জীবন যুদ্ধ ১২-তম পর্ব

 লিখেছেন on নভেম্বর ২১, ২০১৭ at ২:২১ অপরাহ্ন  গল্প  Add comments
নভে. ২১২০১৭
 


কোনো দিকে মন নেই, কাছের সবাইকে নাবিল ফোন করে বলে দিয়েছে ফোন বন্ধ থাকবে আগামী পাঁচ মাস। যদি কিছু দরকার হলে যেন বাবা অথবা মা’কে জানায়। হৃদিতা, পণ্ডিত স্যার ও তাজের সাহায্য না পেলে হয়তো পরীক্ষার প্রিপারেশন টা নেয়াই হতো না।
পরীক্ষার মাত্র এক মাস বাকি। কোনো এক বিকেলে হৃদি তার মেয়েকে নিয়ে নাবিলকে দেখতে এলো। নাবিল ই বলেছিলো বেবিকে নিইয়ে আসার জন্য। পড়ায় ক্ষতি হবে বলে এতদিন আনে নি। সিলেবাস শেষ! তা ছাড়া সময় হয়ে এসেছে বাসায় ফেরার তাই নিয়ে আসা।
– কেমন আছ মামণী?
– ঠিক মত কথা বলতে পারে না দেখ না কত ছোট!!
– হুম তাও ঠিক। তারপর কেমন চলতেছে দিনকাল? কেমন আছিস?
– এইতো ভাল আছি, তোমার পড়াশুনার কি অবস্থা? কোথায় কোথায় সমস্যা আছে বলো?
– আপাতত সমস্যা একটাই বাম পা টা একটু ব্যাথা। পড়াশুনা নিয়ে সমস্যা নেই। তুই বোস আজ আর পড়াশুনা হবে না। মামোণী এসেছে, চল বাহিরে যাবো। ফুসকা খাবো আজ অনেকদিন খাওয়া হয় না।
– ফাঁকিবাজি না? আগে পড়া তারপর খাওয়া!
– বাদ দে আজ মন বসছে না। কালকে ফ্রি থাকলে সকাল সকাল আশিস বলেই ফ্রেশ হওয়ার জন্য নাবিল উঠে গেল।
কালো প্যান্ট আর কালো পাঞ্জাবীটা গায়ে জ্বড়িয়ে বুবাইয়ের ঘরে গিয়ে নক করলো নাবিল। হৃদি আর বুবাই গল্প করছিলো সেখানেই।
– বুবাই স্যার কোথায়?
– তোর স্যার নিউমার্কেট গেছে কিছু কেনাকাটা করতে আসতে রাত হতে পারে, কারণ আসার পথে দু’জন এ ছাত্রের বাসা হয়ে আসবে।
– ও আচ্ছা। তুমি রেডি হও তাহলে।
– কেনরে কোথায় যাবি?
– ফুসকা খাবো বুবাই, অনেকদিন খাওয়া হয় না। ঘুরবো আজ। চলো-চলো…
– তোরা যা না আমি বাসায় ই থাকি। কখন তোর স্যার এসে পরে তার ঠিক নেই।
– স্যারের কাছে চাবি আছেতো সমস্যা নেই। স্যারকে একটা ফোন কিনে দিচ্ছো না কেন?
– চালাতে পারে না তো তা-ছাড়া বাসায় টিএনটি তো আছেই তাইনা?
– তারপরেও লাগে তো। আর যদি না ই কিনে তাহলে শিখবে কিভাবে? আমি ছোট মানুষ আমিও ফোন ইউজ করি প্রয়োজন বলে। আচ্ছা চলো ফুসকা খেয়ে তোমাদের বাসায় রেখে আমি একটু ইস্টার্ন প্লাজায় যাবো একটু দরকার আছে।
– আচ্ছা বোস আমি রেডি হই।
– আচ্ছা বুবাই আমরা ড্রয়িং রুমে বসছি। চল হৃদি। মামণীকে আমার কোলে দে।
– নাবিল! ইস্টার্ন প্লাজায় যাবে কেন?
– এমনি একটু কাজ আছে। তুই কিন্তু বুবাইকে নিয়ে বাসায় থাকবি আমি না আসা পর্যন্ত ঠিক আছে? পরে আমি আর স্যার মিলে দিয়ে আসবো।
– আচ্ছা তা না-হয় থাকলাম কিন্তু তুমি যাবে কোথায়?
– এত প্রশ্ন করিস না তো। ভাললাগে না।
প্রায় ত্রিস মিনিট পরে বুবাই রেডি হয়ে ড্রয়িং রুমে এলো।
– ওয়াও বুবাই তুমি তো ইয়ং হয়ে গেছো।
– আমিতো ইয়ং ই কি বলিস হৃদি?
– হ্যা পিসি ঠিকই বলছেন আপনি তো ইয়ং ই।
চল চল কথা না বারিয়ে বেরিয়ে পরি। বাসার সামনে গাড়ি দেখে হৃদি ও বুবাই কিছুটা অবাক।
– কিরে নাবিল গাড়ি কার? কে পার্ক করলো আমাদের বাসার সামনে?
– আমি ই রেন্ট এ কার থেকে আসতে বলেছি। আগামী তিন দিন এখানেই থাকবে। চলো এখন মিরপুর যাবো তোমার প্রিয় ফুসকা-চটপটির দোকানে।
– কোথায়! মোল্লার দোকানে? গাড়িতে বসতে বসতে জিজ্ঞেস করলো বুবাই।
– হুম ওই দোকান ছাড়া তোমার আরো কোনো প্রিয় দোকান আছে?
– না লেই চল চল জ্বিভে জ্বল এসে যাচ্ছে। আহা কতদিন বোম্বায় মরিচের ফুসকা চটপটি খাই না আহা…
ড্রাইভার মামা চলুন যাওয়া যাক। ড্রাইভারও খুসি মনে রওনা দিলো। জ্যাম ছিলো না বলতে গেলে। পনের মিনিটেই পৌছে গেল।
– মামা তুমি গাড়ি পার্ক করে এখানে এসো
– আমি আইস্যা কি করুম। আমি গাড়িতেই থাকি। আপনেরা খাইয়া আহেন।
– নাবিল তোমাকে যা বলছে তাই করো ধমকের সুরে বুবাই বললো।
– নাবিল আর হৃদি মুচকি মুচকি হাসছে। আসলেই দেখার মত ছিলো ড্রাইভার মামার মুখ। মামা কিছু না বলে বাধ্য পুরুষের মত গাড়ি পার্ক করতে চলে গেলো।
– নাবিল একটা চার সিটের টেবিল নিয়ে বুবাই আর হ্রিদিকে পাশাপাশি বসিয়ে ফুসকার অর্ডার করতে গেল।
– মামা কি অবস্থা কেমন আছেন জিজ্ঞেস করতেই একটু অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো ফুসকার দোকানের মালিক ইসকেন্দার মোল্লা।
– আচ্ছা বাদ দেন হয়তো চিনেন নাই আমাকে। এখন আট প্লেট ফুল, ফুসকা এক্সট্রা ডিম… মুখের কথা কেড়ে নিয়ে মোল্লা মামার উত্তর আর বোম্বায় মরিচের স্পেশাল টক তাইতো? নাবিল মামা প্রায় দুই বছর পরে আসলেন তাই বইল্লা কি ভুইলা গেছি মনে করছেন?
– আপনি আমাকে এভাবে মনে রাখবেন কল্পনায় ও আসে নাই। আসেন বুকে আসেন বলেই মোল্লা মামাকে বুকে জ্বড়িয়ে নিলো নাবিল। কেমন আছেন বলেন? ভাবি কেমন আছেন?
– জ্বি মামা আমরা সবাই অনেক ভাল আছি। এত দিন আসেন নাই ক্যান মামা?
– একটু ব্যাস্ত আর অসুস্থ ছিলাম মামা। আচ্ছা এখন ফুসকা দেন তো জ্বিভ সামলাতে পারছি না।
– হা হা হা আচ্ছা বসেন স্পেশাল করে নিয়ে আসছি।
আচ্ছা বসছি বলে টেবিলের দিকে চলে গেল নাবিল, এমন সময় ড্রাইভার মামা এসে টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে রইলো।
– মামা বসেন আমার পাশে।
– না মামা ঠিক আছে আমি এখানে দাঁড়াচ্ছি।
– ধুর মিয়া সেই তখন থেকে যা ই করতে বলি না করতেছেন! কারন কি শুনি?
– মালিকের পাশে কিভাবে বসি বলেন?
– আপনিও মানুষ আমরাও মানুষ ই মামা। বসেন তো।
– ভয়ে ভয়ে বসতে বসতে বললো মামা যানেন আমি প্রায় সাতাশ বছর ধইরা ড্রাইভারি করি এমন মানুষ একজন ও দেখি নাই যে ড্রাইভাররে পাশে বসাইয়া এস সাথে খায়। এতখানি সম্মান দেয়। তার উপর আপনার মত বয়সিরা তো পারলে চরের উপর রাখে। পান থিকা চুন খসলেই থাপ্পড় খাইতে হয়।
কথা শুনে সবাই কেমন যেন চুপ হয়ে গেল। নাবিল ই বলে উঠলো কি বেপার সবাই চুপ কেন? মামা সবাই ত এক না, আর তাছাড়া আমি এভাবেই চলতে পছন্দ করি। সবার সাথে মিলে মিশে থাকতে ভালবাসি। এমন সময় মোল্লা মামা চার প্লেট ফুসকা দিয়ে গেলেন। নাবিল বললো বিসমিল্লাহ্‌ বলে শুরু করেন বলেই একটা ফুসকা নিয়ে টক মিশিয়ে মুখে পুরে দিয়ে চোখ বন্ধ করে রইলো। পাক্কা দেড় মিনিট পর চোখ খুলেই বললো “আহা অমৃত”। নাবিলের কান্ড দেখে সবাই উচ্চ স্বরে হা হা করে হেসে উঠলো। আর কথা নয়, সবাই খেতে শুরু করলে মোল্লা মামা আরও চার প্লেট দিয়ে গেলেন। ড্রাইভার মামা বললো। আমার এক প্লেটেই হইবো। হুদাই আমার জন্য টাকা খরচ কইরেন না মামা।
– আরে খাওয়ার জন্য যান কোরবান টাকা তো সামান্য। আপনি খান।
– তাইলে মামা ফুসকা না এক প্লেট চটপটি নেই এইটা ফেরত দিয়া?
– ফেরত দিবেন কেন? হৃদি- বুবাই এক প্লেট করে চটপটি হয়ে যাক কি বলো?
– হোক তাহলে সম সুরে উত্তর।
– মোল্লা মামা চারটা চটপটি। একটা এখন দেন বাকি তিনটা ফুসকা শেষ হবার পর।
– আচ্ছা বলেই আনন্দের সঙ্গে মোল্লা মামা চটপটি বানাতে শুরু করলেন।
গল্পের সকল স্থান, নাম ও চরিত্র কাল্পনিক কিন্তু গ্রাম-বাংলার পরিপ্রেক্ষিতে অতি সাধারণ ঘটনা, কারো সাথে মিলে গেলে নিজ গুণে ক্ষমা করবেন”
চলবে…

  ৬টি মন্তব্য, “জীবন যুদ্ধ ১২-তম পর্ব”

    
  1. আনন্দময় সময় কাটানো কম ব্যাপার না। এভাবে চলা সবার পক্ষে হয় না। তবে যারা পারে সবসময়ই পারে তাঁরা আমার কাছে এরাই আইডল এক প্রকার।
    শুভেচ্ছা রইল।

  2. 
  3. পিকচারটা সুন্দর লাগছে। -{@

  4. 
  5. লিখতে থাকো,
    ভাল হচ্ছে।
    শুভ কামনা।