একজন মানুষের যোগ্যতা

 লিখেছেন on নভেম্বর ২৮, ২০১৭ at ৫:৩০ অপরাহ্ন  গল্প  Add comments
নভে. ২৮২০১৭
 

মীরা যখন খুব ছোট তখন থেকে ওর জীবনের যে সময় টা তার ম্যামরি কার্ড টা খুলে চোখের সামনে সিনেমের ফ্লেসব্যাকে ভেসে উঠে তার প্রথম দৃশ্য টা ই হল বালিশে মুখ গুঁজে ফুফড়ে ফুফড়ে কাঁদা । টানা টানা বড় বড় চোখের মীরা তার চার পাশ খুব স্বচ্ছ কাঁচের মত করে দেখত । তার বদ রাগী বাবা, আরো পাঁচ টি ভাই বোন সবাই কে খুব সুক্ষ ভাবে সে অবলোকন করে বেড়াত । উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তা বাবার ভয়ংকর দাপটে সারা দাড়ি টা যেন ভুমিকম্পের মত থর থর করে কাঁপতো। মীরার বাবা মীরাকে খুব ভালবাসতেন কিন্তু এই ভালবাসা টা আর দশ টা বাবার অকৃতিম ভালবাসার মত পবিত্র ছিল না । সারাক্ষন প্রান ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত মীরার মা পরিবারের অন্য ছেলে মেয়ে দের অন্যায় অপরাধ লুকানোর জন্য মীরা কে পাঠাতো তার স্বামীর সেবা করতে । আট নয় বছরের ছোট্ট মীরা ভয়ে ভয়ে ইঁদুরের মত বাঘের খাঁচায় নিজেকে আত্বসমর্পন করাতো তার পরিবার কে বাচানোর আশায় । যখন সে একটু একটু করে তার নিজ বাবার শরীরি স্পর্শ গুলো বুঝতে শিখল তখন সে তার মায়ের উপর খুব ক্ষিপ্ত হতে শুরু করল্, কিভাবে সে মা কে বলবে এই অসভ্যতার কথা গুলো ? কেন তার নিজ মা বুঝে না তার স্বামী নামের প্রভূ টার নির্লজ্জতা গুলো ?? এভাবে দিন মাস বছর কাটতে লাগলো, মীরা যখন কৈশরে পা রাখলো হঠাৎ ওই বাবা রূপী মানুষ টা প্যারালাইসিস হয়ে বিছানায় পরে গেল, মীরা মনে মনে ভাবতে লাগলো এই বুঝি তার জীবন থেকে একটা কস্ট দূর হলো কিন্তু বিধি বাম হয়ে আবার ও আরেক হায়না তার শরীরকে স্পর্শ করার জন্য শিকারির মত পিছু ধরল । এই শিকারি ও তার ই আপন বড় বোনের স্বামী।
মীরা নিজেকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে নিখুঁঁত করে দেখতে লাগলো আসলে এমন কি আছে তার রুপে যে এখনো সে প্রাপ্ত বয়স্ক হতে না হতে ঐ শকুনের মত দানব গুলো তার চার পাশ ছেঁয়ে যাইতেছে ??? কাকে বলবে মীরা এই কথা ? কে বিশ্বাস করবে তার এই কাহিনী গুলো ?? খুব ছোট থাকতে নিজের মা কে গানের মাস্টার এর নোংড়া ইংগিত এর কথা বলাতে এমন মার খেয়ে ছিল যে দুই দিন ভাত খেতে দেয়া হয়নি তাকে । মীরা শুধু দিন রাত অপেক্ষা করতে লাগলো কবে সে বড় হবে আর কবে সে এই নরক থেকে পালাবে …
আজ মীরা প্রাপ্ত বয়স্ক একজন মেয়ে মানুষ , আজ মীরার ও একটি ফুট ফুটে কন্যা সন্তান আছে, সারাক্ষন মীরা ওর মেয়ে টা কে নিয়ে আশংকায় দিন গুনে আর সৃস্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করে ” হে আমার প্রভু আমি মীরা হয়তো কারো আমানত ছিলাম না কিন্তু আমার গর্ভে যে মীরা হয়ে এসেছে তার সুরক্ষা কি আমি দিতে পারবো ? ”
গভীর রাতে মীরা উদ্ভ্রান্তের মত জেগে উঠে, দৌড়ে মেয়ের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়, ” মেয়ে রেগে গিয়ে বলে, আম্মু তোমার কি দিন দিন মাথা নস্ট হইতেছে ? ” বিচিত্র একটা মুখাভংগি করে মীরার সাথে তার প্রান প্রিয় কন্যা । এখানে ও মীরা অসহায়ের মত মাথা নীচু করে নিজের ঘরে ফিরে আসে । দীর্ঘস্বাস ফেলে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে মীরা শুক তারা টা খুঁজে ফেরে আর চোখের নোনা জলে মানস্পটে ভেসে উঠে তার নিজের করুণ শৈশব কৈশর আর অনাগত ভবিস্যত।
আচ্চা একজন মেয়ে মানুষ কখন যোগ্য হতে পারে এই পৃথীবিতে ?? কবে কখন কিভাবে একটা মেয়ে। নিজেকে যোগ্য করে বাচঁতে পারবে ? কবে পারবে প্রতিবাদ করতে ??? কত টুকু শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে ছোট্ট একটা মেয়ে শিশুর প্ততিবাদি হতে ?? মেয়েরা কি আসলে মানুষ ? আসলে ই কি কোন রকম যোগ্যতা তাদের হয় চলমান পৃথীবিতে ?

  ৩টি মন্তব্য, “একজন মানুষের যোগ্যতা”

    
  1. তার বদ রাগী বাবা, কেন এরকম হয়???
    তাতে কি এদের সন্মান বা কোন উপকার হয়???
    এদের ঘৃণা করে কিন্তু কেউ ভাল বাসেনা।
    আসলে সবই সৃষ্টির ক্রিস্টী
    কোন কিছুই মানুষের নয়।

  2. 
  3. না আপু এই শিশু সন্তানরা খুব কসড় এবং অনেক সময় অসুস্থ হয়ে পড়ে মানুসিক ভাবে।
    তবুও এদের শুভ বুদ্বির উদয় হোক। -{@