জীবন যুদ্ধ ১৪-তম পর্ব

 লিখেছেন on ডিসেম্বর ৬, ২০১৭ at ৯:৪৯ পূর্বাহ্ন  গল্প  Add comments
ডিসে. ০৬২০১৭
 

বাসায় কলিংবেলের শব্দ হতেই পণ্ডিত স্যার দরজা খুলে দিলেন। কি নাবিল কোথায় ছিলি সারা দিন?
– ওয়াও কাচ্চির কি সুবাস। বুবাইয়ের রান্নার জবাব নেই। আহা খুধা লেগে গেলো।
– আসলে স্যার কাল তো বাসায় যাবো তাই নিজের জন্য কিছু কেনা কাটা করতে ছিলাম।
– ভাল করেছিস নাবিল। পরীক্ষায় নতুন জামাকাপড় পরে গেলে মন ফুরফুরে থাকে। পরীক্ষা দিতেও ভাল লাগে।
– হুম সেজন্যই তো কেনা কাটা করলাম।তোমরা বসো আমি ফ্রেস হয়ে আসছি। ডিনার করে হৃদি আর নাবিলা কে দিয়ে আসবো আমি আর স্যার মিলে ঠিক আছে স্যার। কথার ফাকে হৃদি কেক টা ফ্রিজে রেখে আসছে কেউ খেয়াল ই করেনি।
– আচ্ছা যা তোরা ফ্রেশ হয়ে নে। আমি টেবিলে খাবার দিচ্ছি।
সবাই ফ্রেশ হয়ে এলে বুবাই বেরে দিতে লাগলো। নাবিল তোকে আমি খাইয়ে দেই বুবাই জিজ্ঞাসা করলো।
এ কথা শুনে হৃদিতা হেসে বললো দামড়া ছেলে কে তার মা খাইয়ে দিতে চাইছে!!
– দেখ হৃদিতা আমার ছেলেকে আমি খাইয়ে দিবো তুমি হাসছো কেন? জেলাস? মনে চাইলে আসো তোমাকেও খাইয়ে দেই। কোনো কথা না বলে ঘার কয়া কতে হৃদি এগিয়ে এলে মাথায় গাট্টা মেরে নাবিল জিজ্ঞেস করলো কিরে দামড়া ছেলেরে খাইয়ে দিতে চাইলো বলে হাসছিস আর তুই যে এক মেয়ের মা হয়েও এগিয়ে এলি বুবাইয়ের হাতে খাওার জন্য এ কিছু না? পাজি সেমরি যা সর এখান থেকে।
টেবিল থেকে হাক ছেরে পণ্ডিত স্যার জিজ্ঞেস করলো প্রায় ১২ টা বাজতে চলছে তোরা কি ঝগড়া করবি নাকি এখন খাবি হু ?
– হুম চল তোদের খাইয়ে দিচ্ছি। একই প্লেটে তুমিও এক সাথে খেয়ে নাও বুবাই।

সবার খাওয়া হলে নাবিল লাইট অফ করে দিলো আর হৃদি কেক নিয়ে এল মোম জ্বালিয়ে দিলো।
এটা দেখে বুবাই পণ্ডিত স্যার কে বলে উঠলো কি গো ঠাকুর বলে ছিলাম না আমার ছেলে ভুলে নাই। ওরা ফ্রেস হবার সময় ও বলে ছিলে হয়তো ভুলে গেছে।
সবাই হা হা করে হেসে উঠলো। জ্বলদি কেক কেটে হৃদি পাঞ্জাবী আর শাড়ি প্যাকেট টা বুবাইয়ের হাতে দিয়ে বললো দুজনে চেইঞ্জ করে আসেন আপনাদের ছেলের চয়েজ। বাধ্য ছেলে-মেয়ের মত চেইঞ্জ করতে চলে গেল। এই ফাকে নাবিল ফোন দুটোতে সিম কার্ড নাগিয়ে নিলো। ফেভ করে দিলো পরিচিত সবার নাম্বার।
নতুন শাড়ি আর পাঞ্জাবীতে দু’জন কে অপূর্ব লাগছে নাবিল বললো। চল তোমাদের আবার বিয়ে দিয়ে দেই হা হা হা। হাসি ঠাট্টা করে সবাই অনেক ছবি তুললো। শেষে নাবিল পকেট থেকে ফোন দুটো বের করে বুবাইয়ের হাতে একটা ও স্যারের হাতে একটা দিয়ে বললো এটা কোনো গিফট না ছেলের সাথে যোগাযোগ করার মাধ্যম। বুবাই জ্বরিয়ে ধরে কেঁদে দিলো। নাবিল খেয়াল করেছে স্যারের চোখ ও লাল ও ঝাপসা। প্রসঙ্গ পালটে হৃদি বললো এখন চলেন আমাকে দিয়ে আসেন। নাবিলাও ঘুমোচ্ছে। বুবাই বললো আমিও যাবো। আচ্ছা বুবাই চলো সমস্যা নেই।
ড্রাইভার গাড়ি স্যারের বাসায় রেখে চাবি নাবিল কে দিয়ে গিয়েছিলো। কারন রেন্ট এ কার থেকে নাবিল এক সপ্তাহের জন্য ভাড়া নিয়েছে এবং স্পেশাল রিকোয়েস্ট ছিলো গাড়ি ২৪ ঘন্টা নাবিলের সাথে ই থাকবে যেহেতু নাবিল ড্রাইভিং জানে।
গাড়ি বের করে নাবিল হৃদিকে নাবিয়ে দিয়ে এসে খেয়াল করলো রুমটা বেশ গুছানো এবং কাপড় সব ভাজ করে। বুবাই এসে বললো তোর কষ্ট হবে তাই আমি ই করে রেখেছিলাম তোরা যখন বের হয়েছিলি। আচ্ছা বলতো নাবিল এত খরচ করলি কেন আমাদের জন্য? ফোন দুটো ও তো দেখে কম দামি মনে হচ্ছে না। আমার ক্যামেরা ও আছে। এত খ্রচ করার মানে হয়? তাছাড়া আমি তো সব সময় বাসায় ই থাকি একটা কিনলে ই পারতি তাই না?
– ওহহো বুবাই কি শুরু করলে পছন্দ হয়নি ফোন? আমার ভাল লেগেছে তাই দিয়েছি না ভাল লাগলে কি আর করা ফেলে দাও হুম্ম।
– আমি তাই বললাম?
– আচ্ছা বাদ দাও বুবাই পাশে বসো একটু কিছু কথা বলি।
– এখন কোনো কথা না রাত হয়েছে অনেক এখন ঘুমাও সকালে কথা হবে।
– আচ্ছা তাহলে সকালেই কথা বলবো। তমরা ও ঘুমাও। আফ ফোন দুইটারেই চার্জে লাগিয়ে ঘুমিও কেমন?
– আচ্ছা তুই আয় চার্জার লাগিয়ে দিয়ে যা। আমি বুঝি না। যদি না পাড়ি!!
– আচ্ছা আসছি বুবাই বলে নাবিল চার্জার লাগিয়ে দিয়ে আসলো।
পরদিন সকালে নাবিল নাস্তা করে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে এলো নিজের বাড়িতে। বাসায় আগেই জানিয়ে দিয়েছিলো নাবিল তাই মা রুমটা সুন্দর করে গুছিয়ে রেখেছে।
কোনো দিকে মন নেই নাবিল পড়াশুনায় ব্যস্ত। দিন রাত পরিশ্রম করে নাওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে শুধু পরীক্ষার চিন্তা। দেখতে দেখতে পরীক্ষা শেষ হলো ভাল মতই এখন রেজাল্টের অপেক্ষা। নাবিলের একটাই চিন্তা জিপিএ ৪.৫০ থাকলেই হয়। আশা ও করে থাকবে।
পরীক্ষার রেজাল্ট দিবে ৯০ দিন পরে এই তিন মাস কিছু একটা করা দরকার। বসে থাকলে চলবে না। নিজ দায়িত্বে পাসপোর্ট বানায় আই ই এল টি এস এর প্রিপারেশন নেয়। ফেসবুকেও আইডি খুলেছে নিজেকে ব্যস্ত রাখার জন্য।
আই ই এল টি এস এর পরীক্ষার রুটিন চলে এল দেখে তো নাবিল পুরাই থ! পরীক্ষা পরবি-পর এইস এস সি এর রেজাল্টের দিন পরতে হবে? কি আর করা রেজাল্টের দিন ই সে চলে গেল লিসেনিং, রাইটিং ও রিডিং এর পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করতে। স্পিকিং তিন দিন পরে হবে। ভাল মত পরীক্ষা দিয়ে সোজা চলে গেল কলেজে রেজাল্টের জন্য। প্রিন্সিপাল স্যারের রুমে নক করে ঢুকে দেখলো স্যার সবে মাত্র রেজাল্টের পেপারস পেয়েছে এখনো নোটিশ বোর্ডে টাঙানো হয়নি।
– স্যার আমার রেজাল্ট টা যদি এখন ই বলে দিতেন খুশি হতাম।
– হুম খুশি তো হবি ই। দাড়া…
– জ্বী স্যার।
– তোর তো এ+ মিস হয়েছে রে।
– স্যার আমি এ+ এর জন্য পরীক্ষা দেই নি। পরীক্ষা দিয়েছি ৪.৫০ এর জন্য। আরও দুই মাস হাতে থাকলে এ+ কনফার্ম করে দিতে পারতাম। যদিও কনফিডেন্ট আছে ৪.৫০ এর নিচে রেজাল্ট আসবে না, তারপরেও জানার ইচ্ছা তাই আসছি বলেন স্যার পয়েন্ট কত?
– ৪.৬০, তোর কনফিডেন্ট দেখে আমি যে খুব খুশি হয়েছি। জীবনে উন্নতি কর বাবা ভাল থাকিস সব সময়?
– জ্বী স্যার দোয়া করবেন। আজ আসছি। আচ্ছালামু-আলাইকুম স্যার।
আনন্দের সহিত নাবিল মিষ্টি কিনে বাসায় এলো। আই ই এল টি এস এর ৩ টা পরীক্ষা ই ভাল হয়েছে। মিনিমাম ৬ থাকবে। এখন স্পিকিং টা ভাল হলেই হয়। অনেক দিন প্র্যাক্টিস নেই যে!
বাসায় এসে মা’কে জ্বড়িয়ে ধরে জানালো রেজাল্টের কথা। মা’কে মিষ্টি খাইয়ে বুবাই, পণ্ডিত স্যার,হৃদিতা ও তাজকে জানালো রেজাল্টের কথা।সবাই অনেক খুশি হয়েছে। এদিকে নাবিলের মা নাবিলের বাবাকে কল করলে নাবিল ই মা’য়ের কাছ থেকে ফোনটা নিয়ে নাবিল ই জানালো বাবাকে। বাবা বলেছে আলহামদুলিল্লাহ্‌ নাবিল ভাল রেজাল্ট করেছিস। এখন ভাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির প্রিপারেশন নেও।
জ্বি বাবা তা তো নিতেই হবে। আচ্ছা বাসায় আসো তারপর কথা হবে রাখছি এখন বলে নাবিল মা’য়ের কাছে ফোন দিয়ে দিলো।
গল্পের সকল স্থান, নাম ও চরিত্র কাল্পনিক কিন্তু গ্রাম-বাংলার পরিপ্রেক্ষিতে অতি সাধারণ ঘটনা, কারো সাথে মিলে গেলে নিজ গুণে ক্ষমা করবেন”

  ৫টি মন্তব্য, “জীবন যুদ্ধ ১৪-তম পর্ব”

    
  1. রেজওয়ান কেমন আছো ভাই, লেখাটির অনেক পর্ব বাদ পড়ে গেছে আমার, পরে পড়ে নেবো সময় করে।

    তোমার লেখা নিয়ে আমি কমেন্ট করবোনা আজ, শুধু বলবো স্পেলিং গুলো বারবার চেক করার জন্য, এতো ভুল থাকলে পড়ার মজায় চলে যায়, আশা করি তুমি এই লেখাটি চেক করে সম্পাদনা করে দেবে।

  2. 
  3. হুম, এগিয়ে যাক। ভাল লিখুন। রেজাল্টের -{@ শুভেচ্ছা।