত হবার সম্ভাবনা কম।

      
    • আপু আল – কোরআন নিয়ে সমস্যা হয়না । সমস্যা হয় হোল হাদিস নিয়ে। যে যা পারতেছে হাদিসেকেল তার নিজের মত রুপ দিয়ে আমাদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। সুন্নি শিয়া সমস্যা তো আছেই
      তার উপর আঁছে মাজহাব নিয়ে সমস্যা। এক এক মাজহাবে এক এক রকম রীতি।
      ধন্যবাদ আপু।

  6. 
  7. এ সব ভুয়া চিরকুটের কথা বাদ্দিয়া আসল চিডির কথা কইয়া ফালান!!
    তবে দেখবেন রোজা যেন হাল্কা না হয়!!

  8. 
  9. ফেবুকে এমনি একটি পোষ্ট করেছিলাম যা বিভিন্ন লোক থেকে ইনবকসে ম্যাসেজ আসে যা খুবই বাজে ভাবে আমাকে দেখে আমাকে ভাবেন আমি কোন ধর্মের।েখাটিতে তেমন কিছুই ছিল শুধু বলেছিলাম যারা আমাদের টাকায় চলে তারা কি আর ইসলামের ভাল পথ দেখাবে।হেফাজত তেমনি একটি দল।আমার দেশের মুসলমানদের ভাব দেখলে মনে হয় এরাই একমাত্র ইসলামের রক্ষক আমি বলেছিলাম কোরান হাদিসে কোথাও বলা নেই যে আমাদের বলা হয়েছে ইসলামকে রক্ষা করো তবে এটা আছে যে ইসলামকে স্রষ্টা নিজেই রক্ষা করবেন।
    অথচ এর দোহাই দিয়ে ওরা কেবলি সমাজে বিশৃংখলা সৃষ্টি করে।
    লেখাটা চমৎকার হয়েছে। -{@

  10. 
  11. আমিও এমন মেসেজ পাই, আমি অবশ্য তাদের কথা একেবারে অমান্য করিনা,
    পাঠাই একজনকে, যে আমাকে পাঠিয়েছে তাকে।
    সাথে লেখি , এই নে তোকেই পাঠালাম মেসেজ, আর লাত্থি দিয়া তোকে ফ্রেন্ড লিস্ট থেকে বিদায় দিলাম।

    আমাদের দেশে জোর করে আমাকে বেহেশতে পাঠাবে, আরে বাবা আমি কি দচু? ধর্ম কি আমি বুঝি না?
    ধর্ম শিখতে হবে নোয়াখাইল্যা হুজুরদের কাছ থেকে?

    আমাদের হুজুররা তাদের স্বার্থ মত হাদিসকে পরিবর্তন করে দেয়,
    উচিৎ কথায় এরা নীরব থাকে।

    মেয়েদের খাতনা প্রথা একটি অমানবিক প্রথা,
    এটি নারীদের অধিকারকে অবমূল্যায়ন করে নারীদের সুধু ভোগের উপকরন হিসেবে তৈরী করে।

    অনেক ভাল একটি পোষ্ট দিলেন, এমন পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
    শুভ কামনা।

      
    • একজন শিক্ষিত মানুষকে একজন অর্ধ শিক্ষিত মাওলানা ধর্ম শিখায় এরচেয়ে দূর্ভোগ আর কি হতে পারে?
      যেই আপনি হুজুরদের ভুল ধরতে যাবেন অমনি আপনি নাস্তিক হয়ে যাবেন। পুরুষরা যাও প্রতিবাদ করার অধিকার রাখে মেয়েদের তো সেই অধিকারই দেয়া হয়নি।
      এই খাৎনা প্রথা সত্যি অমানবিক ।আফ্রিকায় এটা হয়। কিন্তু আমি জানিনা কিছু মুসলিম দেশ কিসের ভিত্তিতে এই প্রথা চালুকরেছে।
      আপনাকেও ধন্যবাদ ভাইঁয়া । ভালথাকবেন।

  12. 
  13. চমৎকার করে লিখেছো তো আপু!
    শোনো, যে সব মহিলা আমাকে এমন হাদিস শুনাতে আসে তাকে এখন বসিয়ে আমিও চচমৎকার হাদিস মেরে দেই। আমার উপরের তলায় এক ইন্জিনিয়ারের ওয়াই আছে। সেই পর্দানশীল। মৃত্যু চিন্তায় সে সংসারের সমস্ত কাজকর্ম ছছেড়ে দিছে। বাচ্চাদের পড়াতেও তার এখন ইচ্ছে করে না। অথচ একটা দোয়া দুরুদ ভালমতো পারে না। স্বামী একটা আস্ত ঘুষখোর। এখনি তার দুইটা বাড়ি। এগুলানরে জুতা দিয়ে পিটাইতে ইচ্ছে করে আমার।
    আমি একসময় দুই বাসার চাপে বোরখা পরতাম। আমার দুই বাসার মানুষ সেই হাদিস মানে। কিন্তু দুনিয়ার সমালোচনা প্রিয়। আমার ভাসুর ও জা কারো সামনেই যায় না অথচ কায়দা করে আমার রুমগুলো দখল করছে। এগুলোই আস্ত শয়তানের হাড্ডি।
    আর ইসলামের নিয়ম আসলেই আমরা সবগুলো কতোটুকুই বা জানি।
    তুমি ঠিকই বলেছো একজন নারীরও দরকার ছিল এই ডিজিটাল যুগে।
    অনেক চমৎকার সাবলিল ভাবে পোষ্টটি লিখেছো। ভাল থেকো আপু।

      
    • এই হুজরাইন মহিলারা আমাকে যে কত হাদিস শুনাতে এসেছে তা বলে শেষ করতে পারবো না। আমি যেহেতু স্মাটলি চলাফেরা করি তাই এদের ধারনা আমি ধর্ম কর্ম করিনা বা কিছুই জানি না ধর্মের । উল্টা যখন এদের হাদিস শুনিয়ে দেই তখন বলে আপনি এত কিছু জানেন হিজাব করেন না কেন? বলি মনে আমার হিজাব আঁছে তাই শুধু মাথায় হিজাব দেয়া প্রয়োজন মনে করি না।
      আপু এই সভ্য যুগে পুরো পুরি ইসলামের নিয়ম মানা যাবে না, সব মানলে জংগলে গিয়ে বাস করতে হবে।
      যেটুক সম্ভব সেটুকু করার চেষ্টা করি।
      ধন্যবাদ আপু ।ভাল থেকো। ভালবাসা জেনো।

  14. 
  15. আপু এইরকম মেসেজ আসতো মানি না। আমি আড্ডা তে এসব আলোচনা করতাম একপরে মত আসত বাংলায় লেখা বুখারি সহ অনেক বই আছে পড়ে নিয়া মানতে হবে হুজুর হুজুর করে লাভ নায়। তাই বুখারি শরিফ বাঁ অন্যান্য হাদিস বই সংরক্ষন করি এবং পড়ি । কারও কোথায় বেশি মাথা ঘামায় না।
    কান নিয়েছে চিলে তাই চিলের পিছে ঘুরছি করে লাভ নায়। এই সব মোল্লা হুজুর থেকে দূরে থায় ভাল।
    সুন্দর একটি পোষ্ট ।
    ধন্যবাদ আপু।

  16. 
  17. আপু এইসব মেসেজে মেসেজে বিরক্ত হয়ে যারা পাঠাচ্ছে তাদেরই উল্টা ধ্যাতানি দিচ্ছি, ডিজিটাল যুগেও এইসব দেখে মেজাজ খিচড়ে যায়।

  18. 
  19. আমাদের জ্ঞানের স্বল্পতাই ওদের ধর্ম ব্যাবসার প্রধান উপকরণ ।

    ধর্ম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান ধর্মীয় বই গুলো থেকে নিতে হবে । এক্ষেত্রে কারও মুখের কথায় আস্হা না রাখাই ভালো ।

    পোস্টের জন্য ধন্যবাদ

  20. 
  21. এইসব ম্যাসেজ যারা পাঠায়, তারা মানসিকভাবে অশিক্ষিত, কথাটা একদম ঠিক। তাছাড়া সকল নিয়ম যে সঠিক তাও আমার মনে হয় না। মেয়েদের খৎনা করার কোন হাদীস বা কোরআনের বানী আমার জানা নেই। কখনো শুনিনি। হতে পারে এটা জাল হাদীস,আমি শিওর নই। তবে ছেলেদেরটা সুন্নত। এখন আমাদের সমস্যা হল, আমরা ফরজের চিন্তা বাদ দিয়ে নফলের চিন্তা করি বেশি। তার জন্যই শর্টকাট ওয়েতে আশা পূরণ করতে চাই, এসব ম্যাসেজ লোকজনকে পাঠাই। বোকার স্বর্গে বাস করি।
    এক বার জেনেছিলাম এগুলো ইহুদীদের ষড়যন্ত্র। তারা চায় ইসলামিক এসব সূরা আমরা একে অন্যকে পাঠাই আশা পূরণের আশায়, বিশ্বাস করে। তারপর যখন অাশা পূরণ হবে না, তখন ইসলাম ধর্মের ওপর থেকে আমাদের বিশ্বাস উঠে যাক। এটাই তারা চায়, তাই এসব আজাইরা বিষয়ের অবতারণা করে।

    এবার এগুলো যারা বিশ্বাস করে তারা সত্যিই মানসিক ভাবে অশিক্ষিত এবং বিরক্তি উদ্রেক করে।
    আর এসব এক ম্যাসেজ অনেককে পাঠালে ফেবু সেটাকে জাঙ্ক ম্যাসেজ হিসেকে ধরে নেয়। তারপর যে পাঠায় তার আইডিতেও প্রবলেম হতে পারে।

    সুতরাং সকলে সাবধান থাকতে পারেন।

  22. 
  23. আমরা ছোট বেলায় সেই ৮০ দশকেও এসব পেতাম। অতিরিক্ত পূর্নের আশায় হঁয় এসব করে মানুষ । যাকে পাঠাচ্ছে সে যে বিরক্ত হতে পারে তা ভেবে দেখে না।
    মেয়েদের খাৎনা আমাদের দেশে প্রচলন নাই কিন্তু বিশ্বের কয়েকটা মুসলিম দেশে এর প্রচলন আছে। এবং আমি নিজে এটা হতেও দেখেছি। তারাও বলে এটা সুন্নত। তাদের হাদিসে আছে।
    এখানেই আমি কনফিউজ্ড ।
    জানিনা কোনটা সঠিক কোনটা ভুল।
    ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।