আগস্ট ০৮২০১৭
 

একটা চশমা যা পরিধান করলে আপনি যা দেখতে চাইবেন তাই দেখতে পাবেন। পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষকেই যদি এই চশমা পরিধান করতে দেওয়া হলে, প্রত্যেকটা মানুষ আলাদা আলাদা বিষয় দেখবে। আর এই দেখাটাই বদলে দিতে পারে পৃথিবী। আপনি কি দেখবেন সেটা আপনার ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে, কিন্তু এমন কেউ কি আছে যে নিজের ব্যর্থতাগুলো দেখতে চাইব? না, কেউ চাইবে না, আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলছি সবাই এই একটা জায়গায় একই দৃশ্য দেখতে চাইবে, সেটা হচ্ছে সফলতা। প্রত্যেকটা মানুষ চায় তার সফলতা, কেউ ব্যর্থ হতে চায় না, কখনো না, কোন ভাবেই না।
চশমাটা পড়ে থাকুন, খুলবেন না, কল্পনা করুন আমাকে বা আপনাকে যে আপনার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছে, যে নিজেকে সফল হিসাবে দেখতে চায়। অনুভব করুন, উপলব্দি করুন কথাগুলো নিজের সাথে মিলিয়ে নিয়ে।
চাওয়া কি? সফলতা। কিন্তু কিভাবে? ভূলের শুরুটা এখানেই। কিভাবে শুরু করব, কোথা থেকে শুরু করব সেটাই জানিনা/ জানার পরেও শুরু করতে পারি না/ লক্ষ্যটাই ঠিক করতে পারি না। কথা দিচ্ছি আজকের পর লক্ষ্য ঠিক হয়ে যাবে, পড়ে যান।
লক্ষ্য কি/ কি হতে চান? কোথায় দেখতে চান নিজেকে? ছোটবেলার এই প্রশ্ন আপনাকে জীবনের প্রতিটি পদে পদে শুনতে হয়েছে। ঠিক যখন ক্লাস ওয়ানে পড়তেন আর যখন গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেছেন প্রশ্নটা ঠিক একই রযে গেছে শুধু উত্তরটা বদলে গিয়েছে প্রতিনিয়ত। আজ শেষবারের মত প্রশ্ন করুন, কি হতে চান আপনি? আপনার লক্ষ্য কি? পাচঁ বছর পরে আপনাকে কোন অবস্থানে দেখতে চান? না কোন দো-টানা নয় যে কোন একটা লক্ষ্য ঠিক করুন।
এপিজে আব্দুল কালাম বলেছিলেন, সেটা স্বপ্ন নয় যা তুমি ঘুমিয়ে দেখ, স্বপ্ন সেটািই যেটা তোমাকে ঘূমাতে দেয় না। কথাটা কি শুধুই কথার কথা? নাকি গভীরে আরো কিছু আছে?
অনেক কিছুই আছে, অধিকাংশ মানুষ স্বপ্ন দেখে, সঠিক লক্ষ্য ঠিক করে কিন্তু সফল হতে পারে না। কেন পারে না?
বুঝতে চেষ্টা করুন, আপনি একটা লক্ষ্য ঠিক করলেন লং টার্ম এর জন্য, কিন্তু সেটাকে বাস্তবায়ণ করতে হলে আপনাকে এর সাথে সম্পর্কিত অনেকগুলো শর্ট টার্ম গোল/লক্ষ্য ঠিক করতে হয়। এক কিলোমিটার রাস্তা হেটে যাওয়ার জন্য কতগুলো পদক্ষেপ ফেলতে হয় জানেন? জানার কথা নয়, কারণ কখনো প্রয়োজন হয়নি, কিন্তু এটা তো সত্য যে প্রতিটি পদক্ষেপ সমান ভূমিকা রেখেছে এই রাস্তাটুকু অতিক্রম করার জন্য।
একটা লক্ষ্য ঠিক করলেন, ধরুন আপনি একটা জব খুজঁছেন (সাধারণ মানুষ তাই করে) জব পাওয়াটাই আপনার জীবনের চরম লক্ষ্য। লক্ষ্য ঠিক রেখে কি করতে হবে আপনাকে? কিছু ছোট ছোট পদক্ষেপ নিতে হবে, সিভি লিখতে হবে, আবেদন করতে হবে, প্রস্তুতি নিতে হবে, পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে, এবং র্সবশেষ জব নিশ্চিত করতে হবে। লক্ষ্য বা গোল কিন্তু একটা, জব নিশ্চিত করা, কিন্তু কতগুলো কাজ করতে হযেছে, লক্ষ্য করুন আপনি এই ছোট ছোট লক্ষ্যগুলো পূরণ করেছেন বলেই নিদিষ্ট লক্ষ্যে পৌছাতে পেরেছেন। আর চাকুরি পাওয়াটাই যদি আপনার চরম লক্ষ্য হয় তাহলে বাকীকাজগুলো আপনাকে করতেই হবে, আর তার জন্য নিজের শতভাগ উজার করে দিতে হবে, আর যখন আপনি শতভাগ উজার করে দেওয়া শুরু করবেন আপনার ঘূম এমনিতেই কমে আসবে, আপনার স্বপ্ন আপনাকে ঘুমাতে দিবে না। ক্লেয়ার?
ভাবুন তো, ছোট বেলার কথা, ক্রিকেট খেলতে খুব ভালোবাসতেন, শীত গ্রীষ্ম বর্ষা নেই যখন যেখানে খেলা হতো ছুটে যেতেন, দুপুরের কড়া রোদের মধ্যেই দাঁড়িয়ে ফিল্ডিং করতেন বা ব্যাট/বল করতেন। স্কুলের শেষ পিরিয়ড শুরু হওয়ার আগেই মন আকুপাকু শুরু করে দিত কখন মাঠে যাব, কখন খেলাটা শুরু হবে। হতো কি না?
সকাল বেলা যখন মা/বাবা বলল স্কুলে যা, তখন কি করতেন? গায়গুই করতেন , রেডি হতে পাচঁ মিনিটের জায়ঘায় দশ মিনিট সময় ব্যয় করতেন, কিন্তু মাঠে গিয়ে কখনো কি এমনটা করতেন? উত্তর না, কারণ খেলাটা আমার ভালো লাগা ছিল, পড়াটা ছিল না। পড়াশোনাটা বোঝা মনে হত, কারণ পড়াশোনার প্রতি ভালো লাগাটা তৈরি করতে পারি নাই কখনো। ভালো লাগা আপনার মাঝে তখনই শুরু হবে যখন আপনি নতুন কিছুর স্বাদ পাবেন, নতুনত্বের স্বাদ পাবেন। প্রতিদিন খেলার মাঠে নতুন নতুন ইনিংস শুরু হয়, আর নতুন একটা সম্ভবনার শুরু হয়, কিন্তু পড়া? সারা বছর একই পড়া, একই শিক্ষক, একই লেকচার সব কিছু বোরিং। বছরের শুরুতে, যখন নতুন বই পেতেন তখন কি করতেন? দিনরাত লেগে থাকতেন বইটা কখন শেষ হবে, কিন্তু বছরের অর্ধেক চলে গেলেই সেটা মিলিয়ে যেত। আর যদি কোন বিষয় অপছন্দের হতো তাহলে সেই বইয়ে মোট কয়টা পৃষ্ঠা আছে তাও কখনো দেখা হয়নি। কেন? কারণ ভালো লাগাটা শেষ হয়ে গিয়েছিল সেই শুরুতেই। কি করবেন তাহলে? হ্যা, ছাড়া ছাত্র তাদের উদ্যেশেই বলছি, তোমার কাছে এক প্যাকেট মিষ্টি আছে, তুমি একবারে প্যাকেটটা খালি করে দিতে পার আবার ধীরে ধীরে জমিয়ে রেখে দুয়েকদিনে খেতে পারো, মাঝে অন্য কিছু খেয়ে স্বাদ বদল করে আবার খেতে পারো তাহলে কি হবে, নতুনত্ব আসবে, নতুন স্বাদ আসবে।
সফল হতে হলে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়, প্রচলিত এই কথাটা তুমি মানো? আমি মানি না। উপরের ক্রিকেট খেলার কথাটাই ভাবো, যখন তুমি ঘন্টার পরে ঘন্টা ক্রিকেট খেলো তখন তোমার ক্লান্ত লাগে না? পরিশ্রম করলে তো ক্লান্ত লাগার কথা। কিন্তু যখন তুমি দুই ঘন্টা টানা পড়ার টেবিলে বসে থাকো তখন তোমার ক্লান্তি লাগে, কেন? কারণ তুমি সেটা ভালোবাস না, তোমাকে যুদ্ধ করতে হয় তোমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে, তোমার ভালোবাসার সাথে, তোমার স্বপ্নের সাথে, তোমার পারিপাশ্বিক অবস্থার সাথে, তোমার এনার্জি বেশি ক্ষয় হয়, কিন্তু তোমাকে যদি আট ঘন্টা ক্রিকেট মাঠে ফিল্ডিং করতে বলা হয় তুমি অনায়াসেই করে ফেলবে, একবারও ক্লান্ত লাগবে না,যতক্ষণ তুমি মাঠে আছো।
তাহলে কি করতে হবে? কাজের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করতে হবে, কাজকে ভালোবাসতে হবে, মনোবলটা এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যেন এটা আমাকে করতেই হবে, এটা আমার ড্রীম যা পাওয়ার জন্য আমি সব কিছু করতে প্রস্তুত।
অধিকাংশ মানুষ জীবনের কিছু জায়ঘায় চরম ভুল করে, কি সেই ভুল? ব্যর্থতার জন্য অন্যকে দায়ী করা, সুযোগ পাইনি, অন্যের সাথে নিজেকে কমপেয়ার করা, নিজের ব্যর্থতার জন্য ভাগ্যকে দায়ী করা, ইত্যাদি।
একটা গল্প বলতে ইচ্ছা করছে, 1938 সাল, একজন শূর্টার যে দেশের সর্বোচ্চ শূর্টার পদক জিতে নিয়েছে, সবাই তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছে, দেশের হয়ে অলিম্পিক এ পদক জিতে আনবে। কিন্তু একটা ঘটনা সব কিছু বদলে দিল, আর্মির ট্রেনিং এর এক পর্যায়ে একটা হ্যান্ড গ্রেনেড বিষ্ফোরনে তার ডান হাতটি উড়ে গেলো। যখন সবাই স্বপ্ন ভঙ্গের যন্ত্রনায় কাতর, তখন সেই শূর্টার কি করল? সেও হতাশ হলো কিন্তু লক্ষ্য থেকে বিচূত্য হলো না, বরং একমাস হাসপাতালে কাটিয়ে বাড়ি ফিরেই শুরু করে দিল আবার অনুশীলন। যে হাতে সে লিখতে পর্যন্ত পারত না সেই হাতেই পিস্তল চালানো শুরু করল। ট্রেনিং এর একবছর পর অথাৎ1939 সালে সে আবার দেশ সেরা শূর্টার হয়েই ফিরে আসল। ন্যশনাল শূর্টার কম্পিটিশনের মাঠে অন্য প্রতিযোগীরা যখন তার কাছে এসে শুভেচ্ছা জানালো, তখন সে বলল, আমি তোমাদের শুভেচ্ছা নিতে আসি নাই, তোমাদের সাথে প্রতিযোগীতা করতে এসেছি। ঠিক সেই প্রতিযোগীতায় স্বর্ণ পদক নিয়েই ফিরল সেই এক হাতের শূর্টার, যেখানে সবাই অংশগ্রহণ করেছিল তাদের বেষ্ট হাত নিয়ে, পূর্ণ শক্তি নিয়ে সেখানে সে শুধু এক হাতেই লড়ে গিয়েছিল সবার সাথে।
এবার তার নজর গেলো 1940 অলিম্পিক এ, কারণ সে শুধু দেশের সেরা শূর্টার হতে চায়নি, চেয়েছে বিশ্বের সেরা শূর্টার হতে। কিন্তু ২য় বিশ্ব যুদ্ধের কারণে সেবার অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়নি, এই অবস্থায় যখন সবাই হতাশায় ডুবে যায় তখন সে লক্ষ্য ঠিক করল 1944 অলিম্পিক এ, কিন্তু দূভার্গ্যবশত এই অলিম্পিকও অনুষ্ঠিত হয়নি। কি করতেন আপনি এই জায়গায় থাকলে?
এই শূর্টার কিন্তু হাল ছাড়ল না, 1948 অলিম্পিক এ তার বয়স হলো 38 বছর, যেখানে নতুন নতুন প্রতিয়োগীর ছড়াছড়ি, এবং কম বয়সীদের সাথে প্রতিয়োগীতা করাও বেশ কঠিন হয়ে যায়, কিন্তু সে মনোবল হারায়নি, বরং সেই বছরেই গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গোল্ড মেডেল জিতে নেয়। 1952 আবার সেই শূর্টার অংশগ্রহণ করে অলিম্পিক এ এবং পরপর দুইবার গোল্ড মেডেল জিতার রের্কড গড়ে। বলতে পারেন কে এই শূর্টার? আমি বলে দিচ্ছি হাঙ্গেরির বুদাপেষ্টে জন্ম নেওয়া কেরালি টাকাসে। র্সাচ করে দেখুন গুগুলে, পেয়ে যাবেন।
সফল ব্যক্তিরা সুয়োগ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকে না, বরং সুযোগ তৈরি করে নেয়। আমাদের মাঝে অনেকের অভিয়োগ থাকে, আমি গ্রামে থাকি, গ্রাম থেকে এসেছি, যথেষ্ট সুযোগ পাইনি, এটা সেটা কত কি।
একবিংশ শতাব্দির এই যুগে বসে এই সব বলাটাই সবচেয়ে বড় অযোগ্যতা, বোকামী যখন তোমার হাতের নাগালে দুনিয়াটার সব কিছু। যখন যা ইচ্ছা তাই করা যাচ্ছে যেখানে খুশি সেখানে বসে। গুগুলে সার্চ কর, কি নেই এখানে? সব আছে।
অনেক বিজ্ঞলোক বলে, অভিজ্ঞতা ছাড়া সফল হওয়া যায় না, আমি বলছি অভিজ্ঞতা আসে ব্যর্থতা থেকেই। যতবার ব্যর্থ হবে ততবেশি অভিজ্ঞতা অর্জন হবে, কিন্তু হেরে যাওয়ার ভয়ে, অভিজ্ঞতার অভাবে যদি কিছু শুরুই না কর তাহলে অভিজ্ঞতা হবে কোথা থেকে। জীবনে প্রত্যেকটা কাজ একবার তো প্রথম শুরু করতে হযেছে, তখন কি তোমার অভিজ্ঞতা ছিল? ছিল না, কিন্তু যখন তুমি করা শুরু করেছো তখন থেকেই তোমার অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা শুরু হয়েছে, প্রথমবার যে ভুলটা তুমি করেছে দ্বিতীয় বার সেই ভূলটা কি করেছো আবার? যদি করেই থাকো তবে প্রথমবার যে ভুলটা করেছিলে দ্বিতীয়বার নিশ্চয় অবিকল সেই ভূলটাই করনি, কিছুটা হলেও ইমপ্রুভ হযেছে। তৃতীয়বার, চতুর্থবার আর সেই ভুলটা হয়নি বরং অন্যদের চেয়ে ভালোভাবেই সম্পুর্ণ করেছে কাজটি। কি করনি?
আর্থার কোনাল ডয়েল এর সৃষ্টি যাকে বলা হয় সৃষ্টিকর্তার চেয়ে সৃষ্টির পরিচয় সবচেয়ে বেশি সেই শার্লক হোমস পড়েছো? শার্লক হোমসকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তুমি সাহিত্যের বিষয়ে কিছুই জান না কেন? তখন শালর্ক কি বলেছিল? আমার মস্তিষ্কটা হচ্ছে একটা ঘর, যেখানে আমি চাইলে আজেবাজে জিনিষ দিয়ে ভরে রাখতে পারি আবার আমার প্রয়োজনীয় জিনিষ দিয়েও ভরতে পারি, কিন্তু জায়ঘাটা সীমিত। সুতরাং আমার যা প্রয়োজন তা দিয়েই আমি ঘরটা ভরে রাখব এটা স্বাভাবিক নয়?
কেন বললাম এই কথাটা? অধিকাংশ মানুষ ব্যর্থ হয় আরেকটা কারণে, সেটা হচ্ছে পর্যাপ্ত ইনফরমেশন এর অভাবে। তুমি যা করবে তার সাথে সম্পর্কিত সকল বিষয়ে তোমাকে জ্ঞান থাকতে হবে, তথ্য থাকতে হবে না হলে তুমি ব্যর্থ হবে, নিশ্চিত ব্যর্থ হবে বলে দিলাম। ইনফরমেশন গ্যাপ তোমার ব্যর্থতার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। তুমি অনেক কিছু জান কিন্তু সেটা তোমার লক্ষ্যের সাথে সম্পর্কিত নয়, তাহলে সেই জানার কি কোন মূল্য আছে? হ্যা আছে তবে সেটা তোমার লক্ষ্যকে বাস্তবায়ণ করার জন্য নয়। কি করতে হবে? সমগ্র দুনিয়ার সম্পর্কে নয়, তোমার লক্ষ্যের সাথে সম্পর্কিত জ্ঞানের প্রতিই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে, জানতে হবে, কখন কোথায় কিভাবে নিজের জ্ঞানের প্রয়োগ করতে হবে, কিভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে হবে, কিভাবে জ্ঞানের প্রয়োগ করা যাবে।
প্রতিদিন একটা মানুষ ষাট হাজার বিষয়ে চিন্তা করতে সক্ষম, এটা বন্ধ করার উপায় নেই, কিন্তু কোন চিন্তাটা করবে সেটা ঠিক করে দেওয়ার সক্ষমতা সবার আছে, মস্তিষ্ক কি দিয়ে ভরাট করবে সেটা এবার তুমি ঠিক করবে।
অনেক লম্বা হয়ে যাচ্ছে গল্প, যদি বল আমি এই রকম হাজারটা কথাটা তোমাকে বলতে পারব, কিন্তু তাতে কি তোমার ভিতরে কিছু হবে? না হবে না, কারণ তোমাকে নিজেকে বদলাতে হবে, নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকতে হবে, নিজের ভিতরের সত্তাকে টেনে বের করে আনতে হবে।
গুগুলে সার্চ কর, হাজার হাজার মোটিভেশনাল ভিডিও পাবে, লেখা পাবে, বই পাবে,সব গুলো খুব মনযোগ দিয়ে শুনলে, পড়লে কিন্তু নিজের জীবনে প্রয়োগ করতে পারলে না, তাহলে সব কিছু ব্যর্থ হয়ে যাবে, আর যদি শুধু মাত্র এই লেখাটাই পড়ে যদি তুমি নিজেকে বদলাতে পারো তাহলে বাকী কিছুর প্রয়োজন নেই।
আড্ডা দেওয়ার জন্য কোন মোটিভেশন প্রযোজন হয়? সিগারেট খাওয়ার জন্য কোন মোটিভেশন প্রযোজন হয়? মেয়েদের পিছনে সময় ব্যয় করার জন্য কোন মোটিভেশন প্রয়োজন হয়? হয় না তো, তাহলে নিজেকে জানার জন্য, নিজের লক্ষ্যকে জয় করার জন্য কেন মোটিভেশন এর প্রযোজন হবে? কেন নিজেকে মোটিভেট করতে পারো না তুমি?
তুমি সফল হতে চাও? এটাই তোমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য, আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ণ করার জন্য কিছূ সফল মানুষের সাথে কথা বলার প্রয়োজন আছে, কিছু পরামর্শ গ্রহণ করার প্রয়োজন আছে, জীবনে কিছু ভালো বই পড়ার প্রয়োজন আছে, কিছু জায়গা ঘুরে দেখার প্রয়োজন আছে, অনেক কিছু জানার প্রয়োজন আছে। করতে পারবে তো এগুলো?
আমাদের দেশে অনেক মোটিভেশনাল স্পিকার আছে, যারা কথার ফূল ছড়ায়, নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে নিজেই অন্যের সামনে উপস্থাপন করে, মোটিভেশন মানুষ হয় কিনা জানিনা, কিন্তু যারা মোটিভেশন করে তারা নিজেকে ঠিক উপস্থাপন করে ফেলে। আর দর্শক সারিতে বসে থাকা মানুষগুলো তখন পজেটিভ ভাবনার চেয়ে নেগেটিভ ভাবে বেশি বা বক্তব্য শেষ, অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে বের হয়ে আসে আর সেই মানুষটাকে নিয়ে কিছু সময় গবেষণা করে কিছু একটা নেগেটিভ সাইট বের করে নিজেকে শান্তনা দিয়ে বাড়ি ফিরে। না এটা করা যাবে না, পজেটিভ ভাবেই গ্রহণ করতে হবে সব কিছু, তুমি তখন সফল হবে যখন কোন নেগেটিভ থেকে পজেটিভ কিছু বের করতে পারবে, নেগেটিভ থেকে পজেটিভ কিছু শিখতে পারবে।
অনেক মানুষের গল্প তুমি শুনবে, অনেক বড় বড় সফল মানুষের গল্প, সেগুলো তোমাকে অনুপ্রেরণা দিবে, উৎসাহ দিবে কিন্তু যখন তুমি নেগেটিভ ভাবে ভাবা শুরু করবে তখনই তুমি ভুল করে ফেললে, আর সেটা তোমার মাঝে হতাশা তৈরি করা শুরু করবে। নিউটনের চাচা তাকে কেমব্রিজের ট্রিনিটি স্কুলে ভার্তি করে দিয়েছিলেন,সেটা তার জীবনে একটা র্টানওভার ছিল কিন্তু তার বিজ্ঞানী হওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না এখন এটাকে ভেবে নিজেকে শান্তনা দেওয়া বা নেগেটিভ ভাবে নিলে তোমার জীবনে হতাশা আসবেই। বরং এটা ভাবতে হবে, ভাগ্য তাদের সহায় হয় যারা সাহস রাখে নিজেকে কিছু করার, নিজেকে সফল করার।
জীবনে তোমার অনেকগুলো পথ আছে, যার প্রথমটি হচ্ছে লোভ যা তোমাকে ধ্বংস করবে, দ্বিতীয়টি লালসা যা তোমাকে ধ্বংস করবে, তৃতীয়টি নিজেকে অন্যের সাথে কম্পেয়ার করা যা তোমাকে হতাশ করবে, কিন্তু একটি মাত্র পথ যা তোমাকে সফল করবে, সেটা হচ্ছে লার্নিং বা জ্ঞান অর্জনের পথ। কোন পথে যাবে তুমি তা নিজেই ঠিক কর।
একটা হিসাব করি চল, দেখি জীবনটাকে বদলে দিতে পারি কিনা, নিজেকে বদলাতে পারি কিনা।
একটা মানুষ গড়ে কতবছর বাচেঁ, আমাদের দেশে ৭০ বছর। তোমার বয়ষ কত? পচিশ তাহলে বাকী থাকল কত? ৪৫, তোমার বয়ষ যখন ৬০ পেরিয়ে তখন তুমি চাইলেও অনেক কিছু করতে পারবে না, আর সারাজীবন শুধু যদি করেই যাও তাহলে ফল ভোগ করবে কখন? শেষের দশটি বছর ভোগ করার জন্য রেখে দাও, বাকী থাকল কত বছর? ৩৫। এই সময়টুকু অনেক বেশি মনে হচ্ছে? হওয়ার কোন সুযোগ নেই, কারণ এখানেই তোমাকে সফল হতে হবে, এখানেই তোমার নিজের এবং তোমার পরবর্তী প্রজন্মের ভীতটা গড়ে দিতে হবে।
সময়টাকে দিনে কনর্ভাট কর, ২৪ ঘন্টায় একদিন, কত সেকেন্ডে একদিন? 86400 সেকেন্ড মাত্র, যার প্রতিটি মুহুর্ত মূল্যবান, যে সেকেন্ড তোমার জীবন থেকে চলে যাবে সেটা আর কখনোই ফিরে আসবে না। সুতরাং প্রতিটি সেকেন্ডের মূল্য দিতে হবে। আমরা জানিনা কাল সকালে আমরা বেচেঁ থাকব কিনা, তাই যা করার এখুনি করতে হবে, হ্যা ইনস্ট্যান্ড দাঁড়িয়ে থেকে করতে হবে। অন্যের দিকে আঙ্গুল না তুলে নিজের দিকে তুলতে হবে, অন্যের সাথে নিজেকে কম্পেয়ার না করে নিজেকে নিজের মত করে গড়ে তুলতে হবে, নিজের সৃজনশীলতাকে বের করে আনতে হবে, নিজের সৃষ্টিশীলতাকে প্রকাশ করতে হবে, প্রতিযোগীতার এই বিশ্বে নিজের সুযোগ নিজেকে তৈরি করে নিতে হবে, কেউ সুযোগ করে দিবে না, কারো করে দেওয়া সুযোগের অপেক্ষায় থাকা চলবে না, অন্যের করে দেওয়া সুযোগ তো তারা গ্রহণ করে যারা নিজের অক্ষম, যাদের মাঝে দূর্বলতা আছে তারাই তো সুযোগের আশায় বসে থাকে।
চশমাটা খূলে ফেলো, আমার লেখার স্বার্থকতা এখানেই তুমি এতক্ষণ আমার লেখাটা পড়েছো, কিন্তু তোমার স্বার্থকতা কোথায়? যতক্ষণ তুমি লেখাটা পড়ে কাজে লাগাতে না পারছ।
অফুরন্ত শুভ কামনা, নিজের উপর বিশ্বাস রাখ, লং টার্ম লক্ষ্য ঠিক রাখ, র্শট টার্ম লক্ষ্যগুলো পূরণ কর, সফলতা তোমার জন্যই অপেক্ষা করছে। শুভেচ্ছা সবাইকে, কথা হবে আগামিতে আবারো যদি তোমরা চাও। ধন্যবাদ

ভালো লাগলে শেয়ার করবে, যেন তোমার বন্ধুরাও পড়তে পারে, জানতে পারে এবং নিজেকে বুঝতে পারে।

(মোট পঠিত 87 বার)

  ১২টি মন্তব্য, “আমরা করবো জয়…………… (মোটিভেশনাল)”

    
  1. অনুপ্রেরণা মূলক লেখা ।

  2. 
  3. যদি লক্ষ্য থাকে অটুট জয় আসবে নিশ্চিত।জীবনের জন্য পর্যলোচনামুলক খুব গুরুত্তপূর্ণ একটি লেখা।তবে সেইরাম চশমা কি আদৌ আবিষ্কার হবে বা হলেও কি ঠিক মত কাজ করবে বা লক্ষ্যস্থানে পৌছে দেবে?এমনটি হলে মন্দ হয় না।ধন্যবাদ আনিস।আপনার সাফল্য কামনা ঠিক এই পোষ্টের রিপিট হবে এক দিন।

      
    • চশমা হোক বা না হোক স্বপ্ন তো সবাই দেখে, আর স্বপ্নকেই ধরে নেই চশমা।

      ধন্যবাদ মনির ভাই, মোটিভেশনাল কথা বলার আগে নিজেকে সফল হতে হয়, এতদিন ছাত্র ছিলাম তাই অনেক জায়গায় কথা বলার সুযোগ ছিল, এবং বলেছি,মানুষকে মোটিভেটেড করেছি। এবার নিজেকে মোটিভেটেড করছি, যেন আবার সেই সুযোগটা ফিরে আসে, মানুষের জন্য কিছু করতে পারি।

  4. 
  5. লক্ষ্য স্থির করে আরম্ভ করাটাই আসল কাজ,
    যে কাজটি করতে হিমসিম খাই আমরা।

    লেখাটি অত্যন্ত উচ্চমানের হয়েছে,
    শুভ কামনা।

  6. 
  7. আনিছ ভাইয়া অসাধারণ একটা লেখা দিয়েছ। হয়তো কমেন্ট দেব, কিছুদিন পর ভুলেও যাবো লেখাটা। এমনই তো হয় আসলে। কতোটুকুই বা আমরা কাজে লাগাই। অনেক অনেক বইই তো পড়েছি, সব বইতেই কিছুনা কিছু শেখার ছিলো, সেসব কী মনে আছে নাকি কাজে লাগিয়েছি। তবে জব লক্ষ্যবস্তু ঠিক করে একটু একটু এগুচ্ছি।
    মোটিভেশনাল এই লেখাগুলো আরো বেশি বেশি আসা উচিৎ, শুরুর দায়িত্বটা তোমাকেই দিলাম।
    প্লাস পোস্ট শেয়ার অবশ্যই দেবো :)
    লেখো আর লক্ষ্যমাত্রায় এগিয়ে যাও, শুভকামনা।

      
    • কথা হচ্ছিল একজনের সাথে, আনিছ যতক্ষণ তোমার কাছে থাকি ততক্ষণ নিজেকে মনে হয় বাঘ, তুমি চলে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে সেটা নিস্তেজ হয়ে বিড়াল হয়ে আসে। কথাগুলো সত্যিই জীবনে কাজে লাগাতে পারলে মন্দ হতো না, কিন্তু সমস্যাটা কোথায় জানো? যখন আমি তোমার কাছ থাকি ততক্ষণ উৎসাহ, উদ্দিপনা, সাহস আর পেষণার মধ্যে থাকি, কিন্তু যখন ছেড়ে যাই তখন চারপাশের হতাশাগুলো এগিয়ে আসা শুরু করে, আর সেটা প্রতিহত করতে পারি না।

      সত্যি বলছি আপু, আমার ভাবনা ছিল আমি আমার বন্ধুদের মোটিভেট করার চেষ্টা করব, এবং সেটার ধারাবাহিকতা বজায় রাখব যেন কেউ হোচট না খায় বা হতাশাগুলো ঘিরে ধরতে না পারে। চেষ্টাও করে যাচ্ছি সেটা করার, আর তার জন্য কিছু নিন্দুকের মুখ বন্ধ করতে হবে, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত হয়ে। তবে শুরু যেহেতু করেছি, আশা করি সামনের দিনগুলোতে সেটা অব্যাহত থাকবে।

      শুভ কামনা।

  8. 
  9. আনিস ভাই, আমার ভুল্ক্রুটি ও ব্যারথতা বুঝতে পারি এবং আতা নিয়ে নিজের খুব কষ্ট হয়। আমি মোটিভেটেড হতে পারিনা ও করতেও পারিনা। এখান থেকে উত্তরনের পথও বাহির করতে পারিনা।

    আড্ডা দেওয়ার জন্য কোন মোটিভেশন প্রযোজন হয়? সিগারেট খাওয়ার জন্য কোন মোটিভেশন প্রযোজন হয়? মেয়েদের পিছনে সময় ব্যয় করার জন্য কোন মোটিভেশন প্রয়োজন হয়? হয় না তো, তাহলে নিজেকে জানার জন্য, নিজের লক্ষ্যকে জয় করার জন্য কেন মোটিভেশন এর প্রযোজন হবে? কেন নিজেকে মোটিভেট করতে পারো না তুমি?

    জিবনে সব ক্ষেত্রে মোটীভেডেট প্রয়োজন। আপনার এই লেখাটা অনেক গুনে গুনাম্বিত। খুব ভাল লাগা রইল।