অকৃতজ্ঞ কৃতজ্ঞতা

 লিখেছেন on ডিসেম্বর ৬, ২০১৭ at ৫:৫৯ অপরাহ্ন  একান্ত অনুভূতি  Add comments
ডিসে. ০৬২০১৭
 

লেখা টা প্রশ্ন দিয়ে শুরু করা টা কি ঠিক হবে ? আমার হাজারো প্রশ্নের উত্তর তো কেউ দিতে বাধ্য নয়, আচ্ছা আমি আসলে প্রশ্ন টা করি কার কাছে ? আমার এই সব লেখার পাঠক ই বা কয় জন ? আমি পাঠকের কাছে প্রশ্ন কেন ই বা করব ? আমি আসলেই কি কোন উত্তর খুঁজি ? এই সব কিছু মাথায় ঘুরতেছে এখন এই কৃতজ্ঞতা আর অকৃতজ্ঞতা নিয়ে লিখতে বসে ! দীর্ঘস্বাস নিয়ে লেখা টা শুরু করলাম, ছোট বেলায় যে কোন ব্যাক্তি আমাকে একটু আদর ও যদি করতো আম্মা বলতো যাও উনাকে ধন্যবাদ দাও, যাও উনার দুয়া নিয়া আসো পা ধরে সালাম কর, যাও বড় ভাই একটা জিনিস আদর করে দিসে ভাই কে জড়ায় ধরে আদর করে দাও, ছোট বোন টা একটু কোন কাজ করে দিয়েছে যাও বোন টা কে কিছু কিনে দিও ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক অনেক উদাহরণ আছে যা বলে শেষ হবে না । আম্মা আমাদের ভাই বোন দের মহা মানব মানবি জাতীয় কিছু বানাইতে চাইছিল কি না কখনো আম্মা কে প্রশ্ন করা হইনি কিন্তু বয়সের সাথে সাথে আজকাল শুধু মনে হয় আম্মা আসলে কি বানাইতে চাইছিল আমাকে বা আমার অন্য ভাই বোন দের কে ? গত চার বছর ধরে আম্মা কে হারানোর পর আমি আম্মার সব আদেশ উপদেশ গুলা ম্যামরি থেকে খুঁজে খুঁজে বের করতেছি তার মধ্যে এই কৃতজ্ঞতা বোধ কে খুব জাগ্রত রেখেছি সযতনে । পুরো জীবন ধরে ই আমি মানুষের সামান্য কোন অবদানের কথা স্ব্ররন রেখেছি আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার সুযোগ খুঁজেছি, যখন ই পেয়েছি কৃতজ্ঞ হতে দ্বিধা বোধ করিনি । কিন্তু একটা সময় দেখলাম আমার এই কৃতজ্ঞতাবোধ কিছু কিছু মানুষ দারুণ ভাবে উপভোগ করতেছে, সুযোগ পেলে ই আমাকে আকড়ে ধরে আদায় করে নিতেছে তাদের সামান্য সহানুভূতির মূল্য টুকু ও । আমি সবাই কে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে করতে ক্লান্ত অবসন্য হয়ে পরতেছি, একটা সামান্য উপকারের অসামান্য প্রতিদান একেক জন আশা করে আমার কাছ থেকে যা আমার সাধ্যের অতিত । আমি ভাবতে লাগলাম কেন এমন হইতেছে আমার সাথে ? আমার বিনয় কে মানুষ পুঁজি কেন করতেছে ? আমি কি তাহলে ভুল কিছু করতেছি ? আম্মা তাহলে কি ভুল শিক্ষা দিয়ে গেলেন ? নীতি গত ব্যাপার গুলা আমি কেমন ভাবে বহন করবো তাহলে ? মোরালিটির কি হবে আমার ? এই সব মানুষের জন্য অকৃতজ্ঞ হওয়া টা ই কি উত্তম নয় ? আমি একটা উপকারের কত বার মূল্য দিব ? সারা টা জীবন ধরে ? কেউ বড়, কেঊ মুরব্বি, কেঊ অবুঝ এই ভাবে আমি নিজেকে মহা মানবি করে আর কত ধরে রাখব ? বাস্তব জীবনের মোরালিটি আসলে আম্মা আমাকে কিছু ই শিখায় নাই মূল কথা এই খানেই । বড় বড় মনীষি রা মানুষ কে আসল মানুষ বানাইতে গিয়া দ্বিধা দ্বন্দে ফেলে রেখে গেছেন আমার কাছে মনে হয় আজকাল । পুস্তক এ যা কিছু পড়েছি বাস্তবে তার খুব একটা প্রতিফলন দেখি নাই । দেখেছি মানুষের ঈর্ষা বিদ্বেষ হিংসা অহংকার অকৃতজ্ঞতা আর আমিত্ব । বাস্তব যে এত টা ই উল্টো তা কিন্তু বুঝতে বুঝতে আমার কবরে যাওয়ার সময় হয়ে এলো । আমি এখন নিজেকে কি করে বদলাই ? কি করে অকৃতজ্ঞ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে শিখি ? মাঝে মাঝে আমি হতাশার গহীন বনে হাটা শুরু করি আর ভাবি, ক্লান্তি আমার ক্ষমা কর প্রভূ ; পথে যদি পিছিয়ে, পিছিয়ে পরি কভূ ; ক্লান্তি আমার ক্ষমা কর প্রভূ ।

  ৪টি মন্তব্য, “অকৃতজ্ঞ কৃতজ্ঞতা”

    
  1. ভুলের কথা বলছেন??
    ভুল কিছু নয়। কৃতজ্ঞতাবোধ একটা আর্ট। যাহা সবার মধ্যে থাকে না। এটি একটি বিশেষ গুণ। তবে তাহা প্রকাশ করতে হয় আরো কৌশলে।
    মাঝে মাঝে উপকার পেয়ে কৃতজ্ঞতা না জানালেই ভালো। আবার কয়েকদিন পর অন্য কোন উপকারের বিনিময়ে তাদের অবাক করে দিয়ে ধন্যবাদ পর্যায়ের একটা কিছু দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন।
    আজকালকার লেখকরা বড্ড বেশি কাল্পনিক। বাস্তবতা বর্জিত সস্তা আবেগের বহিঃপ্রকাশ দেখাযায় বইপত্রে। তাই এসব বই পড়ে শুধু শুধু সময় নষ্ট হবে। আমার মনে হয়।
    বাস্তব অতি সাধারণ জীবন থেকেও অনেক কিছু শিখা যায়। অকৃতজ্ঞ কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রয়োজন নেই। তাতে শুধু হিংসেই সৃষ্টি হবে। তারচেয়ে কৌশলে সবকিছু সমাধান করাই ভালো।

  2. 
  3. জটিল সব প্রশ্ন, তবে বিষয়টা প্রত্যাশার সাথে যুক্ত, যে উপকার করে উপকার প্রত্যাশা করে সে তো আসলে বিনিময় চাইছে, উপকার করছে না, কৃতজ্ঞতার ভাষাটা সেক্ষেত্রে ভিন্ন হবে এটাই স্বাভাবিক। আর সেই স্বাভাবিক ধারাতেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। ছোট বেলায় আপনার মা যা শিখেয়েছেন সেই পরিস্থিতিতে সেটা ঠিক ছিল, এখন যে পরিস্থিতি তাতে সেটা ঠিক নয়, পরিস্থিতির সাথে বদলে নিতে হবে।