অক্টো. ২১২০১৭
 

২০১৫ সালে যখন আমার দুইভাইবোন দেশের দুইপ্রান্তের হাসপাতালে ভর্তি তখন আমাকে দিনের বেলা এক হাসপাতালে আর রাতের বেলায় অন্য হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে। সন্ধ্যে হলে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে যাওয়ার জন্য রওনা দিতাম আর ভোর হলেই আবার ফিরে আসার জন্য রওনা করতে হত। এমনি এক সময়ে বিশ্বব্যাংক থেকে বাংলাদেশ প্রায় চারশো কোটি টাকা ঋণ নেয় কোন একটা প্রকল্পের জন্য। সেই দিন সকালে আমি ঢাকায় আসছি একটা প্রাইভেটকারে করে, আমার সাথে আরো চারজন সহযাত্রী, এবং তাদের কথাবার্তা বেশভূষ্যা দেখে মনে হচ্ছিল তারা সবাই উচ্চশিক্ষিত। আদৌ তারা তাই ছিলেন, এবং এই ধরণের মানুষ এক সাথে হলে সাধারণ রাজনীতি নিয়ে কথা উঠে, সাথে সমাজ অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয়ও থাকে। প্রচন্ড ঘুমে আমার অবস্থা খারাপ কিন্তু লোকগুলোর কথাবার্তা আমাকে আকৃষ্ট করছিল, ঘুমকে ছুটি দিয়ে তাদের সাথে পরিচিত হয়ে কথা বলা শুরু করলাম তাদের সাথে। আমি তখন ছাত্র আর তারা সবাই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। কথার বিষয় ছিল এই চারশো কোটি টাকা ঋণ নিয়ে, আর দুইটা পক্ষ তৈরি হয়েছিল সেখানে। বিতর্ক যখন তুঙ্গে তখন আমি সাধারণ ভাষায় বললাম, আপনাদের আমি কিছু টাকা দিলাম কিন্তু সেই টাকা দিয়ে কি কাজ করবেন সেটা আমি ঠিক করে দিব, তাহলে আপনারা ঋণ নিবেন? প্রত্যেকটা মানুষ আমার কথায় না উত্তর দিয়েছিল। পরবর্তীতে কিছুটা ব্যাখাও আমাকে করতে হয়েছিল, যার সবটুকুই আমি করেছিলাম আমার নিজের যুক্তি দিয়ে।

লেখার শিরোনাম হচ্ছে একটা বইয়ের নাম,বইটির লেখক জনস পার্কিং, বিশ্বব্যাংকের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রূপে যিনি কাজ করেছেন। ২০০৪ সালে এই বইটি আমি প্রথম পড়া শুরু করি ২০১৬ সালের দিকে ইংরেজীতে এবং ২০১৭ তে বাংলায়। শুরুতেই যে ভুলটা করেছিলাম তা হলো এই বইটা পড়ার আগে কিছু বই পড়া প্রয়োজন ছিল আমার তা করিনি, কিন্তু পরবর্তীতে তা শুধরে নিয়েছিলাম। বইটা যে খুব কঠিন কিছু তা কিন্তু বরং সাধারণ গল্পের বইয়ের মত বা ভ্রমনকাহিনী বললেও ভুল হবে না, শুধু কিছু কথা একটু যুক্তি দিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। বইটিতে যে স্বীকারোক্তি দেওয়া হয়েছে তার সত্যতা আমি যাচাই করিনি, কারণ সেটার প্রয়োজন ছিল না, এই ধরণের কাজ যে বিশ্বে প্রতিনিয়ত হচ্ছে তা যারা অর্থনীতি ও রাজনীতির প্রথম অক্ষর বুঝে তারাও বুঝতে পারবে।
বইটি মূলত পার্কিং তার জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার ব্যখ্যা করেছেন, যেমন ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, ভিয়েতনাম যুদ্ধ। বিশ্বে আমেরিকার প্রভাব, বেল রুজমেন্ট এর সময়কার কিছু আমেরিকান বিশ্বনীতি ইত্যাদি আলোচনা করেছেন। তার বইয়ের ভূমিকায় যে কথাগুলো আছে তার অনুবাদ করলে নিচের মত হয়,

“অর্থনৈতিক ঘাতকেরা মোটা অংকের বেতনপ্রাপ্ত পেশাদার। এদের কাজ হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে ধাপ্পা দিয়ে লক্ষ কোটি ডলার চুরি করা। এরা বিশ্বব্যাংক, ইউএসএইড এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সাহায্যদানকারী সংস্থার কাছ থেকে অর্থ নিয়ে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন বৃহৎ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের তহবিলে পৌঁছে দেয়। এভাবেই সমগ্র বিশ্বের প্রাকৃতিক সম্পদকে নিয়ন্ত্রণকারী গুটি কয়েক পরিবার প্রতিনিয়ত লাভবান হয়। এ কাজে অর্থনৈতিক ঘাতকদের মূল অস্ত্র হচ্ছে ভুল তথ্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিবেদন, পাতানো নির্বাচন, ঘুষ, চাপপ্রয়োগ, যৌনতা ও হত্যা। তাদের কর্মকাণ্ড সাম্রাজ্যের ইতিহাসের মতই প্রাচীন। তবে বিশ্বায়নের এ যুগে এসব কর্মকাণ্ড নতুন ও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।

আমার তো এসব কথা জানা উচিত। কেননা, “আমি ছিলাম একজন অর্থনৈতিক ঘাতক।”

যারা অর্থনীতি নিয়ে আগ্রহী তারা এই বইটি পড়ার পাশাপাশি কিছু বই পড়ে নেওয়া ভালো, যেমন জেনারেল থিউরি, দাস ক্যাপিটাল, দ্যা ক্যপিটাল টুইন্টি ফাস্ট সেঞ্চুরি, ইন্ড্রাস্টিয়াল রেভু্লুশন, ক্রগমেন্ট ইকোনোমিক্স,জোসেফ সিটগলিষ্টের বইগুলো, ডেভলোপমেন্ট অফ ফ্রিডম, হেলথ, ইনইকিউটি এন্ডং ইকোনোকিম ডেভোলাপমেন্ট । ( আরো কিছু বই আছে নামগুলো মনে করতে পারছি না।)

বই রিভিউ করার মত সক্ষমতা আমার নেই, তবে আমি জ্ঞান পিপাসু,জ্ঞান অাহরণ করতে ভালোবাসি। রিভিউ এর দিকে যাচ্ছি না, বাংলাদেশে নিয়ে কিছু কথা বলি এবার।
বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে ঋণের সুদের হার বাড়িয়ে দিয়েছে, আগে ছিল 1.25 আর এখন তা 2.62 করা হয়েছে অথাৎ এখন থেকে বাংলাদেশে যে ঋণ নিবে বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফ থেকে তার জন্য 2.62 এর চেয়ে বেশি হারে সুদ পরিশোধ করতে হবে। বাংলাদেশে উন্নয়নশীল দেশে থেকে উন্নত দেশে রূপান্তর হচ্ছে তার জন্যই এই ব্যবস্থা।
পার্কিং তার বইয়ে বলেছে, অর্থনীতির ঘাতকদের কাজ হচ্ছে কোন একটা দেশের অর্থনীতিক মেরুদন্ড ভেঙে দেওয়া কিন্তু সেটা করতে হবে শক্তিশালি করছি বলে। বিষয়টা ছিল এমন যে, যে সব দেশে যারা যাবে মিশন নিয়ে সেখানে গিয়ে বুঝানো হবে তাদের দেওয়া ঋণ সুবিধা নিয়ে তারা কি পরিমাণ উন্নতি করতে পারে তবে কাজ যা করানো হবে তার সবটুকুই করবে আমেরিকার কোম্পানিগুলো। অথাৎ দেশের টাকা দেশেই থাকবে উপরন্তু সুদ হিসাবে মুনাফাটা দেশে ঢুকবে। এই ক্ষেত্রে কোন দেশ যদি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয় তখন তাকে আরো ঋণ দিয়ে ঋণের বোঝা বাড়ানো হয় এবং একটা সময় উপনিবেশ স্থাপন করে সেই দেশ শাষণ করা হয়। বিশ্বব্যাংক ঋণ দিবে কিন্তু কাজগুলো তাদের নিয়োজিত কোম্পানি দিয়ে করা হতে হবে এটাই মূলত থাকে ঋণের প্রধান শর্ত। আর এভাবেই একটা দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশও এই চালের বাইরে নয়, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত বাংলাদেশের সাথে ঠিক এই ধরণের একটা চাল চেলেছে, তাদের কাছ থেকে ঋণ নাও কিন্তু শর্ত হচ্ছে তাদের দেশে থেকেই জিনিসপত্র কিনতে হবে এবং কিছু সুবিধা তাদের দিতে হবে এই শর্তে। ভারতের এই ধরণের শর্তে বাংলাদেশ রাজী হয়ে সেই প্রকল্পে সাইনও করেছে।
ঋণ নেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ কবে সর্তক হবে তা আমাদের দেশের বিজ্ঞ রাজনীতিবিদরাই ভালো বলতে পারবে।
শুরুর গল্পে ফিরে যাই, লোকগুলোকে আমি বললাম, ধরুন আমি আপনাদের টাকা দিচ্ছি আর বলছি যা করার আমি বলে দিব, এবং কাজটা আমিই করে দিব আপনি শুধু দেখবেন। বিনিময়ে আমাকে টাকা সুদ সহ ফেরত দিবেন, আপনি আপনার উন্নয়ন বুঝে নিবেন।
লোকগুলোকে আর বুঝাতে হয়নি, কারণ তারা এগুলো বুঝে, কিন্তু আমাদের দেশের আমলারা বুঝে না।

লোক দেখানো উন্নয়ন আর কত কাল করবে সরকার তার উত্তর হয়ত সরকারী আমলারাও ‍দিতে পারবে না।

লিখার অনেক বিষয় আছে, নদী পথ, রোহিঙ্গা ইস্যু,অবকাঠামো উন্নয়ন, লোক দেখানো উন্নয়ন। কিন্তু লিখবে টা কে? আর বুঝবেই বা কে ( পড়া নয় বুঝা)। নিরবতাই শ্রেয়, সরকারের সমালোচনা করা হচ্ছে এই মুহুর্তে সবচেয়ে বড় বোকামী তাই সেই পথে হাটছি না, বরং কিছু বইয়ের নাম দিলাম যারা বুঝতে চায় অর্থনীতি রাজনীতির মারপ্যাচ তারা পড়তে পারে।

ধন্যবাদ।

  ১৮টি মন্তব্য, “এক অর্থনীতির ঘাতকের স্বীকারোক্তি (Confessions of an Economic Hitman)”

    
  1. অর্থনৈতিক বিষয় খুব একটা ভালো বুঝি না। শুধু বুঝি মাস শেষ হলে কিছুই থাকছে না।
    ঋণ এর ব্যাপারটা শুনেছি। আমরা হুট করে একটা ঘোষনা দিয়ে বসলাম যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশ! আসলেই? এখনো অনেক মানুষ দারিদ্রতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নিজেদের ঘর নেই, তিনবেলা খাবারের নাশ্চয়তা নেই।
    আসলেই কোনো ইস্যু নিয়ে আমরা কিছু বলতে পারবো না। আমরা এখন দর্শক। যাকে অবিডিয়েন্ট দর্শক।
    এক বছর যেতে না যেতেই উন্নয়নের ভিতর থেকে উঁকি মারে উন্নয়নের কাঁদা। আমরা কোনো নোটিশ ছাড়াই দিনের চার পাঁচ ঘন্টা বিদ্যুৎহীন থাকি। ফেসবুক জুড়ে ঘুরে বেড়ায় তাদের কিছু দালাল।
    রহিঙ্গাদের জন্য মসজিদ মাদ্রাসা নির্মান হচ্ছে! কি উদার আমরা তাই না!

      
    • রোহিঙ্গা ইস্যু তে আমি শুরু থেকেই নিরব, কিছু বলি নাই,তবে এদের জায়গা দেওয়া এবং এদের নিয়ে যা করা হচ্ছে তা দেখে আমি বিরক্ত এবং এই নিয়ে কিছু রোহিঙ্গা প্রেমীদের সাথে কথাকাটিও হয়েছে।
      বাংলাদেশ সরকার কি করছে সেটাই দেখছি, আর যদি লিখি কিছু তবে শুধু এইটুকু বলল আমি আবার মুসলিম বিদ্বেষী হয়ে যাবো।
      আচ্ছা আপু ধর্মের দোহাই দিয়ে নিজের পায়ে নিজে কুড়োল মার এটা কোন ধর্মে বলেছে? কোন ধর্মে বলেছে নিজের ঘরের লোককে উপোষ রেখে অন্যের পেটে খাবার দাও? যাইহোক এই বিষয়টা নিয়ে আমি কিছু বলব না বলেই ঠিক করেছি।

  2. 
  3. অসাধারণ, অসাধারণ, অসাধারণ পোষ্ট, জ্ঞান চক্ষু খুলেই দিলেন আমার, ভারতের ঋণ দান এবং শর্ত দেখে আমিও অবাক হচ্ছিলাম আমাদের নেতাদের হটকারিতা দেখে, যা আপনি আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন, ভাই আমি অনুরোধ করবো পোষ্টটি ফেইসবুকে দেওয়ার জন্য, যেন আমি কপি করে পোষ্ট দিতে পারি, প্লিজ আমাকে ট্যাগ করবেন।

  4. 
  5. ঋণতো ঋণই ঋণ নিয়ে উন্নয়ণ করা খুবই টাফ।আমরা কেনো ঋণ নেবো?আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ণে অনেক দিিকই আছে যার সঠিক ব্যাবহারে দেশ ঋণমুক্ত থাকত।কেবল মাত্র রাজনৈতিক দূর দূরদর্শীতার অভাবে আমরা স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও বাস্তবতায় বিশ্ব থেকে অনেক পিছিয়ে অথচ মুখে বলি দেশ উন্নয়ণের জোয়ারে ভাসছি যা দৃশ্যমান নৌকা চলে সড়ক পরিবহনের পাশাপাশি।আপনার লেখাগুলো প্রত্য্যাকটাই গুরুত্বপূর্ণ।ভবিষৎ রোহিঙ্গা ইস্যুতে অন্ধকার এটা আমিও নিশ্চিৎ। -{@

  6. 
  7. বাংলাদেশের রাজনীতির পরিবেশ হচ্ছে সবচেয়ে খারাপ। দুইপক্ষ রাজনীতি। দেশীয় স্বার্থে না, দুইপক্ষের সঙ্গে ঠেলাঠেলি দেশটাকে পংগু করছে। একজন বামে তো আরেক জন ডানে। দেশে কেউ নায়। তাঁর জন্য মারাত্বক ক্ষতি ভোগ করতে হয় এই দেশের জনগণকে।

    একটি অসাধারণ পস্ট। সরকার মধ্যম আয় মধ্যম আয় করতে করতে ফেনা তোলে। তাঁর খেসারত ২.৬২ হারে সুদ।

    জনগন ন্যাংটা \|/

      
    • দুই পক্ষের রাজনীতি ফুরিয়ে গেছে, বিএনপিকে আমি আর রাজনৈতিক দল মনে করি না, কারণ এদের সেই সক্ষমতা নেই যা একটা রাজনৈতিক দলের থাকা প্রয়োজন।
      আর জবাবদিহিতা না থাকায় সরকার যা খুশি তাই করছে, পরিকল্পনা পেশ করা থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন সবই লোক দেখানো আর শর্টটার্ম পরিকল্পনা, লোক এটা দেখে খুশি হলে ভালো নয়ত সে (রাজাকার)।

        
      • রাজনৈতিক দল হিসেবে যদি এখন সহজ সরলতা দিয়ে বি এন পিকে করতে দেন দেখেন বি এন পি এখন শক্তিশালী। আর আমাদের দেশে রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতার জোরে প্নজ্ঞু করা হয় রাজনৈতিক আদর্শ দিয়ে নয়।

        দেশে কোন জবাব দিহি নায় বিধায় অন্য দল মুঝ থুব্লে পড়েছে। পূর্বে বিএন পি ও তেমনিভাবে আওয়ামিলীগকে হত্যা, জেল জুলুম করে মাঠের বাহিরে রেখেছিল কিন্তু আওয়ামিলীগ উঠেছে এওসেছে তাঁদের দূরদর্শিতার ও রাজনৈতিক নেত্রেতের কারনে।
        এখন বি এন পি কি করে তা তাঁদের নেতার উপর নিরভর করবে।

  8. 
  9. জটিল লেখা; জটিল উন্মোচন।
    শুভকামনা।

  10. 
  11. ঋণ নেয়া বিষয়ে আমাদের দেশ কখনোই শতর্ক হবেনা, কারণ আমলা এবং রাজনীতিবিদগন এর সুফলভোগী। যারা সুফলভোগী তারাই দেশের নিয়ন্ত্রক। জনগন কেবল তাকিয়ে দেখবে মাত্র।
    এই আমলা আর রাজনীতিবিদরাই ভারতকে বিনা শুল্কে ট্রানজিট দিয়েছে, রাস্তাঘাট ব্রীজ আমরা করে দেবো আমাদের টাকায়, আর ভারত তা ব্যবহার করবে শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে।

    ভাল পোষ্ট।

  12. 
  13. বইটা খুঁজে বের করে পড়তে হবে। বিশ্বব্যাংক , জাইকা প্রভৃতি ঋণ প্রদান কারী সংস্থা যুগ যুগ ধরে এই মডেল ফলো কর আসছে। চীনের সাম্প্রতিক ওয়ান বেল্ট ওয়ান ওয়ে নীতিও মুলত একই থিমকে ফলো করছে।