জীবন যুদ্ধ ৬-ষ্ঠ পর্ব

 লিখেছেন on অক্টোবর ১০, ২০১৭ at ১০:১২ পূর্বাহ্ন  বিবিধ  Add comments
অক্টো. ১০২০১৭
 

মা চলে গেলে নাবিল রেডি হয়ে নিজেকে আয়নায় দেখলো। ভাবছে বাসায় ফেরার সময় চুল কাটিয়ে আসবে। চুল তো ঘাড়ের নিচ পর্যন্ত এসেছে বাবা বড় চুল পছন্দ করে না কিন্তু নাবিলের খুব পছন্দ কিন্তু বাবাকে খুশি করতে হলেও কাটা উচিৎ ভাবতে ভাবতেই নাবিল নিচে নেমে এলো। এসে দেখে বাইকের বায়ার গেতের সামনে বসে দারোয়ানের সাথে কথা বলছে। নাবিলকে দেখেই সালাম দিয়ে হাত বারিয়ে হ্যান্ডশেখ করেই বললো বাইক আমার খুব পছন্দ হয়েছে কিন্তু ১লাখ টাকার বেশি দিতে পাড়বো না কিন্তু নাবিল বলে দিয়েছিলো ১লাখ ৫০ হাজার দিতে পারলে দেখতে আসবেন্না পারলে আসার-ও দরকার নেই। লোকটা কথা শুনেনি। মেজাজ চটা সত্যেও নাবিল কিছু বললো না কারণ নাবিল নিজেকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টায় ব্রত।
– ভাই বাইকটা ২০০ সিসি মোডিফাই করে ৩২০ করা আছে।
– ১.৫ লাখের কমে দিতে পাড়বো না ভাই বলেই বাইকে উঠে স্টার্ট দিলো।
– একটু দাড়ান ভাই ১.২০ এখন দেই বাকিটা কালকে দিয়ে দিবো ঠিক আছে ভাই? আসলে বাইকটা অনেক পছন্দ হয়েছে যেভাবে সাজিয়েছেন দেখে মনেই হয় না এটা সেকেন্ড হ্যান্ড আমার জন্য।
– আচ্ছা দিন তাহলে ১.২০ এখন।
– বায়ার বের করে দিয়ে চাবি চাইলো।
– নাবিল টাকাটা ব্যাগে রাখতে রাখতে বললো কালকে বাকি ৩০ হাজার দিয়ে চাবি ও বাইক দুটোই নিয়ে যায়েন ঠিক আছে?
উনাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে নাবিল স্কুলের দিকে চলে গেলো।
– বায়ার এসে দারোয়ানকে জিজ্ঞাসা করলো বাইক সহীহ সালামতে পাবো তো নাকি টাকা নিয়ে পালাবে?
এ কথা শুনে দারোয়ান দিলো এক ধমক এবং বললো বাহিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন আমাগো নাবিল স্যার কারো জিনিস মাইরা খাইছে কিনা? কারো লগে বাটবারি করছে কিনা? মিয়া আপনের ভাগ্য ভাল অন্য মানুষের সামনে কন নাই কইলে বুঝতেন কত ধানে কত চাল। যান মিয়া কালকে আইসা বাকি টাকা দিয়া বাইক নিয়া যাইয়েন। আর একটা কথা অন্যের এলাকায় আসার আগে ওই এলাকা সম্পর্কে যাইনা তারপরে ঢুকবেন নাইলে অতি শীঘ্রই বিপদে পরবেন। এহন যান গা বলেই দারোয়ান এক খিলি পান মুখে দিয়ে অন্যদিকে ঘুরে বসে রইলো।
নাবিল স্কুলে এসে দেখে দুটো রুমে ক্লাশ হচ্ছে। তাই চুপ চাপ অফিস রুমে চলে গেলো কাউকে কিছু না বলেই। কিন্তু বাইকের শব্দ পেয়েই সবাই একটু পরে ছুটে এলো অফিস রুমে। বাচ্চারে নাবিল কে অনেক ভাল বাসে। সেই সাথে ম্যাডাম, কেয়ারটেকার আর দারোয়ান রা ও। সবাই এলে কুশল বিনিময় করে সবাইকে চকোলেট দিয়ে বললো ইফতারের সময় খাবি ঠিক আছে? যা এখন ক্লাশে যা। সবাই চলে গেলে বড় ম্যাডামের হাতে ১ লাখ টাকা দিয়ে বললো স্কুলে যা যা দরকার কিনে নিবেন ঈদের পরে। যদি কিছু লাগে জানাবেন। আপনাদের কারো কাছে ফোন নেই তাই এই ফোন টা নিয়ে এলাম অফিসে রাখবেন। পার্সোনালি না রাখাই ভাল। কোনো দরকারে আমাকে বা তাজ কে কল দিবেন নাম্বার সেভ করা আছে। আমিও মাঝে মাঝে কল দিয়ে খোজ নেবো। নেক্সট কবে আসি ঠিক নাই তবে তাড়াতড়ি আসছি না। বাচ্চাদের বলবেন না মন খারাপ করে থাকবে। নিজেদের যত্ন নিবেন বাচ্চাদের খেয়াল রাখবেন।
– আচ্ছা বাবা চিন্তা করো না সব ঠিক মতই হবে যেভাবে বলছো সেভাবে হবে।
– ফাইবের ১০ জনের এবার বৃত্তি দেবার কথা প্রিপারেশন কেমন?
– জ্বী বাবা আশা করি সবাই বৃত্তি পাবে সেভাবেই তৈরী করছি আমরা। তুমি শুধু প্রাইমারী স্কুলে কথা বলে রেখো।
– ওটা নিয়ে চিন্তা করবেন না আমি সব ব্যবস্থা করে রেখেছি। ঈদের পরে আপনাকে নিয়ে পরিচয় করিয়ে দিয়ে আসবো ঠিক আছে তক্ষণ থেকে আপনি ই সব সামলাতে পারবেন সমস্যা নাই। আজ তাহলে আসছি। ভাল থাকবেন।
– আচ্ছা বাবা সাবধানে থেকো।
নাবিল বেরিয়ে সোজা সেলুনে গেলো। সাধারণত নাবিল সেলুনে যায় না। নাপিতের দরকার হলে কল দিয়ে বাসায় নিয়ে আসে তারপর শেভ করা বা চুল সাইজ করা সব বাসায় ই করে।
হঠাৎ নাবিলে কে দেখে সেলুনের কর্মচারী ও কাস্টমার সবাই উঠে সালাম দিলো কুসল বিনিময় করলো। এমন সময় সুজন সেলুনে এসে দেখে নাবিল বলা। অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলো ভাই আপনি আমার দোকানে? কল করলে ই তো আমি চলে যেতাম।
সেলুনের মালিক সুজন। কর্মচারী আছে ৬ জন। যখন দোকান শুরু করে তক্ষণ সে নিজেই কাজ করতো কর্মচারী রাখার পর সে কাজ করে না নতুনদের ট্রেনিং দেয়। কিন্তু নাবিলের চুল কাটা শেভ করা সব সুজন ই করে।
– সুজন স্পাইক করে দে!
– ভাই এত সুন্দর চুক কেটে ফেলবেন? এক দিন কি মাইর টাই না দিছিলেন ঘাড়ের একটু উপর পর্যন্ত কাটছিলাম দেখাই।
– রাগ করছিলি আমার উপর? আমারে মারতে মন চায় তর ?
– কিজে কন না ভাই? আমি কমলাপুর রেল লাইনে টোকাই আছিলাম। ওইখান থিকা আমারে নিয়া আসছেন। এই দোকান কইরা দিছেন আমারে থাকার যায়গা দিছেন আর আমি আপনের উপরে মন খারাপ করমু? আপনারে মারনের চিন্তা করা ও পাপ এর চেয়ে মইরা যাওয়া ভাল।
– বাদ দে। আয় স্পাইক কইরা দে। সুন্দর কইরা কাটবি ঠিক আছে?
– জ্বী ভাই চিন্তা কইরেন না। আমি স্পাইক স্পেশালিষ্ট হা হা হা…
চুল কেটে নাবিল বাসায় এসে অনেকক্ষণ সময় নিয়ে গোসল করলো। গোসল শেষে গা মোছতে-মোস্তে চিন্তা করতেছে আজ ২৭ রমজানের রাত তারাবীহর শেষে রাত টা থেকে যাবে মসজিদে। মাদ্রাসার ছাত্রদের সাথে সেহেরী করে ফজরের নামাজ শেষে বাসায় আসবে। রাতে সময় পেলে তাজের সাথে কিছুক্ষণ থাকবে।
এমন সময় মা ঘরে এসে নাবিল কে জিজ্ঞাসা করলো রাতে কি বাহিরে থাকবি বাবা ?
– হ্যা মা মসজিদেই থাকবো। মাদ্রাসার ছাত্রদের সাথে সেহেরীহ করে ফজরের নামাজ পড়ে বাসায় আসবো। চিন্তা করো না মা।
– আচ্ছা বাবা সাবধানে থাকিস সব সময়। বাবা একটা কথা বলতাম
– জী মা বলো।
– উম্মম্ম কাঞ্চনকে ফোনেকার সাথে যেন কথা বলতে শুনলাম। বলছিলো আজ রাতে বের করার দায়িত্ব আমার আর মারার দায়িত্ব তোমাদের। আমি পাশে যেতেই ফোন রেখে অন্যদিকে চলে গেল। আমার খুব ভয় হচ্ছে বাবা। এ প্ল্যান তোর জন্য নয় তো?
– যদিও ছেলেটা বেশি সুবিধার না, হীরাদের সাথে চলে তার পড়েও ও আমার চাচাত ভাই, এমন কি করবে আমার সাথে?আমি তো ওর কোনো ক্ষতি করি নাই মা!
– ছেলেটার মতি গতি ভাল না বাবা। আজ বাসায় থাকলে হয় না বাবা ?
– আজকের পর তোমার এই ছেলে রাত ৮ টার পরে বাহিরে যাবে না মা, সব কিছু গুছিয়ে নিয়েছে। সব দায়িত্ব সবাইকে বুঝিয়ে দিয়েছে। রাত টা মসজিতে ই কাঁটাতে চাচ্ছিলাম। তাজ কে তো চিন ও আমার সাথে আছে ১২ টা পর্যন্ত তারপর কিছুক্ষন নফল নামাজ পড়ে ঘুমাবো। সকালে সেহেরীহ করে নামাজ পড়েই চলে আসবো মা।
– তারপরেও সাবধানে থাকিস বাবা। আমার খুব ভয় হচ্ছে। কোনো অবস্থাতেই ফোন অফ করবি না।
– নামাজের সময় ফোন তো সাইলেন্ট রাখি মা। ভাইব্রেশন ও দেই না ডিস্টার্ব হয়।
– আচ্ছা সাইলেন্ট রাখিস কিন্তু প্রতি ঘন্টায় চেক করবি। কল দিবি আমাকে। আমিও কল দিবো দেখলে রিসিভ করবি না দেখলে যখন দেখবি কল দিবি ঠিক আছে ?
– আচ্ছা মা চিন্তা করো না।

গল্পের সকল স্থান, নাম ও চরিত্র কাল্পনিক কিন্তু গ্রাম-বাংলার পরিপ্রেক্ষিতে অতি সাধারণ ঘটনা, কারো সাথে মিলে গেলে নিজ গুণে ক্ষমা করবেন”
চলবে…

  ৫টি মন্তব্য, “জীবন যুদ্ধ ৬-ষ্ঠ পর্ব”

    
  1. 
  2. নিয়মিত লিখছো দেখে বেশ ভাল লাগছে।
    লেখা নিজের মনের তাগিদে হয়, লিখতে লিখতে একসময় নেশা হয়ে যায়।
    আমরা কেবল নিজের জন্য বাঁচি না, সমাজকে আমাদের দেয়ার আছে অনেক কিছু।
    লেখা লেখি সমাজের প্রতি একটি বড় দায়িত্ব, যা আমাদের পালন করা উচিৎ।

    গল্প ভাল হচ্ছে।